মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না: শামসুজ্জামান দুদু

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মন্তব্য করেছেন যে, দেশের উন্নয়ন এবং পরিস্থিতি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগুচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এক ষড়যন্ত্রের জালে আটকে গেছে, এবং সেই জাল ছিঁড়ে ফেলার জন্য একটি জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।

আজ (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের উদ্যোগে আয়োজিত নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবিতে এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে শামসুজ্জামান দুদু এ মন্তব্য করেন।

দুদু বলেন, “বাংলাদেশ হাসিনামুক্ত হওয়ার পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, নির্বিঘ্নে বসবাস করা, লুটেরাদের হাত থেকে দেশ রক্ষা পাওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসন মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু গত ছয় মাসে বাংলাদেশ যেভাবে চলেছে, ক্রমেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখনো বাজারে সিন্ডিকেটের হাতে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যেটি শেখ হাসিনার শাসনামলেও ছিল, আর এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ করুন।”

দুদু অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ষড়যন্ত্রের জালে আটকে গেছে এবং এই জাল ছিঁড়ে ফেলার জন্য কঠোর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এটি একটি কঠিন কাজ, কিন্তু একমাত্র জনগণের সমর্থিত সরকারই এটি করতে পারবে। আর সেই সরকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তবে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন করেছে, তবে তারা যথাযথ ফল না পাওয়ার কারণে এখনো এই সরকারের সমর্থন বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বারবার হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাহলে এই সমর্থন বজায় রাখা কঠিন হবে।”

অবশেষে, তিনি নির্বাচন এবং সংস্কারের বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন এবং সংস্কারের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই, কিন্তু সরকার যেভাবে ধারণা দিতে চাচ্ছে, তাতে সংস্কার না হলে নির্বাচন হবে না, আর সংস্কার হলে নির্বাচনে দেরি হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেভরনের প্রস্তাব নাকচ করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের নতুন প্রস্তাব নাকচ করেছে। অফশোর পিএসসির (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) শর্তে অনশোরে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল শেভরন, যা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শেভরন সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত ব্লক-১১ এবং হবিগঞ্জের ব্লক-১২ এর বর্ধিত এলাকায় চুক্তির প্রস্তাব করেছিল।

শেভরন বাংলাদেশ নতুন করে অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৩ অনুযায়ী চুক্তির প্রস্তাব দেয়। তবে পেট্রোবাংলার মতে, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ব্যয় ও ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সেখানে গ্যাসের দর বেশি নির্ধারিত হয়। স্থলভাগে সেই একই দর অনুযায়ী চুক্তি করা সম্ভব নয়।

পেট্রোবাংলা জানায়, ২০১৯ সালের মডেল পিএসসি সংশোধন করে ২০২৩ সালের নতুন মডেল পিএসসি চালু করা হয়। এতে গ্যাসের দর নির্দিষ্ট না রেখে ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়। নতুন চুক্তিতে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের চুক্তির তুলনায় পরিবর্তিত।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা জানান, শেভরনের নতুন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। আগের চুক্তিগুলোর তুলনায় পিএসসি-২০২৩ এ সরকারের শেয়ার কমানো হয়েছে এবং শর্ত কঠোর করা হয়েছে। এছাড়া, ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে ইতোমধ্যেই বাপেক্স জরিপ চালিয়েছে এবং সেখানে ২.৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে।

বর্তমানে শেভরন বাংলাদেশ তিনটি গ্যাসক্ষেত্র (বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার) থেকে দৈনিক ১১২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের একটি বড় অংশ। তবে ব্লক-১২ চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হচ্ছে, এবং শেভরনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার মতে, এই বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শেভরন বাংলাদেশ সম্প্রতি গ্যাস বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দিয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার জানুয়ারিতে একটি চিঠির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ৭৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের অনুরোধ করেছেন। বর্তমানে শেভরনের গ্যাস বিলের বকেয়া পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ মিলিয়ন ডলারে।

শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও জ্বালানি খাতে অবদান রাখতে আগ্রহী। তবে নতুন চুক্তির বিষয়ে শেভরন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইজতেমা উপলক্ষ্যে ১৪ ট্রেন, যখন যেখান থেকে ছাড়বে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ১৪টি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ট্রেনগুলো ইজতেমা চলাকালীন সময়ে পরিচালনা করা হবে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ব্যবস্থাপনা পত্রে বিষয়টি জানা যায়।

পত্র অনুযায়ী, শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) জুমা স্পেশাল নামে একজোড়া ট্রেন চালানো হবে। জুমা স্পেশাল-১ ঢাকা থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় ছেড়ে টঙ্গী পৌঁছাবে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে। জুমা স্পেশাল-২ বিকেল ৩টায় টঙ্গী স্টেশন থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে দুপুর ৩টা ৪৫ মিনিটে।

এছাড়া আখেরি মোনাজাতের দিন রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) পরিচালনা করা হবে ১০টি ট্রেন। এর মধ্যে ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-১ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে, ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-২ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টায়, ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-৩ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে, ঢাকা-টঙ্গী স্পেশাল-৪ ঢাকা ছাড়বে ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে।

অন্যদিকে টঙ্গী স্টেশন থেকে ফেরার পথে টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-১ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে, টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-২ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে, টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-৩ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে, টঙ্গী-ঢাকা স্পেশাল-৪ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে বেলা ১১টা ৭ মিনিটে, টঙ্গী-ময়মনসিংহ স্পেশাল-১ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে এবং সর্বশেষ টঙ্গী-টাঙ্গাইল স্পেশাল-২ টঙ্গী স্টেশন ছাড়বে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে।




আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিপিএলে আজ আছে দুটি ম্যাচ। গল টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা মাঠে গড়াবে আজ। রাতে ইউরোপা লিগের ম্যাচ। থাকবে আল-নাসরের খেলাও।

গল টেস্ট–২য় দিন

শ্রীলঙ্কা–অস্ট্রেলিয়া
সকাল ১০–১৫ মি. সনি স্পোর্টস টেন ৫

বিপিএল
রংপুর রাইডার্স–খুলনা টাইগার্স
দুপুর ১–৩০ মি., টি স্পোর্টস ও গাজী টিভি

চিটাগং কিংস–সিলেট স্ট্রাইকার্স

সন্ধ্যা ৬–৩০ মি., টি স্পোর্টস ও গাজী টিভি

এসএ২০
জোবার্গ সুপার কিংস–পার্ল রয়্যালস
রাত ৯–৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ২

সৌদি প্রো লিগ

আল রাইদ–আল নাসর
রাত ১১টা, সনি স্পোর্টস টেন ২

উয়েফা ইউরোপা লিগ
বুখারেস্ট–ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
রাত ২টা. সনি স্পোর্টস টেন ২

এএস রোমা–ফ্রাঙ্কফুর্ট
রাত ২টা সনি স্পোর্টস টেন ১

টটেনহাম–এলফসবর্গ
রাত ২টা সনি স্পোর্টস টেন ৫

অ্যান্ডারলেখট–হফেনহাইম
রাত ২টা সনি স্পোর্টস টেন ৩




ওয়াশিংটনে মাঝ আকাশে হেলিকপ্টারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের সংঘর্ষ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :  যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটিতে ৬৪ জন আরোহী ছিলেন বলে জানা গেছে।

এতে বহু হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও হতাহতের বিষয়ে এখনও কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

রয়টার্স বলছে, রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী জেটের সাথে বুধবার রাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের মধ্য-আকাশে সংঘর্ষ হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন, “আমরা জানি সেখানে প্রাণহানি হয়েছে,” যদিও কতজনের প্রাণহানি হয়েছে তা তিনি বলেননি।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের জন্য ফ্লাইট ৫৩৪২ পরিচালনা করছিল পিএসএ। এফএএ অনুসারে, কানসাসের উইচিটা থেকে ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট অনুসারে, জেটটি ৬৫ জন যাত্রী বহন করতে পারে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর একাধিক সংস্থা বিমানবন্দরের সীমান্তবর্তী পটোম্যাক নদীতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে কাজ করছে। বিমানবন্দরটি বুধবার রাতে বলেছে, দুর্ঘটনার পর জরুরি কর্মীরা উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন এবং বিমানবন্দর থেকে সমস্ত উড্ডয়ন এবং অবতরণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এই মুহূর্তে হতাহতের কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই। একাধিক সংস্থা নদীতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের কাজ সমন্বয় করছে।

এদিকে বিধ্বস্ত হওয়া বিমানে ৬৪ জন আরোহী ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আমেরিকান এয়ারলাইন্সের যে বিমানটি ওয়াশিংটনের রিগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে তাতে ৬০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু সদস্য রয়েছেন।




সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হলেন শারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উচ্ছেদ অভিযানের শীর্ষ নেতা আহমেদ আল শারা দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনা করার জন্য মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে সিরিয়ার বর্তমান এই ডি ফ্যাক্টো নেতাকে।

বাশার ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেওয়া অন্যান্য সামরিক গোষ্ঠীর কমান্ডার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বুধবার এক বৈঠকে শারা-কে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স এবং এএফপি। ‘সিরীয় বিপ্লবের বিজয়’ নামের সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শারা নিজেও।

সিরিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব বার্তাসংস্থা সানা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট থাকবেন শারা।  নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গণে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে সিরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।’

গত ডিসেম্বরে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও কয়েকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দুর্দান্ত অভিযানে পতন ঘটে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের এবং সপরিবারে দেশ থেকে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন আসাদ। আহমেদ আল শারা ছিলেন সেই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শামসের প্রধান সংগঠক এবং শীর্ষ কমান্ডার।

 




কাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা, আসতে শুরু করেছেন মুসল্লিরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামীকাল শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার ৫৮তম আয়োজন। এতে অংশ গ্রহণ করবেন ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের তাবলীগের সাথীরা।

প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন খিত্তা ও পয়েন্টের জিম্মাদার মুসল্লিরা এরই মধ্যে ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। যারা ইজতেমা ময়দানে এসেছেন তারা তাদের নিজ নিজ খিত্তায় অবস্থান করছেন।

এবারের ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে শুরায়ী নেজামের অধীনে দুই ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম পর্ব ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ৩ ফেব্রুয়ারি। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।

তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান, তাবলিগের মেহনত একটি দ্বীনের অন্যতম মেহনত এবং দ্বীনের ধারক-বাহক হচ্ছেন ওলামায়ে কেরাম। ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ভাইয়েরা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে থেকেই তাবলিগের মেহনত করতে চান। এই সংখ্যাটা এত ব্যাপক যে, টঙ্গী মাঠের ১৬০ একর জায়গায় তাদের অবস্থান করাটা খুবই কষ্টদায়ক হয়ে যায়।



৬ মাসে এই সরকারের অর্জন অভূতপূর্ব: প্রেস সচিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গত ৬ মাসে এই সরকারের অর্জন অভূতপূর্ব। স্টক মার্কেটে প্রতিটি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করছে। গত ৬ মাসে কোম্পানিগুলো কেমন পারফর্ম করেছে দেখেন, সেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি’র প্রতিবেদন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, আমরা রফতানির তথ্য ম্যানুপুলেট করি না। গত চার মাসে রফতানি গড়ে ১৫ শতাংশের ওপরে বেড়েছে। আগে এমন কখন হয়েছে, আমি তো অর্থনীতি বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছি। চট্টগ্রামে বন্দরের কার্যক্রম দেখেন সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০০ সালের পরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের রেকর্ড ভেঙেছে এ বছর। বিশ্বের চারটি বড় কোম্পানি যারা বন্দর হ্যান্ডেলিং করে, তারা একসঙ্গে জানিয়েছে যে, চট্টগ্রাম পোর্ট, মাতারবাড়ি, লালদিয়া টার্মিনাল তারা ম্যানেজ করতে চায়। তারা চায় কারণ তাদের কাছে পরিসংখ্যান আছে। তারা তো দেখছে যে, বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কারখানা বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়, প্রতিবছর কিছু জন্ম হয়। কিছু কিছু বড় হয়। ফলে অসমর্থ্য কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা অর্থনীতির একটি চক্র। আমরা দেখছি যে, আমাদের যথেষ্ট ভালো রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আশা করছি, আরও কিছু পদক্ষেপ যদি আমরা নিতে পারি, চট্টগ্রাম বন্দের সক্ষমতা যদি ফেরে— আপনি নিশ্চিত থাকেন এফডিআই প্রচুর আসবে। আগের সরকার ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করে জমি দখল করে বসে আছে, কোনও বিনিয়োগকারী আসে না। কোরিয়ান ইপিজেডের ঝামেলা ২০ বছর ধরে জিইয়ে রেখেছে, তাহলে বিদেশিদের কাছে কী বার্তা যায়।

১৪০ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে ভুল তথ্য আছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে প্রতিবেদন পুরোটা পড়েছি। ১৪০ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কিন্তু কোন কর্তৃপক্ষ মামলা দেয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘অথরিটিস’ , কিন্তু আমার মনে হয়— হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এখানে জানার ভুল আছে। এটা অথরিটিস না , যারা ভিক্টিম তাদের পরিবার মামলাগুলো করেছে। বাংলাদেশের সরকার করেনি, পুলিশ করেনি। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা আমরা করিনি।

এখন একজন ভিক্টিমের ফ্যামিলি যার ছেলে মারা গেছে, যার ভাই মারা গেছে, উনি যদি এসে কারও বিরুদ্ধে মামলা করেন, সেখানে আমরা তো এটার জন্য দায়ী না। সেক্ষেত্রে আমার কী করার আছে। সেই জায়গায় মনে হয়— ওনাদের ভুল আছে, আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবো, বলবো যে, প্রতিবেদন সংশোধন করতে হবে। কারণ মামলা তো আমরা করিনি। একজন ভিক্টিমের পরিবার মামলা করলে আমরা তো তাদের বলতে পারি না যে, মামলা না করতে। কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং এই মামলাগুলো থেকে যাতে দ্রুত রেহাই পাওয়া যায়, সেজন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ের ৮ সদস্যের কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। ওনারা খুব দ্রুত এই মামলাগুলো দেখবেন।

তিনি আরও বলেন, এই জায়গায় আমরা স্বচ্ছতার মধ্যে আছি। এখন পর্যন্ত কিন্তু ৪ জন সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছে, আর কেউ হয়নি। আমরা চাচ্ছি যে, এই মামলাগুলোর মাধ্যমে কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়।




বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বসতঘর পুড়ে গেছে

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬টি বসতঘর সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে এবং আরও ২টি বসতঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বগা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তাহার কাজী, সবুজ কাজী, রেজাউল কাজী, দুলাল কাজী, সোহেল কাজী, জসিম খান, রফিক খান ও ফজলুল খান রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডটি প্রথমে আতহার কাজীর বসতঘর থেকে শুরু হয়। দ্রুতই আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে, আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে একে একে ৬টি বসতঘর পুড়ে যায়, পাশাপাশি ২টি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, বাউফল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘ সময় কেউ কল রিসিভ করেননি। এক ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাউফল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর মো. সাব্বির আহম্মেদ জানান, এটি একটি চুলার আগুন থেকে শুরু হয়েছিল এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় হওয়ায় পানি সরবরাহ ভালো থাকায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, “ভুক্তভোগীরা প্রথমে জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেছিল, তবে সংযোগে বিলম্ব হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আমাদের কোনো বিলম্ব হয়নি। নদীপথে ফেরি করে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনা উপজেলায় মন্দিরে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ৩ আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষ্ণভক্তের দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পলাশ হাওলাদার (৩৫), বিপ্লব হাওলাদার (৩৫) ও বাবুল হাওলাদার (৪০)। এই তিনজনের বিরুদ্ধে ১৪ জানুয়ারি রাত থেকে ১৫ জানুয়ারি সকালে পূজা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অংশ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংঘর্ষে প্রায় ২৪ জন আহত হন, এর মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। গুরুতর আহত এক কৃষ্ণভক্ত দেবাংশু হাওলাদার ২১ জানুয়ারি ঢাকার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় কৃষ্ণভক্ত ভবরঞ্জন হাওলাদার বাদী হয়ে ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) তিন আসামিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলিম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হবে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম