প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন যে পদ্ধতিতে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। সেখানে নিবন্ধন চূড়ান্ত করলেই ব্যালট পেপার চলে যাবে ভোটারদের কাছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ব্যালট পৌঁছানোর পর, ভোট প্রদান শেষে সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি।

এ কারণে বিদেশে যে ব্যালট পাঠানো হবে সেখানে থাকবে নিবন্ধিত সবগুলো রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইসির নির্ধারিত প্রতীক।

একই সাথে ‘না’ ভোট যুক্ত থাকবে ওই ব্যালটে। যদি কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকেন, শুধুমাত্র সেই সব আসনের ভোটাররাই এই না ভোট দিতে পারবেন।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, শুধু ইসির অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে। প্রার্থীর প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পরই অ্যাপ থেকে ভোটার তার আসনের প্রার্থী দেখে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন বাংলাদেশে।

প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু ভোট প্রদান শেষে সেগুলো রিটার্নিং অফিসে পাঠানো পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হাতে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এক্ষেত্রে ভোটার প্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৭০০ টাকা করে। খবর বিবিসি বাংলা।

বিদেশে বসে ভোট দিতে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক ভোটারেরই লাগবে একটি করে আন্তর্জাতিক সিমকার্ড।

একই সাথে অ্যাপে জিও লোকেশন চালু থাকার কারণে বাংলাদেশে বসে কোনোভাবেই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসির প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান। আগামী মঙ্গলবার এই অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রবাসী ভোটার বাদেও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ৭১টি কারাগারে বন্দি ও কয়েদিরা। তাদের জন্যও আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করবে ইসি।

প্রবাসী ভোটারদের অ্যাপে নিবন্ধন থেকে শুরু করে পুরো ভোটদান প্রক্রিয়া এবং করণীয় কী তা তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের সুযোগ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও এবারই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা।এক্ষেত্রে, বিদেশে বসে ভোট দেওয়ার জন্য প্রথমেই নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য প্রবাসীকে গুগল প্লে স্টোর অথবা আইফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসী ভোটে ইসির সামনে দুটি অপশন ছিল ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ। মোবাইল অ্যাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে কারণে নির্বাচন কমিশন অ্যাপের মাধ্যমেই নিবন্ধন চালু করছে।

তিনি জানান, প্রবাসী ভোটাররা যার যার আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আগামী ১৮ই নভেম্বর থেকে চালু হওয়া ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ভোটার নিবন্ধন করবেন।

এই অ্যাপটির বিশেষত্ব হচ্ছে অ্যাপটির জিও লোকেশন এনাবেল বা চালু থাকবে। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনোভাবেই এই অ্যাপটি চালু করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর প্রবেশ করানোর পর ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। ওটিপি দিয়ে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। পরবর্তীতে দিতে হবে ভোটারের ছবি।

সালীম আহমাদ খান জানান, রেজিস্ট্রেশনের সময় এনআইডির সাথে ওই ভোটারের ফেসিয়াল রিকগনিশনও যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ এনআইডি সার্ভারে ওই ভোটারের যে ছবি আছে ফেস রিকগনিশনের সময় চেহারার সাথে মিনিমাম ৭০ শতাংশ মিল থাকতে হবে।

ক্যামেরার সামনে নে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে ভেরিফিকেশনে পর চেহারার সাথে মিললে ‘আপনি এখন নিবন্ধিত’ লেখা প্রদর্শিত হবে অ্যাপে। এরপর পাসপোর্ট থাকলে সেটিরও ছবি দিতে হবে।

তিনি জানান—নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের তথ্য চাওয়া হলেও, প্রবাসী বাংলাদেশি সবার কাছে পাসপোর্ট না থাকার কারণেই সেটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, যেহেতু নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে সে কারণে বিদেশে যে ঠিকানায় তিনি থাকেন তিনি সেই ঠিকানাও সরবারহ করতে হবে অ্যাপে।

আগামী ১৮ই নভেম্বর অ্যাপটি চালু হওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য ভোটাররা প্রায় এক মাসের মতো সময় পাবেন বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রার্থী চূড়ান্তের আগেই যাবে ব্যালট?

প্রবাসের ঠিকানাসহ যখন একজন ভোটারের নিবন্ধন সম্পন্ন হবে, তিনি বাংলাদেশের যে আসনের ভোটার সেই আসন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারের তথ্য চলে যাবে। সে অনুযায়ী হবে পৃথক ভোটার তালিকা।

ইসির ধারণা, প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শেষ হওয়ার চলমান থাকা অবস্থায়ই ঘোষণা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। তখন প্রবাসী ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে ব্যালট পেপারের জন্য।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘নিবন্ধনের সময় প্রবাসী ভোটার যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই ঠিকানায় মার্কা ও প্রতীকসহ ব্যালটসহ একটি প্যাকেট পাঠানো হবে।’

তিনি জানান, ভিন্ন ভিন্ন আসনের ভোটার থাকলেও সব ভোটারের কাছে যাবে একই ব্যালট পেপার। যেখানে সবগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১১৯টি প্রতীক থাকবে ব্যালটে।

প্রবাসী ভোটারের হাতে ব্যালট পেপার পৌঁছালেও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না কেউ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো খাম পেলে ভোটার অ্যাপে প্রবেশ করবেন। এরপর নির্দেশিকা দেখে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করবেন। পরবর্তীতে খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ভোটার তার আসনের সব প্রার্থীর নাম দেখতে পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের পর যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে তারপরই অ্যাপ থেকে স্ব স্ব আসনের প্রার্থী তালিকা জানতে পারবেন প্রবাসী ভোটাররা।’

ওই আসনে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক ভোটার নিজেই দেখতে পারবেন অ্যাপে। সেখান থেকে প্রবাসী ভোটার ১১৯টি প্রতীকের মধ্যে তার পছন্দের প্রতীকের ব্যালটের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিবেন।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ‘পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট রিটার্ন খামে ভরে তারপর কাছাকাছি পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। আগে থেকেই ডাক মাসুল পে করা থাকবে। সে কারণে এটা চলে আসবে দেশে স্ব স্ব ঠিকানায়।’

নেওয়াজ বলছিলেন, যদি কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার পর দেখলেন তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন সেই সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তখন ওই আসনের প্রবাসী ভোটও বাতিল হবে।

একই সাথে যদি ওই আসনে বাদ পড়া কোনো প্রার্থী যদি উচ্চ আদালতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রবাসী ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানান নেওয়াজ।

সময়মতো না পৌঁছালে ‘ভোট বাতিল’

ব্যালট পেপার যে খামে পাঠানো হবে তার সাথে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ওই ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে ভোটারকে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘যে খামে ব্যালট পেপার থাকবে সে খামের বাইরে আলাদা একটি খামে থাকবে ঘোষণাপত্র। ভোটার যে নিজে ভোট দিয়েছেন সেটি উনি ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করবেন এবং সেটিতে সাক্ষর করবেন।’

যদি কোনো ভোটার শুধু ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে সাক্ষর ছাড়াই ব্যালট পেপার বাংলাদেশে পাঠান সেক্ষেত্রে ওই ভোটটি বাতিল ভোট হিসেবেই গণ্য করবে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশন বলছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোট আয়োজনে ভোটার প্রতি ইসির খরচ পড়বে ৭০০ টাকা।

এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সাথে চুক্তিও করেছে নির্বাচন কমিশন।

ডাক বিভাগের সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে, ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু করে ফেরত আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় লাগবে। সেই হিসাব করেই ব্যালট পাঠানো হবে ভোটারদের কাছে।

টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ডাক বিভাগের সাথে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত থাকবে। কোন ব্যালট কোথায় আছে সেটি যেমন ভোটারও জানতে পারবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসও সেই তথ্য জানতে পারবে।

জাতীয় নির্বাচনের দিন বিকাল চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে সেটিকে বৈধ ভোট ধরা হবে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, নির্বাচনের তারিখ ভোটগ্রহণের সময় যদি শেষ হয় বিকাল চারটা, ওই সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারলেই ওটা বৈধ। এর পরে যদি সেটা এসে পৌঁছায় সেটিকে বাতিল ভোট হিসেবেই ধরা হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ব্যালট এসে পৌঁছানো, কিংবা আগাম ব্যালট পাঠানোর পর নতুন কোনো প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হওয়া কিংবা তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।




‘আ.লীগ এখন ভাড়াটে টোকাইদের ওপর নির্ভরশীল’

আওয়ামী লীগ এখন ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তি এ কথা বলেন।

প্রেস সচিব লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

শফিকুল আলম লেখেন, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দলটি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।

‘প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।’

প্রেস সচিব লেখেন, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।




ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিললো স্ত্রীর লাশ, গুরুতর আহত স্বামী

গাজীপুরের কোনাবাড়িতে শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ফ্ল্যাটে মিলেছে স্ত্রীর লাশ। এ সময় গুরুতর আহত স্বামীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার ভোরে বাইশমাইল এলাকার নওয়াব আলী মার্কেট এলাকার স্থানীয় একতা টাওয়ারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রহিমা খাতুন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট থানার আমতৈল গ্রামের কসাই এমরান হোসেনের স্ত্রী । তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ইমরান কসাই এর কাজ করেন। তার স্ত্রী রহিমা খাতুন ও মেয়ে শারমিনকে নিয়ে বাইমাইল এলাকায় একতা টাওয়ারের ৫ম তলার ফ্ল্যাটে ভাড়ায় বসবাস করতেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে অজ্ঞাত পরিচয় দুর্বৃত্তরা ওই বাসায় প্রবেশ করে ইমরান ও তার স্ত্রীকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই রহিমা খাতুনের মৃত্যু হয়। শনিবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইমরানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ও স্ত্রীর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিআইডিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, লাশ উদ্ধারের কিছুক্ষণ পর তল্লাশি চালালে স্বামী এমরান হোসেনের পালস পাওয়া যায়। তাই তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী রহিমার লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের মেয়ে শারমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




বানারীপাড়ায় কেরামত আলী খান মৃত্যুর দুই বছর পরে পেলেন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি !

বরিশালের বানারীপাড়ায় স্বাধীনতার ৫৪ বছর ও মৃত্যুর দুই বছর পরে সাবেক উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কেরামত আলী খান বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহিত মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপ-সচিব হরিদাস ঠাকুর স্বাক্ষরিত গেজেটের কপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর নাম দেখতে পেয়ে স্ত্রী ও তিন মেয়েসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ভোরে ঢাকায় বনশ্রী আল-রাজী হাসপাতালে ক্যান্সার রোগে চিকিৎসাধিন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য তখন বরিশালের তৎকালীণ জেলা প্রশাসক ও বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
তবে গেজেটে তাঁর নাম না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। ৭১’র রণাঙ্গনের প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া স্বত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই ওই দিন বিকালে বানারীপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ মাঠে জানাজা শেষে তার মরদেহ পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ির আঙিনায় চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়। এ নিয়ে তখন দৈনিক সমকাল ও আজকের বাূর্তাসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে “আফসোস নিয়ে চলে গেলেন কেরামত আলী খান’ শিরোণামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী খানের স্ত্রী জাহানারা কেরামত কান্নাভেজা কন্ঠে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, আজ যদি তাঁর স্বামী বেঁচে থাকতেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজের নাম দেখে কতইনা খুশি ও আনন্দিত হতেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আমৃত্যু তাঁর স্বামী পুলিশের আইজিপি,স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়,জামুকাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিয়েছেন। মৃত্যুর আগে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিজের নাম দেখে যাওয়ার জন্য তিনি ব্যাকুল ছিলেন। তাঁর স্বামীকে মনে আফসোস নিয়ে চিরতরে চলে যেতে হয়েছে- এ কষ্ট-যন্ত্রনা ও আফসোস গোটা পরিবারকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হবে। তারপরেও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
কেরামত আলী খানের জ্যেষ্ঠ মেয়ে উপজেলার পূর্ব সলিয়াবাকপুর শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত কামরুন্নাহার রুবী স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বাবা যেতেন।
বাসায় ফিরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে আফসোস করে বলতেন, অনুষ্ঠানে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের ক্রেষ্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও এ সম্মান থেকে বঞ্চিত। আজ যদি বাবা শয্যাশায়ী অবস্থায়ও বেঁচে থেকে তাঁর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির খবর শুনতেন দারুন খুশি হতেন,তার চোখে আনন্দ অশ্রু বয়ে যেত। বাবা নেই তার স্বীকৃতি আমাদের কাছে যেমন আনন্দের তেমন আফসোস ও বেদনারও।
প্রসঙ্গত, দেশ মাতৃকাকে রক্ষা ও স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে ৭১’ র মহান মুক্তিযুদ্ধে সন্মুখ সারির যোদ্ধা ছিলেন কেরামত আলী খান। স্বাধীনতার পরে তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগদান করেন। সেখানে সার্ভিস বুকে তাঁর নামের আগে মুক্তিযোদ্ধা লেখা ছিল। তবে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত ছিলনা।
তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যুর দুই মাস পূর্বে ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই কমিটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর নাম সুপারিশ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রতিবেদন পাঠান। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে তাঁর নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভূক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক বলেন, কেরামত আলী খান আফসোস নিয়ে চলে গেছেন।
তিনি জীবদ্দশায় এ স্বীকৃতি পেলে খুশি হতেন। মৃত্যুর পরে হলেও তাঁর এ প্রাপ্য স্বীকৃতি পরিবার এবং তাঁর জন্য গৌরব ও সম্মানের। এ প্রসঙ্গে বরিশাল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ খলিলুর রহমান চোকদার বলেন, একজন প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেতে যদি স্বাধীনতার পরে ৫৪ বছর অপেক্ষা করতে হয় সেটা খুবই দুঃখজনক।
আর সেই স্বীকৃতি যদি তাঁর মৃত্যুর পরে মেলে সেটা আরও বেদনাদায়ক। অবশেষে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই।




বরিশালে জাটকা ইলিশে সয়লাব বাজার, তদারকি নেই প্রশাসনের

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাছের বাজারগুলো এখন জাটকা ইলিশে সয়লাব। প্রশাসনের অবহেলায় মাছের বাজারে মিলছে এসব জাটকা ইলিশ। ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেন্টিমিটারের কম আকারের ইলিশকে ‘জাটকা’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আকারের ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা ভাঙলে জেল-জরিমানার তোয়াক্কা করছেন না উপজেলার জেলে ও বিক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি মাছবাজারেই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ছয় থেকে সাত ইঞ্চি আকারের জাটকা ইলিশ। উপজেলার এমএ বাড়ি বাজারে নিলামের মাধ্যমে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাটকা বিক্রি বন্ধে বাজারগুলোতে মৎস্য অফিস ও প্রশাসনের তদারকি নেই। তাই জেলেরা শিকার করে প্রকাশেই এসব জাটকা হাটবাজারে এনে বিক্রি করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জাটকা বিক্রি হচ্ছে উপজেলার নাকের ডগায় এমএ বাড়ি মাছবাজারে। নদী থেকে মাছ এনে ডালায় ঢেলে ডাক তোলেন আড়তদাররা। ডাকের মাধ্যমে মাছ কিনে উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে বসে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া উপজেলার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌর বাজারে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত বাজারে জাটকা মাছ বিক্রি করতেও দেখা গেছে খুচরা ব্যবসায়ীদের।

তবে এ সময় জাটকা বিক্রি বন্ধে প্রশাসনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। স্থানীয় জেলে নির্মল দাস বলেন, জেলেরা কারেন্ট জাল দিয়ে জাটকা মাছ ধরেন। তারা সেই মাছ বাজারে বিক্রি করেন। বাকেরগঞ্জ পৌর বাজারের মাছ বিক্রেতা আব্বাস সরদার বলেন, অন্য মাছ ব্যবসায়ীরাও জাটকা বিক্রি করেছেন।

প্রশাসন যদি জাটকা শিকার বন্ধ করে দিতে পারে, তাহলে বিক্রিও বন্ধ হবে। জাহিদ মোল্লা নামে একজন জানান, উপজেলার তুলাতলি, কারখানা, পান্ডব, রাঙামাটি, বিষখালি নদীতে জাটকা শিকার করে স্থানীয় আড়ত ও হাট-বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি বছর প্রশাসন কিছু কিছু অভিযান চালালেও এবার এখনো কোনো অভিযান চোখে পড়েনি। দ্রুত জাটকা নিধন বন্ধের দাবি জানান তিনি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের জনবল সংকট রয়েছে।

যখন তখন অভিযান করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি খোঁজ নিয়েছি, নিয়মিত নদীতে জাটকা নিধন ও বাজারে সেগুলো বিক্রি হচ্ছে। দ্রুতই আমরা হাটবাজারে অভিযান পরিচালনা করব। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে জাটকা বিক্রি হচ্ছে বিষয়টি জেনেছি। খুব দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে এবং তা বহাল থাকবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই আট মাস জাটকা আহরণ, ক্রয়, বিক্রয়, মজুত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে বড় আকারের ইলিশ ধরতে কোনো বাধা নেই।




এক দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন তামাশার শামিল: চরমোনাই পীর

এক দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন তামাশার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। চরমোনাই পীর হিসেবে খ্যাত এ নেতা বলেছেন, “একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে এমন ঘোষণা দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল না।” বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মতলব পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দলের তৃণমূল সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রেজাউল করীম বলেন, “স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৪ বছরেও জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

দীর্ঘ এত বছর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা সবাই ছিল ক্ষমতাপ্রেমী। তাদের মধ্যে ন্যূনতমও দেশপ্রেম নেই। সময় এসেছে দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। দেশপ্রেমিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে ক্ষমতাপ্রেমীরা পালানোর সুযোগও পাবে না।”

তিনি বলেন, “ইসলাম ছাড়া মানবতার মুক্তি নাই। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটা দেশ গঠন করতে চাই। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাই।”

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ, যুবনেতা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মতলব দক্ষিণ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আনসার আহমাদ।




বরিশালে আ.লীগ নেতা আরাফাত গ্রেপ্তার

রিশালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নগরীর ফজলুল হক অ্যাভিনিউ সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আরাফাত রহমান ইউনিয়নের চরআবদানী এলাকার মৃত কাদের সিকদারের ছেলে।

তিনি সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ফজলুল হক অ্যাভিনিউ থেকে আরাফাত রহমানকে গ্রেপ্তার করে।

বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ একাধিক রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।




আমতলীতে পার্কিং করা বাসে দুর্বৃত্তের আগুন, আটক ৫

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কে পার্কিং করে রাখা ‘স্বর্ণা পরিবহন’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এ সময় বাসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি বাসমালিকের। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ রাতেই উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে পৌর শহরের ফেরিঘাট সড়কের গাজী বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাসিন্দা শহীদ দেওয়ান গাড়িটির মালিক। তাঁর মেয়ের নামে রাখা ‘স্বর্ণা পরিবহন’ নামের বাসটি বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কে চলাচল করত। প্রতিদিনের মতো গতকাল রাতেও বাসটি ফেরিঘাট সড়কে অন্য আরও সাতটি বাসের সঙ্গে পার্কিং করে রাখা হয়। মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাব্বির হাওলাদার বলেন, ‘গাড়ির হেলপারের ডাকাডাকি শুনে বাইরে আসি। এরপর গাড়িতে আগুন দেখে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিই। কিন্তু ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।’ বাসমালিক শহীদ দেওয়ান বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে আমার বাসে আগুন দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত এলে গাড়ির এত ক্ষতি হতো না।’ শহীদ দেওয়ানের ছোট ভাই, আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাতেন দেওয়ানের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত নাশকতামূলক ঘটনা।

তিনি বলেন, ‘পার্কিং করা আওয়ামী লীগ নেতাদের বাসে আগুন না দিয়ে আমার ভাইয়ের বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমি বিএনপি করি বিধায় এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।’ আমতলী থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ ওই রাতেই উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ খান, পৌর যুবলীগ সদস্য তন্ময় গাজী, কাওসার রনি এবং সগির মল্লিক নামের পাঁচজনকে আটক করেছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এর সঙ্গে জড়িত আরও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বরগুনা বাস মালিক সমিতির লাইন সম্পাদক অহিদুল ইসলাম সজল মৃধা বলেন, মালিক সমিতির পক্ষ থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাসটির ক্ষতিপূরণে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। নইলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারত।’




বরিশালে ভ্যান বাঁচাতে গিয়ে গাছের সঙ্গে বাসের ধাক্কা, নিহত ২

মাদারীপুরে একটি অটোভ্যানকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কা লেগে বাসের সুপারভাইজার নুরুজ্জামান (৪৫) ও হেল্পার মারুফ (২৪) নিহত হয়েছে।। এ ঘটনায় গুরুতরসহ আহয় হয়েছে আরও অন্তত ১০ জন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের জেলার কালকিনি উপজেলার ভূরঘাটা কুন্ডুবাড়ি নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

খবর পেয়ে কালকিনি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছে। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেল্পার মারুফ নিহত হন এবং সুপারভাইজার নুরুজ্জামানকে গুরুতর আহত হলে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিল ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। পথিমধ্যে কুন্ডুবাড়ি এলাকায় আসলে একটি অটোভ্যান বাসের সামনে এসে পড়ে। ভ্যানটিকে বাচাতে গিয়ে বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে থাকা গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং একজন নিহত হয়। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। এ সময় বাসের সামনের অংশের চাপা পড়ে আটকে থাকে সুপার ভাইজার।

পরে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তাকে উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকি আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে চিকিৎসা নেয়। এ ঘটনায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা পর হাইওয়ে পুলিশের প্রচেষ্টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। নিহত ব্যক্তি বাসের হেলপার বলে জানায় স্থানীয়রা।

মাদারীপুরের মস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, বাস দুর্ঘটনায় একজন পুরুষ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তবে এখনও তার নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাটি এক পাসে হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বেশি সমস্যা হয় নাই, বর্তমানে স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




উৎসবমুখর আয়োজনে পবিপ্রবিতে ইপিএল-২৬ অকশন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে ইএসডিম প্রিমিয়ার লীগ (ইপিএল-২৬) খেলোয়াড় নিলাম। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও দেশবন্ধু গ্রুপের স্পন্সরশিপে অনুষ্ঠিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেয় পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল। নিলাম আয়োজনে সার্বিক দায়িত্ব পালন করে পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ২০২১–২২ সেশনের শিক্ষার্থীরা (নির্বিশঙ্ক-১৩)।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কনফারেন্স রুমে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় নিলাম কার্যক্রম। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে নিলামকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, দলীয় প্রতিনিধি ও আয়োজকদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মহসীন হোসেন খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. ফয়সাল, জিও ইনফরমেশন সাইন্স অ্যান্ড আর্থ অবজারভেশন বিভাগের চেয়ারম্যান মাওয়া সিদ্দিকা, ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রমন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তরিকুল ইসলাম, ডিজাস্ট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. তরিকুল ইসলাম সজিব এবং ইমারজেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাশেদুজ্জামান। তাদের উপস্থিতিতে নিলাম আরও গতিশীল ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

প্রধান অতিথির উদ্বোধনী ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় নিলাম পর্ব। পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল নিজেদের দলে সেরা খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করে। প্রতিটি বিডে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পরিচালনায় পুরো নিলাম প্রক্রিয়া শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আকর্ষণীয়ভাবে সম্পন্ন হয়। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মূল টুর্নামেন্টকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এখন থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিলাম শেষে বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মহসীন হোসেন খান বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, দলগত সহযোগিতা, নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য শারীরিক সক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দলগত সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি—যা খেলাধুলার মাধ্যমে তৈরি হয়।

তিনি আয়োজক কমিটি ‘নির্বিশঙ্ক-১৩’-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রম ছাড়া এমন বড় আয়োজন সম্ভব নয়। তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের এ ধরনের ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম