রংপুরকে বিদায় করে কোয়ালিফায়ারে খুলনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  স্বপ্নের মতো এক শুরু ছিল রংপুর রাইডার্সের। টানা ৮ ম্যাচ জিতে সবার আগে প্লে অফ নিশ্চিত করেছিল তারা। এমন শুরুর পর শেষের বাস্তবতা হয়তো কল্পনাও করেনি রাইডার্সরা! গ্রুপ পর্বের শেষ চার ম্যাচে টানা হারে এলিমিনেটরে জায়গা হয় তাদের। এলিমিনেটরে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ হওয়ায় মাঠে নামার আগে স্কোয়াডের শক্তি বাড়ায় রংপুর। নতুন করে তিন বিদেশি তারকাকে উড়িয়ে আনা হয়। আন্দ্রে রাসেল-টিম ডেভিডদের অন্তর্ভুক্তিতে ফেভারিট তকমা নিয়েই আজ মাঠে নেমেছিল রাইডার্সরা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সেটার কোনো ছাপই রাখতে পারল না তারা।

খুলনা টাইগার্সের স্পিন জালে ফেসে চোখে সর্ষে ফুল দেখেছেন রংপুরের ব্যাটাররা। নাসুম আহমেদ-মেহেদি হাসান মিরাজদের ঘূর্ণিতে রীতিমতো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা রাইডার্সদের! প্রথম সারির পাঁচ ব্যাটারের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। এমনকি পুরো ইনিংসে মাত্র দুই ব্যাটার তা করতে পেরেছেন। ব্যাটিং ব্যর্থতায় এলিমিনেটরেই থামতে হলো এক সময়ের টেবিল টপারদের। ৯ উইকেটের জয়ে কোয়ালিফায়ারে ওঠল খুলনা।
৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই মিরাজকে হারায় খুলনা। ইনফর্ম এই ব্যাটারের ব্যর্থতার পরও জয় পেতে খুলনাকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অ্যালেক্স রসকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথটা দাপটের সঙ্গেই পাড়ি দিয়েছেন নাঈম শেখ।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন নাঈম। অবিচ্ছিন্ন ৮৭ রানের জুটিতে নাঈমের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৩ বলে অপরাজিত ৪৮ রান। আর রস অপরাজিত ছিলেন ২৭ বলে ২৯ রান করে।

এর আগে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছিলেন রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান। ব্যাট করতে নেমে মহাবিপদে পড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে সিঙ্গেল নিতে গিয়ে জেমস ভিন্সের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁদে পড়েন সৌম্য। পরের ওভারে নাসুমের শিকার হয়ে ফিরেছেন ভিন্স। ৭ বলে মোটে ১ রান করতে পেরেছেন এই ব্যাটার।

পরপর দুই ওপেনারের বিদায়ের পর হাল ধরতে পারেননি সাইফ হাসান ও শেখ মেহেদীরা। নাসুম আহমেদের দারুণ এক ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প উপড়ে গেছে মেহেদীর। পরের ওভারে খুলনা কাপ্তান মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মোহাম্মদ নেওয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন সাইফও। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ১০ বলে ৪ রান।

আজ ব্যাটিংয়ে কিছুটা ওপরের দিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সাইফউদ্দিন। কিন্তু সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না তিনিও। হাসান মাহমুদের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছেন। রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। এক চারের মারে ৮ বলে ৮ রানে থেমেছে তার লড়াই। টপ-অর্ডারের ৫ ব্যাটারকে হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে যায় রংপুর।

অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান দলকে টেনে তোলার চেষ্টায় ছিলেন। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৫ বলে ২৩ রান। প্লে-অফের জন্য উড়িয়ে আনা হয়েছিল ক্যারিবীয় ব্যাটিং দানব আন্দ্রে রাসেলকে। সেই সঙ্গে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটার টিম ডেভিড। দুজনই ব্যর্থ হয়েছেন। ডেভিড করেছেন ৯ বলে ৭ রান। রাসেল ৯ বলে ৪ রান করেন।

শেষ দিকে লড়াই চালিয়েছেন আকিফ জাভেদ। ১৮ বলে ৩২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে দলের রানটাকে ৮৫ পর্যন্ত টেনে নেন আকিফ। খুলনার হয়ে ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। ১টি করে উইকেট শিকার করেন হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ নওয়াজ এবং মুশফিক হাসান।




পুরস্কারপ্রাপ্তদের পেছনে দাঁড় করিয়ে ফটোসেশন নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন উপদেষ্টা ফারুকী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের পেছনে দাঁড় করিয়ে ফটোসেশন প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ওই ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর আজ রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক পোস্টে এ নিয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

তিনি তার ভেরিফায়েড একাউন্টে বলেন, ‘পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণীজনদের গ্রুপ ফটোসেশন নিয়ে গতকাল থেকে নানারকম আলোচনা হচ্ছে। আপনারা সবাই জানেন সরকার বা পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্টেজেই পুরস্কারপ্রাপ্তদের গ্রুপ ফটো সেশনের একটা রেওয়াজ চালু আছে। কিন্তু আমরা তো সংস্কার করতে আসা সরকার। আমাদের কেন রেয়াজ মানতে হবে?’

রবিবার মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গ্রুপ ফটোসেশনের এই রেওয়াজ এ বছরের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠান থেকে আর রাখা হবে না। গ্রুপ ফটোসেশন কোথায় কীভাবে হবে, এটা নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

বইমেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি দিয়ে বানানো ডাস্টবিন নিয়েও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ প্রসঙ্গে পোস্টে কথা বলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি তার পোস্টের দ্বিতীয় অংশে বলেন, ‘ছয় মাস হইলো, আমরা একটা খুনি-সাইকোপ্যাথের হাত থেকে মুক্তি পাইছি। জাস্ট ছয় মাস! যে খুনি শত শত মানুষকে গুম করিয়েছে, হাজার হাজার বিরোধীমতের মানুষকে খুন করিয়েছে, জুলাইতে একটা নারকীয় গণহত্যা চালিয়েছে, ইলিয়াস আলীকে গুমের পর হত্যা করে তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরে নাটক করেছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করিয়ে মানুষ মেরেছে- তার সঙ্গে শিষ্টাচার? হিটলারের সঙ্গে শিষ্টাচার? আর ইউ সিরিয়াস? সালাম দিয়ে বলতে হবে, ‘‘প্রিয় খুনি, আপনি আমার প্রণাম গ্রহণ করুন?’’

এরআগে গতকাল শনিবার বিকালে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাত জনের হাতে এবারের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার তুলে দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সে সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এক পর্যায়ে অতিথিদের পেছনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের দাঁড় করিয়ে ফটোসেশন করা হয়।




রিটার্ন দাখিল না করা টিআইএনধারীরা নোটিস পাবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকার পরও যারা দীর্ঘদিন রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক ‘নীতি সম্মেলনে’ তিনি বলেন, “আমরা কাজ শুরু করেছি। আপনারা এটা টের পাবেন যখন আপনাদের বন্ধু-বান্ধব ট্যাক্সের নোটিস পাবে।

“দীর্ঘদিন ধরে উনার টিআইএন আছে, উনি জীবিত আছেন, উনার ব্যবসা-বাণিজ্য আছে, অথচ উনি রিটার্ন দেন না; আমরা এই জায়গাটায় হাত দিচ্ছি।”

‘খাদ্যপণ্যের যৌক্তিক দাম: বাজার তত্ত্বাবধানের কৌশল অনুসন্ধান’ শিরোনামে এই ‘নীতি সম্মেলন’ (পলিসি কনক্লেভ) আয়োজন করে বণিক বার্তা।

সেখানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের ওপর ক্রমাগত চাপ আসে; নানা চাপ। প্রথম চাপ হচ্ছে আমার দেশের যে আর্থিক প্রয়োজন, সেটা মেটানো।

“বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের যে ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত, এটা পৃথিবীর সবচেয়ে নিচের দিকের একটা। আমাদের আশপাশের দেশের তুলনায় এটা অনেক কম।”

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “আমার ট্যাক্স নেট যত বড় হওয়ার কথা ছিল, ততটা বড় নয়। বিশেষ করে আয়কর; ধনীদের আয়কর দেওয়ার কথা; কিন্তু আমাদের কোষাগার এখনও গরিবের টাকায় পূর্ণ হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “১৯৭২ সালে যখন বাংলাদেশের প্রথম বাজেট আমরা যখন করি, যখন রেভিনিউ কালেকশন করা হয়, যা আদায় হত তার ৯০ শতাংশ গরিব মানুষের করের টাকা থেকে আসত।

“সেই পরিস্থিতির খুব যে উন্নতি এখনও হয়েছে, তা নয়। এখনও করের দুই তৃতীয়াংশ আসে পরোক্ষ কর থেকে। আয়কর দেয় মাত্র এক তৃতীয়াংশ লোক।”




তিতুমীর কলেজ ‘শাটডাউন’ ঘোষণা, কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি তিতুমীর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘শাটডাউন’ ঘোষণা করেছেন স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে আন্দোলনরত কলেজটি শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি রেলপথ ও সড়ক অবরোধে ‌‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তারা।

এছাড়া সোমবারের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টায় কলেজের মূল ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আন্দোলন করছি। কিন্তু রাষ্ট্র বারবার আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে।

সেজন্য আমরা সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য তিতুমীর কলেজ শাটডাউন ঘোষণা করছি। এ সময়ের মধ্যে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম হবে না।
তিতুমীর কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার পরেই তিতুমীরের গেটের তালা খোলা হবে।
এ সময় তিনি আরো জানান, সোমবার ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মহাখালী রেল ক্রসিংয়ে রেলপথ, আমতলী মোড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, মহাখালী-গুলশান সড়ক এবং গুলশান লিংক রোডে সর্বাত্মক অবরোধ করবেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার রাতের মধ্যে যদি দাবির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা না হয় কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হয় তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা সেখানে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবস্থান করার পর রাত ৯টার দিকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় ৭ দফা দাবি নিয়ে অনশনে বসেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাতে যোগ দেন আরও দুজন। ২৯ জানুয়ারি দুপুরে গণঅনশন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া ওইদিন দুপুরে গুলশান-মহাখালী সড়কের দুই পাশেই বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন।

৩০ জানুয়ারি রাতে শিক্ষার্থীরা ‘বারাসাত ব্যারিকেড টু নর্থ সিটি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার পর থেকে তাদের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা গুলশান-১ চত্বরে অবস্থান নিয়ে কয়েক দফা বিক্ষোভ করেন। রোববার দুপুর ১২টা থেকে ফের তিতুমীর কলেজের সামনে গুলশান-মহাখালী সড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে সন্ধ্যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন।




পটুয়াখালীর দুমকিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ক্যারিয়ার সামিট অনুষ্ঠিত

উপজেলার বিভিন্ন হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে “স্টুডেন্টস ক্যারিয়ার সামিট” অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী ও প্রধান অতিথির বক্তব্য

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাসুদ রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মামুন আর রশিদ।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক ডা. রেজওয়ানুল হক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য

সামিটে বিশেষ অতিথি ছিলেন—

চায়না পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্চার ড. কাজী মাসুম (চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্স)

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম নূর

এছাড়াও, দুমকি উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জালাল আহমেদ, নায়েবে আমির মাওলানা আলতাফ হোসেনসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের বক্তব্য

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের দিকনির্দেশনা দিতে এ সামিটের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, দুমকি নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান ভাণ্ডারিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, সদস্য সচিব তারেক নাইম, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেল্লাল বেপারি ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাওলাদার তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। এতে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন হুমকির মুখে পড়বে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—

রুহুল রাঢ়ী, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি

আমিনুল ইসলাম, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি

সলেমান হাওলাদার, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, শাহীন পণ্ডিত ও নাজমুল ইসলাম

অভিযুক্তদের বক্তব্য

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেল্লাল বেপারি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ কাজে জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে।”

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছি না, মূল ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ করছি। তবে ওই এলাকা ইজারা আছে কিনা, সেটি অফিস বলতে পারবে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, “নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি খনন, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় রতনদী তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সড়ক নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে মাটি খনন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে। তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিছুই জানতেন না, নেওয়া হয়নি কোনো অনুমতি।

বিদ্যালয়ের মাঠে স্ক্যাভেটরের আঘাত

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা দেখতে পায়, স্ক্যাভেটর দিয়ে খেলার মাঠ কাটা হচ্ছে। তখনই তারা প্রতিবাদ শুরু করে এবং প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সকালে স্কুলে এসে দেখি, আমাদের খেলার মাঠ স্ক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে। দ্রুত প্রতিবাদ করি এবং প্রধান শিক্ষককে জানাই।”

অভিভাবক মোশারফ হোসেন বলেন, “রতনদী তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে খেলাধুলা করে। মাঠ কেটে নষ্ট করায় আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাফাই

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গলাচিপা-বন্যাতলী সড়কের কার্পেটিং কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। যার অধীনে পটুয়াখালীর ঠিকাদার ফিরোজ আহম্মেদ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা আলতাফ হোসেন বলেন, “স্ক্যাভেটর চালক ভুলক্রমে মাঠ খনন করেছে। ঠিকাদারের নির্দেশে আমরা দ্রুত মাঠ ভরাট করে দিচ্ছি।”

তবে স্থানীয় ঠিকাদার ফিরোজ আহম্মেদ-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “সকালে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে দেখি মাঠের বিশাল অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারকে জানালে তারা মাঠ পুনরায় ভরাট করার প্রতিশ্রুতি দেয়।”

রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খেলার মাঠটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি নষ্ট করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ খননের বিষয়টি কে বা কারা অনুমতি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন আমাকে বিষয়টি জানাননি, সেটিও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে চাকরির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, মানববন্ধন

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার সাইদুর রহমান ও ঠিকাদার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত ভুক্তভোগীরা তাদের অপসারণ ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

রবিবার (২ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সাইদুর রহমান ও কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। যারা অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন, তাদের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩০ জনের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা করে মোট কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু পরে চাকরি স্থায়ী না করিয়ে টাকাও ফেরত দেননি।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা ফেরতের অনুরোধ করলেও সাইদুর রহমান কোনো ব্যবস্থা নেননি। অনেকেই ধারদেনা করে টাকা দিয়েছেন, যা এখনো ফেরত পাননি। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া এসব পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং দ্রুত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্বাসনে নীতিমালা হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসনে নীতিমালা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। নীতিমালার অধীনে তাদের পুনর্বাসন করা হবে বলে জানান তিনি।

নিহতদের পরিবার এবং আহতদের পুনর্বাসনে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ২৩২ কোটি টাকা টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন বলেও জানান ত্রাণ উপদেষ্টা।




পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা’, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলালকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার নামে দেওয়া ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা’ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর।

গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলাউদ্দিন আলালের সম্মাননা গ্রহণের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করতে থাকেন।

পটুয়াখালী বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন, “একজন আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার নামে স্মারক সম্মাননা পেলেন?” তার মতে, জেলা বিএনপির নেতাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা জিএম দুলাল ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, “ধন্যবাদ জেলা বিএনপিকে, ধন্যবাদ দ্রুত রং পাল্টানো আলালকে।”

পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন স্পষ্ট করেন, “আলাল আমাদের দলের কেউ নন। তার নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা আমাদের জানা নেই।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ চুন্নু মিয়া বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যারা এ ধরনের ভুল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিতর্কের মধ্যে আলাউদ্দিন আলাল কোনো মন্তব্য করেননি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গেছে, তিনি বিষয়টিকে “একটি ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে দেখছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম