কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসক ডা. জেএইচ খান লেলিনের বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত কলাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এই কর্মসূচি চলে। এতে ৮৭০ জন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থী তার অপসারণের দাবিতে স্বাক্ষর করেন। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে একই দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. লেলিনকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তার নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে লেখা ছিল— “দে দে মরন কামড় দে, দেরি করিস না। অস্তিত্বে বাংলাদেশ শেখ হাসিনা।” এই পোস্টের সঙ্গে তার ছবি সংযুক্ত করে আন্দোলনকারীরা তাকে স্বৈরাচারের দোসর বলে অভিহিত করে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসকের পদোন্নতি বাতিলের দাবি তোলে।
ডা. লেলিন দীর্ঘ এক যুগ ধরে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি ক্ষমতাসীন দলের তৎকালীন নেতাদের সহায়তায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তার বিরুদ্ধে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত টেস্টের জন্য চাপ সৃষ্টি, সরকারি জমি বিক্রির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি রোগীদের তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ম্যাক্স ক্লিনিক ও কলাপাড়া ক্লিনিকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে ২০২১ সালে এক প্রসূতি নারী ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।
২০২২ সালে পাউবোর সরকারি জায়গা বিক্রি করে ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে মামলাটির অগ্রগতি হয়নি।
২০২৩ সালে স্বপন সিকদার নামে এক রোগীর মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করে আইনজীবী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাশরাফি কামাল শাফি বলেন, “আমরা তার অপসারণের দাবিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি, যা জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাবো। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন চলবে।”
অন্যদিকে, ডা. লেলিন এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। কিছু ব্যক্তি তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন কবির জানান, “আমি এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম