হুমকিতে চুক্তি, গাজায় আবারও যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা কাল সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়ার কথা। তবে হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা নিউজ জানিয়েছে, কাল কাতারে আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।



গোপনে বাংলাদেশে ব্রিটিশ দল, নিয়ে গেছে টিউলিপ সিদ্দিকের তথ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাপারে তথ্য নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন দেশটির জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) কর্মকর্তারা। তারা বাংলাদেশের দুর্নীতি বিরোধী তদন্তকারীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। গতকাল শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য মেইল অন সানডে’।

গত মাসে হওয়া এই বৈঠকে ব্রিটিশ দলকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, তারা টিউলিপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন তথ্য যোগাড় করতে সমর্থ হয়েছেন।

‘দ্য মেইল অন সানডে’ জানিয়েছে, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এখন টিউলিপ সিদ্দিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যাচাই, ইমেইলের তথ্য যাচাই এমনকি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডাকতে পারে।

টিউলিপ সিদ্দিক ও শেখ হাসিনা ছাড়াও তাদের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে পাবনার রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনা এ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিকও। বলা হচ্ছে, টিউলিপ এতে মধ্যস্থতা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

বাংলাদেশের একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, ব্রিটিশ দলটি ব্রিটেনে বালাদেশি কর্মকর্তাদের দ্বারা টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ চুক্তির মাধ্যমে তদন্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া তারা টিউলিপের বিরুদ্ধে হয়ত তদন্ত করতে পারে।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো যদি প্রমাণিত হয় তাহলে তার ১০ বছর বা তারও বেশি সময়ের জেল হতে পারে।

বাংলাদেশি এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের এনসিএ-এর কর্মকর্তারাই এই গোপন বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। এরপর ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এটি আয়োজন করে।

এরআগেও এনসিএ-এর কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেটি গত বছরের অক্টোবরে। সেবার তারা কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব অর্থ পাচার করা হয়েছে, সেগুলো ফেরত দিতে তারা সহায়তা করবেন।

সূত্র: দ্য মেইল অন সানডে




পটুয়াখালীতে মরিচ চাষে কৃষকদের নতুন আশা, আবাদ বাড়ছে দ্বিগুণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ আবাদি ও অনাবাদি জমিতে এবার ব্যাপকভাবে মরিচের চাষাবাদ শুরু হয়েছে। কৃষকরা চাহিদার কথা চিন্তা করে এবং লোকসান কাটিয়ে উঠতে মরিচের চাষ করছে। মাঠজুড়ে মরিচ গাছের শোভা দেখে মনে হয় লাল-সবুজ গালিচা বিছানো। এমন দৃশ্য কৃষকদের মধ্যে আনন্দের ঝিলিক ফুটিয়ে তুলেছে। চলতি মৌসুমে মরিচের ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি মরিচের ঝালও বেশি হবে বলে জানান চাষিরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় মিন্টু সুপার, লঙ্কা, হাইব্রিড-৬৫৩, বীজ প্লাস, সানী ও বিজলী প্লাসসহ নানা জাতের মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করে থাকে। মাঠ থেকে মরিচ তোলার কাজে নারী, পুরুষ এবং শিশুরা দলবেধে অংশগ্রহণ করে। স্কুল বন্ধ থাকলে শিশুরাও তাদের পরিবারকে সাহায্য করে মরিচ তোলার কাজে। এছাড়া কৃষক পরিবারের বাইরেও নারী শ্রমিকরা মরিচ তোলার কাজে যুক্ত হন।

কৃষকদের মতে, খেত থেকে যারা মরিচ তুলে আনেন তাদেরকে ৪ ভাগের ১ ভাগ দিতে হয়। মরিচ চাষের জন্য পানি সেচ, সার, ওষুধ ও পরিচর্যায় অনেক টাকা ব্যয় হয়।

উপজেলার রনগোপালদী গ্রামের মরিচ চাষী মো. শাহ আলম জানান, গত কয়েকবছরের চেয়ে এবারের মরিচের ফলন ভালো হবে এবং অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে মরিচ চাষ দ্বিগুণ হয়েছে। কৃষকরা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে মরিচের চাষ করছেন। বিগত বছরগুলোতে ভালো ফলন ও কাক্সিক্ষত দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক মরিচ চাষে ঝুঁকেছেন।

মরিচ চাষী হাবিব জানান, ধান ও গমের মতো যদি সরকার মরিচের মূল্য নির্ধারণ করত, তবে কৃষকরা আরো লাভবান হতেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৭টি ইউনিয়নের ৫০০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১০-১২ টন কাঁচা মরিচ এবং ২-৩ টন পাকা ও শুকনো মরিচ উৎপাদিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। একই ইউনিয়নের মরিচ চাষী সেলিম জানান, গতবছর ভালো দাম পাওয়ায় এবারে তিনি বেশি জমিতে মরিচ চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে কৃষকদের ন্যায্য দাম পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় আগামীতে অনেক কৃষক মরিচ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবিনা ইয়াসমীন আইসিইউতে

দীর্ঘদিন পর মঞ্চে ফেরেন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন। ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার রাতে একটি কনসার্টে গান গাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সোয়া এক ঘণ্টা গান গাওয়ার পরই সাবিনা ইয়াসমীন মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে দ্রুত গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সঙ্গীতশিল্পী জাহাঙ্গীর সাইদ জানান, সাবিনা ইয়াসমীনের ভার্টিগো সমস্যা রয়েছে। গান গাওয়ার সময় হঠাৎ এই সমস্যা দেখা দেয়। মাইক্রোফোন স্ট্যান্ড ধরতে গিয়ে ভারসাম্য রাখতে না পারলে তিনি পড়ে যান। চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং রাত সাড়ে ১০টার সময় তাকে বাসার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরবর্তী সময় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে ১ ফেব্রুয়ারি শনিবার তাকে দ্রুত আইসিইউতে নেওয়া হয়।

খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা সঙ্গীতশিল্পী দীঠি আনোয়ার। সাবিনা ইয়াসমীনের অসুস্থতা নিয়ে সকলেই উদ্বিগ্ন।

সাবিনা ইয়াসমীন সম্প্রতি ২০২৩ সালের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন ও ব্রিসবেনে একাধিক স্টেজ শো করেন। তবে এরপর দীর্ঘদিন ধরে তাকে মঞ্চে দেখা যায়নি।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রহস্যঘেরা পারভীন ববির বায়োপিকে তৃপ্তি দিমরি

বলিউডের অন্যতম রহস্যময় এবং আলোচিত অভিনেত্রী পারভীন ববির জীবন এখন পর্দায় উঠে আসছে। সেলিব্রিটির জীবনে ছিলো নানা রহস্য, এবং অল্প বয়সে মৃত্যুর পর তার মৃত্যু নিয়েও রয়েছে অনেক অজানা প্রশ্ন। একসময় অভিনয়, নাচ, আবেদন এবং বৈচিত্র্যময় ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দিয়ে বলিউডে আলোড়ন সৃষ্টি করা পারভীন একেবারেই অল্প বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান, আর তার মৃত্যুর কাহিনী এখনো সমাধান হয়নি।

এবার, এই নায়িকার জীবন নিয়ে তৈরি হতে চলেছে একটি বায়োপিক সিরিজ। তবে এই সিরিজটি সিনেমা হলে নয়, মুক্তি পাবে জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। তার জীবনের রহস্য, সাফল্য এবং সংগ্রাম নিয়ে তৈরি হওয়া এই সিরিজটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

এদিকে, দর্শকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিলো, কে পর্দায় পারভীন ববির চরিত্রে অভিনয় করবেন। বলিউডভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ফিল্মফেয়ার আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই চরিত্রের জন্য তৃপ্তি দিমরিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিনেমা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, তৃপ্তি শুটিংয়ের জন্য সিডিউলও দিয়েছেন এবং নির্মাতা সোনালি বোস এবং তার দল দ্রুত শুটিং শুরু করতে প্রস্তুত।

এছাড়া, পারভীন ববি তার জীবনে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মহেশ ভাট এবং অভিনেতা কবির বেদীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্যও পরিচিত। ফলে, এই দুটি চরিত্রও সিরিজের অংশ হয়ে উঠবে কিনা তা এখন প্রশ্নের বিষয়। এবং যদি তারা সিরিজে থাকেন, তবে কোন অভিনেতা এই চরিত্রে অভিনয় করবেন, তা নিয়েও দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫৩ বছরের নির্বাচন পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্টের জন্ম হয়েছে : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, “বিগত ৫৩ বছরে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন চলছে, সেই পদ্ধতিতে ফ্যাসিস্ট, খুনি এবং টাকা পাচারকারীর জন্ম হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “বিশ্বের ৯১ দেশে পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতির নির্বাচন রয়েছে, যেখানে প্রতিটি ভোটারের মূল্যায়ন করা হয় এবং সংসদে প্রতিটি দলের অংশীদারত্ব থাকে। এভাবে নির্বাচনে এককভাবে কেউ ফ্যাসিস্টের মতো দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় না।”

আজ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ব্রজগোপাল টাউন হলে ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছরে যারা এই দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের মাধ্যমে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তা নতুন করে আর স্মরণ করিয়ে দিতে চাই না। গত ৫৩ বছরে আমরা দেখেছি, রাস্তায় নামলে গুম হয়ে যায়, আর ঘরে থাকলে খুন হয়ে যায়। আমাদের কষ্টার্জিত টাকাগুলো যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা বিদেশে পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, যে সকল সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক এবং এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে একটি সুন্দর জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা হোক। আমরা সতর্কতার সাথে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি, কারণ ইতোমধ্যে ফ্যাসিস্ট ভারত বিভিন্ন মিটিং করে আমাদের দেশের অশান্তি সৃষ্টির ছক তৈরি করেছে।”

মুফতি রেজাউল করিম বলেন, “বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলোর উচিত জাতীয় ঐক্য নিয়ে একত্রে কাজ করা। একসাথে থাকলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

ইসলামী আন্দোলন ভোলা জেলা দক্ষিণের সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু ইউছুফের সঞ্চালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

সম্মেলন শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ভোলা জেলা দক্ষিণের পুরনো কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন কমিটিতে মাওলানা নূরউদ্দিনকে সভাপতি, মাওলানা গোলাম মোরশেদকে সহ-সভাপতি এবং মাওলানা আব্বাস উদ্দিনকে সেক্রেটারি করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে ‘ছাত্রলীগের’ হামলায় ৩ শিবির কর্মী আহত

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ছাত্রলীগের কর্মীদের হামলায় ৩ শিবির কর্মী আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বালিপাড়া ভূমি অফিসের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন তরিকুল ইসলাম (২৫), রিয়ান (১৬) এবং সাইদুল ইসলাম (১৮)। তারা সবাই শিবির কর্মী বলে জানা গেছে।

শিবির নেতা ও ইন্দুরকানী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার রাতে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। সারা দেশে মিছিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ছাত্রলীগ, এবং তারই অংশ হিসেবে এখানে মিছিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। আমাদের কর্মীদের দেখে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে।”

আহত সাইদুল ইসলাম বলেন, “রাতে আমাদের তিনজনকে পেয়ে হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা এর আগে আমাদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছিল।”

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “শুক্রবার রাতে বালিপাড়ায় এক হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। আহতরা দাবি করেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ কর্মী। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

মো. তামিম সরদার
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুখ থুবড়ে পড়েছে শিল্প খাত

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ, মূলধন ও ডলারসংকট, কাঁচামালের অপর্যাপ্ততা, শ্রমসংকট এবং পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশে শিল্প খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। দেশের বড় থেকে ছোট সব ধরনের শিল্পই বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

শিল্প খাতের উৎপাদন কমার পেছনে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি শ্রম অসন্তোষ, মূলধন সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং পণ্যের চাহিদা হ্রাস অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সিমেন্ট, রড, স্টিল, ওষুধ, ওয়েভিং টেক্সটাইল, নিট ফেব্রিক্স, জুট টেক্সটাইল, কাগজ, সফট ড্রিংকস, চা ও কফি, ফলজ প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন কমে গেছে বলে পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে।

শিল্প খাতের সংকট মোকাবিলায় উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে আলোচনা করছেন, তবে এখনও সুষ্পষ্ট সমাধান মিলছে না। বিশেষ করে পোশাক এবং বস্ত্র খাতের সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক সংকট এবং মূলধন ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বড় শিল্পগুলোর উৎপাদন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষত বস্ত্র খাত, নিটওয়্যার, বিল্ডিং এবং শিপস অ্যান্ড ফ্লোটিং স্ট্রাকচার, কাগজ, সার, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ফলজ প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে।

বিকেএমইএ (বাংলাদেশ Knitwear Manufacturers and Exporters Association) এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, “আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ জ্বালানি খাত, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ব্যাংকিং খাত এবং কাস্টমস সংক্রান্ত সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধান না হলে শিল্পের উৎপাদন কমতেই থাকবে এবং এর প্রভাব রপ্তানি আয়েও পড়বে।”

এছাড়া, ছোট ও মাঝারি শিল্পেও উৎপাদন কমেছে। বিশেষত ফিনিশড টেক্সটাইল, হ্যান্ডলুম টেক্সটাইল, নিট ফেব্রিক্স এবং আয়রন ও স্টিল শিল্পের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এসব শিল্পের উৎপাদন সীমিত হয়ে পড়েছে।

রড এবং সিমেন্ট শিল্পের সংকট আরও গভীর হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নির্মাণ শিল্পের স্থবিরতার কারণে সিমেন্ট এবং রডের চাহিদা কমে গেছে। বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আলমগীর কবির জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেশিরভাগ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে, যার কারণে সিমেন্ট শিল্পে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত চাহিদা কমে গেছে।

এদিকে, সরকারি প্রকল্পের কাজও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রড-সিমেন্ট শিল্পের উৎপাদন কমেছে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোর ব্যবসায়ীরা সংকটের সমাধান খুঁজে বের করতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে আদি কৃষি পরিণত হচ্ছে আধুনিক কৃষিতে

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঝালকাঠি জেলায় কৃষির দৃশ্যপট এক নতুন দিগন্তে পৌঁছেছে। এর ফলে, ঐতিহ্যবাহী কৃষিকাজ এখন হয়ে উঠছে আরও সহজ, দ্রুত ও লাভজনক।

এখনকার কৃষকরা যান্ত্রিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে কৃষিকাজে সময়, শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় করছেন। ঝালকাঠি জেলার ৪৬ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যেখানে ৯৫ শতাংশ ধান ইতোমধ্যে কৃষকদের গোলায় উঠেছে। জমি চাষাবাদ থেকে শুরু করে বীজতলা প্রস্তুতি, কীটনাশক স্প্রে এবং ধান কাটার মেশিন ব্যবহার করে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।

ট্রাক্টর, কাটিং মেশিন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারসহ আধুনিক কৃষিযন্ত্রের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের কাজ করছেন। এর ফলে, কৃষির আধুনিকীকরণ ঘটেছে এবং গ্রামীণ কৃষি পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে। কৃষিকাজের এই যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষকরা তাঁদের অতীতের কঠিন পরিশ্রম থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

কৃষক এছাক আলী বলেন, “আগে জমি প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগতো। শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে নানা সমস্যা ছিল। তবে এখন যন্ত্রের সাহায্যে কাজ দ্রুত হয়ে যাচ্ছে।”

কৃষক ছালাম হাওলাদার বলেন, “এক সময় আমরা গরু চড়ানোর জন্য জমি পতিত রাখতাম, কিন্তু এখন কৃষির বাণিজ্যিকীকরণের ফলে উৎপাদন অনেক বেড়েছে। যন্ত্রের ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে কৃষি আরও উন্নত হবে।”

এছাড়া, রাজাপুর উপজেলার ধান মাড়াই মেশিন পরিচালনা করেন হানিফ হাওলাদার। তিনি জানান, “এখন তিন বিঘা জমির ধান মাড়াই করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগে। আগে এই কাজটি গরু বা মহিষ দিয়ে এক রাতেই শেষ হয়ে যেত।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম জানান, “যান্ত্রিকীকরণের ফলে কৃষিতে বিপ্লব ঘটছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ফসল রক্ষা পাচ্ছে। সরকার কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য সমতল এলাকায় ৫০% এবং হাওর উপকূলীয় এলাকায় ৭০% ভর্তুকি দিচ্ছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা দুর্ভাগ্যজনক : ফখরুল

কুমিল্লায় যুবদল নেতা তৌহিদুল ইসলামকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, “ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যা দুর্ভাগ্যজনক।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলামকে সাদা পোশাকধারী লোকেরা বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “এ ধরনের নির্মম ঘটনা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের গতি-প্রকৃতির একটি প্রতিফলন হতে পারে।”

ফখরুল ইসলাম বলেন, “বিএনপির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকার ছিল গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে জাতিকে মুক্তি দেওয়া। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসন পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোন সরকারি বাহিনীই আইন হাতে তুলে নিতে পারে না, এবং অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বেআইনি হত্যাকাণ্ড সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না, এটি শুধু আইনের শাসনকে অবজ্ঞা করে এবং দেশে অন্ধকারে ঠেলে দেয়।”

ফখরুল ইসলাম তৌহিদুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং নিহতের পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান।