বিক্ষুব্ধ জনতা ফ্যাসিবাদকে আর দেখতে চায় না: ইঞ্জিনিয়ার সোবহান

বরিশাল-১ আসনের বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, হাজারো মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচার মুক্ত হয়েছে। তাঁর মতে, দেশে যারা ফ্যাসিবাদ চালিয়ে আসছিল, তারা জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্রের পথে চলা দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আর এ ধরণের শাসন দেখতে চায় না। এই সরকারকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। বিচার না হলে, স্বৈরাচারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। শেখ হাসিনাকে বিচারের আওতায় আনা জরুরি,” ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য রাজনীতিবিদদের একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সকল নেতাকর্মীকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, বাংলাদেশের মানুষ যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং স্বচ্ছতা চায়, সেখানে কাজ করে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া সভার শেষে তিনি খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ৫০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে বিএনপির ৩১ দফার লিফলেট বিতরণ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কলাপাড়ায় মানববন্ধন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি, রিপোর্টার্স ক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরাম, সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় মানুষও তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।

কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি মেজবাহউদ্দিন মান্নু, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মিন্টু, কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহিদ রিপন, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওসারসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। প্রয়োজনে সকল সংবাদ বর্জনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাভিশন টিভির কুয়াকাটা প্রতিনিধি সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম মিরনকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকির ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুর চাল চুরির দায়ে হাজতে

পটুয়াখালীতে সরকারি ভিজিএফের চাল চুরি ও কালোবাজারির অভিযোগে দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ মো. কামরুল হাসান শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উপজেলা প্রশাসন আঙ্গারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শুক্কুর মিয়ার বাড়ি থেকে ৩৫০ বস্তা সরকারি ভিজিএফের চাল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত বছরের ১ জুলাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান বাদী হয়ে শুক্কুর মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ৫ জানুয়ারি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মুজিবর রহমান টোটোন ঢাকা পোস্টকে বলেন,‘সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর চারটি আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী ইসলামী ফাউন্ডেশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন—

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি): জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান

পটুয়াখালী-২ (বাউফল): ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা, দশমিনা): সাবেক জেলা আমির অধ্যাপক শাহ আলম

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী): কলাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল কাওয়ুম

মতবিনিময় সভায় বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, জামায়াতের বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা একেএম ফখরুদ্দিন খান রাযী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেনসহ দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান এবং সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম আল কায়সারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও জামায়াতে ইসলামী সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। নির্বাচনে দলটির অংশগ্রহণ কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর পানপট্টি লঞ্চঘাট বিলীনের পথে, স্থায়ী রক্ষার দাবি স্থানীয়দের

পটুয়াখালীর গলাচিপার গুরুত্বপূর্ণ পানপট্টি লঞ্চঘাট ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদের করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে ঘাটের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করেও লঞ্চঘাট রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এই লঞ্চঘাট ব্যবহার করে গলাচিপা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। তবে অব্যাহত ভাঙনে লঞ্চঘাটটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোটে শত শত মানুষ পারাপার হলেও যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শানু সিকদার বলেন, “এক সরকার আসে, এক সরকার যায়, কিন্তু লঞ্চঘাট রক্ষার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। আমরা নতুন সরকারের কাছে মজবুত পাইলিং করে স্থায়ীভাবে ঘাট রক্ষার দাবি জানাই।”

বিগত পাঁচ বছরে নদীভাঙনে লঞ্চঘাটের বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দোকানপাট, বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাবু হাওলাদার বলেন, “লঞ্চঘাটটি না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরবো।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, “পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লক দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে লঞ্চঘাটটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম এই যোগাযোগ ব্যবস্থা টিকে থাকে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সাদেক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে উত্তাল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শেখ হাসিনার ভাগ্নে হাসনাত আবদুল্লাহর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার পর নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবন ঘিরে হাজারো বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জড়ো হয়। ফেসবুকে আগেই এই হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয়।

প্রথমে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি নিয়ে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনা সদস্যদের “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সেনাসদস্যদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হলে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এরপরই ছাত্র-জনতা বুলডোজার চালিয়ে সেরনিয়াবাত ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে।

এই ভবন নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাদিক আবদুল্লাহ এই ভবনকে “টর্চার সেল” হিসেবে ব্যবহার করতেন। আওয়ামী লীগবিরোধী অনেককে এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,এই বাড়ি ছিল ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এখানে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, শোষিত হয়েছে। আমরা এই অভিশপ্ত বাড়ি আর বরিশালে থাকতে দেব না।

বিক্ষোভকারী ইয়াকুব মিয়া বলেন,সাদিক আবদুল্লাহর এই বাড়ি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির স্মারক। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করছি।

এর আগেও এই ভবনে হামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ তিনজন নিহত হন।

এরপর থেকেই বাড়িটি জনরোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার একটি ভাষণের পর ফের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুরের পর বরিশালে সেরনিয়াবাত ভবন গুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ এই হামলাকে ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য বলে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে ছাত্র-জনতা ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি ছিল গণঅভ্যুত্থান।

এদিকে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলছে। তাদের নিষ্ক্রিয় থাকা ও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের কাছে বুলডোজারের চাবি হস্তান্তর করাকে কেউ কেউ নতুন বাস্তবতা বলে দেখছেন।

এই ঘটনার পর বরিশালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বরিশালের সেরনিয়াবাত ভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। এটি শুধু একটি বাড়ি ছিল না, এটি ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক। এক সময়ের ক্ষমতাধর পরিবারের এই পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন দিক নির্দেশ করছে।




ভোগান্তির স্বীকার লাখো মানুষ,আমতলীতে পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ

বরগুনার আমতলীর আড়পাঙ্গাশিয়া নদীতে পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৮ টাকার সেতুর নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। সাব-ঠিকাদার মো. সগির হোসেনের অবহেলা এবং প্রভাবের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে এই কাজ স্থগিত রয়েছে, যার ফলে আমতলী ও তালতলী উপজেলার লাখো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে। তখন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করে, যা দিয়ে দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন চলাচল করত। তবে ২০১০ সালে ব্রিজটি নড়বড়ে হয়ে পড়লে, ২০২০ সালে নতুন একটি গাডার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গাডার ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৩৭ হাজার ২৪৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ঠিকাদারি কাজ পায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার টিএনএএসআই জেডি নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে কাজ শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পরে কাজ সাব-ঠিকাদার মো. সগির হোসেনের কাছে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তৎকালীন সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর প্রভাব খাটিয়ে কাজ না করে বছর ধরে ফেলে রেখেছেন।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে কাজ শুরুর পর নদীর দুই কিনারে গাডার নির্মাণ করা হলেও, তা অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। সাব-ঠিকাদার প্রায় তিন কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো তিন বছর পরও কাজ শেষ না হওয়ায় আমতলী ও তালতলী এলাকার মানুষ অবর্ণনীয় ভোগান্তি সহ্য করছে। প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ধরে এই ব্রিজের মাধ্যমে দুই উপজেলার লাখো মানুষ চলাচল করে, কিন্তু বর্তমানে তারা নরবড়ে বেইলি ব্রিজ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

স্থানীয় বাস চালক ও গ্রামের মানুষ এই কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সাব-ঠিকাদারকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সরঞ্জামাদিসহ পাঁচ ডাকাত গ্রেপ্তার

বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ একটি সফল অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাঁচজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ এই অভিযান পরিচালনা করে এবং তাদের কাছ থেকে ডাকাতির সরঞ্জামাদি ও একটি পিকআপ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতের দিকে উপজেলার আশোকাঠী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল। সেই সময় টহল পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাঁচ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের মধ্যে গৌরনদী পিঙ্গলাকাঠি গ্রামের আল আমিন (৩৭), যশোরের আশ্রমরোড এলাকার রিয়াজ হোসেন হৃদয় (৩০), ইয়াছিন আরাফাত (২৭), বরিশাল বন্দর থানার আসাদুজ্জামান তুহিন খান (৪৮), ও জীবন খান (৩৬) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্টো ন-১২-২২০৬) এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি এবং মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

ওসি মো. ইউনুস মিয়া বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

এদিকে, অভিযানের সময় রাজিব হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জন ডাকাত পালিয়ে যায় বলে জানানো হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে জুলাই বিপ্লবের শহীদ স্মারক মোড়ক উন্মোচন

বরিশালে অনুষ্ঠিত হলো জুলাই বিপ্লবের শহীদ স্মারক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে দেশের মানুষ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং এ সময় দেশের ছাত্র-জনতাই ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ছিল বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম। এই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মারকটি উন্মোচন করা হলো। স্মারকে ৭১৭ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল বিভাগের ১৪১ জন শহীদের নাম রয়েছে। এছাড়া, তিনি জানান যে, শহীদদের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে এবং স্মারকে মোট ২৫০০ পৃষ্ঠার তথ্য থাকবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছাত্র-জনতা এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিল।” বরিশালে অনুষ্ঠিত এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হয়, যেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানও যুক্ত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল মহানগরের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, কর্মপরিষদের সদস্য আমিনুল ইসলাম খসরু এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা।

এ ধরণের অনুষ্ঠান শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে মনে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।

প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম