বোর্ড অফিস বাজারে দোকান দখল: অসুস্থ যুব ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন পথে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বোর্ড অফিস বাজার সড়কে দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে খাসজমির ভিটি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কাওসার মিরার বিরুদ্ধে। দখল করা দোকানঘরটি বর্তমানে পোল্ট্রি ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন পিতৃহারা যুব ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন হাওলাদার। সম্প্রতি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, মহিউদ্দিন এবং তাঁর বাবা খালেক হাওলাদার বহু বছর ধরে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার সড়কে রেকর্ডিও ও খাসজমির ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে বৈধভাবেই ব্যবসা করে আসছিলেন। বাবার মৃত্যু পর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনিই দোকান পরিচালনা করতেন এবং এটিই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ওই ভিটির প্রতি নজর পড়ে কাওসার মিরার। পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে লোকজন নিয়ে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে মহিউদ্দিনকে উচ্ছেদ করা হয়। রাতারাতি দোকানের ভিটিতে নতুন করে পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করা হয়। বাজার কমিটি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি মহিউদ্দিন।

অভিযোগকারী মহিউদ্দিন বর্তমানে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী; প্রতি মাসে তাঁর শরীরে রক্ত নিতে হয়। তাছাড়া একটি পায়ে গ্রিল ব্যান্ডেজ থাকায় চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। কাজ করার সক্ষমতাই যখন সীমিত, তখন একমাত্র জীবিকা হারিয়ে পরিবারসহ চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে তিনি গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুমকি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দোকানঘরের সামনে জোর করে মাটি ফেলা ও নানা বাধা সৃষ্টি করে তাঁর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “প্রায় প্রতিবন্ধী ছেলে মহিউদ্দিনের জন্য ভিটির কিছু অংশে ছোট করে দোকান করে দেওয়ার কথা কাওসার মিরাকে বলেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের অনুরোধ রাখেনি।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কাওসার মিরা মাতবর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি তাঁর নিজের জমিতেই ব্যবসা করছেন।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো: এজাজুল হক অভিযোগের প্রাপ্তি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে গ্রামীণ ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ডিবুয়াপুর শাখার গ্রামীণ ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত প্রায় বারোটার দিকে কালিকাপুর ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শাখাটির পরিত্যক্ত গেটে হঠাৎ আগুন লাগতে দেখা যায়। এতে এলাকায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে শাখার ভেতরে উপস্থিত কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাতের একটু আগে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শাখার গেটের পাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর তারা পেট্রোল ঢেলে গেটে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আগুনের আলো দেখে শাখার ভেতরে থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত নিচে নামেন এবং পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে আগুন শাখার মূল ভবন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কক্ষে ছড়িয়ে পড়েনি।

ঘটনার সময় শাখায় দায়িত্বে থাকা পিউন কাম গার্ড শেখ বাহাউদ্দিন বলেন, “রাতে চারজন কর্মকর্তা শাখায়ই ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি না থাকলে আগুন সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়তে পারত। আমি এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনেছি, ভাগ্য ভালো বড় বিপদ হয়নি।”

ডিবুয়াপুর শাখার ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, “রাতে অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ সিকিউরিটি গার্ড বাঁশি বাজিয়ে আমাকে ডাকেন। গেটের দিকে দৌড়ে গিয়ে দেখি আগুন লেগেছে। আমি বাথরুম থেকে পানি এনে আগুন নিভিয়ে ফেলি। এরপর বিষয়টি জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে ফোন করি। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বর্তমানে থানায় রয়েছি, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করছি।”

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট তাপস জানান, “অল্প কিছুক্ষণ আগেও আমরা এখানে টহলে ছিলাম। অন্য এক শাখার দিকে যাওয়ার সময় ফিরে এসে দেখি আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে পুরো ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি—ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা একটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনা নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বারবার কল রিসিভ করেননি। ফলে প্রাথমিক তদন্ত বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নাশকতার এমন ঘটনা প্রতিরোধে এলাকাজুড়ে আরও কড়াকড়ি নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহল অত্যাবশ্যক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসিনাকে হাজারবার ফাঁসি দিলেও কম হবে

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা প্রথম মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। এই রায়ে সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে প্রসিকিউশন।

তবে তাকে হাজারবার ফাঁসি দিলেও কম হয়ে যাবে, এমনটাই মনে করছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত মীর মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্নিগ্ধ বলেন, ‘শেখ হাসিনার অন্যায়-অপরাধের বিচার ৫ আগস্টেই হয়ে গেছে। এখন শুধু আদালতের আনুষ্ঠানিক রায়ের প্রকাশের অপেক্ষা। তবে যে অপরাধ করেছে, তার জন্য যদি তাকে হাজার বারও ফাঁসি দেওয়া হয়, সেটাও তার জন্য কম হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবার এবং গত ১৭ বছর ধরে নির্যাতিত মানুষের একটাই প্রত্যাশা — ‘শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর করা হোক।’

এক প্রশ্নের জবাবে স্নিগ্ধ বলেন, ‘ফাঁসির প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ ৫ আগস্টই জনগণ তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণার কথা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় দেবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।




মাদারীপুরে ঢাকা বরিশাল মহাসড়ক রাস্তা গাছ কেটে অবরোধ করে দুর্বৃত্তরা

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার গোপালপুর থেকে মেলকাই অংশে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে শনিবার ভোরে দুর্বৃত্তরা বড় বড় গাছ কেটে ফেলে সড়কে ফেলে রাখে। হঠাৎ সড়ক অবরোধ হয়ে পড়লে ওই মহাসড়কের দুইদিকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাটা গাছ অপসারণে কাজ শুরু করে কালকিনি ফায়ার সার্ভিস, কালকিনি ও ডাসার থানার পুলিশ, পাশাপাশি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরাও উদ্ধারকাজে যুক্ত হন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সড়ক পরিষ্কারের কাজ চলছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে গাছ কেটে মহাসড়ক অবরোধ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। তবে কারা এই নাশকতা ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দ্রুত স্বাভাবিক করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।




‘গণভোটে চারটির কোনো একটি প্রশ্নে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগ কই’, প্রশ্ন রিজভীর

গণভোটে অংশ নিতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষের মতামত জানানোর সুযোগ কোথায়—এই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব  তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্নের কোনো একটির সঙ্গে দ্বিমত থাকলে ‘না’ বলার সুযোগই নেই। এতে নাগরিকদের প্রকৃত মতামত জানানোর পথ রুদ্ধ হচ্ছে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, ‘গণভোটে যে চারটা প্রশ্ন রাখা হয়েছে, সেখানে অসম্মতির সুযোগ নেই। মানুষ যদি একমত না হয়, সেই মতামত কীভাবে দেবে—সেটা গণভোটে উল্লেখ নেই।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারে, সেইভাবে প্রশ্নগুলো সাজানো উচিত ছিল।

রিজভী অভিযোগ করেন, সারাদেশে মানুষ নানা দুর্ভোগে থাকলেও তা লাঘবে রাষ্ট্রের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। স্বাধীনতার পর থেকেই জনসেবামূলক কাজে রাষ্ট্রের নজর কম ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, গণভোট বা পিআর-ব্যবস্থা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই এখন জরুরি।

বিএনপির সমর্থিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সনদটি জাতির সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।

ভারত থেকে বিপুল অর্থ এনে দেশে নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। শেখ হাসিনার বিচার আদালতের বিষয়, মানুষ শুধু ন্যায়বিচারই চায়।

তিনি আরও বলেন, দেশের পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে ঘোলাটে করে তোলা হচ্ছে। ‘পতিত স্বৈরাচার’ প্রতিবেশী দেশে বসে নানা ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী। ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি পোড়ানো ও সহিংসতার ঘটনাকে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সংস্কৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই ফ্যাসিবাদের বিষদাঁত ভেঙে ফেলতে পারলে এসব ঘটনা ঘটত না।

অনুষ্ঠানে আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে রগ কেটে যুবককে হত্যা, মৃত্যুর আগে জানালেন জড়িতদের পরিচয়

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়ার পর মো. সরোয়ার হাওলাদার (৪০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। আজ শনিবার ভোররাতে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার সরোয়ার হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ গণি হাওলাদারের ছেলে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরোয়ার হাওলাদার এলাকায় মাদকের ব্যবসা করতেন। এ নিয়ে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। কেটে দেওয়া হয় তাঁর হাত ও পায়ের রগ।

ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোস্তফিজুর রহমান মুসা খান বলেন, ঘটনার সময় তিনিসহ স্থানীয় কয়েকজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী ইউনুস সিকদারের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনতে পান। দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন, সরোয়ারের হাত ও পা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে চিৎকার করছিলেন। তখন তাঁরা সরোয়ারের পরিবারকে খবর দেন এবং তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

মো. মোস্তফিজুর রহমান আরও বলেন, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক সরোয়ারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে পাঠান। এরপর আজ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ভুক্তভোগীর স্বজন মো. ইউনুস সিকদার (৫৫) বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় সরোয়ারকে সাত থেকে আটজন লোক ধাওয়া করলে সরোয়ার দৌড়ে ইউনুসের ঘরে ওঠার চেষ্টা করেন। ঘরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই হামলাকারীরা সরোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ফেলে যায়। হামলায় কয়েকজন নারীও অংশ নেন বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে সরোয়ারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এরপর কী হয়েছে, তিনি জানেন না।

এদিকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময় সরোয়ারের ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহ করেন স্থানীয় লোকজন। বক্তব্যে সরোয়ারকে বলতে শোনা যায়, স্থানীয় ফারুক, ইউনুস, সবুজ ও জাহাঙ্গীর তাঁকে কুপিয়ে আহত করেছেন। এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি।

নিহতের ভাই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ইলিয়াস হোসেন নামে এক ব্যক্তি সরোয়ারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আর ফারুক এক লাখ টাকা সুদে ধার নেন। দীর্ঘদিন হলেও এ টাকা তাঁরা পরিশোধ করেননি। এ নিয়ে সরোয়ারের সঙ্গে ইলিয়াস ও ফারুকের দ্বন্দ্ব চলছিল। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় টাকা দেওয়ার কথা বলে তাঁর ভাইকে ডেকে নেন এ দুজন। তাঁর ভাই হাকিম খানের বাড়ির সামনে গেলে তাঁকে উপর্যুপরি কোপানো শুরু করে। এরপর তাঁর ভাই দৌড়ে ইউনুস শিকদারের বাড়িতে পৌঁছান। এ সময় হামলাকারীরা এসে ইউনুস শিকদারের বাড়ির উঠানে ফেলে সরোয়ারের হাত-পায়ের রগ কেটে চলে যায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, ‘সম্ভবত মাদক নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এ কারণে সরোয়ারের ওপর হামলা হয়। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় তাঁকে বরিশাল নেওয়া হলে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ছাড়া মৃত্যুর আগে সরোয়ারের দেওয়া ভিডিও বক্তব্য অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’




‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে’

দেশে নারীদের আবারও অন্ধকারে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একটি দল ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবসা করছে। তারা চায়, নারীরা যেন অন্দরমহলে বন্দি থাকে। সে জন্য তারা বলছে, কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে হবে। নারী কর্মস্থলে কাজ করবে না ঘরে থাকবে– এটা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অসম্মান: প্রতিরোধে প্রস্তুত সচেতন নারী সমাজ’ লেখা ব্যানার নিয়ে মৌন মিছিল ও সমাবেশ হয়। এ সময় নারীরা স্লোগান দেন– ‘পাঁচ নয় আট, তুমি বলবার কে?’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম, গত ১৭ বছর নারীরা যেভাবে খুন-ধর্ষণের শিকার হতেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে। নারীরা মর্যাদা ফিরে পাবেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, দেশে আজ আবার নারীরা অন্ধকারে ফিরে যাচ্ছেন। নারীদের ঘরে ফিরিয়ে দিতে কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কাজেই অধিকার আদায়ে নারীদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মর্যাদা ফিরে পেতে নারীদের সমস্বরে আওয়াজ দিতে হবে।’

সমাবেশে নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, ‘আজ আমরা এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংকেত দিয়ে গেলাম যে নারীর অধিকার নিয়ে কোনো সংকট তৈরি করা হলে দেশের নারী সমাজ জেগে উঠবে।’ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, নারী অধিকার হলো মানুষের অধিকার। নারীর কোনো দান, দয়া বা দাক্ষিণ্যের প্রয়োজন হয় না। নারীরা ঘর সামলাবেন না বাইরে থাকবেন, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়। নারীদের সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে দিন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরীন ইসলাম খান বলেন, ‘পুরুষ আমাদের সহযোদ্ধা, শত্রু নয়। তাই নারীর পাশাপাশি যে পুরুষকে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হয়, আমি তার পক্ষে দাঁড়াই।’

মায়ের ডাকের সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন দেখেছি গণঅভ্যুত্থানে; কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসে আমাদের এমন এমন সব সামাজিক অবস্থায় পড়তে হচ্ছে, যেখানে শুনতে হয়, আমাদের কর্মঘণ্টা পাঁচ ঘণ্টায় নিয়ে আসা হবে।’
সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক, পারিবারিক বা যে কোনো ক্ষেত্রে হোক, কথা বলতে গেলে, বিভিন্নভাবে নারীদের হেনস্তা করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারীকে কথা বলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক এমপি বিলকিস ইসলাম, নিলুফা চৌধুরী, শিরিন সুলতানা, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম, সহসভাপতি রেহানা আক্তার প্রমুখ।




একদিনে হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ২০ টাকা

আমদানির অনুমতির খবরে সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। সরবরাহের এমন ধারা অব্যাহত থাকলে ও ভারত থেকে আমদানি শুরু হলে দাম আরও কমতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সরেজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে প্রতিটি দোকানেই আগের তুলনায় দেশীয় পেঁয়াজের ভালো সরববাহ লক্ষ্য করা গেছে। এতে পণ্যটির দাম কমতির দিকে। একদিন আগেও যেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল সেই পেঁয়াজ বর্তমানে কমে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল লতিফ বলেন, পেঁয়াজের দাম গত কয়েকদিন ধরেই ওঠানামা করছে। কখনও বাড়ছে তো আবার কমছে। আমরা যে পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে কিনেছিলাম সেটি হঠাৎ দাম বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকা ছাড়িয়েছিল। সরকার যেই আমদানির অনুমতির কথা বলেছে, তখন আবারও কেজিতে ১০ টাকার মতো কমেছিল। কিন্তু দাম কমার দুই দিন পরই আবারও দাম বেড়ে ১০০ টাকায় উঠে যায়। এই যে পেঁয়াজের দাম ওঠানামা করছে, এগুলো ব্যবসায়ীদের কারসাজি। বাজারে তো পেঁয়াজ আছেই, তারপরও কেন বাড়ছে। আমরা চাই পেঁয়াজের দাম যেন ৫০ টাকায় নেমে আসে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় হঠাৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। মোকামে প্রতিদিন পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা করে বাড়ছিল। কিছু দিন আগে যে পেঁয়াজ আমরা ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছিলাম সেটি বাড়তে বাড়তে ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। সম্প্রতি সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছেন। এতে কৃষকরা কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় মোকামে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম কমতির দিকে আসছিল। কিন্তু কয়েকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় আবারও দাম বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি আবারও দাম বাড়লে আমদানির অনুমতি দেওয়ার হবে হবে জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা। এতে আবারও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হবে- এরপর দাম কিছুটা কমে।




বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি মুখে এক, ভেতরে আরেক

গণভোট এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশকে বিএনপি মুখে স্বাগত জানালেও দলটি ভেতরে ভেতরে নাখোশ। জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানালেও ভেতরে ভেতরে সন্তুষ্ট। সনদ বাস্তবায়ন আদেশ তারা মেনে নিয়েছে। কোনো দলই আদেশ-গণভোট প্রত্যাখ্যান বা আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে না।

দল তিনটির সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এটি জাতির উদ্দেশে ভাষণে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আদেশ অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন এবং গণভোট হবে। এটিই ছিল বিএনপির প্রধান দাবি। এ দাবি পূরণ হওয়ায় আট সংস্কার প্রস্তাবে থাকা দলটির নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) গণভোটে না রাখার বিরোধিতা করতে পারছে না বলে বিএনপি সূত্র জানায়। দলটি আদেশ জারি এবং আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনেরও বিপক্ষে ছিল।

সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আটকে যেতে পারে আশঙ্কায় আদেশ জারি এবং পরিষদ গঠনের বিধানের বিরোধিতা না করে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত হয় বৃহস্পতিবারের বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে।
জামায়াতের প্রধান দাবি ছিল, নির্বাচনের আগে গণভোট। এটি পূরণ না হওয়ায় দলটি সমমনাদের নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানাচ্ছে। কিন্তু বিএনপির নোট ডিসেন্ট উপেক্ষা করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা খর্ব করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের মতো সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে দেওয়ায় জামায়াতের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে জামায়াত সূত্র। সমমনা আট দলের মূল্যায়ন, বিএনপির তুলনায় তাদের দাবি বেশি পূরণ হয়েছে। না ভোটের প্রচার চালালে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী হিসেবে ভোটের মাঠে তুলে ধরে নির্বাচনে সুবিধা আদায় করা যাবে। আবার বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হলেও গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে না।

এনসিপি আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আদেশ জারির বিরুদ্ধে ছিল। তাদের দাবি ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের ক্ষমতা বলে আদেশ জারি করতে হবে। এ দাবি পূরণ না হওয়ায় দলটি প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখালেও, আদেশে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিধান থাকায় এনসিপিও সন্তুষ্ট। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ, সনদে বর্ণিত উপায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাব গণভোটে যাওয়ায় এ দলটি ভেতরে ভেতরে উচ্ছ্বসিত বলে সূত্র জানিয়েছে।

মেনে নিয়ে ধন্যবাদ দিতে হয়েছে বিএনপিকে
প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি সনদ বাস্তবায়ন আদেশের সমালোচনা করেছিল। সরকারপ্রধান নিজের স্বাক্ষরিত সনদ থেকে সরে গেছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানানো হয় লিখিত বক্তব্যে। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এই বক্তব্য পাঠ করে উঠে যান বিএনপি নেতারা। কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি তারা। এই বক্তব্যে ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত সনদে থাকা নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী গণভোট আয়োজনে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বিএনপি।
সংবিধান সংস্কার করতে হবে এমন ৪৮ সংস্কার প্রস্তাব যাচ্ছে গণভোটে। এর মধ্যে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন পদ্ধতি; সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি), ন্যায়পাল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং দুদকে সাংবিধানিক কমিটির মাধ্যমে নিয়োগসহ ১৫ সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। দলটির দাবিতে তা সনদে যুক্ত করা হয়। বিএনপি অবস্থান ছিল, যে দল যে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে সেভাবে সংস্কার করতে পারবে।

কিন্তু সনদ বাস্তবায়নে তা পুরো রাখা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান পদে থাকতে পারবেন না– এই সংস্কার প্রস্তাবেও বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। গণভোটের ব্যালটে থাকবে, এটিসহ মোট ১০টি সংস্কার প্রস্তাব দলগুলো প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে পারবে। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগসংক্রান্ত আট সংস্কার প্রস্তাব সনদ অনুযায়ী বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

বিএনপি এর ঘোর বিরোধী। তারপরও কেনো বিএনপি প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ দিয়ে আদেশ ও গণভোট মেনে নিয়েছে– এ প্রশ্নে দলটির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, এসব নিয়ে নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ থাকলেও নির্বাচনের স্বার্থে মানতে হয়েছে।
বিএনপি গণভোটেরও বিপক্ষে ছিল শুরু থেকেই। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংলাপে মধ্য সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দলটির অবস্থান ছিল, আগামী সংসদ প্রতিশ্রুত সংস্কার করবে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে বিএনপিকে প্রতিনিধিত্ব করা নেতারা দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো গণভোট মেনে নেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এ কারণেই পরের বিষয়গুলোও মানতে হয়েছে। এসব জামায়াতের অনুকূলে গেছে।

বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়া একজন সদস্য বলেছেন, আদেশ ও গণভোট প্রত্যাখ্যান করলে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী আখ্যা দিয়ে জামায়াত ভোটের মাঠে ফায়দা তুলত কিংবা এই ইস্যুকে ব্যবহার করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করত। বিএনপি মনে করছে– কোনোভাবেই নির্বাচন ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না। তাতে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, গণতন্ত্র ব্যাহত করবে। এই সুযোগ না দিতেই বিএনপি আদেশ এবং গণভোটে রাজি হয়েছে বলে দাবি এই নেতার।

বিএনপির স্থায়ী কমিটি সূত্র জানায়, নির্বাচনের পথ বাধাহীন রাখতে আদেশকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান ধরে রাখতে স্বাক্ষরিত সনদের ওপর গণভোটের আহ্বান জানিয়েছে।
গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট থাকা আট এবং ঐকমত্য হওয়া ৩০ সংস্কার প্রস্তাব আগামী সংসদ বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে বলে বিধান রয়েছে আদেশে। গতকাল শুক্রবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আরোপিত আইন বা আদেশ দিয়ে সংসদের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। নির্বাচন ও গণভোট একদিনে আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু গণভোটের মাধ্যমে আইন প্রণয়ন করা হয়ে যাবে না, সংবিধান সংশোধন হয়ে যাবে না।

জামায়াত ওপরে নাখোশ ভেতরে খুশি
জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দল গতকালও দাবি জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে দলটি সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ করেছে, বিএনপিকে খুশি করতে সরকার ১০টি সংস্কার প্রস্তাব গণভোটের পরও নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী বাস্তবায়নের সুযোগ রেখেছে।

গতকাল জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার এবং নির্বাচন চেয়েছিল জাতি। কিন্তু একটি দলের স্বার্থে সরকার আঁতাত করে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ করা আদেশে পরিবর্তন এনেছে। তার পরও জামায়াতসহ আট দল আদেশকে গ্রহণ করছে।

নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি পূরণ না হলেও আদেশ প্রত্যাখ্যান করছেন না জানিয়ে ডা. তাহের বলেছেন, জাতির আগামী ফেব্রুয়ারিতে সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রয়োজন। নির্বাচনের পরিবেশের স্বার্থে জামায়াত আদেশকে গ্রহণ করছে। আদেশ জারির মাধ্যমে সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হয়েছে। ফলে অসন্তোষ থাকলেও জামায়াত তা মেনে নিচ্ছে।

জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, গণভোট যখনই হোক পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, সনদ অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিশ্চয়তা আদেশে থাকায় তারা সন্তুষ্ট। বিএনপির বিরোধিতার পরও সরকার আদেশ জারি করেছে, তা স্বস্তির। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট না রাখা এবং সাংবিধানিক আদেশ জারি জামায়াতের জন্য বড় বিজয়।

ক্ষোভ দেখালেও এনসিপি সন্তুষ্ট
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে আদেশ জারিতে রাগ দেখালেও, সনদের আইনি ভিত্তিতে এনসিপিও খুশি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে দলটির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার আদেশে বিএনপি এবং জামায়াতকে ভাগ দিয়েছে। জনগণকে কিছু দেয়নি। আর রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে সই করিয়ে আদেশকে অপবিত্র করেছে।

তবে সংলাপে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব করা দুই নেতা বলেছেন, আদেশ অনুযায়ী আগামী সংসদের এমপিদের নিয়ে কন্সটিটুয়েন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এটি এনসিপির প্রধান দাবি ছিল। এই দাবি পূরণের মাধ্যমে এনসিপির বিজয় হয়েছে। উচ্চকক্ষে পিআর, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সংস্কার প্রস্তাবে থাকা বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করে এগুলো গণভোটে দেওয়াও এনসিপির জন্য জয়। তবে রাজনৈতিক কারণে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের বিরোধিতা করছে।




প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন যে পদ্ধতিতে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এই লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধন অ্যাপ চালু করা হচ্ছে। সেখানে নিবন্ধন চূড়ান্ত করলেই ব্যালট পেপার চলে যাবে ভোটারদের কাছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে ব্যালট পৌঁছানোর পর, ভোট প্রদান শেষে সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে সর্বনিম্ন ১৫ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন বা ইসি।

এ কারণে বিদেশে যে ব্যালট পাঠানো হবে সেখানে থাকবে নিবন্ধিত সবগুলো রাজনৈতিক দল ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইসির নির্ধারিত প্রতীক।

একই সাথে ‘না’ ভোট যুক্ত থাকবে ওই ব্যালটে। যদি কোনো আসনে একজন মাত্র প্রার্থী থাকেন, শুধুমাত্র সেই সব আসনের ভোটাররাই এই না ভোট দিতে পারবেন।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, শুধু ইসির অ্যাপে নিবন্ধিত প্রবাসী ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে। প্রার্থীর প্রতীক চূড়ান্ত হওয়ার পরই অ্যাপ থেকে ভোটার তার আসনের প্রার্থী দেখে ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত পাঠাবেন বাংলাদেশে।

প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু ভোট প্রদান শেষে সেগুলো রিটার্নিং অফিসে পাঠানো পর্যন্ত পুরো দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের হাতে। নির্বাচন কমিশন বলছে, এক্ষেত্রে ভোটার প্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৭০০ টাকা করে। খবর বিবিসি বাংলা।

বিদেশে বসে ভোট দিতে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রত্যেক ভোটারেরই লাগবে একটি করে আন্তর্জাতিক সিমকার্ড।

একই সাথে অ্যাপে জিও লোকেশন চালু থাকার কারণে বাংলাদেশে বসে কোনোভাবেই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসির প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান। আগামী মঙ্গলবার এই অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

প্রবাসী ভোটার বাদেও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী ও দেশের ৭১টি কারাগারে বন্দি ও কয়েদিরা। তাদের জন্যও আলাদা নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করবে ইসি।

প্রবাসী ভোটারদের অ্যাপে নিবন্ধন থেকে শুরু করে পুরো ভোটদান প্রক্রিয়া এবং করণীয় কী তা তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের সুযোগ নিয়ে এর আগে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও এবারই প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা।এক্ষেত্রে, বিদেশে বসে ভোট দেওয়ার জন্য প্রথমেই নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য প্রবাসীকে গুগল প্লে স্টোর অথবা আইফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবন্ধন করতে হবে।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসী ভোটে ইসির সামনে দুটি অপশন ছিল ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ। মোবাইল অ্যাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে কারণে নির্বাচন কমিশন অ্যাপের মাধ্যমেই নিবন্ধন চালু করছে।

তিনি জানান, প্রবাসী ভোটাররা যার যার আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আগামী ১৮ই নভেম্বর থেকে চালু হওয়া ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ভোটার নিবন্ধন করবেন।

এই অ্যাপটির বিশেষত্ব হচ্ছে অ্যাপটির জিও লোকেশন এনাবেল বা চালু থাকবে। যে কারণে বাংলাদেশ থেকে কোনোভাবেই এই অ্যাপটি চালু করা যাবে না।

আন্তর্জাতিক মোবাইল নম্বর প্রবেশ করানোর পর ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড বা ওটিপি আসবে। ওটিপি দিয়ে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডির ছবি তুলে আপলোড করতে হবে। পরবর্তীতে দিতে হবে ভোটারের ছবি।

সালীম আহমাদ খান জানান, রেজিস্ট্রেশনের সময় এনআইডির সাথে ওই ভোটারের ফেসিয়াল রিকগনিশনও যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ এনআইডি সার্ভারে ওই ভোটারের যে ছবি আছে ফেস রিকগনিশনের সময় চেহারার সাথে মিনিমাম ৭০ শতাংশ মিল থাকতে হবে।

ক্যামেরার সামনে নে বায়ে মুখ ঘুরিয়ে ভেরিফিকেশনে পর চেহারার সাথে মিললে ‘আপনি এখন নিবন্ধিত’ লেখা প্রদর্শিত হবে অ্যাপে। এরপর পাসপোর্ট থাকলে সেটিরও ছবি দিতে হবে।

তিনি জানান—নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্টের তথ্য চাওয়া হলেও, প্রবাসী বাংলাদেশি সবার কাছে পাসপোর্ট না থাকার কারণেই সেটি সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে না।

নির্বাচন কমিশন বলছে, যেহেতু নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হবে সে কারণে বিদেশে যে ঠিকানায় তিনি থাকেন তিনি সেই ঠিকানাও সরবারহ করতে হবে অ্যাপে।

আগামী ১৮ই নভেম্বর অ্যাপটি চালু হওয়ার পর নিবন্ধনের জন্য ভোটাররা প্রায় এক মাসের মতো সময় পাবেন বলেও ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রার্থী চূড়ান্তের আগেই যাবে ব্যালট?

প্রবাসের ঠিকানাসহ যখন একজন ভোটারের নিবন্ধন সম্পন্ন হবে, তিনি বাংলাদেশের যে আসনের ভোটার সেই আসন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ভোটারের তথ্য চলে যাবে। সে অনুযায়ী হবে পৃথক ভোটার তালিকা।

ইসির ধারণা, প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন শেষ হওয়ার চলমান থাকা অবস্থায়ই ঘোষণা হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল। তখন প্রবাসী ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে ব্যালট পেপারের জন্য।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘নিবন্ধনের সময় প্রবাসী ভোটার যে ঠিকানা দিয়েছিলেন সেই ঠিকানায় মার্কা ও প্রতীকসহ ব্যালটসহ একটি প্যাকেট পাঠানো হবে।’

তিনি জানান, ভিন্ন ভিন্ন আসনের ভোটার থাকলেও সব ভোটারের কাছে যাবে একই ব্যালট পেপার। যেখানে সবগুলো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১১৯টি প্রতীক থাকবে ব্যালটে।

প্রবাসী ভোটারের হাতে ব্যালট পেপার পৌঁছালেও প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না কেউ।

রিটার্নিং কর্মকর্তার পাঠানো খাম পেলে ভোটার অ্যাপে প্রবেশ করবেন। এরপর নির্দেশিকা দেখে মোবাইল নম্বর নিশ্চিত করবেন। পরবর্তীতে খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই ভোটার তার আসনের সব প্রার্থীর নাম দেখতে পাবেন।

নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, ‘মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের পর যখন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে তারপরই অ্যাপ থেকে স্ব স্ব আসনের প্রার্থী তালিকা জানতে পারবেন প্রবাসী ভোটাররা।’

ওই আসনে কোনো রাজনৈতিক দল বা তার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক ভোটার নিজেই দেখতে পারবেন অ্যাপে। সেখান থেকে প্রবাসী ভোটার ১১৯টি প্রতীকের মধ্যে তার পছন্দের প্রতীকের ব্যালটের পাশে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিবেন।

প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ‘পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার পর ব্যালট রিটার্ন খামে ভরে তারপর কাছাকাছি পোস্ট অফিসে পাঠাবেন। আগে থেকেই ডাক মাসুল পে করা থাকবে। সে কারণে এটা চলে আসবে দেশে স্ব স্ব ঠিকানায়।’

নেওয়াজ বলছিলেন, যদি কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার পর দেখলেন তিনি যে প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন সেই সেই প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তখন ওই আসনের প্রবাসী ভোটও বাতিল হবে।

একই সাথে যদি ওই আসনে বাদ পড়া কোনো প্রার্থী যদি উচ্চ আদালতে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান, সেক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট আসনের প্রবাসী ভোট বাতিল বলে গণ্য হবে বলে জানান নেওয়াজ।

সময়মতো না পৌঁছালে ‘ভোট বাতিল’

ব্যালট পেপার যে খামে পাঠানো হবে তার সাথে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালট পেপারে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ওই ঘোষণাপত্রেও স্বাক্ষর করতে হবে ভোটারকে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘যে খামে ব্যালট পেপার থাকবে সে খামের বাইরে আলাদা একটি খামে থাকবে ঘোষণাপত্র। ভোটার যে নিজে ভোট দিয়েছেন সেটি উনি ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করবেন এবং সেটিতে সাক্ষর করবেন।’

যদি কোনো ভোটার শুধু ভোট দিয়ে ঘোষণাপত্রে সাক্ষর ছাড়াই ব্যালট পেপার বাংলাদেশে পাঠান সেক্ষেত্রে ওই ভোটটি বাতিল ভোট হিসেবেই গণ্য করবে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশন বলছে, পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের ভোট আয়োজনে ভোটার প্রতি ইসির খরচ পড়বে ৭০০ টাকা।

এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সাথে চুক্তিও করেছে নির্বাচন কমিশন।

ডাক বিভাগের সাথে বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন ধারণা করছে, ব্যালট পাঠানো থেকে শুরু করে ফেরত আসা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় লাগবে। সেই হিসাব করেই ব্যালট পাঠানো হবে ভোটারদের কাছে।

টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, ডাক বিভাগের সাথে নির্বাচন কমিশনের চুক্তি অনুযায়ী ব্যালট ট্র্যাকিং সিস্টেম যুক্ত থাকবে। কোন ব্যালট কোথায় আছে সেটি যেমন ভোটারও জানতে পারবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসও সেই তথ্য জানতে পারবে।

জাতীয় নির্বাচনের দিন বিকাল চারটার মধ্যে যে সব ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে সেটিকে বৈধ ভোট ধরা হবে।

সালীম আহমাদ খান বলেন, নির্বাচনের তারিখ ভোটগ্রহণের সময় যদি শেষ হয় বিকাল চারটা, ওই সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারলেই ওটা বৈধ। এর পরে যদি সেটা এসে পৌঁছায় সেটিকে বাতিল ভোট হিসেবেই ধরা হবে।

এক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ব্যালট এসে পৌঁছানো, কিংবা আগাম ব্যালট পাঠানোর পর নতুন কোনো প্রার্থী তালিকায় যুক্ত হওয়া কিংবা তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।