বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপিসহ আ.লীগের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশাসহ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিরঙ্গল গ্রামের বাদল হাওলাদারের ছেলে আরিফ হাওলাদার এবং হাতেম আলী সরকারি কলেজের অনার্স ৪ বর্ষ ইংরেজি বিভাগের ছাত্র বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশা, হেমায়েত উদ্দিন হিমু, আমিনুল ইসলাম, আশিক শরীফ, মিঠু খান, বায়জিদ, মুন্না বিশ্বাস, আলিম খান, জাকির খান, কাওসার খলিফা, শাকিল খলিফা, আবুল হোসেন, সাব্বির খান, আকাশ খান, সুমন হাওলাদার, আরিফ হাওলাদার, সেলিম হাওলাদার, সোহেল ফকির প্রমুখ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলন শেষে বরিশাল থেকে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর সাবেক সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) হাফিজ মল্লিক এবং আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস মতিউর রহমান বাদশার নেতৃত্বে অভিযুক্তরা ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল নিয়ে অস্ত্রশস্ত্রসহ অর্ধশতাধিক ছাত্র–জনতাকে মারধর এবং কোপানোর মাধ্যমে রক্তাক্ত জখম করে। তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় নামধারী ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে *যায়যায়দিন* কে জানান, ছাত্র–জনতার ওপর হামলা ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে আরিফ হাওলাদার নামে এক শিক্ষার্থী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে সরকারি চাল বিক্রির সময় আটক

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালীতে সরকারি ওএমএস’র ১১ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির সময় স্থানীয় জনগণ আটক করেছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে লেবুখালী পাগলার মোড়, পায়রা পয়েন্ট এলাকায় চাল পাচারের খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা চালগুলো আটক করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল জব্দ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ডিলারের গুদাম সিলগালা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২ নম্বর লেবুখালী ইউনিয়নের জন্য নির্ধারিত ওএমএস ডিলার খলিল সিকদার হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা করেন। তিনি মালেক শিকদারের দোকানের সামনে গোপনে চাল সরবরাহ করেন। বিষয়টি নজরে আসার পর এলাকাবাসী চাল আটক করে প্রশাসনকে খবর দেয়।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ ১১ বস্তা চাল জব্দ করেন এবং ডিলারের গুদাম সিলগালা করেন। তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডিলার খলিল সিকদার দাবি করেন, “এই চাল আমার নয়, আমি এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

এদিকে, দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির হোসেন জানান, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে, যার মামলা নাম্বার -১০ তারিখ-৩০-০৬-২৪ ধারা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ সনের ২৫(১)।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিজ দেশের নাগরিককেই গুলি করল বিএসএফ

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবার নিজ দেশের এক নাগরিককে গুলি করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে এক ভারতীয় যুবককে গুলি করে বিএসএফ।

গুলিবিদ্ধ ভারতীয় নাগরিকের নাম আকতার জামাল রনি। তিনি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তবে পরদিন সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ফেরার চেষ্টা করলে বিএসএফ তাকে গুলি করে।

বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ারের তথ্যানুযায়ী, আকতার জামালের সঙ্গে এক নারীও ছিলেন, যিনি পাশের গ্রামে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। আহত অবস্থায় আকতার জামালকে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আ’লীগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য তৈরি করেছে: এ্যানি

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, আওয়ামী লীগ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে এবং জনগণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জিম্মি করে নির্বাচনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া রাম রতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

এ্যানি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাধারণ মানুষের গভীর সম্পর্ক ছিল, যা আজও মানুষের মধ্যে বিদ্যমান। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, তার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং দেশের মানুষের প্রতি তার দরদ জনমনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

এছাড়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে এ্যানি বলেন, তার কথাতেই পরিস্কার, তিনি কাউকে প্রশ্রয় দেবেন না। এখানেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পার্থক্য দেখা যায়। তারেক রহমান ও বিএনপি চাচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে, যা কেবল বিএনপির পক্ষেই সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দত্তপাড়া রাম রতন বহুমুখী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম বেল্লাল হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা : ফাঁসির ৯ জনসহ সব আসামি খালাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির ৯ আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সব আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। আমরা চাই না তারা আর এক সেকেন্ডও কারাগারে থাকুক। এখনই সব সবাই মুক্তি প্রদানের নির্দেশ প্রদান করছি।

আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম মুকুল।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মজিবুর রহমান।

ভাষার মাসের সম্মানে আদালত বাংলা ভাষায় রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুবুল ইসলাম রায়ের মূল অংশ পাঠ করেন।

এদিকে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পাবনা বিএনপির শতশত নেতাকর্মী এনেক্স কোর্ট বিল্ডিংয়ের সামনে অবস্থান নেন। রায় শোনার পর তারা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষ হয়।

তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়।

পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা।




আজ টিভিতে যেসব খেলা দেখবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার আজ, মুখোমুখি চিটাগং কিংস ও খুলনা টাইগার্স।

বিপিএল: ২য় কোয়ালিফায়ার

চিটাগং-খুলনা
সন্ধ্যা ৬-৩০ মি., টি স্পোর্টস ও গাজী টিভি

এসএ-২০: এলিমিনেটর
জোবার্গ-ইস্টার্ন কেপ
রাত ৯-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

ডালাস ওপেন
ভোর ৫টা, ইউরোস্পোর্ট

আমরো ওপেন
বিকেল ৪-৩০ মি., ইউরোস্পোর্ট

 




বাংলাদেশ ব্যাংকে গোপন ৩০০ লকারের সন্ধান, যে কোনো সময় অভিযান

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার তিন শতাধিক লকারের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। যেখানে বর্তমান ও সাবেক ঊর্ধ্বতন ভিআইপি ব্যাংক কর্মকর্তাদের লকার রয়েছে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) আদালত থেকে সাবেক ও বর্তমান ব্যাংক কর্মকর্তাদের লকার খোলার অনুমতিও পেয়েছে সংস্থাটি। চলতি সপ্তাহের যে কোনো দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খুলতে অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান বিভাগের প্রধান দুদক পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার নামীয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখার লকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খোলার অনুমতি পেতে আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দাখিলকৃত কাগজপত্রসহ পর্যালোচনা করে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইনভেন্টরি করার জন্য ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন এমন অনুমতি দেন। কমিশনের অনুমতি নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযান পরিচালনা করা হতে পারে।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ভল্টে কর্মকর্তাদের অর্থ-সম্পদ জমা রাখার ব্যক্তিগত সব লকার সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গভর্নরকে চিঠি দেয় দুদক। দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান সই করা চিঠিতে বলা হয়, গত ২৬ জানুয়ারি আদালতের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অনুসন্ধানের উদ্দেশে গঠিত দুদক টিম বাংলাদেশ ব্যাংকের কয়েন ভল্টে রক্ষিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর সেফ ডিপোজিট তল্লাশি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে তার জমা করা তিনটি সিলগালা কৌটা খুলে ৫৫ হাজার ইউরো, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার, ১০০৫.৪ গ্রাম স্বর্ণ ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। যা তার নিয়মিত আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করা হয়নি। ওই সময় অন্যান্য কিছু কর্মকর্তার সিলগালা করে সেফ ডিপোজিট রেখেছেন। এসব সিলগালা কৌটাতেও অপ্রদর্শিত সম্পদ থাকার অবকাশ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।

দুদক জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে দুদক চেয়ারম্যানের ‘দুদক ও সম্পদ পুনরুদ্ধার বিষয়ক’ আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ওই ভল্টে রক্ষিত সম্পদ সাময়িকভাবে ফ্রিজের সম্মতি দিয়েছেন। গভর্নরকে দেওয়া দুদকের চিঠি ও অর্থ উপদেষ্টার সম্মতি থাকায় ভল্টের সব লকারের সম্পদ ফ্রিজ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে এর মালিকরা তাদের লকার থেকে কোনো ধরনের অর্থ-সম্পদ সরিয়ে নিতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই সব লকার খোলা ও লকারে থাকা অর্থ-সম্পদের তালিকা তৈরির অনুমতির জন্য আবেদন দেয় দুদক।

সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী লকারে যা পাওয়া যায়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক আলোচিত ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরীর গোপন তিনটি লকারে সোনার চামচ, বোতাম, স্বর্ণালংকার, বান্ডিল বান্ডিল মার্কিন ডলার ও ইউরো মিলেছিল। গত ২৬ জানুয়ারি টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টার অভিযান শেষে দেখা যায়, লকারে ১ কেজি স্বর্ণ, ১ লাখ ৬৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো এবং ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

লকারে যেসব স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে—২৩টি সোনার চেইন যার ওজন ১৭৬.৩ গ্রাম, দুটি টিকলি ২০০৭ গ্রাম, কানের দুল ১২টা ৮৯২ গ্রাম, লকেট ৩টা এক দশমিক ৩ গ্রাম, ছয়টি চুড়ি ১০৭ গ্রাম, দুটি সিতাহার ১২০.৯ গ্রাম, তিনটি আংটি ১৮.৩ গ্রাম, সোনার কয়েন তিনটি ওজন ২৩৯ গ্রাম, সোনার চামচ একটি ওজন ৬ গ্রাম, ১০০ নোলক ৮ গ্রাম, ব্রেসলেট ১৬ গ্রাম, গলার হার তিনটি যার ওজন ৫৭.৩ গ্রাম, মুকুট একটি ওজন ১৫৪ গ্রাম। আরেক লকারে চূড় ২টি ৩২.৯ গ্রাম, চুরি ২টি ২১ গ্রাম, সিতাহার একটি পিস ১১ গ্রাম,  মুকুট ২ পিস ২১.৭ গ্রাম, লকেট ২ পিস ২৬৮ গ্রাম, টিকলি একটি ৬৯ গ্রাম, গলার চেইন ৩টি ওজন ৩৯.৩ গ্রাম, গলার হার ২টি ৩২.৫ গ্রাম, কানের দুল ৮টি ৫৮.৮ গ্রাম ও শার্টের বোতাম (স্বর্ণ) ৪টি ৬২ গ্রাম।

এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এস কে সুরের বাসা থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা জব্দের সময় তার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভল্ট থাকার তথ্য পায় দুদক। পরে সংস্থাটি জানতে পারে, সেটি ভল্ট নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যবান সামগ্রী রাখার লকার (সেফ ডিপোজিট)।

এরও আগে, গত ১৪ জানুয়ারি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক নাজমুল হোসাইনের নেতৃত্বে একটি দল এস কে সুরকে গ্রেপ্তার করে। সম্পদের বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে গত ২৩ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

উল্লেখ, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ফিলিপাইনের একটি পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সে সময়ে তৎকালীন গভর্নরের পদত্যাগ ও দুই ডেপুটি গভর্নরকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন আরও দুজন ডেপুটি গভর্নর ছিলেন। তারা হলেন আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান ও এস কে সুর চৌধুরী।

২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের আগস্টে এই পরিবারের সব ধরনের লেনদেনের তথ্য চেয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয় দুদক।

২০২২ সালের ২৯ মার্চে তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। এসকে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।




ইসরায়েলের নতুন সেনাপ্রধান: বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইয়াল জামিরকে ইসরায়েলের নতুন চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সেনাপ্রধান) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি দেশটির কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং সামরিক কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নিয়োগ অঞ্চলে বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে ইসরায়েলকে ঠেলে দিতে পারে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।

জামির ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল। তিনি হার্জি হালেভির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে সংঘটিত অভিযানে সামরিক ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছিলেন।

সাধারণ পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধানের নিয়োগ হয়তো এতটা রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করত না। কিন্তু ইসরায়েলে এই ধরনের নিয়োগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। এর কারণ কেবল সামরিক বাহিনীর রাজনীতির সঙ্গে গভীর জড়িত থাকাই নয়, বরং অনেক সাবেক সেনাপ্রধান, যেমন এহুদ বারাক, বেনি গান্তজ এবং গাদি আইজেনকোট দায়িত্ব পালন শেষে রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে জামিরের নিয়োগকে ইসরায়েলের ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতাকে আড়াল করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আরও আক্রমণাত্মক ও প্রচলিত সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজায় যুদ্ধের সময় জামির ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। তিনি বিমান হামলার বদলে দীর্ঘস্থায়ী স্থল অভিযানের পক্ষে জোর দিয়েছিলেন।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জামির গাজায় তীব্র সামরিক হামলা তদারকি করেছেন। এসবের মধ্যে বিমান হামলা এবং ফিলিস্তিনিদের সীমান্ত প্রতিবাদে সহিংস দমন-পীড়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি ইসরায়েলের যুদ্ধযন্ত্রকে শক্তিশালী করেছেন, অস্ত্র চুক্তি নিশ্চিত করেছেন এবং স্থানীয় অস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারিত করেছেন।

জামিরের নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এসেছে। কেবল গাজায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নয়, বরং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ দেওয়া হলো। ইসরায়েল প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে নতুন দাবি উত্থাপন করে যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে পদ্ধতিগতভাবে দুর্বল করার পাশাপাশি জেনিন, নাবলুস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি শহরে প্রাণঘাতী অভিযান তীব্র করেছে, যাতে বহু লোক নিহত হয়েছে।

জামিরের পরিবার ১৯২০-এর দশকে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সময় ইয়েমেন থেকে ফিলিস্তিনে বসতি স্থাপন করে। তার দাদা, আহারন, ইরগুনের সদস্য ছিলেন। ইরগুন একটি জায়নবাদী সংগঠন যা ব্রিটিশ বাহিনী এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী ছিল। এই গোষ্ঠীটিই পরে লিকুদ পার্টিতে পরিণত হয়। যে দলের পক্ষ থেকে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

২০১৮ ও ২০২২ সালে চিফ অব জেনারেল স্টাফের পদে তার বারবার মনোনয়ন ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নেতানিয়াহুর লোক হিসেবে পরিচিতি তাকে ইসরায়েলের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অজনপ্রিয় করে তুলেছিল।

তবে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বাইরে, জামিরের নিয়োগ আরেকটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ: তার সামরিক পটভূমি ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকারে একটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে একজন বাদে সব ইসরায়েলি চিফ অব জেনারেল স্টাফ হয় প্যারাট্রুপার্স বা বিশেষ বাহিনী থেকে নেওয়া হয়েছে। জামির সাঁজোয়া বাহিনী থেকে এসেছেন।

জামিরের মতবাদ ইসরায়েলের সামরিক কৌশলে একটি মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাঁজোয়া ডিভিশনের ওপর তার গুরুত্বারোপ এবং বিমান বাহিনীর শক্তির ওপর নির্ভরতা হ্রাস কেবল একটি কৌশলগত সমন্বয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে না, বরং একটি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবেও দেখা হচ্ছে। যা সেনাবাহিনীকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করছে।

২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধের অপমানজনক ব্যর্থতার পর শীর্ষ স্তরের পুনরায় প্রশিক্ষণ কোর্সের কমান্ডারদের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। ওই সময় স্থলযুদ্ধে ইসরায়েলের দুর্বলতা প্রকাশ হয়েছিল। সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার সামরিক প্রস্তুতির দৃষ্টিভঙ্গি গঠন করেছে।

নিয়োগের পর তার প্রথম বক্তৃতায় জামির ২০২৫ সালকে ‘যুদ্ধের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তার এমন বিবৃতি কেবল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয় না, বরং ইসরায়েলের বৃহত্তর আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিতও দেয়। সামরিক স্বনির্ভরতার ওপর তার জোর দেওয়া গাজার বাইরে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। যা সম্ভবত লেবানন, সিরিয়া বা এমনকি ইরান পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে।

যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশলের বাইরে, জামির ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত শাস্তির একজন কণ্ঠস্বর সমর্থক। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং সাবেক জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মতো তিনি প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের অপরিহার্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত করার পক্ষে সমর্থন করেছেন।




বাংলাদেশের রাজধানী থাকছে না ঢাকা: সুপারিশ কি বলছে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চারশ বছরের পুরনো নগর ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু বেশ আগে প্রায় ২ কোটি মানুষের চাপে ভারাক্রান্ত এই মেট্রোপলিটন তার বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা, বায়ু দূষণও যানবাহনের গতি সূচকে একদম তলানিতে অবস্থান করছে ঢাকা। তাই ঢাকা থেকে রাজধানী সরানোর সুপারিশ করেছে অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ টাস্ক ফোর্স। সেই সাথে সহজ শর্তে গাড়ি কেনার সুবিধাও কঠিন করার সুপারিশ দুরূহ করবে মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন।

বৈষম্যহীন টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণে গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর টাস্ক ফোর্স গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত ৩০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন, পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেই প্রতিবেদনে নানাবিধ সুপারিশের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হচ্ছে রাজধানী ঢাকার স্থানান্তর।

বৈশ্বিক বাসযোগ্যতা সূচক, বায়ুদূষণ সূচক, যানবাহনের গতি সূচকসহ আটটি বৈশ্বিক গবেষণা ও সমীক্ষার উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবকটিতেই ঢাকার অবস্থান সবার নিচে কিংবা নিচের দিকে। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ মেয়াদে ঢাকা থেকে রাজধানী স্থানান্তরের পরামর্শ দিচ্ছে টাস্কফোর্স কমিটি।

ঢাকার ৮৫% অবকাঠামো অঅনুমোদিত এবং তা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য উপযোগী নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। একই সাথে একে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় যানবাহনের গড় গতিবেগ ছিল যেখানে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার, ২০১৫ সালে তা ছয় দশমিক সাত কিলোমিটার এসেছে যা এখন আরও কমেছে।

প্রতিবেদনে রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ি কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে গুরুত্বসহকারে। নগরে একটি সমন্বিত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয় টাস্কফোর্স কমিটির প্রতিবেদনটিতে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাস রুট, ফ্রাঞ্চাইজি, ট্রাম বিআরটি, অ্যালার্টই বা লাইট রেল ট্রানজিট, মনোরেল, সাব আরবান কমিউটার রেল, মেট্রো রেল ও রাইড শেয়ারিং এর মতো সব ধরনের গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তির।

প্রতিবেদনের একটি অংশে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিরুৎসাহিত করার সুপারিশ করা হয়। এর জন্য রাজধানীতে কত গাড়ি চলতে পারবে সেই সংখ্যা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের মতো সড়ক ব্যবহারে গাড়ির জন্য মাসুল ধার্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় উড়াল সড়ক নির্মাণ বন্ধের সুপারিশ জানিয়ে ট্রেনের মতো টেকসই গণপরিবহনের জন্য উড়াল রেলপথের কথা বলা হয়েছে প্রতিবেদনের সুপারিশে।

সড়ক ব্যবহারে গাড়ির জন্য মাসুল ধার্য করার পরামর্শের পাশাপাশি ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে গাড়ি কেনার ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছে টাস্ক ফোর্স। এতে করে মধ্যবিত্তের গাড়ি কেনার স্বপ্ন পূরণ খানিকটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। গাড়ির অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য জরিমানা বাড়ানো প্রকল্পের অধীনে যাতে বিলাসবহুল গাড়ি না কেনা হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশা লেগুনার মতো যানবাহন চলাচল বন্ধের পরামর্শ দিয়ে বড় দ্বিতল বাস বাড়ানোর কথা বলছে।




পটুয়াখালীর দশমিনায় ৫০০ বছরের পুরোনো আমির উল্লাহ মুন্সী জামে মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামে পাঁচ শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আমির উল্লাহ মুন্সী জামে মসজিদ। এক গম্বুজ ও চার মিনারবিশিষ্ট এই মসজিদটির শৈল্পিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্য নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।

প্রাচীন এই মসজিদের স্থাপত্য ও ইতিহাস

১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে মোঘল আমলের স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই মসজিদটি এখনও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট এবং এতে রয়েছে ১২টি পিলার। এর অভ্যন্তরে ত্রিশজন মুসুল্লী ও একজন ইমাম একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদের পূর্ব ও উত্তর পাশে দুটি দরজা রয়েছে, তবে দক্ষিণ পাশের দরজাটি সংস্কার করে জানালায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে একটি মিহরাব। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রয়াত বিএনপি নেতা সৈয়দ হারুনুর রশিদের কবর।

সংরক্ষণ না হলে ধ্বংসের শঙ্কা

বিগত শতাব্দীগুলোতে মুসলিম বসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা পাশেই অতিরিক্ত জায়গায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছেন। তবে অযত্ন-অবহেলায় মসজিদটি ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন,
“এটি শুধু আমাদের গ্রামের সম্পদ নয়, পুরো দশমিনা উপজেলার গর্ব। এটি সংরক্ষণ খুবই জরুরি।”

প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানিয়েছেন, মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন,
“আমি আজই ইউএনওর সঙ্গে কথা বলবো এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রাচীন এই মসজিদটি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত এটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

– মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম