গলাচিপায় মাদ্রাসা সুপারের দুর্নীতির অভিযোগে পুনঃতদন্ত, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের ছোট কাজল হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সাময়িক বরখাস্ত সুপার আবু জাফর মো. ছালেহ-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জাল-জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ-বাণিজ্য ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের পুনঃতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রম

প্রথম তদন্ত যথাযথভাবে না হওয়ার অভিযোগ তুলে পুনঃতদন্তের আবেদন করা হলে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বাক্ষরিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার, এবং সদস্য হিসেবে ছিলেন গলাচিপা আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল হোসেন ও ছোট কাজল হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. শাহিন হোসেন।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগকারী, স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করেন। তবে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অভিযুক্ত সুপারের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি এবং তার পক্ষে কোনো ডকুমেন্ট যাচাই করা হয়নি। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী ও স্থানীয়রা।

সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ

স্থানীয়রা জানান, আবু জাফর মো. ছালেহ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত। তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—

✔ জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্য: মোসাঃ মনিরা বেগম নামে একজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ।
✔ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাৎ।
✔ মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা না থাকা ও ভুয়া যাতায়াত বিল তৈরি করে অর্থ লোপাট।
✔ ভুয়া শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানো ও নিজে ক্লাস ফাঁকি দেওয়া।
✔ ম্যানেজিং কমিটিতে অনিয়ম, ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া, ইনডেক্স জালিয়াতি ও রেজুলেশনে ওভাররাইটিং।
✔ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেও অনুপস্থিত থাকা।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

অভিভাবক মাইনুল ইসলাম, আবুল কালাম ও মোশাররফ হোসেন বলেন,
“আমাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সুপারের কাছে কোনো জবাবদিহিতা চাওয়া হয়নি। তাহলে এটা কেমন তদন্ত? আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হোক এবং অনিয়মের বিচার হোক।”

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও অভিযোগকারী মো. সাব্বির বলেন,
“আমরা অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। এতে মনে হচ্ছে, তদন্ত একতরফা হয়েছে। আমরা চাই, প্রকৃত সত্য উঠে আসুক এবং দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

তদন্ত কমিটির বক্তব্য

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কৃষিবিদ আরজু আক্তার বলেন,
“আমরা অভিযোগের বিস্তারিত শুনেছি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে অভিযুক্ত সুপারের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ করা হবে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।”

এদিকে, অভিযুক্ত সুপার আবু জাফর মো. ছালেহ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

এখন দেখার বিষয়, তদন্ত প্রতিবেদন কীভাবে প্রকাশিত হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী আদালত চত্বরে আসামিদের ওপর হামলা, আহত ২

পটুয়াখালী জেলা জজ আদালত চত্বরে হাজিরা দিতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন মামলার আসামিরা। বাদীপক্ষের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়ে ইট ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এতে দুইজন গুরুতর আহত হন। বুধবার (স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা) জেলা আইনজীবী সমিতির প্রধান ফটকের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন মো. সোহাগ মিয়া ও মো. জামাল। এদের মধ্যে গুরুতর আহত সোহাগ মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মরহুম মাহবুবুর রহমান তালুকদারের ভাতিজা এবং কলাপাড়া নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়ার ছোট ভাই।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া সবাই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। হামলাকারীরা ঘটনাস্থলে থাকা লোকজনের মোবাইল ফোন চেক করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলতে বাধ্য করে।

আহত সোহাগ মিয়ার বড় ভাই মো. আল-আমিন জানান, ২০১২ সালে ছাত্রদল নেতা মো. জিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। এ সময় বাদীপক্ষ ও তাদের সমর্থকরা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং ইট ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় সোহাগ মিয়ার হাঁটু থেতলে দেওয়া হয় এবং জামালসহ আরও কয়েকজনকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া বলেন,
“আদালত চত্বরে এমন ন্যক্কারজনক হামলা দুঃখজনক। আহতদের চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয়নি। হামলার পর তাদের চোখ বেঁধে বসাকবাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আরও ঘটতে পারে।”

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরওয়ার কালাম বলেন,
“আদালত চত্বরে এমন হামলা খুবই নিন্দনীয় ও দুঃখজনক। আদালত এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা থাকা উচিত।”

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান,
“আমরা হামলার খবর পেয়েই পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। আহতরা কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে শুনেছি।”

এই ঘটনায় আদালত চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সৌরচালিত ইনকিউবেটর ও সেলাই মেশিন বিতরণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নারী উদ্যোক্তাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সৌর বিদ্যুৎ চালিত ইনকিউবেটর, সেচ পাম্প ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (স্থানীয় সময় বেলা ১১টা) কলাপাড়া উপজেলা চত্বরে অলাভজনক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা প্রান্তজনের উদ্যোগে এই উপকরণ বিতরণ করা হয়। একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় “ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সুরক্ষা প্রকল্প ফেইজ-২” এর আওতায় এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকরণ বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রবিউল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া লেডিস ক্লাবের সভাপতি সুমাইয়া ফাহিমুন এমা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার, ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ টিনু মৃধা, চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল মাস্টার, পরিবেশ ও জনসুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব মনোয়ারা বেগম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মোঃ হুমায়ূন কবির, সদস্য সচিব এস এম মোশারফ হোসেন, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাহিদুল হক, প্রান্তজনের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সাইফুল্লাহ মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এই প্রকল্পের আওতায় ১৯ জন নারী উদ্যোক্তাকে সৌরচালিত উপকরণ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছিল—

১টি সৌরচালিত ইনকিউবেটর (৪০০ ডিম ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট)

২টি সৌরচালিত সেচ পাম্প

৬টি সোলার সেলাই মেশিন

সাতজন ভূমিহীন নারী উদ্যোক্তা ইনকিউবেটর পরিচালনা করবেন, প্রতিটি পাম্প তিনজন করে নারী উদ্যোক্তা পরিচালনা করবেন। মেশিনগুলো সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যয় ছাড়াই সেগুলো চালানো সম্ভব হবে। দিনের বেলায় সরাসরি সৌরশক্তিতে এবং রাতের বেলায় ৬ ঘণ্টা ব্যাটারির মাধ্যমে চালানো যাবে।

প্রান্তজন দীর্ঘদিন ধরে নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। সংস্থাটি দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই জীবিকার নিশ্চয়তার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে একশনএইড বাংলাদেশের সহায়তায় কলাপাড়ার টিয়াখালী, ধানখালী, চম্পাপুর ও লালুয়া ইউনিয়নে “ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার সুরক্ষা ফেইজ-২” প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে ছিনতাইয়ে গণপিটুনি, ছাত্রদল পরিচয়ে বাঁচলেন ছাত্রলীগকর্মী

পটুয়াখালী শহরের লেকপাড় এলাকায় ছিনতাই করতে গিয়ে এক যুবক গণপিটুনির শিকার হন। তবে তিনি নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং পালিয়ে যান।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শহরের লেকপাড় সড়ক দিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী রেদোয়ান রহমান সুরবীন বাসায় ফিরছিলেন। তিনি চাচার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফিরছিলেন, তখনই এক যুবক তার পথ আটকায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইকারী তার গলায় চাইনিজ কুড়াল ঠেকিয়ে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। ছাত্রের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং ওই যুবককে ধরে ফেলেন।

জনতা তাকে গণপিটুনি দিতে গেলে তিনি নিজেকে ছাত্রদল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। এতে উপস্থিত লোকজন বিভ্রান্ত হয়ে গেলে সুযোগ বুঝে তিনি পালিয়ে যান।

স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠা যুবকের নাম তরিকুল ইসলাম রাহাত। তিনি সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা মজিদ প্যাদার নাতি এবং তার বাবার নাম মামুন প্যাদা।

এলাকাবাসীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তবে তদন্তের আগে তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

কলেজ শিক্ষার্থীর বাবা মোস্তাফিজুর রহমান সুজন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও ৯ হাজার টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমরা ছিনতাইয়ের অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে শিক্ষার্থী-শ্রমিক সংঘর্ষে উত্তেজনা, ১৫ রুটে বাস ধর্মঘট

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশালে শিক্ষার্থী ও বাস শ্রমিকদের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ বিরোধের জেরে দক্ষিণাঞ্চলের ১৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ভোর থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে । হাফভাড়ার দাবিতে এক ছাত্রীর সঙ্গে বাস শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডা ও অপমানজনক আচরণের ঘটনার পর আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। এতে বাস ভাঙচুর ও সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার দাবিতে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি থেকে আসা বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী বাসে হাফভাড়া চাইলে হেলপার তা অস্বীকার করে এবং অপমানজনক মন্তব্য করে। বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা রূপাতলী বাস টার্মিনালে এসে বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়, এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে।

শ্রমিকদের দাবি, শিক্ষার্থীরা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় এবং একাধিক বাসেও ভাঙচুর চালিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের উপর শ্রমিকদের হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার রাতেই শ্রমিকরা জরুরি বৈঠক করে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়। ধর্মঘটের ফলে বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে ফিরে গেছেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, হাফভাড়া নিশ্চিত করতে হবে। হামলাকারী শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। তাদের অফিস ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবে।

বরিশাল রূপাতলী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন,শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত ছিল শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি অভিযোগ করা, বাস ভাঙচুর নয়।

বর্তমানে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এ পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান না হলে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 




মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মিত্রবাহিনী নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল কি না এমন প্রশ্ন রেখে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের বর্তমান নেতৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী আদর্শ থেকে যতক্ষণ নিজেকে আলাদা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কোনো ন্যায্য বিক্ষোভ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেনি। আমরা সমাবেশ করার স্বাধীনতা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আজ সকালে গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সাড়ে পাঁচ মাসে কেবল ঢাকায় কমপক্ষে ১৩৬টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিক্ষোভের ফলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। তবুও, সরকার কখনো বিক্ষোভ-সমাবেশের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করেননি।’

‘কিন্তু আমাদের কি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ করার সুযোগ দেওয়া উচিত? জুলাই-আগস্টের ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায় যে আওয়ামী লীগের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যায় অংশ নিয়েছিল। তাদের পরিচালিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ হয়েছেন কয়েকশ তরুণ শিক্ষার্থী, এমনকি নাবালক শিশুরাও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যা, খুন ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকার।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, ‘গতকাল কয়েকজন বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীর সাক্ষাৎকারের বরাতে নিউইয়র্ক-ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, শেখ হাসিনা তার ১৬ বছরের একনায়কত্বের শাসনামলে সরাসরি হত্যা এবং জোরপূর্বক গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি একটি চোরতন্ত্র (ক্লেপ্টোক্রেসি) এবং খুনি শাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিরপেক্ষ ও স্বাধীন একটি প্যানেল বলছে, শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে তার ঘনিষ্ঠরা ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত চুক্তি থেকে কোটি কোটি ডলার চুরির দায়ে হাসিনার পরিবারের বিরুদ্ধে এখন তদন্ত চলছে।’

‘এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার হয়েছেন। প্রায় তিন হাজার জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শাপলা চত্বরের সমাবেশ এবং মাওলানা সাঈদীর বিচারিক রায়ের পর বিক্ষোভকারীদের ওপর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। পুলিশ বাহিনী হাসিনার শাসনামলে পুলিশ লীগে পরিণত হয়েছিল। হাসিনার একনায়কতন্ত্রে প্রায় ষাট লাখ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভুয়া ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়। এমনকি দেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতিকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়, পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয় এবং নির্বাসনে পাঠানো হয়।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম লেখেন, ‘যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ এই গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড এবং প্রকাশ্য দুর্নীতির জন্য ক্ষমা না চাইবে এবং যতক্ষণ না তাদের অন্যায়কারী নেতাকর্মীরা বিচার ব্যবস্থার কাছে আত্মসমর্পণ করে তাদের অপরাধের জন্য বিচারকার্যের প্রক্রিয়া শুরু করে পাপমোচন করতে উদ্যোগ না নেবে এবং যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ তাদের বর্তমান নেতৃত্ব ও ফ্যাসিবাদী আদর্শ থেকে নিজেকে আলাদা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দেওয়া হবে না। মিত্রবাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করার অনুমতি দিয়েছিল?’

‘পৃথিবীর কোনো দেশ কি একদল খুনি এবং দুর্নীতিবাজ চক্রকে আবার ক্ষমতায় আসতে দেবে? কোনো দেশই জবাবদিহিতা ছাড়া স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশের জনগণ এই খুনিরা কোনো প্রতিবাদ-সমাবেশ করলে তার বিরুদ্ধে কঠিন জবাব দেবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে। আমরা দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার কোনো ধরনের প্রচেষ্টাকে সুযোগ দেব না। আওয়ামী লীগের পতাকাতলে কেউ যদি অবৈধ বিক্ষোভ করার সাহস করে তবে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।’




সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করে নিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন দাবিই করেছে ইসরায়েলের মিডিয়া। সিরীয় ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার সৈন্য রয়েছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়া থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে চান বলে মঙ্গলবার ইসরায়েলি মিডিয়া জানিয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি পাবলিক ব্রডকাস্টিং কান জানিয়েছে, “হোয়াইট হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের ইসরায়েলি সমকক্ষ কর্মকর্তাদের কাছে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন, যেখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে— প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিরিয়া থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে চান।”

এতে আরও বলা হয়েছে, “সিরিয়া থেকে আমেরিকান বাহিনীর প্রত্যাহার তেল আবিবের জন্য উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ তৈরি করবে”।

গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক ঘোষণা অনুযায়ী, সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ মঙ্গলবার সিরিয়ার দখলকৃত হারমন পর্বত পরিদর্শন করেছেন। গত মাসে এই অঞ্চলটি দখলের পরে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে ইসরায়েলের অভিপ্রায়ের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

কাটজ বলেন, “আমরা শত্রু বাহিনীকে সিরিয়ার দক্ষিণে, এখান থেকে সুইদা-দামেস্ক অক্ষ পর্যন্ত নিরাপত্তা অঞ্চলে পা রাখতে দেব না। আমরা যে কোনও হুমকির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

এর আগে গত ডিসেম্বরে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের নানা ঘটনাবলীর সুযোগ নিয়ে সিরিয়ার মাউন্ট হারমনের বেসামরিক অঞ্চল দখল করে গোলান মালভূমিতে নিজেদের দখল আরও প্রসারিত করে ইসরায়েল।

সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন করে চালানো এই হামলায় সেসময় নিন্দা জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।




বাউফলে শহীদ জিয়া চ্যালেঞ্জ কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উদ্বোধন

পটুয়াখালীর বাউফলে শুরু হয়েছে শহীদ জিয়া চ্যালেঞ্জ কাপ ২০২৫ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। মঙ্গলবার বিকেলে বাউফল সরকারি কলেজ মাঠে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার।

টুর্নামেন্টটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে পৌর ছাত্রদল ও বাউফল ব্রাদার্স স্পোর্টিং ক্লাব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহজাহান হাওলাদার, সহ-সভাপতি অলিউল মজিদ, বাউফল উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জসীম উদ্দিন, বাউফল পৌরসভার কাউন্সিলর মো. ইউনুছ এবং পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল ফাহাদসহ অনেকে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “খেলাধুলা যুব সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দল অংশ নিচ্ছে, যা স্থানীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আয়োজকদের আশা, টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তুলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১ ফেব্রুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের শেষ সময় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। আগামী শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কক্সবাজারের প্রবাল এই দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। তখন কোনো পর্যটকের সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।



আইসিসির প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালারডাইসের আকস্মিক পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল’র (আইসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিওফ অ্যালারডাইস পদত্যাগ করেছেন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এরই মাধ্যমে আইসিসিতে দীর্ঘ ১৩ বছরের পথচলা শেষ করেছেন অ্যালারডাইস। ২০১২ সালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) অপারেশনস ম্যানেজারের দায়িত্ব ছেড়ে মহাব্যবস্থাপক হিসেবে আইসিসিতে যোগ দিয়েছিলেন অ্যালারডাইস। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ পান। মাঝে আটমাস ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

হঠাৎ পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। আইসিসির প্রকাশিত বিবৃতিতে অ্যালারডাইসের ভাষ্য, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করতে পারা আমার জন্য সম্মানের। ক্রিকেটের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে আইসিসির সদস্যদের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তি স্থাপন করা পর্যন্ত আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তাতে আমি সত্যিই গর্বিত।’

নিজের পদত্যাগের জন্য এটাই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন অ্যালারডাইস, ‘গত ১৩ বছর ধরে আমাকে সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আইসিসির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং গোটা ক্রিকেট সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, পদত্যাগ করার এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য এটাই সঠিক সময়। আমার আত্মবিশ্বাসী যে, ক্রিকেটের সামনে রোমাঞ্চকর সময় অপেক্ষা করছে। আমি আইসিসি ও বিশ্ব ক্রিকেট সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করছি।’

এছাড়া, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে ভারতীয় দলের পাকিস্তানে না যাওয়ার বিষয়টি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও সুরাহা করতে পারেননি অ্যালারডাইস। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মূল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান স্টার স্পোর্টস সূচি প্রকাশে ক্রমাগত দেরি করতে থাকায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল এবং টুর্নামেন্ট শুরুর ১০০ দিন আগে অনুষ্ঠান ও বিজ্ঞাপন প্রচার করার ব্যাপারে চুক্তির বাধ্যবাধকতার বিষয়েও জিওফ অ্যালারডাইসকে পত্র দিয়েছিল।

এছাড়া অভিযোগ আছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০২৪ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ খরচ করা হয়েছে। গত জুলাইয়েই পদত্যাগ করেন সংস্থাটির বিপণন ও যোগাযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ক্লেয়ার ফারলং এবং ভেন্যু পরিদর্শক দলের সদস্য ও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান ক্রিস টেটলি। এবার তাদের পথ অনুসরণ করলেন জিওফ অ্যালারডাইস।