বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টে বাধা, জঙ্গলে লুকিয়ে ব্যান্ড কৃষ্ণপক্ষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) অনুষ্ঠিত একটি উন্মুক্ত কনসার্টে বাধার মুখে পড়েন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কৃষ্ণপক্ষ’। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে আয়োজকরা অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন, পরে নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যান্ডের সদস্যরা রাত ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এক জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন।

এই কনসার্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চারুকলা সংসদ’ (ববিচাস) আয়োজিত ছিল। অনুষ্ঠান চলছিল রাত ১টা পর্যন্ত, তবে অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় তারা কনসার্টের বিরোধিতা করেন। এক পর্যায়ে কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুরও করা হয়, এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চের দিকে মিছিল নিয়ে আসেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার কারণে আয়োজকরা অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরে যান।

ব্যান্ডের ৭ সদস্য প্রায় দুই ঘণ্টা একঘর জঙ্গলে অবস্থান করেন। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা সব গাড়ির লাইট বন্ধ করে সেখানে অপেক্ষা করেন। রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সোনিয়া খান সনি ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ইয়ামিন ইসলাম জানান, মুক্তমঞ্চের কাছে হওয়ার কারণে গভীর রাতে গান বাজানো হলে তাদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। তিনি জানান, আবাসিক শিক্ষার্থীরা আগেও কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন যাতে গভীর রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না হয়, তবে প্রশাসন তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাদনান ফাহিম জানান, তারা প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করেছেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সোনিয়া খান সনি জানিয়েছেন, আগামীতে গভীর রাত পর্যন্ত গান-বাজনা নিষিদ্ধ করা হবে এবং এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রক্টর সোনিয়া খান সনি বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন, যাতে রাত ৯টার পর কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটি ক্লাস এবং পরীক্ষার পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক কার্যক্রম রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে শব্দযন্ত্র বাজানো যাবে না এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংস্কারের নামে জনগণের সরকার থেকে যেন বঞ্চিত না হই: আব্দুল আউয়াল মিন্টু

“আমরা সংস্কারও চাই, জনগণের সরকারও চাই। কিন্তু সংস্কারের নামে যেন আমাদেরকে গণতান্ত্রিক সরকার থেকে বঞ্চিত করা না হয়,”—এভাবেই মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক টিম প্রধান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেস ক্লাবে বরিশাল মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করে দেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে কাজ করছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এক লাখ ৬০ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৬২ লাখ বিএনপি নেতাকর্মীকে কোনো না কোনোভাবে আসামি করা হয়েছে।”

মিন্টু আরও জানান, “বিএনপি যে সংগ্রাম করেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে দল সফল হয়েছে এবং একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। তবে আসল উদ্দেশ্য হলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।”

তিনি বলেন, “অধিকার পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রথম কাজ হচ্ছে দেশে একটি জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকারই আমাদের লক্ষ্য।” তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ভিশন-৩০ নামে একটি সংস্কার প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, এরপর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৭ দফার একটি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছেন। পরে, সব দলের সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফার একটি সংস্কার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রওনাকুল ইসলাম টিপু, হাসান মামুন, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ছাত্র, শিক্ষক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বাকেরগঞ্জ অডিটোরিয়ামে ছাত্র শিক্ষক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তারা সামাজিক দূরত্ব দূরীকরণ, শিক্ষার্থীদের অধ্যায়নমুখীকরণ, শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষা এবং মাদকমুক্ত তরুণ সমাজ গঠনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শিক্ষার্থীরা তাদের বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেন এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব কমানোর বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা আনন্দিত এবং তারা মনে করেন, এমন অনুষ্ঠান শিক্ষকদের এবং শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম প্রতিষ্ঠাবর্ষী উদযাপিত, বর্ণাঢ্য র‌্যালির মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন

\\বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবর্ষী। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণবঙ্গের বিদ্যাদানী প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং আজ তা ১৫ বছরে পদার্পণ করল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে দিনটি নানা উৎসব ও অনুষ্ঠানমালার মধ্যে দিয়ে উদযাপিত হয়।

দিবসটির প্রথম পর্বে, সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৫ এর শুভ উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য সকলকে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই র‌্যালিটি উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিনের নেতৃত্বে বের হয়। র‌্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। আনন্দ র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এটি বর্তমানে নানা দিক থেকে শক্তিশালী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও উন্নত ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ফাল্গুনের প্রথমার্ধেই বৃষ্টির দেখা মিলেছে রাজধানীতে। তাতে শুষ্ক প্রকৃতিতে কিছুটা হলেও প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। তবে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হওয়ায় জনমনে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি, ৯ ফাল্গুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়। সেই সঙ্গে মেঘের গর্জন চলে। তবে এদিন সরকারি ছুটি হওয়ায় রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কিছুটা কম। আবার প্রস্তুতি না থাকায় অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

এর আগে, সকাল থেকে মেঘে ঢাকা ছিল রাজধানীর আকাশ। কিছু সময়ের জন্য রোদ উঠলেও তীব্রতা ছিল কম। তবে দুপুরেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সকালে দেশের চার বিভাগে বৃষ্টির আভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। সংস্থাটি জানায়, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।




গলাচিপায় পাটখড়ির গুদামে অগ্নিকাণ্ড

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী বাজার সংলগ্ন একটি পাটখড়ির গুদামে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদারের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গলাচিপা ও দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে।

ঘটনার পর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে একযোগে কাজ করছেন গলাচিপা থানা পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দারা ও গ্রাম পুলিশ।

জানা গেছে, আটখালী গ্রামের পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তার গুদামের সঙ্গে বসবাসের ঘরও ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫) ও ছেলে নাহিদ ইসলাম (৭) ঘরে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেশী সুরাইয়া বেগম (২৫) গুদামে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে কুদ্দুস হাওলাদারের বাবা সেলিম হাওলাদার (৫০) ছুটে এসে গুদামে আগুন দেখতে পান এবং পরবর্তীতে গেইটের তালা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার কামরুল ইসলাম জাকির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন নিভানোর কাজে স্থানীয়রা সহায়তা করেছে।

ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার জানান, তিনি সকালে পাটখড়ি বিক্রি করে গেইট তালা মেরে ভাত খাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পাটখড়ি পোড়ার শব্দ শুনে চিৎকার করেন এবং তার প্রতিবেশী সেলিম হাওলাদার শাবল দিয়ে তালা ভেঙে তাকে, তার স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় পুরো গুদামঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, আগুনে ৪৮ লক্ষ টাকার ৮ বোর্ড পাটখড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তার ধারণা, বিদ্যুৎ লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবি’র আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন

টুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) থেকে শেখ পরিবারের নামে থাকা সব আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলের নাম নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নাম পরিবর্তন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অনুমোদনক্রমে এবং রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নতুন নামকরণের আওতায় শের-ই-বাংলা হল-১-এর নাম পরিবর্তন করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল-১, শের-ই-বাংলা হল-২-এর নাম শহীদ জিয়াউর রহমান হল-২, কবি বেগম সুফিয়া কামাল হলের নাম চাঁদ সুলতানা হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম কবি বেগম সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম বিজয় ২৪ হল, বরিশাল ক্যাম্পাসের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম জুলাই ৩৬ হল, নির্মাণাধীন নতুন ছাত্র হলের নাম শের-ই-বাংলা হল এবং নতুন ছাত্রী হলের নাম তাপসী রাবেয়া হল রাখা হয়েছে। তবে, এম. কেরামত আলী হলের নাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই নামগুলো পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রলির চাপায় নারীসহ দুই নিহত, আহত তিন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রলির চাপায় দুই জন নিহত হয়েছেন এবং তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দশমিনা-রনগোপালদী সড়কের কাপুরিয়াকাচারি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তানজিলা (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরোজবেগী গ্রামের বাসিন্দা জিয়া প্যাদার স্ত্রী। একই দুর্ঘটনায় ট্রলির চালক রাকিব খান (২০)ও নিহত হন। রাকিব দশমিনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। রাকিবের মরদেহ থানায় আনা হচ্ছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানজিলা (২৮) তার দুই ছেলে আবদুল্লাহ (৪) ও আবু বকর (২)-কে চিকিৎসা শেষে রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। কাপুরিয়াকাচারি এলাকায় ট্রলির সামনের চাকা পাংচার হয়ে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয় এবং সেটি পাশের কুয়ায় পড়ে যায়। এতে রিকশায় থাকা তানজিলা ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আবদুল্লাহর বাঁ হাত ভেঙে যায় এবং আবু বকরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। রিকশাচালকের বাঁ পা ভেঙে যায়। আহত আবদুল্লাহ, আবু বকর ও রিকশাচালককে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, পথিমধ্যে বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় তিনি মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী টিটু প্যাদা বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ট্রলির লাইসেন্স নেই এবং চালকের লাইসেন্সও নেই। ট্রলিগুলি যখন রাস্তায় চলে, তখন মনে হয় রাস্তাটি তাদের নিজস্ব জায়গা। দশমিনায় অনেক মানুষ ট্রলির চাপায় মারা গেছে এবং আহত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শিশুদের হাতে শহীদ মিনার নির্মাণ করছে বাসদ, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

২১ ফেব্রুয়ারি, মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) রসুলপুর এলাকায় শিশুদের নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে চলে আসা একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে পরিণত হয়েছে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এবং একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছর রসুলপুরের শিশু-কিশোররা মাটি, কাঠ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে। এর মাধ্যমে তারা তাদের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং দেশপ্রেমের অনুভূতি জাগ্রত হয়।

এ বছরও রসুলপুরে অনুষ্ঠিত হওয়া এই শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শতাধিক শিশু। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের হাতে তৈরি শহীদ মিনারগুলোতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে এবং নিজেদের সৃজনশীলতার প্রদর্শনী করেছে। শহীদ মিনারের কাঠামো ও নির্মাণ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট শিশুদের কাজ করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা ও জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে। এটি শিশুদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস এবং তাদের মধ্যে ইতিহাসচেতনতা বাড়ানোর একটি বড় মাধ্যম।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের পক্ষ থেকে এবারের আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ। তিনি বলেন, “শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে আমরা শিশুদের শুধু ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাচ্ছি না, বরং তাদের মধ্যে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছি। তারা মাটি-কাঠ দিয়ে তৈরি এসব শহীদ মিনারের মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করবে।” তিনি আরও জানান যে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গত ১৪ বছর ধরে রসুলপুরসহ অন্যান্য প্রান্তিক এলাকায় ভাষা দিবসের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং শিশুদের মধ্যে দেশের ইতিহাস চর্চায় উৎসাহিত করছে।

শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষক রণজিৎ মল্লিক, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক ইসরাত জাহান লিপি এবং সংস্কৃতিজ্ঞানী মোস্তাফিজুর রহমান। তারা শহীদ মিনারগুলোর নির্মাণ কৌশল এবং সৃজনশীলতা দেখে প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও এমন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

এদিকে, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা তাদের আঁকা চিত্রের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলন এবং শহীদদের স্মরণ করে তাদের শিল্পকর্মে নতুন কিছু উপস্থাপন করেছে। বিভিন্ন বয়সের শিশুদের মাঝে এই ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম ভাষা দিবসের সত্যিকার অর্থ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে এবং তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ তৈরি করে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য সচিব। তিনি বলেন, “প্রান্তিক এলাকায় ভাষা আন্দোলনের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। রসুলপুরের মতো এলাকায় শিশুদের মাঝে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শেখানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধের সৃষ্টি করবে।” এছাড়া, বাসদ কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য ইমাম হোসেন খোকন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সহ-সভাপতি জোহরা রেখা এবং শ্রমিক ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সহ অনেকেই এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা আরও বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা থেকেই ২০২৪ সালের গণ অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের বৈষম্য দূর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বক্তারা সরকারের কাছে রসুলপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ এবং সকল নিম্নবিত্ত কলোনিতে পাঠাগার নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, সরকারিভাবে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে শিশুদের মধ্যে আরো উন্নত সাংস্কৃতিক চর্চা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিখানো সম্ভব হবে।

আলোচনা সভা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ প্রতিযোগিতা এবং চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করা হয় এবং আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করার জন্য প্রেরণা প্রদান করা হয়। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের এই আয়োজনে শিশুদের মধ্যে একুশের চেতনা এবং ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজে আরো বেশি সচেতনতা তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে শিশুদের মধ্যে জাতির প্রতি দায়িত্ববোধ আরও গভীর হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এখনো মাথায় ৯টি গুলি বয়ে বেড়াচ্ছেন আলাউদ্দিন

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানী ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন মো. আলাউদ্দিন। তিনি লেগুনা চালিয়ে পরিবার পরিজনসহ জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের ছোড়া ৩৫টি ছররা গুলিতে তিনি আহত হন, যার মধ্যে ১১টি গুলি তার মাথায় ঢুকে যায়।

অপারেশন করে ২৬টি গুলি বের করতে পারলেও এখনো তার মাথার ভেতরে ৯টি গুলি রয়ে গেছে, যা তাকে প্রতিদিন তীব্র যন্ত্রণায় ভুগাতে থাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাকি গুলিগুলো বের করার চেষ্টা করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, তাই সেগুলো আর বের করা হয়নি।

এদিকে, আলাউদ্দিন এবং তার পরিবারের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতা এবং মাথায় থাকা গুলিগুলো বের করার জন্য উন্নত চিকিৎসা দাবি করেছেন। এছাড়া, তার বৃদ্ধা নানু মোসাম্মৎ জমিলা খাতুনও সরকারের কাছ থেকে ভাতা এবং সহায়তা চান, যাতে আলাউদ্দিন এবং তার পরিবার সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

এ বিষয়ে ভোলা জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, আন্দোলনে আহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিলে তাদের সাহায্য করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম