খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতি মামলায় রায় আজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য রয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত এ রায় ঘোষণা করবেন।

এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন। ওইদিন মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষসমর্থন শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ছিল। আসামিরা আত্মপক্ষ শুনানিতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম হাজিরা দেন।




বাউফলে তিনটি বাসে অভিযান, ১৪ মণ জাটকা জব্দ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ঢাকাগামী তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৪ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে পৌর শহরের টিএনটি অফিসের সামনে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

জব্দকৃত বাসগুলো হলো মুন পরিবহন, অন্তরা পরিবহন ও ডলফিন পরিবহন। তবে জাটকা জব্দ করা হলেও বাস কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি বা জরিমানা আরোপ করা হয়নি।

স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ:
যাত্রীরা জানান, গলাচিপা, দশমিনা ও বাউফল উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান, কিংস, অন্তরা, মুন, ডলফিন ও বাউফল এক্সপ্রেস নামের ছয়টি বাস কোম্পানি নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে। রাতের বাসগুলোতে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ মাছ পরিবহন করা হয়, যার দুর্গন্ধে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।

এর আগেও মাছ পরিবহনের দায়ে বাস কোম্পানিগুলোকে সতর্ক ও জরিমানা করা হয়েছিল, তবে তারা নিয়মিত মাছ পরিবহন অব্যাহত রেখেছে।

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য:
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গলাচিপা থেকে ছেড়ে আসা চারটি বাসে ৫-৬ ইঞ্চি আকারের জাটকা ইলিশ ঢাকায় পাচার হচ্ছে। পরে অভিযানে তিনটি বাস আটক করা হয় এবং প্রায় ১৪ ড্রাম ভর্তি জাটকা জব্দ করা হয়, যা আনুমানিক ১৪ মণ।

তিনি আরও বলেন, প্রথমবার বাসগুলো আটক হওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে একই অভিযোগ প্রমাণিত হলে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবহনগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ আ.লীগের সাবেক নেতা ও এক নারী আটক

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালিত হয়েছে। এতে আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আ: আজিজ হাওলাদার (৬৫) ও ফারজানা আক্তার (৩০) কে আটক করা হয়েছে।

আটকের স্থান ও সময়:
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের রূপাশিয়া গ্রাম থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

কেন আটক করা হয়েছে?
পুলিশ জানিয়েছে, আ: আজিজ হাওলাদার বিএনপির কার্যালয় ভাংচুর মামলার আসামি এবং ফারজানা আক্তার সিআর ১২৪/২৪ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

পুলিশের বক্তব্য:
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাকির হোসেন জানান, “অভিযান চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ফারজানা আক্তারকে মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ ছাত্রলীগ নেতা আটক

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ পরিচালিত হয়েছে। এতে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ তানভীরকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাহেরচর বাজার সংলগ্ন নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃত ব্যক্তির পরিচয়:
জুবায়ের আহমেদ তানভীর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের বক্তব্য:
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারৎ হোসেন বলেন, “অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় ছাত্রলীগ নেতা জুবায়ের আহমেদ তানভীরকে আটক করা হয়েছে।” তবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফল থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আসামি মুক্তির অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফল থানার পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আসামি মুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও বাংলাদেশি সাংবাদিক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ অভিযোগ তোলেন।

ইলিয়াস হোসেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে দাবি করেন, বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন ও জেলা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এক আসামিকে মুক্তি দিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কালাইয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রেশমার ছেলে শাকিল, যিনি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ছিলেন, তাকে গ্রেপ্তারের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ টাকার মধ্যে ওসির ভাগ ২ লাখ ও জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার ভাগ ৫ লাখ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে শাকিলের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “শাকিলকে একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শাকিলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই এবং তিনি উপজেলার শৌলা গ্রামের মৃত বাবুল হাওলাদারের ছেলে।

ওসি কামাল হোসেন অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও অমূলক’ বলে দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা আনোয়ার জাহিদের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে কৃষকলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে মো. সেকান্দার সিকদার (৬০) নামে এক কৃষকলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নাজিরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

সোমবার রাতে তাকে আটক করার পর মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে সেকান্দার সিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বোরো চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা, আশায় ভালো ফলনের

শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ফসলের মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা যেন আরও বেড়েছে। পটুয়াখালীর বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে এখন বোরো ধান চাষের মৌসুম। কৃষকরা কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ বীজতলা থেকে চারা তুলছেন, আবার কেউ রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের শিশুরাও বাবা-মায়ের সঙ্গে কাজে সাহায্য করতে ছুটে আসছে মাঠে।

উপজেলার গোয়ালিয়া বাঘা, কেশবপুর, ধানদী, নাজিরপুর, শৌলা, চরকালাইয়া, চন্দ্রদ্বীপসহ বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের এমন চিত্র। গত আমন মৌসুমে ভালো ফলন ও বাজারদর পাওয়ায় এবার বোরো চাষে আগ্রহ বেড়েছে স্থানীয় কৃষকদের।

উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষের সম্ভাবনা

উত্তরাঞ্চলের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলে ফসল মৌসুমের সময় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও পৌষ-মাঘ মাস বোরো ধানের চাষের উপযুক্ত সময়। সূর্যমনি ইউনিয়নের পাঙ্গাশিয়া গ্রামের কৃষক মো. সোহেল মিয়া জানান, এবার তিন একর জমিতে স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ উন্নত জাতের বোরো ধান আবাদ করেছেন।

এক সময় এসব জমিতে শুধু আমন ধান চাষ হতো। তবে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ফলে এখন একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে। কৃষক সোহেল জানান, তার মতোই ধানদী, নাজিরপুর, ছয়হিস্যা, চরকালাইয়া ও শৌলা এলাকার কৃষকরাও বোরো চাষে মনোযোগ দিচ্ছেন।

সেচ সুবিধা বৃদ্ধিতে কৃষকদের স্বস্তি

এক সময় এই অঞ্চলের কৃষকরা শুধু বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে বোরো চাষ করতেন। তবে ১৯৭৮-৭৯ সালে বিএডিসির মাধ্যমে খাল খনন ও সেচযন্ত্র বিতরণের ফলে কৃষি উৎপাদনে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সেচ যন্ত্রের ভর্তুকি বন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণে কৃষকরা সমস্যায় পড়েন।

বর্তমানে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার জন্য একটি বিশেষ কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাউফলে ৫০টি সেচ পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের মতে, সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো হলে এবং সার-ওষুধের দাম সহনীয় হলে বোরো চাষ আরও লাভজনক হবে।

কৃষি বিভাগের উদ্যোগ

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনছার উদ্দিন জানান, চলতি বছর বাউফলে ২০ হেক্টর স্থানীয় জাতের চৈতা বোরোসহ ৮ হাজার ৫০৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০ কৃষককে ৫ কেজি উন্নত জাতের বীজ ও ২০ কেজি রাসায়নিক সার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া, খাল-নালা ও পতিত পুকুর খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় বোরো চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

কৃষকরা আশাবাদী, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার বোরো ধানে ভালো ফলন হবে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্যও মিলবে।

 

 




পটুয়াখালীতে কাঁকড়া শিকারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে কাঁকড়া শিকারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সমুদ্র ও নদী মোহনা থেকে প্রাকৃতিকভাবে কাঁকড়া সংগ্রহের পাশাপাশি এখন চাষও করা হচ্ছে। যদিও দেশের বাজারে কাঁকড়ার চাহিদা কম, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে এটি বেশ জনপ্রিয়। ফলে কাঁকড়া শিল্পে দেখা দিয়েছে নতুন সম্ভাবনা, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে।

কাঁকড়া শিকারের চিত্র

সকাল হতেই কাঠের ট্রলার নিয়ে কাঁকড়া শিকারিরা নদী ও সমুদ্র মোহনার দিকে রওনা দেন। পটুয়াখালীর সোনার চর, চর হেয়ার ও তুফানিয়া চর সংলগ্ন এলাকায় শত শত ট্রলার কাঁকড়া শিকারে ব্যস্ত থাকে। সন্ধ্যার পর তারা ফিরে আসেন, এবং সংগ্রহ করা কাঁকড়া স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয় কিংবা সরাসরি রফতানির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বিশ্ববাজারে কাঁকড়ার চাহিদা

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রফতানি খাতে চিংড়ির পরেই কাঁকড়ার অবস্থান। বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বারো প্রজাতির কাঁকড়া রফতানি হয়। ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের পরিপক্ব কাঁকড়া রফতানিযোগ্য হলেও, কোনো কোনো কাঁকড়া দুই কেজি পর্যন্ত ওজনের হয়। কাঁকড়া রফতানির কারণে এর দামও বেশ চড়া, যা এই শিল্পকে আরও লাভজনক করে তুলছে।

কাঁকড়া শিকারিদের অভিজ্ঞতা

চর হেয়ারের কাঁকড়া শিকারি বাপন দাস বলেন, কাঁকড়া শিকারই তার একমাত্র জীবিকা। প্রতিদিন সকালে নৌকা নিয়ে নদীতে গিয়ে কাঁকড়ার চাই (ফাঁদ) ফেলেন। আধা ঘণ্টা পর চাই তুলে কাঁকড়া সংগ্রহ করেন এবং আবার চাই ফেলে দেন। এভাবে দিনে ১০-১৫ বার চাই ফেলে শিকার করেন। ভালো দিনে ৪-৫ হাজার টাকার কাঁকড়া বিক্রি করা যায়।

কাঁকড়া ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া জানান, বিদেশে রফতানি হওয়ায় কাঁকড়ার দাম এখন অনেক বেশি। মাছ শিকারের তুলনায় কাঁকড়া শিকার অধিক লাভজনক। পাশাপাশি এ খাত কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। সরকার এ শিল্পের প্রসারে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে।

সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, “পটুয়াখালীতে প্রাকৃতিক কাঁকড়া সংগ্রহকারীর সংখ্যা বেশি। বঙ্গোপসাগর ও নদী মোহনায় প্রচুর কাঁকড়া পাওয়া যায়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার কাঁকড়া বিদেশে রফতানি হয়। আমরা রফতানিযোগ্য কাঁকড়া উৎপাদন বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং শিকারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছি।”

 

কাঁকড়া শিল্পের প্রসার ঘটলে এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও চাঙা করতে পারে। পটুয়াখালীর জেলেদের জন্য এটি এক সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। সরকার যথাযথ উদ্যোগ নিলে কাঁকড়া রফতানি শিল্প আরও বিকশিত হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তিস্তা বাঁচানোর পদযাত্রায় জনস্রোত 




বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নির্দিষ্ট সরকারকেন্দ্রিক হওয়া উচিত নয়