তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল

বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সব্বোর্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর ৬ বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দিয়েছেন।

এর আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

টানা ১০ দিন শুনানি শেষে দেশের সর্ব্বোচ আদালত ঐতিহাসিক এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া, বিএনপির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহামদ শিশির মনির। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

গত ২১ অক্টোবর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শুরু হয়। এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট ব্যক্তি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী জাতীয় সংসদে গৃহীত হয় ১৯৯৬ সালে। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগ এ রিট খারিজ করেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এই সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সলিমউল্লাহসহ অন্যরা ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট রায় দেন।

এ রায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে আপিল করে রিট আবেদনকারীপক্ষ। এই আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

ঘোষিত রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে আনা পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই এ–সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এ রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। অন্য চারজন হলেন- তোফায়েল আহমেদ, এম হাফিজউদ্দিন খান, জোবাইরুল হক ভূঁইয়া ও জাহরা রহমান।

আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে ১৬ অক্টোবর একটি আবেদন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

পরে নওগাঁর রানীনগরের নারায়ণপাড়ার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে গত বছর একটি আবেদন করেন।




১.২১ কোটি টাকায় ‘আমেরিকা’ নামক সোনার কমোড বিক্রি

নিউ ইয়র্কে সথেবিজ় নিলামে এক অদ্ভুত শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে। ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি ১০১ কেজি ওজনের সম্পূর্ণ কার্যকরী একটি টয়লেট বিক্রি হয়েছে ১.২১ কোটি টাকা (১২.১ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে। ইতালির প্রখ্যাত শিল্পী মৌরিজিও ক্যাটেলানের এই শিল্পকর্মটির শিরোনাম ‘আমেরিকা’, যা অতিধনীদের জীবনযাপনকে ব্যঙ্গ করে তৈরি।

২০১৬ সালে তৈরি এ সোনার টয়লেটটির নিলাম শুরু হয় ১০ মিলিয়ন ডলার থেকে। ক্যাটেলান তার কাজ প্রসঙ্গে বলেছেন, ধনী বা গরিব—যা-ই খান না কেন, টয়লেট ব্যবহারের ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একই। সথেবিজ় এই শিল্পকর্মকে বর্ণনা করেছে ‘শিল্প উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের মূল্যের সংঘর্ষের তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ’ হিসেবে।

নিলামের একই রাতে আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে ননিউ ইয়র্কে সথেবিজ় নিলামে এক অদ্ভুত শিল্পকর্ম বিক্রি হয়েছে। ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি ১০১ কেজি ওজনের সম্পূর্ণ কার্যকরী একটি টয়লেট বিক্রি হয়েছে ১.২১ কোটি টাকা (১২.১ মিলিয়ন ডলার) মূল্যে। ইতালির প্রখ্যাত শিল্পী মৌরিজিও ক্যাটেলানের এই শিল্পকর্মটির শিরোনাম ‘আমেরিকা’, যা অতিধনীদের জীবনযাপনকে ব্যঙ্গ করে তৈরি।

২০১৬ সালে তৈরি এ সোনার টয়লেটটির নিলাম শুরু হয় ১০ মিলিয়ন ডলার থেকে। ক্যাটেলান তার কাজ প্রসঙ্গে বলেছেন, ধনী বা গরিব—যা-ই খান না কেন, টয়লেট ব্যবহারের ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একই। সথেবিজ় এই শিল্পকর্মকে বর্ণনা করেছে ‘শিল্প উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের মূল্যের সংঘর্ষের তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ’ হিসেবে।

নিলামের একই রাতে আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে নতুন রেকর্ডও সৃষ্টি হয়। গুস্তাভ ক্লিম্টের আঁকা ‘পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডারার’ বিক্রি হয়েছে ২৩৬ মিলিয়ন ডলারে—যা সথেবিজ়ের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে দামি শিল্পকর্ম। ক্লিম্টের অল্প কিছু চিত্রকর্মই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পায়; তার মধ্যে এই প্রতিকৃতিটি একটি। এটি তার এক পৃষ্ঠপোষকের কন্যাকে চিত্রিত করে।

চিত্রকর্মটি ছিল প্রসাধনী ব্র্যান্ড এস্টি লওডারের উত্তরাধিকারী বিলিয়নিয়ার লিওনার্ড এ. লওডারের সংগ্রহে; তিনি চলতি বছরেই মারা যান।তুন রেকর্ডও সৃষ্টি হয়। গুস্তাভ ক্লিম্টের আঁকা ‘পোর্ট্রেট অব এলিজাবেথ লেডারার’ বিক্রি হয়েছে ২৩৬ মিলিয়ন ডলারে—যা সথেবিজ়ের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে দামি শিল্পকর্ম। ক্লিম্টের অল্প কিছু চিত্রকর্মই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে অক্ষত অবস্থায় রক্ষা পায়; তার মধ্যে এই প্রতিকৃতিটি একটি। এটি তার এক পৃষ্ঠপোষকের কন্যাকে চিত্রিত করে।

চিত্রকর্মটি ছিল প্রসাধনী ব্র্যান্ড এস্টি লওডারের উত্তরাধিকারী বিলিয়নিয়ার লিওনার্ড এ. লওডারের সংগ্রহে; তিনি চলতি বছরেই মারা যান।




‘দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ সিওপিডিতে ভুগছেন’

ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি হলো শ্বাসতন্ত্রের জটিল একটি রোগ। এটি একটি গুচ্ছ রোগ যা ক্রনিক ব্রংকাইটিস, এমফাইসিমা ও ক্রনিক অ্যাজমার যেকোনো একটি, দুটি বা তিনটির সহাবস্থান। রোগটিকে একসঙ্গে বলে সিওপিডি।

সিওপিডিকে অনেকে অ্যাজমা বলে ভুল করে থাকেন। আসলে সিওপিডি আর অ্যাজমা এক নয়। অসংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে সিওপিডি অন্যতম। হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের পর পৃথিবীব্যাপী এটি মৃত্যুর তৃতীয় কারণ। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রায় ১২.৫ ভাগ লোক সিওপিডিতে ভুগছেন যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ কোটি। শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় সিওপিডির প্রাদুর্ভাব বেশি।

তবে ধুমপান পরিহার, দুষণমুক্ত পরিবেশে বসবাস, মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ফুসফুসের পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ, ব্যালেন্স ডায়েট গ্রহণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি সনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধসহ রোগীর জীবনমান উন্নত করা যায়।

বিশ্ব সিওপিডি দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের আয়োজনে শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারের বৈজ্ঞানিক সেশনে Role of NIV in COPD— বিষয়ের ওপর বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জিয়াউল হক এবং Surgical Management of COPD বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন থোরাসিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শাহিনুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফয়সাল ও ডা. তিসা। সমন্বয় করেন ডা. মাহফুজ আহমেদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, সিওপিডি প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত চেক-আপ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও ধুমপান ত্যাগ, বাসস্থানের ধোঁয়া কমানো, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং নিয়মিত ফুসফুসের কার্যক্রম পরীক্ষা করা অপরিহার্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এভারকেয়ার হসপিটালের সিইও ও এমডি ডা. রত্নদ্বীপ চাস্কার। বিশ্ব সিওপিডি দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন গ্রুপ ডিরেক্টর, মেডিকেল সার্ভিসেস ডা. আরিফ মাহমুদ।

দিবসের প্রেক্ষাপট নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এভারকেয়ার হসপিটাল ঢাকার রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চিফ কো-অর্ডিনেটর ডা. এস. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, সিওপিডি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, যা উপেক্ষা করলে জীবনমান দ্রুত কমে যায়। অথচ অনেক রোগীই জানেন না যে তারা সিওপিডিতে ভুগছেন।




এক টানে মিলল ২০০ মণ ইলিশ

বঙ্গোপসাগরে এক টানে ২০০ মণ ইলিশ নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এসেছে একটি ট্রলার। এসব মাছ সোমবার (১৭ নভেম্বর) কুয়াকাটা থেকে ৭০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর ) সকালে বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে সাইফ ফিশ নামের আড়তে এসব মাছ বিক্রির উদ্দেশ্যে উঠানো হয়। ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে ২০০ মন ইলিশ বিক্রি হয় ৫২ লাখ টাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এফবি রাইসা নামের মাছ ধরার ট্রলারটি গত ১৪ নভেম্বর পাথরঘাটা থেকে ১৭ জন জেলে নিয়ে সমুদ্রে ফিশিং করতে যায়। ১৭ নভেম্বর বিকালে গভীর সমুদ্রে মাছগুলো ধরা পড়েছে। ৩-৪শ গ্রামের মাছগুলো ২৬ হাজার টাকা মন হিসেবে মোট ৫২ লাখ টাকায় বিক্রি হয়।

ট্রলারের মাঝি মাসুদ বলেন, ১৪ নভেম্বর আমরা মাছ ধরার জন্য সাগরে যাই। তিন-চার দিনে মাত্র ৪০০ টি মাছ পাই। ১৭ নভেম্বর বিকালে জাল ফেলে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর জাল টান দিতে গিয়ে দেখি ইলিশ আর ইলিশ। ওই এক টানেই আনুমানিক প্রায় ১৮ হাজার ইলিশ ধরা পড়েছে। দীর্ঘদিন মাছ না পেয়ে অনেক কষ্টে জীবন যাপন চলছিল আমাদের। হঠাৎ এত বেশি মাছ পাওয়ায় আমরা অনেক খুশি।

ট্রলারের মালিক রুবেল বলেন, অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এই মাছ বিক্রি করে আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব।

আড়ৎদার মোস্তফা আলম বলেন, আমার আড়তে এই মাছ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পূর্বে অন্য একটি ট্রলারের প্রায় ১৫০ মন মাছ বিক্রি করি। জেলেরা মাছ পাচ্ছে শুনে খুব খুশি লাগছে।




উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডিসিদের রদবদল করা হচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেছেন, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের রদবদলে কোনো একটা ডিজাইন বা উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এক মাসও হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, একজন ডিসি চলে গেলেন—হঠাৎ করেই। আবার এক সপ্তাহের মধ্যে অনেককে রদবদল করা হয়েছে।এটার পেছনে মনে হয় যেন কোনো একটা ডিজাইন…একটা উদ্দেশ্যে এই কাজটা কোনো জায়গা থেকে হচ্ছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পর প্রশাসনিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে আসবে। এ পরিস্থিতিতে আস্থা নিশ্চিত করতে ডিসি–এসপি বদলিতে লটারিভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত।কিন্তু প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় পরিষ্কার কোনো সমাধান পাইনি।

তিনি বলেন, সবচেয়ে নিরপেক্ষ এবং আস্থা রাখার মতো একটা উপায় হলো যে লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার করে দেওয়া। যার যেখানে তকদির আছে সে চলে যাবে। এটাতে কোনো কোশ্চেন থাকে না।

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের প্রসঙ্গে এই জামায়াত নেতা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়টিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। একই দিনে দুই ধরনের ভোটগ্রহণ হলে ভোটাররা সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধায় পড়বেন। আমরা বলেছিলাম যে, গণভোটটা আগে হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে কি কি সংস্কার হতে যাচ্ছে, কোনটায় ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলবে, ‘না’ বলবে—সে যদি আগে থেকে তার মাইন্ডসেট করতে না পারে, বুঝতে না পারে—বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোর কি কি পরিবর্তন হলো, কোনটা আমি ‘হ্যাঁ’ বলব—সে যদি বুঝতে না পারে তাহলে সে ‘হ্যাঁ’ কি বলবে, ‘না’ কি বলবে? তো একই দিনে দুইটা ভোট হলে সে তো বুঝতে পারবে না।




প্রতি ভোটকেন্দ্রে পাঁচজন সেনাসদস্য চায় জামায়াত

প্রতি কেন্দ্রে একজন সেনা সদস্য মোতায়েন করলে তেমন প্রভাব পড়বে না। তাই প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে অন্তত পাঁচজন সেনা সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার সকালে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে এ কথা বলেন তিনি।

প্রশাসনে রদবদল লটারির মাধ্যমে করার অনুরোধ জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘কিছু যৌক্তিক কারণে আমরা বলেছিলাম গণভোটটা আগে হোক। কারণ একই দিনে দুইটি ভোট হলে জনগণ বুঝতে পারবে না। জনগণকে তো বুঝতে হবে গণভোটটা কি।’




পিরোজপুরে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক জনকণ্ঠের জেলা সংবাদদাতা নাছরুল্লাহ আল-কাফী ও নাগরিক প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আরিফ বিল্লাহর ওপর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে আহত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে শহরের টাউন ক্লাব সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ওই দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে পিরোজপুর জেলায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, সময় টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিয়াউল হক, দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন জুয়েল, দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি নাছির উদ্দিন, গাজী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি নাইম তালুকদার, দৈনিক আমার বার্তা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মনির চৌধুরী, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ এর জেলা সেক্রেটারি মানজুর আজিজ প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পরিকল্পিতভাবে একটি মহল তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে তাদের মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইস ছিনিয়ে নেয়। আহত সাংবাদিকরা পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন পিরোজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে রোববার উপজেলার চন্ডিপুর এলাকায় সুপারি কেনাবেচা ও পরিবহন নিয়ে খবর সংগ্রহ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। বিকেলে চন্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির একটি সমাবেশ চলছিল। এসময় সাংবাদিকরা সুপারি ট্রাকে তোলা এবং বাজারসংক্রান্ত ভিডিও ধারণ করছিলেন। সমাবেশে উপস্থিতি কম থাকায় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী মনে করে সাংবাদিকরা তাদের ফাঁকা চেয়ারের ছবি তুলছে এমন সন্দেহে তারা অতর্কিতভাবে ওই দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা স্ট্যান্ড, পেনড্রাইভ, প্রেসকার্ড, মানিব্যাগ ও তাদের সাথে থাকা কিছু টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা আহত সাংবাদিকদের উদ্ধার করে ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে দু’জনকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে আহত আরিফ বিল্লাহ এর ভাই শরিফ বিল্লাহ বাদী হয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাসহ ৮ জনের নামে মামলা দায়ের করে। বর্তমানে গুরুতর আহত হওয়ায় ওই দুই সাংবাদিক জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, চন্ডিপুর (খোলপটুয়া) গ্রামের হাবিবুর রহমান শেখের ছেলে যুবদল নেতা অহিদুল ইসলাম শেখ (৩৫), দক্ষিণ চন্ডিপুর গ্রামের হারুন মৃধার ছেলে ছাত্রদল নেতা ফাইজুল ইসলাম তাওহিদ মৃধা (২১), পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুল আউয়াল বেপারী এর ছেলে তানভীর আহমেদ রাকিব (২২), উত্তর কলারন গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান হাওলাদারের ছেলে মো: জুয়েল হাওলাদার (৪০), পশ্চিম কলারন গ্রামের আলি আকবার তালুকদারের ছেলে বিএনপি কর্মী শাহাদাৎ হোসেন হিরু তালুকদার (৪৮), পশ্চিম চরবলেশ্বর গ্রামের মেনহাজ এর ছেলে যুবদল নেতা ফারুক হোসেন (২৮) ও আল আমিন শেখ (৪২)সহ আরও ২০/২৫ জন।

ইন্দুরকানী থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তফা জাফর বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




বরগুনায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ!

বরগুনার আমতলী উপজেলার উত্তর সোনাখালী এলাকার তাফালবাড়িয়া নদী সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনরোধে জিও ব্যাগ তৈরির কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তদন্ত করে বাঁধ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসি অভিযোগ করেন, প্রাক্কলন অনুযায়ী বালু ও সিমেন্টের সঠিক অনুপাত বজায় না রেখে নিম্নমানের জিও ব্যাগ তৈরি করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত ৩০বছর ধরে তাফালবাড়িয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত উত্তর সোনাখালী এলাকার মানুষের জীবনযাপন। প্রতি বছর বন্যা ও জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভেঙে প্রায় ১০হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।

২০২২ সালে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও ঠিকাদারি কাজের অনিয়মের কারণে দুই বছরের মধ্যেই ব্যাগ সরে গিয়ে আবারও ভাঙন দেখা দেয়। চলতি বছরের জুনে জরুরি ভিত্তিতে ১২০ মিটার এলাকায় পুনরায় জিও ব্যাগ স্থাপনের কাজ দেওয়া হয় ঠিকাদার পটুয়াখালী জেলা কৃষকদল আহবায়ক ও মরিচবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান টিটুকে। কিন্তু শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে।

স্থানীয়রা জানান, প্রাক্কলনে ১ হাজার ৮৯৫টি জিও ব্যাগ তৈরির কথা থাকলেও ঠিকাদার ইতোমধ্যে তৈরি করেন ৪৯৫টি ব্যাগ। এর মধ্যে ১৩৮টি ব্যাগে কোনো সিমেন্টই দেওয়া হয়নি, আর বাকি ব্যাগগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ছয় ফারা বালুর সঙ্গে এক বস্তা সিমেন্ট মেশানোর কথা, সেখানে এক বস্তা সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ১৫টি ব্যাগ। চুক্তি অনুযায়ী পাইলিংয়ের কথা থাকলেও নিম্নমানের ড্রাম সিট ও গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।

এমনকি ঠিকাদার ভাঙনস্থল নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় ইউনুস হাওলাদার বলেন, ৪৯৫টি ব্যাগের মধ্যে ১৩৮টিতে কোনো সিমেন্ট নেই। বাকিগুলোতেও সঠিক নিয়মে সিমেন্ট দেওয়া হয়নি। কাজের মান খুবই খারাপ। আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু জাফর জানান, আমরা অভিযোগ করার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে অনিয়ম দেখতে পেয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার মনিরুজ্জামান টিটু জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

আমি সঠিকভাবে তদারকি করতে না পারায় এমন অনিয়ম হতে পারে। পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় জিও ব্যাগ তৈরির কাজ বন্ধ করা হয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি যে সব অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ থেকে প্রার্থী ঘোষণা

পটুয়াখালীর গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় দশমিনা উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আয়োজনে এক জনসভায় তিনি তার প্রার্থীত্ব ঘোষণা করেন এবং উপস্থিত নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

নুর বলেন, গণঅভ্যুত্থানে জনগণ যে স্বপ্ন দেখেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে “জাতীয় সরকার” গঠন ছাড়া বিকল্প নেই। তার মতে, জাতীয় সরকার গঠিত হলে দেশে পুনরায় রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তিনি আরও জানান, শুধু দেশেই নয় — বিশ্বব্যাপী তার যে পরিচিতি ও যোগাযোগ রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনের উন্নয়নই তার মূল লক্ষ্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রায় ঘোষণার পরপরই জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদের চিহ্ন দেখা দিচ্ছে। অতীতে নির্যাতন, গুম-খুন ও দখলবাজির যে সংস্কৃতি ছিল, এখন যদি তা আবার রাজনৈতিক নেতাদের মুখোশ হয়ে ফিরে আসে, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

নুর আশ্বস্ত করেছেন, “যত বড় নেতা হোক না কেন, দখলবাজি-জুলুম করলে জনগণ তার কাছে পাত্তা দেবে না।” আগামী নির্বাচনে তিনি চান, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এমন এক সমঝোতার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক যা দেশকে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে গড়াবে।

প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলে নুরুল হক নুর স্থানীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার হিসেবে চর এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জীবনমান বাড়ানো এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ কমানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াত, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলনসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে বসে চর এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা আনবো।”

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক লিয়ার হোসেন, সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মিলন মিয়া। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি মিজান হাওলাদার, জেলা কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে জেলা প্রশাসনের কাছে আশার শীতবস্ত্র হস্তান্তর

পটুয়াখালীতে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা শীতবস্ত্র (কম্বল) হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার কাছে। প্রতিবছরের মতো এবারও মানুষের দুর্দশা লাঘবের লক্ষ্যে সংস্থাটির এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শীতবস্ত্র হস্তান্তর করেন আশা’র জেলা ও সদর উপজেলা শাখার কর্মকর্তারা। শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা এস. এম. দেলোয়ার হোসেন, আশা’র সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার লিটন চন্দ্র বিশ্বাস, পটুয়াখালী সদর অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার আব্দুল মন্নান, জেলা অডিটর আব্দুস সালাম, সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউসুফ আলী এবং সদর-১ ও সদর-২ শাখার ম্যানেজার মো. সিরাজুল ইসলাম ও মো. আলাউদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গরিব, দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের উদ্দেশ্যে মোট ৪৭৫ পিস কম্বল জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ সময় জেলা প্রশাসক শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমকে সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন এবং যথাযথ বাছাইয়ের মাধ্যমে এসব শীতবস্ত্র প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আশা শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম