পটুয়াখালীতে স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ছাত্রদল-ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীতে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে শহরের বনানী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিলউল্লাহ (১৫) পটুয়াখালী ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি শহরের সবুজবাগ এলাকার ৬ নম্বর লেনের মুজিবর মোল্লার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ইব্রাহিম রাতে একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একদল যুবক তাকে পেছন থেকে এসে টেনে-হিঁচড়ে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, অপহরণকারীরা ইব্রাহিমকে তুলে নেওয়ার সময় “জন্মদিনের” কথা বলে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করে। পরে বনানী এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রাখা হয়।

পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ছাত্রদল নেতা মো. মাহাফুজুর রহমানকে খবর দেন। তিনি দ্রুত ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়।

আহত ইব্রাহিম জানান, ছাত্রদল কর্মী মনির, তার ভাই ছাত্রলীগ কর্মী হীরা এবং তাদের সহযোগী সাব্বিরসহ কয়েকজন মিলে তাকে কুপিয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহাফুজুর রহমান বলেন, “আমি ইব্রাহিমকে খুব খারাপ অবস্থায় পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার ওপর হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত নই।”

অন্যদিকে, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্তদের পরিচিতি পাওয়া গেলেও তিনি বলেন, “ঘটনাটি পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটেছে। যারা এতে জড়িত, তারা ছাত্রদলের কেউ না।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। তবে এখনও ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা আমাদের আইনগত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় যৌথবাহিনীর অভিযানে আওয়ামী লীগের ৯ নেতা-কর্মী আটক

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যৌথবাহিনী পরিচালিত “অপারেশন ডেভিল হান্ট” অভিযানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৯ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন:

মহিপুর থানা আওয়ামী যুবলীগের কমিটির সদস্য ও ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা মো. রফিক মিয়া

টিয়াখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. চাঁন মিয়া

লালুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন

ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওয়ার্ড সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রনি

গ্রেফতার হওয়া অন্যান্যদের নাম এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম জানান, উর্ধ্বতনদের নির্দেশে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতদের ইতিমধ্যে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 

অভিযান চলমান থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান চলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরে চার দিন ধরে ব্যবসায়ী নিখোঁজ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় সিপন মৃধা (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছেন। গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দোকান থেকে বের হওয়ার পর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সিপন মৃধার ছেলে তন্ময় মৃধা জানান, “আমার বাবা ভান্ডারিয়া বাজারে ইলেকট্রনিক্সের দোকান চালান। প্রতিদিনের মতো শনিবারও তিনি দোকানে যান। দুপুর ৩টার দিকে পাশের দোকানে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এরপর থেকে আমরা তার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না।”

তন্ময় আরও বলেন, “আমি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার জানামতে, আমার বাবার কোনো শত্রু নেই।”

মাকর্টের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জানান, “সিপন মৃধা আমাদের মাকেটে একটি দোকান চালান। তিনি শুক্রবার দুপুরে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বের হন এবং তারপর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে তেমন কোনো ঝামেলা বা পারিবারিক বিরোধ ছিল না।”

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহম্মদ আনোয়ার বলেন, “গত শনিবার বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। আমরা বাজারের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি এবং তাকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫ বছর নিষিদ্ধ ক্রিকেটার সোহেলী, খেলতে পারবেন না কোনো ম্যাচ

বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটার সোহেলী আক্তারকে দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের অভিযোগে ৫ বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এই নিষেধাজ্ঞা তার ক্যারিয়ারে এক বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

ফিক্সিং সংক্রান্ত পাঁচটি ধারা ভঙ্গ করার জন্য সোহেলী এই শাস্তি পেয়েছেন। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু)-এর কাছে সোহেলী তার অপরাধ স্বীকার করেছেন।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পরও সোহেলী খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সর্বশেষ ২০২২ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছিলেন। তবে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সোহেলী এক সতীর্থকে ফিক্সিং প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

যে ক্রিকেটারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তিনি আইসিসির দুর্নীতি দমন কমিশন (আকসু)-কে বিষয়টি জানিয়ে দেন। তার পরে তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসি আজ (মঙ্গলবার) সোহেলীকে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তার শাস্তি কার্যকর হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় বাস-মাহেন্দ্র-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৩

বরগুনার আমতলী উপজেলার সাহেব বাজার সংলগ্ন রহমত ফিলিং স্টেশনের সামনে সড়ক দুর্ঘটনায় বাস, মাহেন্দ্র এবং মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজনকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব ১৪-৮৭৮১) বেপরোয়া গতিতে আমতলী উপজেলার সাহেব বাজার এলাকার কাছাকাছি রহমত ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি মাহেন্দ্রকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কার পর মাহেন্দ্রটি সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে যায়। বাসটি একই সঙ্গে মাহেন্দ্রর পিছনে থাকা মোটরসাইকেলটিকেও ধাক্কা দেয়, যার ফলে মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, তবে সেখানেও আরও একজন নিহত হয়।

নিহতদের মধ্যে শিশু আবিদ (৭) চাওড়া ইউনিয়নের লোদা গ্রামের হিমু আকনের ছেলে, মোটরসাইকেল চালক শহিদুল (৬০) গুলিশাখালী ইউনিয়নের খেকুয়ানির ডালাচোরা গ্রামের বশীর হাজির ছেলে, এবং মোটরসাইকেল আরোহী আতাহার (৬০) আমতলীর বাইনবুনিয়ার মৃত আফতার আলীর ছেলে। এছাড়া, অপর আহত ব্যক্তি মনির শিকদার (৪০) সদর ইউনিয়নের পশ্চিম টিয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং ঘাতক বাস ইউনিক পরিবহনটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপারকে ধরতে পারেনি পুলিশ, কারণ তারা স্থানীয় জনগণের ভীরের মধ্যে পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ২৫টি ঘর

পটুয়াখালী শহরের চরপাড়ার স্বনির্ভর সড়কের পাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অন্তত ২৫টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া মানুষ বলে জানা গেছে।

আজ, মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়, এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এই উদ্ধার অভিযানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীও অংশ নেয়।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগুনের সঠিক উৎস এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করার কাজ চলছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোঃ আরেফীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসনের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুই বাঁচাতে পারেননি তারা। ক্ষতিগ্রস্ত মোতাহার হোসেন বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগতে দেখার পর এলাকা জুড়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়, আর কিছুই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।” অন্য ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামল কর্মকারও জানান, “আগুনের কারণে তার ভাইয়ের দোকানও পুড়ে গেছে, সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।” কিছু নারী এই বিভীষিকার শিকার হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মোহসিন জানান, তাদের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে এক ফায়ারম্যান আহত হয়েছেন।

এদিকে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোঃ আরেফীন বলেন, “এই ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ২০-২২টি পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত কিছু নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা ও শীতবস্ত্র পেয়েছে, এবং সরকারী সহায়তা নিয়ে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।” তিনি জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকারকে আহ্বায়ক করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা পরে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে।

মো:  আল আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চালতা কাটার কাজেই সংসার চলে ৬ মাস, হতদরিদ্র পরিবারদের জীবনের গল্প

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার হালদারপাড়ার আবদুল মমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবনের সংগ্রাম অনন্য এক উদাহরণ। বাড়ি নেই, ঘরও নেই—৫০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকেন একটি টিনের ছাপরায়। দরজাহীন এই ঘরেই স্ত্রী লাভলী বেগম ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন আবদুল মমিন (৪৪)। নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও, তাদের সংসার চলে মূলত আচারের জন্য চালতা কাটার আয়ে।

আবদুল মমিন বলেন, “চালতা কাটার টাকায় ৬ মাস সংসার চলে।” তিনি আরো জানান, ১০০টি চালতা কুচি করার পর ৮০ টাকা আয় হয়, এবং রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করলে ৪০০টি চালতা কাটতে পারে। চালতার মৌসুম শেষে, গ্যাসের চুলা সারাইয়ের কাজ করতে হয় মমিনকে। তবে তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ এখনও চালতা কাটার কাজ, যেটি মজুরির দিক দিয়ে কম হলেও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

অন্যদিকে, উপজেলার অন্যান্য হতদরিদ্র পরিবারগুলির মতো, সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ পরিবার একই কাজ করে সংসার চালায়। লাভলী বেগম ও মেয়ে মুক্তি খাতুন একত্রে দিনরাত চালতা কাটেন। শিরিষ থেকে আসা চালতার আড়তের ব্যবসায়ীরা তা কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন, আর এই সিস্টেমে মমিনের পরিবারে কাজ চলে।

চালতার এই ব্যবসা নিয়ে পাঁচ ধরনের উদ্যোগ চলে—মহাজনরা চালতা ট্রাকে নিয়ে আসেন, শ্রমিকরা কাটার জন্য পৌঁছে দেন, কারখানায় আচার তৈরি হয় এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা আচার বিক্রি করেন। একসময় চালতার আচার তৈরি হয়ে সারা দেশে চলে যায়।

এই প্রক্রিয়াটি এলাকার বিভিন্ন মানুষের জীবনধারার সাথে সংযুক্ত। যেমন, আচার বিক্রেতা আলিমুদ্দিন, যিনি একসময় তার পুঁজি না থাকলেও, চালতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, “মাসে ৫ হাজার টাকা আয় হয়, আবার কখনো তা বেশিও হতে পারে।”

প্রথম আলোতে প্রকাশিত এই সংবাদে, বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলির জীবনযাত্রা ও শ্রমের অমূল্য দিক উঠে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে পুকুর ভরাট করে হাউজিং প্রকল্প গড়ার চেষ্টা

বরিশাল নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের খ্রিষ্টানপাড়া এলাকায় গড়ে ওঠা ‘ছালাম মিয়া হাউজিং’ কর্তৃপক্ষ একটি বড় পুকুর ভরাট করার কাজ করছে। কীর্তনখোলা নদী থেকে পাইপলাইনে বালু এনে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। গত চার দিন ধরে এই কাজ চলছে, তবে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ ছিল যে পুকুরটি ভরাট হলে এলাকার পরিবেশ এবং প্রাকৃতিক জলাশয়ের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

বিষয়টি জানাজানি হলে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পুকুর ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন জলাশয় এবং পুকুর ভরাট হয়ে আসছে। একই ধরনের আতঙ্ক বর্তমানে খ্রিষ্টানপাড়ার এই পুকুর নিয়ে চলছে, যেখানে ‘ছালাম মিয়া হাউজিং’ কর্তৃপক্ষ এ কাজ করছে।

রোববার বেলা ১টার দিকে পরিদর্শনে গিয়ে বিসিসির উচ্ছেদ শাখার পরিদর্শক ইমরান রাজিব পাইপলাইনে বালু ফেলা দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পাইপ অপসারণ করে ভরাট বন্ধ করে দেন। তিনি জানান, ‘ছালাম হাউজিং’ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, এটি নাল জমি, তবে সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া সেখানে পুকুর ভরাট করা যাবে না।

পুকুরের পাশের দোকানদার কামাল হোসেন জানান, এই পুকুর স্থানীয়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাশয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়া, হাউজিং প্রকল্পের মালিক ওয়াহেদুর আনাম তানু এ ব্যাপারে জানতেন না বলে জানান। তবে হাউজিংয়ের কেয়ারটেকার জাকির হোসেন দাবি করেন, রাস্তা তৈরির জন্য পুকুরের একাংশ ভরাট করা হচ্ছে এবং সিটি করপোরেশনকে কাগজপত্র দেখানো হয়েছে।

এই ঘটনাটি পরিবেশ অধিদপ্তরেও পৌঁছেছে। সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তবে, পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার উপাচার্যের চিঠি প্রত্যাহারের আহ্বান সহ-উপাচার্যের

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) উপাচার্য ড. শুচীতা শরমিন এবং সহ-উপাচার্য ড. গোলাম রাব্বানীর মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের কারণে চিঠি চালাচালি অব্যাহত রয়েছে। সহ-উপাচার্যের ডাকা একাডেমিক বিষয়ক সভাকে বিধিবহির্ভূত দাবি করে উপাচার্য সম্প্রতি চিঠি দিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের ওই সভায় অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করেন। এখন সহ-উপাচার্য সেই চিঠির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে উপাচার্যকে তাঁর চিঠি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

সহ-উপাচার্য গোলাম রাব্বানী এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, উপাচার্য যদি তার চিঠি প্রত্যাহার না করেন, তবে পূর্বে অনুষ্ঠিত একাডেমিক সভাগুলি অবৈধ হয়ে যেতে পারে। এর আগে, ৫ ফেব্রুয়ারি সহ-উপাচার্য ৯ ফেব্রুয়ারি একাডেমিক সভা ডাকেন, কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারি উপাচার্যের নির্দেশনায় রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের বলা হয়, সহ-উপাচার্যের চিঠি নিয়মবহির্ভূত এবং সেটি আমলে না নেওয়ার জন্য উপাচার্যের নির্দেশ রয়েছে।

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য গোলাম রাব্বানী বলেন, “আইন অনুযায়ী তার দায়িত্ব একাডেমিক বিষয় দেখার। তাই ৯ ফেব্রুয়ারি একাডেমিক সভায় চেয়ারম্যানদের আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে উপাচার্যের পাল্টা চিঠির কারণে যদি তার ডাকা সভা বিধিবহির্ভূত হয়, তবে পূর্বের সকল একাডেমিক ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত চিঠিও অবৈধ হয়ে যাবে। এজন্য তিনি এই চিঠি প্রত্যাহারের জন্য রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম এবং উপাচার্য ড. শুচীতা শরমিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা ফোনে সাড়া দেননি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে আ.লীগ নেতার বাসায় ২ সন্তানের জননী

ভোলার চরফ্যাশনে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হুমাযুন কবির রাজনের বাসায় অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের জননী। ওই নারী দাবি করছেন, রাজন তাকে বিয়ে করেছেন এবং তার পরামর্শে তিনি আগের স্বামীকে তালাক দিয়েছেন। তবে রাজন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, ওই নারীর চরিত্র ভালো নয়।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫টার দিকে চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টার মহল্লায় রাজনের বাসায় অবস্থান নেন খাইরুন নেছা পুষ্প (৩০) নামের ওই নারী।

পুষ্প ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতবা ইউনিয়নের আবদুল খালেকের মেয়ে। ১০ বছর আগে চরফ্যাশন উপজেলার আবু বকরপুর ইউনিয়নের কাশেম মিঝির ছেলে মো. আমানের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তার। সেই ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

পুষ্প জানান, রাজন তার স্বামীর ফুফাতো বোনের জামাই। ২০২৩ সালে রাজনের সঙ্গে পরিচয় হলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের মাধ্যমে তারা প্রায়শই একে অপরের বাড়িতে যেতেন এবং মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কথা বলতেন। একসময় পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তারা।

পুষ্প আরও জানান, গত বছরের জানুয়ারিতে রাজন তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেন। এরপর তারা চট্টগ্রামের বাইজিদ থানার পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। কিছুদিন থাকার পর রাজন তার পরামর্শে স্বামী আমানকে তালাক দেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর জুলাই মাসে তারা ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর পুষ্প গর্ভবতী হন।

তবে রাজনীতির পটপরিবর্তন ঘটলে রাজন তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং একসময় সম্পূর্ণ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পুষ্প অভিযোগ করেন, রাজন রাজনৈতিক সমস্যা দেখিয়ে তাকে সন্তান নষ্ট করার পরামর্শ দেন এবং সে অনুযায়ী পুষ্প তার সন্তান নষ্ট করেন।

রাজন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটা আমার স্ত্রীর জন্যই ঘটছে। তার আত্মীয়তার সূত্র ধরেই এই মেয়েটির সঙ্গে আমার পরিচয়। মেয়েটির চরিত্র ভালো নয় এবং সে মিথ্যা অভিযোগ করছে।”

চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম