বরগুনায় ছাত্রদলের মানববন্ধন: অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহারের দাবি

বরগুনা সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রনির অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বরগুনা জেলা ছাত্রদল এবং সদর উপজেলা ছাত্রদল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১ টায় বরগুনা প্রেস ক্লাবের সামনে শত শত ছাত্রদল নেতা-কর্মী এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন হাসান শাহীন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাফরুল ইসলাম জাফর, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পান্না মৃধা, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াসিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল প্যাদা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ ছোট্ট, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব বশির উদ্দিন, এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান রাসেল। এসময় বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদল এবং মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মেহেদী হাসান রনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তারা দাবি করেন, দলের দুর্দিনে রনি সর্বোচ্চ মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন এবং দলের জন্য তার অবদান কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তবে তাকে অন্যায়ভাবে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বক্তারা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে বলেন, যদি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

মানববন্ধন শেষে, বিক্ষোভ মিছিলটি প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চার জিম্মির মরদেহ ফেরত পেলো ইসরায়েল




একুশে পদক গ্রহণ করলেন সাবিনা খাতুনরা




সাবেক গভর্নর আতিউর ও অর্থনীতিবিদ বারাকাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা




বাউফলে পাঠাগারের পরিত্যক্ত ভবনে অগ্নিকাণ্ড, ক্ষতি পাঁচ লাখ টাকা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পরিত্যক্ত পাঠাগারের ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় কয়েকজন ভাসমান ব্যবসায়ীর প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর শহরের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন ভবনে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার নতুন ভবনে নতুন নামে পাঠাগারটির উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল, তবে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, পৌরসভার পাবলিক মাঠের পূর্ব পাশে অবস্থিত বাউফল সাধারণ পাঠাগারের পরিত্যক্ত ভবনটি প্রায় দেড় যুগ ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয় কয়েকজন ভাসমান ব্যবসায়ী সেখানে রাতে মালামাল সংরক্ষণ করতেন। ভবনটিতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় সন্দেহ করা হচ্ছে, মাদকসেবীদের ফেলে দেওয়া আগুন থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাউফল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর (সংযুক্ত) মো. সাব্বির আহম্মেদ বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং পানি বাহী গাড়ি সেট করি। তবে খাল থেকে পাম্প সেট করতে কিছুটা সময় লেগেছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “পরিত্যক্ত ভবনটি বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল। এখানে প্রায়ই মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যেত। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ধূমপানের পর অবশিষ্টাংশ ফেলে যাওয়ার কারণেই আগুন লেগেছে।”

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আমরা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী




কুয়াকাটায় জেলের জালে বিশাল টোনা মাছ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ১৮ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি বিশাল টোনা মাছ ধরা পড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত বড় টোনা মাছ আগে কখনো এই অঞ্চলে ধরা পড়েনি।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মাছটি মহিপুরের ফয়সাল ফিস আড়তে নিয়ে আসা হলে নিলামে ১৪ হাজার ৮০০ টাকায় কিনে নেন কুয়াকাটা মাছ বাজারের খুচরা পাইকারি প্রতিষ্ঠান ফিস ভ্যালির পরিচালক মতিউর রহমান। এত বড় মাছ দেখতে সেখানে ভিড় জমান উৎসুক জনতা।

জেলে ছত্তার মাঝি জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে বিশাল আকৃতির এই টোনা মাছটি ধরা পড়ে। তিনি বলেন, “আমি ২৫ বছর ধরে মাছ ধরছি, কিন্তু এত বড় টোনা মাছ আগে কখনো পাইনি। সাধারণত ৫-৭ কেজি ওজনের টোনা মাছ আমরা পাই, কিন্তু এবার যা ধরেছি, তা সত্যিই অবাক করার মতো।”

ফিস ভ্যালির পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, “আমরা এত বড় টোনা মাছ আগে কেবল অনলাইনে দেখেছি, বাস্তবে কখনো দেখিনি। মহিপুর-আলিপুর ও কুয়াকাটায় কোটি কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়, কিন্তু এমন বড় টোনা মাছ এই প্রথম ধরা পড়ল। ৮০০ টাকা কেজি দরে মাছটি কিনেছি, আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।”

মাছ ব্যবসায়ী আলমগীর খান বলেন, “এটি এই অঞ্চলের জন্য রেকর্ড। এত বড় টোনা মাছ আগে আমরা পাইনি। সাধারণত সর্বোচ্চ ৭-৮ কেজি ওজনের টোনা মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু এই মাছটি ব্যতিক্রম।”

কুয়াকাটার সামুদ্রিক ফিস ফ্রাই মার্কেটের ব্যবসায়ী আল-মামুন জানান, কুয়াকাটায় পর্যটকদের মধ্যে সামুদ্রিক ফিস ফ্রাই ও বারবিকিউয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, “টোনা মাছ খুব জনপ্রিয়, কিন্তু এত বড় টোনা মাছ আমরা আগে দেখিনি। এটি ফ্রাই মার্কেটে নিয়ে পর্যটকদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করছি।”

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, “কুয়াকাটার সমুদ্রে এত বড় টোনা মাছ পাওয়া মৎস্যজীবীদের জন্য ইতিবাচক দিক। এটি স্থানীয় মৎস্য ব্যবসার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল করবে। সাধারণত এ ধরনের বড় মাছ গভীর সমুদ্রে থাকে, তবে হয়তো দলছুট হয়ে উপকূলে চলে এসেছিল, তাই জেলেদের জালে ধরা পড়েছে।”

 

মো: আল-আমিন ,  স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লেবুখালীতে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দুমকি থানার পুলিশ বিশেষ অভিযানে লেবুখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমানকে (২৬) আটক করেছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় লেবুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক মো. আরিফুর রহমান উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. হারুন মোল্লা।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় হেতালবাড়িয়া খালের পানিপ্রবাহে বাধা, দুর্ভোগে কৃষকরা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের হেতালবাড়িয়া খাল দখল ও দূষণের কারণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। পলি জমে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে হাজারো কৃষকের জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। দ্রুত খালটি খনন করে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

হেতালবাড়িয়া খালটি আরপাঙ্গাশিয়া নদীর শাখা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। দুই যুগ আগেও এই খালে পণ্যবাহী ট্রলার ও ছোট-বড় নৌকা চলাচল করত। শীতকালে কৃষকরা এই খালের পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতেন। কিন্তু বর্তমানে দখল ও পলিজমার কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে গেছে। রজপাড়া হেতালবাড়িয়া স্লুইসগেটের সামনেও পলি জমে মাটির স্তূপ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানান, দখলদাররা খালের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট স্থাপনা তৈরি করেছেন। ফলে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির অর্ধেক এখন মৃতপ্রায়। শুধু হেতালবাড়িয়া নয়, এই খালের সঙ্গে সংযুক্ত জীন খাল, মৌশার খাল ও স্বনির্ভর খালসহ অন্তত পাঁচটি শাখা খালও প্রায় শুকিয়ে গেছে। শীত মৌসুমে মিঠা পানির অভাবে রজপাড়া ও পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের কৃষকরা তাদের জমি চাষ করতে পারছেন না।

কৃষকরা জানান, বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় জমিগুলো ডুবে যায়, ফলে ধানের বীজ নষ্ট হয়ে যায়। বর্ষায় অধিকাংশ জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় চাষাবাদ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, ‘হেতালবাড়িয়া খালের সমস্যা উপজেলা পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হবে। দখলকৃত অংশ উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা এবং খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পুরোনো ভিডিও মুছে ফেলবে ফেসবুক