গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজির ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিয়া মনি (২০) গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রিয়া মনি এক শিশু সন্তানের জননী। এ ঘটনা জানাজানি হলে তার স্বামী এখন স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রীতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের গাববুনিয়া গ্রামের বাবার বাড়িতে চাচা মো. নাসির মোল্লা (৪৫) ও প্রতিবেশী যতীন্দ্র শীল (৫০) ভুক্তভোগী রিয়া মনিকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় রিয়া মনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা তার হাত, পা, মুখ চেপে ধরে এবং পরিধেয় জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে। এসময় শিশু সন্তানের চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা ঘরের দরজা ভেঙে পালিয়ে যান।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্ত নাসির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন ঘরের খাটে শিশু সন্তানকে দুগ্ধ পান করার সময় ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে নাসির মোল্লা ও যতীন্দ্র শীল দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে,জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। ঘটনার পরে অভিযুক্ত নাসির মোল্লা ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসা করার কথা বলে বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সালিশ মিমাংসা না করে কালক্ষেপণ করছে।

দাদি পিয়ারা বেগম বলেন, আমরা নাসির ও যতীন্দ্র শীলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ঘটনার পর নাতনির সংসারে অশান্তির ঝড় উঠেছে। সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।

অভিযুক্ত নাসির মোল্লা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বসার কথা স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি সমাধান হয়নি। অপর অভিযুক্ত যতীন্দ্র শীলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, ঘটনার পর তিনি অন্যত্র চলে গেছেন।

ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিস হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নাসির মোল্লা প্রথমে মানলেও পরে সালিসে উপস্থিত হয়নি।

অভিযোগের পর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলতাফ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সত্যতা পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




যুদ্ধ বন্ধের শর্তে সব জিম্মিকে মুক্তির প্রস্তাব গাজা গোষ্ঠীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গাজা থেকে দখলদার ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ও যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের শর্তে সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এটি তাদের প্রস্তাব থাকবে।

তিনি বলেন, “আমরা দ্বিতীয় ধাপের জন্য প্রস্তুত যেখানে একসঙ্গে সব জিম্মি মুক্তি পাবে। যেটির মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির চুক্তি হবে এবং উপত্যকা থেকে সব সেনাকে প্রত্যাহার করা হবে।”

অপরদিকে দখলদার ইসরায়েল হামাসকে শর্ত দিয়েছে, তাদের অস্ত্র ফেলে দিয়ে সব কার্যক্রমকে গুটিয়ে ফেলতে হবে। তবে হামাস এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হাজেম কাশেম এ ব্যাপারে বলেছেন, “গাজা থেকে হামাসকে নির্মূল করতে দখলদারদের (এই) শর্ত একটি মনস্তাত্বিক যুদ্ধ। এবং প্রতিরোধ বাহিনীকে গাজা থেকে প্রত্যাহার করা অথবা তাদের অস্ত্র ফেলে দেওয়ার শর্ত অগ্রহণযোগ্য।”




কুয়েটে নিষিদ্ধই থাকছে রাজনীতি, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) নিষিদ্ধই থাকছে রাজনীতি। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৯৮তম (জরুরি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।




আ. লীগকে শুধু নিষিদ্ধ নয়, নিশ্চিহ্ন করতে হবে : আসিফ মাহমুদ




পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীতে গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ, গণহত্যার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা গণঅধিকার পরিষদ।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টায় পটুয়াখালীর নতুন বাজারে গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে একই স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সৈয়দ নিটন। প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান।

বক্তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহতদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, স্বৈরাচারী শাসকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দলের অপশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং অবিলম্বে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, থানায় জিডি

পটুয়াখালীর বাউফলে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক মিয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) করা ওই জিডিতে মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক উল্লেখ করেন, মদনপুরা ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামের জাহিদ খানের ছেলে সোহাগ খান একাধিক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।

জিডিতে আরও বলা হয়, সোহাগ খানের পরিবারে জমি ও ভবন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। তার বাবা, ভাই ও চাচা ইসমাইল খান দুই চাচা হেমায়েত খান ও শফিকুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবন দখল করতে চেয়েছিল। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ হলে ওসি উভয় পক্ষকে ডেকে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে ইউনুস খান গং সালিস মানেনি এবং ভবনের মালামাল—পানির মোটর, বৈদ্যুতিক তার, ৩৬ ব্যাগ সিমেন্ট, প্লেনশিটসহ অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শফিক খান থানায় মামলা করেন এবং পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোহাগ খান ১৭ ফেব্রুয়ারি কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেয়। পোস্টে দাবি করা হয়, উপজেলা জামায়াতের আমির তার কর্মীদের দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিয়ে গেছেন। অন্য একটি পোস্টে বলা হয়, জামায়াত আমির ইসহাক মাওলানার নির্দেশেই শফিক খানের সুবাদে তার বাবাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেপ্তার করে কোর্টে চালান দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের ছেলে, বাংলাদেশ হাইকোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, “আমার বাবার সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো সম্পর্ক নেই। তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় করতে সোহাগ খান বিদেশ থেকে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমরা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাম্বাসিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করব।”

এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং অপপ্রচারের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক আইজিপি শহীদুলের বস্তাভর্তি হাজার কোটি টাকার আলামত জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দুই বস্তা আলামত জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহীদুলের আত্মীয়র বাসা থেকে ওই আলামতগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, গতকাল মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম শহীদুল হকের এক আত্মীয়র বাসায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে দুটি বস্তায় মোট ৩৮ প্রকৃতির ৪৮টি আলামত পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে বিপুল মূল্যমানের সম্পদের দলিল, বিভিন্ন গোপনীয় চুক্তিপত্র, ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ড, এফডিআর, সংঘ স্মারক, অফার লেটার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী ইত্যাদি।

দুদক জানায়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক অসাধু উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, এ অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের এক পর্যায়ে দুদক গোয়েন্দা তথ্য পায় যে, শহীদুল হক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য সম্বলিত নথিপত্র তার একজন নিকট আত্মীয়ের কাছে দুটি বস্তায় ভরে প্রেরণ করেছেন। গোয়েন্দা তথ্যে আরো জানা যায় যে, উক্ত নথিপত্র গোপন রাখার জন্য এক আত্মীয়র কাছ থেকে অপর এক আত্মীয়ের বাসায় প্রেরণ করেছেন। এসব নথিপত্রে শহীদুল হকের বেআইনিভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।

এর আগে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ফাউন্ডেশনের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। যার প্রতিবেদন দুদকে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করা শহীদুল হক, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার রহমান এবং তাদের তিন সন্তানের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মজিদ-জরিনা ফাউন্ডেশনের একাধিক হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব হিসাবে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা জমা হয়, যার মধ্যে ৫৫০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ স্থিতি ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শহীদুল হককে গ্রেপ্তার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।




বিএনপিকে সৌদি বাদশাহর খেজুর উপহার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে বিএনপিকে ১৪৫ কার্টন খেজুর উপহার দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারর্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পাঠানো খেজুর সৌদি দূতাবাস থেকে পৌঁছে দেওয়া হয়।

সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার খেজুর গ্রহণ করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান. দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের ১৪৫ কার্টন খেজুর উপহার হিসেবে এসেছে। ঢাকাস্থ সৌদি দুতাবাসের কর্মকর্তারা গুলশান অফিসে এ খেজুর পৌঁছে দিয়ে গেছেন।

পবিত্র রমজান উপলক্ষে সৌদি আরবের বাদশাহর পক্ষ থেকে নিয়মিত বিএনপিকে শুভেচ্ছা উপহার পাঠানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও সৌদি বাদশাহ খেজুর উপহার দিয়েছেন।




যুদ্ধ বন্ধ করতে না পারায় ইউক্রেনকে দুষলেন ট্রাম্প

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইউক্রেনের পক্ষের কোনও প্রতিনিধি ছিলেন না, যেটাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের এই প্রতিক্রিয়ায় ‘হতাশা’ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় তিন বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ‘আরও আগেই শেষ করা যেত’ বলে মনে করেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় মার-এ-লাগো রিসোর্টে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রসিডেন্ট। এসময় এক সংবাদিক জানতে চান––তিন বছর ধরে যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইউক্রেনের কোনও প্রতিনিধি রিয়াদের আলোচনায় না থাকা নিয়ে আপনি কোনও বার্তা দিতে চান কিনা।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি আসলে হতাশ। তিন বছর ধরে আমি দেখছি এখানে কী ঘটছে। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আলোচনার বিষয় হওয়াই উচিত ছিল না।…তারা আলোচনায় অংশ নিতে না পারা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে, কিন্তু গত তিন বছর ধরেই তাদের জন্য এই সুযোগ খোলা ছিল। খুব সহজেই এই যুদ্ধ বন্ধ করা যেত।”

এদিকে রিয়াদের বৈঠকের পর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার জন্য তারা দল গঠন করতে রাজি হয়েছে। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, কোনও শান্তি চুক্তির আওতায় ইউক্রেনে ন্যাটোর কোনও সদস্য দেশের সেনা মোতায়েন মেনে নেবে না রাশিয়া।

অন্যদিকে সৌদি আরবে মার্কিন ও রুশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন “আরও আত্মবিশ্বাসী”। তার মতে, “বৈঠক ফলপ্রসূ ছিল। রাশিয়া কিছু করতে চায়। তারা এই ভয়ঙ্কর বর্বরতা বন্ধ করতে চায়।”

তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এই যুদ্ধ শেষ করার ক্ষমতা আমার আছে”। ইউক্রেনে ইউরোপীয় দেশগুলো সেনা পাঠাতে পারে কিনা এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “যদি তারা তা করতে চায়, তাহলে দারুণ! আমি এটিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করি।”

উল্লেখ্য, রিয়াদে অনুষ্ঠিত মঙ্গলবারের এই বৈঠক ছিল ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বৈঠক। এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ এবং রাশিয়ার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ।

রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার কর্মকর্তারা বসার আগেই ইউরোপীয় নেতারা গত সোমবার প্যারিসে খুব দ্রুত আয়োজিত এক বৈঠকে অংশ নেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠার প্রতিক্রিয়ায় কী করা উচিত, তা নিয়ে আলোচনা করা হয় সেখানে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনও একক অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। বিবিসি বাংলা




থমথমে কুয়েট, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কোনো ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি কুয়েটে। শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে কুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সামনে। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

বুধবার দুপুর ১টার মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম দেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ক্লাস-পরীক্ষা।

কুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে প্রেস ব্রিফিং করে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের শাস্তি এবং উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্র কল্যাণ পরিচালকের পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুর ১২টায় খুলনার শিববাড়ি মোড়ে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি করার কথা রয়েছে। এরপর খুলনা প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (নর্থ) মো. নাজমুল হাসান রাজীব বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় গতরাতে ৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি। ক্যাম্পাসের গেটে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে কুয়েটে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকায় দৌলতপুর থানা যুবদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি।

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার কুয়েটে ছাত্রদলের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে শিববাড়ি মোড়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।