ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় বহুতল ভবনে ৯ জন নিহত

উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনের সুমি শহরে একটি বহুতল ভবনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৩ জন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮১টি ড্রোন হামলা চালানোর পর সুমি শহরের একটি বহুতল অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রাশিয়ার ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর ৯ জন নিহত এবং এক শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে বলেন, “ঘণ্টায় ঘণ্টায় আমরা সুমির পরিস্থিতির আপডেট পাচ্ছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।” তিনি রাশিয়ার এই ধরনের হামলাকে তাদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এই ধরনের হামলা একটি সম্পূর্ণ ভবনের অনেক পরিবারের জীবন ধ্বংস করে দেয়।”

জেলেনস্কি আরও বলেন, “বিশ্বের সবাইকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আমি আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি রাশিয়ার এ হামলাকে অমানবিক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন এবং এই ধরনের কাজের জন্য বিচারের আওতায় আনার দাবি করেন।

এদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডেসায় রাতে চালানো একটি হামলায় শস্য গুদাম, হাসপাতাল এবং দুটি ব্যক্তিগত বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

রাশিয়া বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে, “আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক লোকদের লক্ষ্য করে এমন কোনো হামলা চালাইনি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কুয়াশা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার

শীতের কুয়াশার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও উপভোগ্য করে তুলতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাংলা বিভাগের উদ্যোগে এক অনন্য কুয়াশা উৎসব ‘কুহেলিকা’র আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবটি শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) ববির মুক্তমঞ্চে বিকাল ৪টা থেকে শুরু হবে, যা এক দিনব্যাপী ‘কুহেলিকা শীত উদযাপন ও পিঠা উৎসব-১৪৩১’ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মঞ্চে ময়মনসিংহ গীতিকার মহুয়ার পালা পরিবেশন করবেন। এছাড়া, নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যেমন নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তির আয়োজন থাকবে। একাধিক দোকানে পিঠা-পুলির পসরা সাজানো থাকবে, যা উৎসবে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে একটি চমৎকার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় জানান, “কুয়াশাকে নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন আমাদের জ্ঞানচর্চার পরিধি আরও বাড়াবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিও ফুটে উঠবে।”

ববির বাংলা বিভাগের প্রভাষক তাইয়্যেবুন নাহার মিমি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্ষা, শরৎ, বসন্ত উৎসবের পাশাপাশি এবার কুয়াশাবরণ উৎসবে অংশ নেবে। বাংলা বিভাগের শিক্ষকেরাও এই উৎসবে প্রাণখোলাভাবে যুক্ত হচ্ছেন। বাংলা বিভাগ সবসময় কিছুটা ভিন্নধর্মী ও দেশীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখতে চায়। এবারের আয়োজন দেশীয় ভাষা, সুর এবং ঐতিহ্যকে আরও সামনে নিয়ে আসবে।”

এটি একটি সাংস্কৃতিক উৎসব হিসেবে বাঙালি সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসেবে উত্থিত হবে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্যবোধ এবং একত্রে উদযাপনের আনন্দ সৃষ্টি করবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ১১০ ফিলিস্তিনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুদ্ধবিরতির চুক্তির অংশ হিসেবে দখলদার ইসরায়েলের কারাগার থেকে নতুন করে মুক্তি পেয়েছেন ১১০ ফিলিস্তিনি। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ওফার কারাগার থেকে ছাড়া পান তারা। এরআগে তিন ইসরায়েলি জিম্মি ও থাইল্যান্ডের পাঁচ নাগরিকসহ মোট আটজনকে মুক্তি দেয় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।

যার মধ্যে সাতজনকে গাজার খান ইউনিসে রেডক্রসের হাতে হস্তান্তর করে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা। ওই সময় সেখানে শত শত মানুষ জড়ো হন। এতে করে জিম্মিদের মুক্তি দিতে বেগ পেতে হয় তাদের। আর এ কারণে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি আটকে দিয়েছিলেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর কাছে দাবি করেন, পরবর্তীতে যেসব জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে, ওই সময় যেন এমন জনবহুল জায়গায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া না করা হয়। তার দাবি, এতে করে জিম্মিদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, যেসব বন্দি ইসরায়েলি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন তাদের কেউ কেউ পশ্চিমতীরের রামাল্লাহ এবং গাজায় গেছেন। তবে মুক্তি পাওয়া বন্দিদের পরিবার যেন কোনো ধরনের উদযাপন না করতে পারেন সেজন্য হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে ইসরায়েলি সেনারা। এমনকি উদযাপনের কারণে জেরুজালেম থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে তারা।




মেসি-নেইমারকে ছাড়িয়ে যে রেকর্ডের শীর্ষে রাফিনিয়া

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বার্সেলোনার হয়ে তৃতীয় মৌসুম খেলছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফায়েল দিয়াজ বা রাফিনিয়া। আগের দুই মৌসুমে ভালো খেললেও, সেভাবে নজরকাড়া পারফরম্যান্স ছিল না। যেন সব জমিয়ে রেখেছেন চলতি মৌসুমের জন্য। ঠিক তাই, এবার ৩১ ম্যাচেই ২৩ গোল করে রাফিনিয়া যেন আলোটা নিজের দিকেই ফিরিয়ে নিলেন। ছন্দময় ‍ফুটবলে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি রেকর্ডও গড়েছেন, যেখানে পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসি ও নেইমার জুনিয়রের মতো তারকাদের।

ইউরোপের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার আসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফ অনেক আগেই নিশ্চিত করেছিল বার্সেলোনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তারা গতকাল (বুধবার) রাতে মুখোমুখি হয় আটালান্টার। ম্যাচটিতে জয় পায়নি কেউ, শেষ হয়েছে ২-২ গোলের সমতায়। এদিন স্প্যানিশ জায়ান্টদের হয়ে গোল করেছেন লামিনে ইয়ামাল ও রোনাল্দ আরাউহো। গোল না পেলেও দুটি গোলই এসেছে রাফিনিয়ার সহায়তায়।

চলমান ২০২৪-২৫ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সার এই সেলেসাও তারকা ৮ ম্যাচে ৮টি গোল এবং ৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন। আর তাতেই রাফিনিয়া রেকর্ড গড়েছেন সর্বোচ্চ এই ইউরোপিয় ক্লাব প্রতিযোগিতায়। মিনিটের হিসাবে বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে কম সময়ে গোলে অবদান রেখেছেন। এই টুর্নামেন্টে প্রতি ৭৫ মিনিটে বার্সার গোলে অবদান (গোল কিংবা অ্যাসিস্ট) রয়েছে রাফিনিয়ার। এই তালিকায় মেসি-নেইমার আছেন তার পরের অবস্থানে।




বাংলাদেশে উন্নয়নসহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশসহ তিন দেশে উন্নয়ন কর্মসূচিতে সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড সরকার। অন্য দুটি দেশ হলো আলবেনিয়া ও জাম্বিয়া। গতকাল বুধবার সুইজারল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম সুইস ইনফোর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক সহায়তার জন্য সুইস সরকার যে পরিমাণ অর্থ চেয়েছিল, তার চেয়ে কম অর্থ বরাদ্দ করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিন দেশে উন্নয়নসহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুইজারল্যান্ডের সরকার।

পার্লামেন্টে আন্তর্জাতিক সহায়তা কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত গত বুধবার সুইজারল্যান্ডের নির্বাহী সংস্থা ফেডারেল কাউন্সিলকে জানানো হয়। এর ফলে সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশন (এসডিসি) ২০২৮ সালের পর বাংলাদেশ, আলবেনিয়া ও জাম্বিয়ায় দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ করে দেবে।




পটুয়াখালীর তামান্নার মেডিকেল ভর্তি নিয়ে সঙ্কট, সাহায্যের প্রয়োজন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামের মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্নার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক সমস্যায় দিন কাটছে। তামান্না, যিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর টেস্ট স্কোর এবং ১৭৪.২ নম্বর মেরিট স্কোর পেয়ে মেধাতালিকায় ৪৭২৮তম স্থান অর্জন করেছেন, এখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে।

তামান্নার বাবা আলাউদ্দিন মুদি ব্যবসা করতেন। তবে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে তিনি নানা এনজিও থেকে ঋণ নেন এবং শেষপর্যন্ত ঋণগ্রস্ত হয়ে বছরখানেক আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তার এই অনুপস্থিতির ফলে তামান্নার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তামান্না অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

তামান্নার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল হরিদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১৫ সালে পিএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসি এবং ২০২১ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ জিপিএ পান।

তামান্নার জীবনে মেডিকেল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন পূরণের পথে এখনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তার এই সাফল্য দারিদ্র্য ও পারিবারিক সমস্যার মধ্যেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তার প্রয়োজন।

কেউ যদি তামান্নার জন্য সাহায্য পাঠাতে চান, তাহলে তার মায়ের নম্বরে (০১৭৮৭৫৯২২৪৬) যোগাযোগ করতে পারেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দ্বিগুণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা ও দামের কারণে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। উৎপাদনে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এবার দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ দৃশ্যমান, যা শীতের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে। সরিষা ফুলের গন্ধে চারিদিক ভরে গেছে এবং মৌমাছি ও প্রজাপতিরা মধু আহরণে ব্যস্ত রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে সরিষা বারি-১৪ বীজসহ সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকরা লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং উপজেলার বেতাগি, সানকিপুর, বহরমপুর, বাঁশবাড়ীয়, আলীপুর ও দশমিনা ইউনিয়নে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এ বছর আগের চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

দশমিনা সদরের প্রান্তস মন্ডল বলেন, “গতবছর ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করেছি। এবার প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ফলন ভালো হবে।” কাটাখালীর কামাল আকন জানান, তিনি গতবছর সরিষা চাষ করে ভালো লাভ করেছেন এবং এই বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করেছেন। পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামের চাষি তপন সিকদার বলেন, “এ বছর আমি ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ভালো ফলন আশা করছি।”

বেতাগী ইউনিয়নের চাষি রফিক হাওলাদার জানান, তিনি কৃষি অফিস থেকে বিনা-১৪ সরিষা বীজ নিয়ে ১ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন এবং গাছ ভালো দেখা যাচ্ছে। রণগোপালদীর কৃষক আ. রাজ্জাক বলেন, “এ বছর সরিষার গাছ ও ফুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন দ্বিগুণ হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “সরিষা চাষের চাহিদা এবার অনেক বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে আমরা সরিষা চাষে উন্নতি ঘটাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বছর সরিষার ভালো ফলন আশা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘মাদরাসাছাত্রের নখ উপড়ে ফেলার চেষ্টাসহ চুরির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ’

বরিশালের একটি ঘটনার পটভূমিতে মাদরাসাছাত্রকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে চুরির মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, অভিযুক্তরা প্লায়ার্স দিয়ে মাদরাসাছাত্রের আঙুলের নখ তুলে ফেলার চেষ্টা করেছে এবং তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে।

ভুক্তভোগী ছাত্র আব্দুর রহিম (১৫) ও তার মা লামিয়া বেগম অভিযোগ করেন যে, ২৪ জানুয়ারি বরিশাল শহরের শ্রীনাথ চ্যাটার্জি লেনে তার ফুফুর বাসায় বেড়াতে যাওয়ার পর আব্দুর রহিমকে বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হাসিব হাওলাদার এবং তার সহযোগীরা তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা শিশুটিকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে, যার মধ্যে প্লায়ার্স দিয়ে আঙুলের নখ তুলে ফেলার চেষ্টা করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনার পর লামিয়া বেগম পুলিশের সাহায্য চাইলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, বরং তাদেরই বিরুদ্ধে শিশু রহিমকে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে হাসিব হাওলাদার বাদী হয়ে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অভিযোগে মামলা করেন। এই মামলায় রহিমকে শিশু আদালতের মাধ্যমে যশোর শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

লামিয়া বেগম অভিযোগ করেছেন যে, হাসিব হাওলাদার তার পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছেন এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত হাসিব হাওলাদার দাবি করেন যে, তার বাসা থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে এবং রহিম নিজেই চুরির কথা স্বীকার করেছে। তবে পুলিশের কাছে রহিমের কাছ থেকে কোনো চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, সন্দেহভাজন হিসেবে রহিমকে আটক করা হলেও, তার বিরুদ্ধে কোনো চুরির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেসবুক থেকে শুরু, এখন ১৬ লাখ টাকার কেক বিক্রি!

পটুয়াখালীর দুই বন্ধু ইমাম হোসেন ও রুম্পা আক্তারের উদ্যোগ ‘সফট বাইট’ এখন কেকের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ব্যবসা এখন চারটি শাখা, ৩৫ জন কর্মী ও মাসিক ১৬-২০ লাখ টাকা বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ইমাম ও রুম্পা। রুম্পার জন্মদিনে ভালো কেক না পেয়ে তারা ভাবলেন, পটুয়াখালীতে ভালো কেকের ব্যবস্থা করা দরকার। ঢাকায় ফিরে শুরু করেন কেক প্রস্তুতির গবেষণা। ফেসবুকে ‘সফট বাইট’ নামে পেজ খুলে শুরু হয় তাদের ব্যবসার যাত্রা।

শুরুর দিকে ঢাকা থেকে লঞ্চে কেক পাঠিয়ে পটুয়াখালীতে বিক্রি করতেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় ব্যবসা। বর্তমানে সফট বাইটের দুটি শাখা পটুয়াখালী ও দুটি বরগুনায়।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যবসা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগ থেকে পাওয়া জ্ঞান, মেন্টরশিপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অফার তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

ইমাম বলেন, “চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছি। আমাদের টার্গেট, ২০২৬ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে সফট বাইটের শাখা খোলা। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে সফট বাইটকে দেখতে চাই।” নতুনদের উদ্দেশে ইমাম বলেন, **”উদ্যোগ নিন, পথ চলতে চলতেই শিখবেন। নেটওয়ার্কিং বাড়ান, বই পড়ুন এবং স্বপ্ন দেখুন। নিজেদের এমনভাবে তৈরি করুন যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ব আপনাদের চিনতে বাধ্য হয়!”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হলেন শারা

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্বদানকারী আহমেদ আল শারা দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার বরাতে এ খবর নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, বাশার আল আসাদ এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করতে সামরিক গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা এক বৈঠকে শারা-কে অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই বৈঠকটি “সিরীয় বিপ্লবের বিজয়” নামক একটি ঐতিহাসিক সমাবেশ ছিল, যেখানে শারা নিজেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শারা-কে মন্ত্রিসভা গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনা করতে পারেন।

একটি সামরিক কর্মকর্তা হাসান আবদেল ঘানি সানাকে জানান, “আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত শারা দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে, তারা সিরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করবে।” এছাড়া, বাশার আল আসাদের পতনে অংশগ্রহণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিলোপ এবং তাদের সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শারা মনোনীত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, “সিরিয়ার সরকার ব্যবস্থায় বর্তমান শূন্যতা বৈধ এবং আইনানুগভাবে পূরণ করা হবে।” তিনি আরো বলেন, “আন্তবর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সিরিয়ায় যথাযথ সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং সে জন্য রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে আমূল সংস্কারের প্রয়োজন।”

শারা আরও জানান, সিরিয়ার জন্য নতুন সংবিধান গ্রহণ করা হবে, যা তৈরি করতে প্রায় তিন বছর সময় লাগতে পারে।

এছাড়া, গত ডিসেম্বরে সিরিয়ায় সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অভিযানে বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঘটে। সে সময় আসাদ পরিবারসহ দেশ থেকে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেয়। আহমেদ আল শারা ছিলেন ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া শীর্ষ কমান্ডার এবং গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শামসের প্রধান সংগঠক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম