গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজির ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিয়া মনি (২০) গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রিয়া মনি এক শিশু সন্তানের জননী। এ ঘটনা জানাজানি হলে তার স্বামী এখন স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রীতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের গাববুনিয়া গ্রামের বাবার বাড়িতে চাচা মো. নাসির মোল্লা (৪৫) ও প্রতিবেশী যতীন্দ্র শীল (৫০) ভুক্তভোগী রিয়া মনিকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় রিয়া মনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা তার হাত, পা, মুখ চেপে ধরে এবং পরিধেয় জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে। এসময় শিশু সন্তানের চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা ঘরের দরজা ভেঙে পালিয়ে যান।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্ত নাসির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন ঘরের খাটে শিশু সন্তানকে দুগ্ধ পান করার সময় ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে নাসির মোল্লা ও যতীন্দ্র শীল দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে,জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। ঘটনার পরে অভিযুক্ত নাসির মোল্লা ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসা করার কথা বলে বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সালিশ মিমাংসা না করে কালক্ষেপণ করছে।
দাদি পিয়ারা বেগম বলেন, আমরা নাসির ও যতীন্দ্র শীলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ঘটনার পর নাতনির সংসারে অশান্তির ঝড় উঠেছে। সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।
অভিযুক্ত নাসির মোল্লা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বসার কথা স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি সমাধান হয়নি। অপর অভিযুক্ত যতীন্দ্র শীলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, ঘটনার পর তিনি অন্যত্র চলে গেছেন।
ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিস হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নাসির মোল্লা প্রথমে মানলেও পরে সালিসে উপস্থিত হয়নি।
অভিযোগের পর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলতাফ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সত্যতা পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







