বরিশালে খাল খননের উদ্বোধন

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী টরকী-সাউদের খাল এবং টরকী-বাশাইল খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই খাল দুটি পুনরায় খননের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনাবাদী জমি নতুন করে চাষ উপযোগী করা হবে। সোমবার সকালে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং স্থানীয়দের উদ্যোগে খাল খননের উদ্বোধন করেন গৌরনদী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌর প্রশাসক মো. আবু আবদুল্লাহ খান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, টরকী বন্দর বণিক সমিতির সভাপতি শরীফ সাহাবুব হাসান এবং স্থানীয় বিভিন্ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য হল, টরকী-সাউদের খাল ও টরকী-বাশাইল খালের মোহনাপথ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা দখল করে বহুদিন ধরে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে রেখেছিলেন প্রভাবশালী কিছু স্থানীয় ব্যক্তিরা। দীর্ঘ সময় ধরে চাষিরা এই খালটিকে দখল মুক্ত করে খনন করার দাবি জানিয়ে আসলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবে সেই দাবি পূরণ হয়নি। এতে পানির অভাবে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছিল।

তবে, চাষীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আবদুল্লাহ খান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অবশেষে খালটির দখল মুক্তি সম্ভব হয়েছে। খাল খননের ফলে স্থানীয় জনগণ তথা কৃষকদের মধ্যে এক নতুন আশা জেগেছে ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানো মামলায় ছাত্রদল সহ-সভাপতি কারাগারে

বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানোর এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে মহানগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সায়েম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাকে গত শনিবার রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। এরপর গত রোববার পৃথক দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সায়েম হোসেনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ ঘটনার পেছনে অভিযোগ উঠেছে যে, নথুল্লাবাদের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে মামলায় সায়েম হোসেনকে আসামি করেছেন। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল করীম রনি জানান, “মহানগর ছাত্রদলের কমিটি বড় এবং এতে সায়েম নামের একজন সহ-সভাপতি রয়েছেন। তবে যিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি ঠিক সায়েম কিনা, সেটা দেখা উচিত।”

মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক তসলিমও বলেন, “কমিটিতে ৭৩ নম্বর সহ-সভাপতি পদে সায়েম নামের একজন আছেন। শনিবার রাতে তার গ্রেপ্তারের খবর শুনে দলের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।”

গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনপরবর্তী বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানো, শোক র‍্যালিতে হামলা এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের নেতৃত্বে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সায়েমকে আসামি করা হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, “মামলা যখন হয়েছে, তখন সব আসামি আমাদের দেওয়া হয়নি। দলের নেতা-কর্মীরা যার নাম দিয়েছে, তাকেই আমরা আসামি করেছি। এখন যে ছাত্রদল নেতার নাম এসেছে, তাকে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। দলের নেতা-কর্মীদের নাম আমাদের মামলায় আসার সুযোগ নেই, তাই তাকে বের করার দায়িত্ব আমাদের।”

মো: তুহিন হোসেন,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালীর বাউফলে কবিরকাঠি গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জিহাদ সিকদারকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮। পরে তাকে বাউফল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ধর্ষক জিহাদ একই গ্রামের বাসিন্দা। জিহাদের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের কবিরকাঠী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৩) জোড়পূর্বক মাহেন্দ্র গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় জিহাদ সিকদার। পরে বরিশাল থেকে লঞ্চের কেবিনে ঢাকায় নিয়ে জিহাদ তার এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় ওই স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাউফল থানায় আট জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় ছয় মাস ধরে পলাতক ছিলেন ধর্ষক জিহাদ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, আসামি জিহাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




বরিশাল সদর উপজেলায় ২২৫টি ইটভাটার বৈধতা রয়েছে ১১৪ টির!

বরিশাল সদর উপজেলায় দশটি ইউনিয়নে ২২৫টি ইটভাটা অবস্থান করছে। তবে, এর মধ্যে মাত্র ১১৪টি ভাটার বৈধতা রয়েছে। বাকি ১১১টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে, এবং প্রাচীন যুগের মতোই এসব ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে কাঠ দিয়ে। এতে পরিবেশ ও কৃষি জমির ক্ষতিও হচ্ছে।

সদর উপজেলার ২৫৬.৪৫ বর্গকিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, কৃষি জমিতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইটখোলার কার্যক্রম চলছে ব্যাপক হারে। ফসলি মাঠ ও নদী-নদীর তীরে ইটভাটার কারণে ওই এলাকায় পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এতে স্থানীয়রা নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ইট পোড়ানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করায় জায়গাটি বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন, যা মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্ম রোগ ও হাঁপানির মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে। বিশেষত নবজাতক শিশুদের জন্য এটি আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর অনেকক্ষেত্রে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনকে উৎকোচ দেওয়ার পর আবারও চালু হয়ে যাচ্ছে। তাই, একদিকে আইন অমান্য করে ইটভাটা পরিচালনা হলেও অন্যদিকে স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটে, কারণ এলাকাবাসী এখানে কর্মসংস্থান পাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করছেন, ইটভাটা স্থাপনের ফলে কৃষি উৎপাদন যেমন ধান এবং অন্যান্য শাকসবজি কমে গেছে। একসময় শীতলক্ষ্যা নদের তীরে এই এলাকায় প্রচুর ফসল হতো, কিন্তু এখন পরিবেশ দূষণের কারণে কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাস পেয়েছে। মাটি বষুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং গাছেও ফল ধরছে না।

একটি ইটভাটার মালিক পক্ষ জানান, ‘‘আমরা কোনো ক্ষতি করছি না, বরং লোকজনের কাজের ব্যবস্থা করছি।’’ অপরদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দীন বলেছেন, ‘‘আমরা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছি এবং সামনে আরও অভিযান চলবে।”

এই পরিস্থিতির কারণে আগামী দিনগুলোতে প্রকৃত পক্ষে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিসিসির ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের বাধায় বর্জ্য অপসারণ বন্ধ, শহরজুড়ে ময়লার স্তূপ

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ছাঁটাই হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বাধায় শহরের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়ে পড়েছে। এ কারণে গতকাল সোমবার সকাল থেকে নগরজুড়ে ময়লার স্তূপ সৃষ্টি হয়েছে, যা নগরবাসীদের জন্য ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করছে।

সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৬০ বছর বয়স পার হয়ে যাওয়া অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আর কাজে নিয়োজিত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসা শ্রমিকরা গত দুই সপ্তাহ ধরে নিজেদের কাজে পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ করে চলেছেন। আজ, সোমবার, এই শ্রমিকরা যখন বর্জ্য অপসারণের কাজে বাধা দেয়, তখন নগরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সকালবেলা নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা পরিদর্শন করলে রাস্তার চারপাশে আবর্জনা ও ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এর ফলে শুধু সাধারণ পথচারীরা নয়, যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বরিশালের একটি স্কুলের সামনের ডাস্টবিন থেকে ময়লা উপচে পড়ার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও দূর্গন্ধের মধ্যে সময় কাটাতে হচ্ছে।

শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, আজ সকালে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য শ্রমিকরা ময়লা অপসারণে যাওয়ার পর ছাঁটাই হওয়া কর্মীরা তাদের উপর হামলা করেন। এই হামলায় অন্তত দুইজন কর্মী আহত হয়েছেন। বর্তমানে নগরজুড়ে প্রায় ২০০ টন আবর্জনা পড়ে রয়েছে, যা দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

একই বিষয় নিয়ে ছাঁটাই হওয়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী কবির হাওলাদার বলেন, “আমরা চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দশ দিন ধরে আন্দোলন করছি। আমাদের দাবির আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাব না।”

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রায়হান কাওসার বলেন, “আজ দুপুরে আমরা ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে বসব, আশা করছি কোনো সমাধান আসবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টাইগার্সের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিল বরিশাল

ফরচুন বরিশাল বনাম খুলনা টাইগার্সের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল বরিশাল। সুপার ফোরের পথে থাকা খুলনা টাইগার্সকে ৫ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে দারুণ জয় পেল বরিশাল।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে খুলনা টাইগার্স তোলে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান। দলটির ইনিংস সাজানো হয় দারুণ কিছু পারফরম্যান্স দিয়ে। ওপেনার মেহেদী মিরাজ খেলেন ১৮ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। নাঈম শেখ ছিলেন আরও কার্যকর; ২৭ বলে করেন ৫১ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের সঙ্গে তিনটি ছক্কার মার।

মাঝের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অ্যালেক্স রস (১৫ বলে ২০), আফিফ হোসেন (২৭ বলে ৩২) এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (১২ বলে ২৭) খুলনাকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে ভূমিকা রাখেন।

জবাবে বরিশাল তাদের ইনিংসে দ্রুত হারায় ওপেনার তাওহীদ হৃদয়কে। কিন্তু এরপরই তামিম ইকবাল ও ডেভিড মালানের মধ্যে ৯১ রানের দারুণ জুটি ম্যাচের গতিপথ বরিশালের দিকে টেনে নেয়। মালান ব্যাট হাতে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, ৩৭ বলে করেন ৬৩ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।

তবে বরিশালের জয় নিশ্চিত হয় ইনিংসের শেষদিকে। ফাহিম আশরাফের ৬ বলে ১৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস এবং মোহাম্মদ নবীর ১০ বলে ১৫ রানের কার্যকরী ব্যাটিং জয় এনে দেয় বরিশালকে। শেষ ৪ ওভারে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী বরিশালের এই স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে।

মো: তুহিন হোসেন ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টানা ৭ম বারের মতো বেলারুশের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুকাশেঙ্কো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  টানা সপ্তমবারের মতো বেলারুশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কো। রোববার বেলারুশে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়েছে, সোমবার তার ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বেল্টা-কে বেলারুশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইগর কারপেঙ্কো সোমবার সকালের দিকে জানান, মোট ভোটের ৮৬ দশমিক ৮২ শতাংশ নিজের বিজয় নিশ্চিত করেছেন লুকাশেঙ্কো। তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের কেউই ৫ শতাংশের বেশি ভোট পাননি।

১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। স্বাধীনতার পর দেশটির অস্থায়ী সরকারপ্রধান ছিলেন সাবেক সোভিয়েত বেলারুশ অঙ্গরাজ্যের চেয়ারম্যান স্তানিস্লাভ শুশকেভিচ। ১৯৯৪ সালে প্রথমবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় বেলারুশে এবং তাতে জয়ী লুকাশেঙ্কো। তারপর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার প্রেসিডেন্ট নির্বচন হয়েছে বেলারুশে, প্রতিবারই জয় পেয়েছেন তিনি।

বেলারুশের সংবিধান অনুসারে দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ৫ বছরের। সেই হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর গত ৩৩ বছরের মধ্যে ৩০ বছরই দেশটির সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের পদে রয়েছেন লুকাশেঙ্কো। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে তার রাষ্ট্রের শীর্ষপদে থাকার মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়ল; অর্থাৎ আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত বেলারুশের প্রেসিডেন্ট পদে থাকছেন তিনি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় আলেক্সান্দার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলোর জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তেমন ভালো নয়।  ২০২০ সালের নির্বাচনে যখন জয় পান, সে সময় তার বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিলেন বেলারুশের বিরোধীদলীয় নেত্রী এসভেতলানা তিখানোভস্কায়া। ইউরোপপন্থী এই নেত্রীর সে অভিযোগ সমর্থন করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নও। তবে লুকাশেঙ্কো এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই লুকাশেঙ্কোকে বর্ণবাদী বলে অভিযোগ করে। গত নভেম্বরে এ অভিযোগ স্বীকার করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন স্বৈরাচার। বেলারুশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, আইনের শাসন, সহানুভূতি এবং আতিথেয়তার ঐতিহ্য রক্ষা করার জন্য আমাকে এ ভূমিকায় আসতে হয়েছে।”

১৯৯৯ সাল থেকে বেলারুশ রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদার। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাঁধার পর থেকে দু’দেশেল সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ইউরোপজুড়ে মার্কিন বাহিনীর টহল বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে গত বছর মস্কো এবং মিনস্ক একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে যার আওতায় বেলারুশের ভূখণ্ডে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার জন্য মস্কোকে অনুমতি দেয় মিনস্ক।

রোববার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লুকাশেঙ্কো বলেন, “চলতি ২০২৫ সালের যে কোনো দিন বেলারুশে ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মোতায়েন করা হতে পারে। বেলারুশকে সুরক্ষা প্রদানের জন্য একই ওরেশনিকই যথেষ্ট।”

 




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকছে না সাত কলেজ

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হবে না। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় সংলগ্ন সভাকক্ষে ঢাবি প্রশাসনের সঙ্গে ৭ কলেজের অধ্যক্ষদের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন লাউঞ্জে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এরইমধ্যে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ধৈর্যধারণ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বৈঠক শেষে লিখিত বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ এ কথা জানান।

১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের সম্মানজনক পৃথকীকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২. অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এক বছর এগিয়ে এনে এবছর থেকেই অর্থাৎ ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভর্তি না নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

৩. শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সভায় জোর সুপারিশ করা হয়।

৪. ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী আসন সংখ্যা ও ভর্তি ফি নির্ধারণসহ যাবতীয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

৫. যেসব শিক্ষার্থী বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান শিক্ষা কার্যক্রমের অধীনে রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্বশীল থাকবে, যাতে তাদের শিক্ষাজীবন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সভা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।




১০ বিষয়ে একমত বিএনপি-ইসলামী আন্দোলন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া ও ইসলাম বিরোধী কথা না বলাসহ ১০ বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সোমবার দুপুরে রাজধানীর পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।

যে সব বিষয়ে দুটি দল একমত হয়েছে

১. আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ মুক্ত স্বাধীন সার্বভৌম টেকসই রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা।
২. দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও টাকা পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
৩. ভোটাধিকারসহ সব মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা।
৪. ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
৫. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সব অধিকার বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করে নিয়ে আসা।
৬. আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী সব শক্তি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
৭. ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে আঘাত করে কথা না বলা।
৮. আগামীতে যেন আওয়ামী লীগের মতো আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে, সে ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা।
৯. ইসলামী শরিয়াহ্বিরোধী কোন সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং ইসলাম বিরোধী কোনো কথা না বলা।
১০. প্রশাসনে এখনো বিদ্যমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্রুত অপসারণ করা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ার বরকতউল্লাহ বুলু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব আতিকুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।




মিলল না আঙুলের ছাপ, সাইফকাণ্ডে শরিফুলকে ফাঁসানো হচ্ছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সাইফ আলি খানের বাড়িতে ঢুকে গৃহকর্তার উপর হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে শরিফুল ইসলাম শেহজাদকে। ৩১ বছর বয়সী ওই যুবককে বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছে মুম্বাই পুলিশ।

কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সে রাতে বান্দ্রার অভিজাত আবাসনে ঢুকে পড়া ব্যক্তি কি আদৌ শরিফুল? ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে শরিফুলের বাবা দাবি করেছেন, পুলিশের প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে যে ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, সেটা তার ছেলে শরিফুল নন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ইতোমধ্যে ছেলেকে ফেরত আনার জন্য আবেদনও করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, তার এমন দাবির পর এবার সাইফের বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গেও মিলল না শরিফুলের হাতের ছাপও।

গত ১৬ জানুয়ারি ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় মুম্বইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সাইফকে। দাবি করা হয়, আগের রাতে কোনও দুষ্কৃতী ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। ডাকাতিতে বাধা পেয়েই গৃহকর্তার উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়।

তদন্তে নেমে গত ১৮ জানুয়ারি মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সদস্যরা ঠাণে এলাকার এক শ্রমিক বসতি থেকে গ্রেপ্তার করে শরিফুলকে। এরপর দাবি করা হয়, অভিনেতার ওপর হামলার ঘটনায় তিনিই মূল অভিযুক্ত।

জানা গেছে, ধৃত শরিফুল ইসলাম শেহজাদের ১০টি আঙুলের ছাপ পাঠানো হয়েছিল ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য। মহারাষ্ট্র সিআইডি-র ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞরা যে রিপোর্ট দিয়েছেন তাতে জানা যাচ্ছে, সাইফের বাড়ি থেকে পাওয়া ১৯টি নমুনার একটিও মিলছে না শরিফুলের সঙ্গে।

প্রশ্ন উঠছে, আদৌ শরিফুলই সাইফের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিলেন তো? নাকি শরিফুলের বাবার সন্দেহই ঠিক। তাকে আসলে ফাঁসানো হচ্ছে সাইফকাণ্ডে!