পটুয়াখালীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ছাত্রদল-ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীতে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে শহরের বনানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলউল্লাহ (১৫) পটুয়াখালী ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি শহরের সবুজবাগ এলাকার ৬ নম্বর লেনের মুজিবর মোল্লার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইব্রাহিম রাতে একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একদল যুবক তাকে পেছন থেকে এসে টেনে-হিঁচড়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, অপহরণকারীরা ইব্রাহিমকে তুলে নেওয়ার সময় “জন্মদিনের” কথা বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে। পরে বনানী এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়।
পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ছাত্রদল নেতা মো. মাহাফুজুর রহমানকে খবর দেন। তিনি দ্রুত ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।
আহত ইব্রাহিম জানান, ছাত্রদল কর্মী মনির, তার ভাই ছাত্রলীগ কর্মী হীরা এবং তাদের সহযোগী সাব্বিরসহ কয়েকজন মিলে তাকে কুপিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, “আমি ইব্রাহিমকে খুব খারাপ অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার ওপর হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নই।”
অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্তদের পরিচিতি পাওয়া গেলেও তিনি বলেন, “ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে। যারা এতে জড়িত, তারা ছাত্রদলের কেউ না।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।”
—
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম










