দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা

জানুয়ারি মাসে তিনবার সোনার দাম বাড়ানোর পর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিনেই ফের সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন দামে এক ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নতুন দাম রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারেও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৭ হাজার ৪৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া, স্বর্ণ বিক্রয়ের সময় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত করতে হবে, তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামও রেকর্ড ছুঁয়েছে, এক আউন্স স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো ২ হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে এর আগে ২৯ জানুয়ারি দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯১ টাকা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 বাবার কোলেই থাকতে চেয়েছিল শিশু আহাদ, এখন শুয়ে আছে কবরে

চার বছরের শিশু আব্দুল আহাদ, যে বাবা-মায়ের কোলে থাকার স্বপ্ন দেখেছিল, তা আর পূর্ণ হলো না। পিরোজপুরের ফরিদপুরের সন্তান আহাদ ১৯ জুলাই, ২০২৫ তারিখে রাজধানী ঢাকার রায়েরবাগে স্বৈরাচারী সরকারের গুলিবর্ষণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগ ও ছাত্র-জনতার মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। এ সময়ে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে, সশস্ত্র বাহিনী হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছুঁড়ে। আহাদ তার বাবা-মায়ের সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকলেও একটি গুলি তার ডান চোখের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মাথার ভিতরে ঢুকে পড়ে।

অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু সেখানে ২০ জুলাই রাতে সে মৃত্যুবরণ করে। আহাদের বাবা, মো: আবুল হাসান (৩৪) জানালেন, “ও যখন আমাকে বলেছিল, ‘বাবা, আমাকে তুমি ছেড়ে দিও না,’ তখন আমি তাকে আশ্বস্ত করেছিলাম, কিন্তু আমি তাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারলাম না।”

এছাড়া আহাদের মা কোহিনুর আক্তার সুমি (২৬) জানিয়েছেন, “এখন আর আমার কোলে আমার ছেলে নেই। তার কোলে ঘুমানোর কথা মনে পড়লেই চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারি না।” শিশুটির স্মৃতি এবং একমাত্র চঞ্চলতার কথা মনে করে তিনি শোকার্ত হয়ে বলেন, “আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।”

শিশু আহাদের চাচা করিম মাতুব্বর বলেন, “ছোট্ট শিশু কি অপরাধ করেছিল? কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো?” তিনি এবং এলাকার অন্যান্য বাসিন্দা বিচার চেয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা মো: মোখলেসুর রহমান বলেন, “এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা আহাদের স্মৃতি চিরকাল মনে রাখব এবং তার হত্যার বিচার চাই।”

শিশু আহাদের মৃত্যু এবং তার পরিবারকে বিচারের জন্য অনেকে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চোরের উৎপাতে ঘুম হারাম, আতঙ্কে কাটে প্রতি রাত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলায় কয়েক মাস ধরে চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে, গত দুই সপ্তাহে উপজেলার তিনটি গ্রামে তিন কৃষকের গোয়ালঘর থেকে ১১টি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিদিনই হাঁস-মুরগি, ছাগল এবং দোকানপাটে চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

চোরের উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এবং সড়কের পাশের বাড়ির বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন। সরকারি গাছও চুরি হচ্ছে, আর সংঘবদ্ধ চোরচক্র বিভিন্ন বাড়িতে হানা দিয়ে বসবাসকারীদের রাতে নির্ঘুম রাখছে।

এছাড়া, ২৯ জানুয়ারি রাতে পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের শাহিন হাওলাদারের বাড়ি থেকে ৫টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। একই দিন, দুপুর ১১টার দিকে দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামে মাহমুদুল হাসান নামক এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোররা দরজার সিটকানি ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

এ ছাড়াও, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে চন্ডিপুর এলাকার দিনমজুর আব্দুল রহিম শেখের ৪টি এবং পূর্ব চরবলেশ্বর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন শেখের ২টি গরু চুরি হয়ে যায়। গত ৭ জানুয়ারি ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে, একটি মাদ্রাসা এবং একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে।

এই চুরির ঘটনা নিয়ে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “চুরির ঘটনায় জড়িতদের ধরতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। বিভিন্ন হাটবাজারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সন্দেহজনক লোকজনের চলাফেরার ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। আমরা চোরদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে কাজ করছি।”

এভাবে এলাকার মানুষের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং চুরির ঘটনা প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। পুলিশ যত দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তত দ্রুত বেড়ে যেতে পারে অপরাধের মাত্রা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 প্রিয় নেতার মৃত্যুতে আজও কাঁদে নলছিটিবাসী

অকৃত্রিম দেশপ্রেম এবং জনবান্ধন জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত এক মহান নেতার স্মৃতিতে আজও শোকে কাঁদছে নলছিটির জনগণ। তিনি ছিলেন একজন মানুষ, যিনি নিজের জীবনের অধিকাংশ সময় ব্যয় করেছেন জনগণের সেবায়। গণমানুষের ভালোবাসা যে তাঁর প্রতি ছিল অবিশ্বাস্য, তা তাঁর রাজনৈতিক জীবন থেকেই স্পষ্ট। গণতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, তিনি ছিলেন রাজপথের অকুতোভয় যোদ্ধা।

নজরুল ইসলাম শাহীন তালুকদার, যিনি ঝালকাঠি জেলার নলছিটির এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে মৃত্যুবরণ করেন। আজও, তার মৃত্যু পরবর্তী দুই বছরেও, এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে।

১৯৮৫ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে নলছিটি কলেজ ও বিএম কলেজে ছাত্রদলের নেতা হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। ১৯৯১ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ সালে সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি স্থানীয় জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করে জনসেবা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছেন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের গঠনের পর, তাকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয় এবং একাধিক মামলা দায়ের হয়। তবে তিনি কখনোই বিরোধী পক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। ২০২২ সালে ২ ফেব্রুয়ারি তিনি হঠাৎ করে সবাইকে শোকের সাগরে নিমজ্জিত করে না ফেরার দেশে চলে যান।

তার মৃত্যুর পর, স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা ছিল যে, তার পরিবারের কেউ যেন এই শূন্যতা পূর্ণ করে নেন এবং দলের নেতৃত্বে আসেন। জনগণের সেই আশা আজও জীবিত রয়েছে। সারা নলছিটি এবং সুবিদপুর ইউনিয়নের জনগণ মনে করেন, তার পরিবারই তাদের নেতার অস্তিত্ব বজায় রাখতে এবং দলের কার্যক্রম সুসংগঠিত রাখতে সক্ষম হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ভেঙে ফেলা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’

বরগুনায় অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরগুনা পৌর পুরানো গ্রন্থাগারটি ভেঙে নৌকা আদলে নির্মিত হয়েছিল এই জাদুঘর। তবে বিভিন্ন কারণের জন্য চার বছরের মধ্যে এটি ভেঙে ফেলা হলো।

এটি নির্মিত হয়েছিল নৌকা ও বাংলাদেশের উপকূলীয় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে। নৌকা জাদুঘরের গঠন ছিল ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের। ৭৫ ফুট উচ্চতা এবং ২৫ ফুট গলুই বিশিষ্ট এই জাদুঘরটি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

উদ্বোধনের সময় জাদুঘরের পাশে নৌকা গবেষণাকেন্দ্র, আধুনিক লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইড, থিয়েটার, ক্যাফে সহ নানা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের চার বছরেও সেগুলি বাস্তবায়ন হয়নি।

বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজবিউল কবির দাবি করেছেন, “এই জাদুঘরের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই প্রকল্পে ক্ষুব্ধ হয়ে এটি ভেঙে ফেলেছে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার বানানো হোক।”

এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, “বরগুনা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় নৌকা আমাদের ঐতিহ্য, তাই নাম পরিবর্তন করে হলেও নৌকা জাদুঘরটি টিকিয়ে রাখা উচিত ছিল।”

এদিকে, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ভবন সংলগ্ন এলাকা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে আজ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীরের নেতৃত্বে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এই কার্যক্রমে অংশ নেয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের মেডিসিন ভবন সংলগ্ন গেটের দুই পাশে গড়ে উঠেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ময়লা-আবর্জনায় সেখানে ড্রেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের এলাকাও সয়লাব হয়ে পড়ছে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডিক্লিনের সদস্যরা এখানে প্রচুর ময়লা ও আবর্জনা পরিষ্কার করেন।

এসময়, হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর দোকানদারদের উদ্দেশ্যে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করার জন্য সতর্ক করে দেন। তিনি ভবিষ্যতে ময়লা ফেলা হলে দোকান তুলে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

হাসপাতাল পরিচালক বলেন, “এই অভিযান মূলত সকলকে সচেতন করার জন্য, কারণ দোকানদারদের অবহেলার কারণে এই এলাকা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে। আমরা তাদেরকে সাবধান করছি এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে মেশিন ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী শহরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট, বাড়ছে দাম

পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের হাতে গোনা কিছু দোকানে এখনো তেল পাওয়া যাচ্ছে, তবে দামও বেশ উচ্চ।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে শহরের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়, বিশেষ করে হেতালিয়া বাধঘাট, পুরান বাজার, নতুন বাজার, পৌর নিউমার্কেটসহ অন্যান্য বাজারে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত দেড় মাস ধরে কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে এক দফা সরবরাহ কমিয়ে লিটারপ্রতি দাম ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, আর এবারও রমজানের আগে দাম বাড়ানোর জন্য সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

বিসমিল্লাহ স্টোরের বিক্রেতা আরিফ সিকদার বলেন, “কোম্পানিগুলো ঠিকভাবে তেল দিচ্ছে না, মাঝে মাঝে দু-এক কার্টন তেল দিচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পুরান বাজারের এক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কোম্পানিগুলো রমজানের আগে আরেক দফা দাম বাড়াতে চায়, তাই সরবরাহ কমিয়েছে। কিছু ব্যবসায়ীও তেল মজুত করছেন।”

এ বিষয়ে একাধিক সরবরাহকারি কোম্পানির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়েব মিয়া বলেন, “বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী পলিটেকনিকে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

‘ফুলের মতো ফুটবো মোরা, আলোর ন্যায় ছুটবো, জ্ঞানের আলো সাথে নিয়ে দেশটাকে গড়ব’—এই প্রত্যয় নিয়ে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (তারিখ) সকাল ১০টায় ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষার উপহার সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।”

প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্র শিবিরের সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ আন নাহিয়ান।

সভাপতিত্ব করেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার সভাপতি সিয়াম হাসান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নূর।

এছাড়া বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, সাবেক ছাত্র আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়, তাদের মেধা, দক্ষতা ও সততা দিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবন গঠন ও সঠিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

নবীনবরণে ছাত্র শিবিরের জেলা, উপজেলা ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পর্দা উঠছে এক ‘অন্য বইমেলার’

ফিরে দেখা ২০২৪ সমগ্র বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেট খেলা বাণিজ্য হ্যালো গ্লিটজ লাইফস্টাইল টেক সব খবর

বাংলাদেশ
পর্দা উঠছে এক ‘অন্য বইমেলার’
তুমুল গণআন্দোলনে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক ছয় মাসের মাথায় দ্বার খুলছে বইমেলার। এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে শতাধিক, বেড়েছে আয়তনও। সেইসঙ্গে মেলার রঙ, প্রতিপাদ্য আর দৃশ্যপটেও এসেছে পরিবর্তন। গণআন্দোলনের স্মরণে থাকছে ‘জুলাই
চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবার সেজেছে লাল-কালো আর সাদা রঙে; ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বিপ্লব, শোক আর আশার প্রদীপ।

ভাষার মাসের প্রথম দিন শনিবার সেখানে পর্দা উঠছে অমর একুশে বইমেলার, যেখানে ভাষা শহীদ, ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের পাশাপাশি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা আর স্মৃতি ধারণ করা হয়েছে।

তুমুল গণআন্দোলনে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ঠিক ছয় মাসের মাথায় দ্বার খুলছে বইমেলার। এবার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে শতাধিক, বেড়েছে আয়তনও। সেইসঙ্গে মেলার রঙ, প্রতিপাদ্য আর দৃশ্যপটেও এসেছে পরিবর্তন। আর গণআন্দোলনের স্মৃতি স্মরণে থাকছে ‘জুলাই চত্বর’।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শনিবার বিকালে বইমেলা উদ্বোধন করবেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ভাষার মাস জুড়ে চলবে মেলা।

শুক্রবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, স্টলগুলোর কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে রঙ আর বইয়ের র‌্যাক তৈরিতে ব্যস্ত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। ভেসে আসছিল হাতুড়ি-পেরেকের ঠুকঠুক শব্দ।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশকদের দ্রুত কাজ শেষ করার তাগাদা দিলেও অনেক প্রকাশক এখনও কাজ শেষ করতে পারেননি। বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক নানা কাজের পাশাপাশি ব্যস্ত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সাজানো নিয়ে।

প্রকাশকরা বলছেন, একদিকে বই ছাপানোর ব্যস্ততা, অন্যদিকে মেলার মাঠে স্টল গোছানোর কাজ। সব মিলিয়ে তাদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। কাঁটাবন, বাংলাবাজারের প্রেস থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলার মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্মীরা।

আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিবারই মেলায় সপ্তাহ-দশদিন আগে প্রকাশকদের স্টল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবার ২২ তারিখ আমরা স্টল পেয়েছি। মেলার মাঠে ঘুরে দেখেছি অনেকেই কাজ শেষ করে ফেলেছেন। আশা করি প্রথম দিন থেকেই এবার মেলা জমে উঠবে।”




গান গাইতে গাইতে মঞ্চে লুটিয়ে পড়লেন সাবিনা ইয়াসমিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলা সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন এক বছর পর মঞ্চে ফিরেছেন। তবে গান গাইতে গাইতে মঞ্চেই লুটিয়ে পড়লেন এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ‘আমাদের সাবিনা ইয়াসমিন: আমি আছি থাকব’ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশনের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগীতশিল্পী দিঠি আনোয়ার।

গণমাধ্যমকে তিনি জানান, সাবিনা ইয়াসমিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তবে শঙ্কামুক্ত। অনেকদিন পর আন্টি মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে নেওয়া হয়। আন্টি এখন ভালো আছেন। দু-একদিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থেকে তিনি বাসায় ফিরবেন।

এদিকে, সাবিনা ইয়াসমিনের মেয়ে ইয়াসমিন ফায়রুজ বাঁধন গণমাধ্যমকে বলেন, মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। এখন ভালো আছেন মা। চিকিৎসা শেষে বাসায় নেওয়া হবে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে একাধিক স্টেজ শো করেন সাবিনা ইয়াসমিন। এরপর আর তাকে মঞ্চের গান পরিবেশনায় পাওয়া যায়নি। এ সময় চিকিৎসাতেও ছিলেন সাবিনা।