আহতদের দেখতে গিয়ে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি চলছে l
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, পতনের কিছু দিন আগে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে গিয়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি শেষে রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে চিকিৎসারত আহত রোগী ও তাদের স্বজনরা আমাদের জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে একবার হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বলেছিলেন, ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অর্থাৎ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের কোনও চিকিৎসা না দিতে এবং কাউকে এখান থেকে বাইরে না যেতে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রোগীদের পাশাপাশি এই নির্দেশাবলির কথা সেখানকার ডাক্তাররাও আমাদেরকে জানিয়েছেন। এর তথ্য প্রমাণাদি আমাদের হাতে আছে, আমরা সেটাই আজ আদালতকে জানিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আমাদের সেসব সন্তানরা শহীদ হয়েছেন, তাদের মৃতদেহ প্রশাসনের নির্দেশে সুরতহাল করতে দেওয়া হয়নি, কাউকে কাউকে ডেথ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়নি। এমনকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার পর যারা সেখানেই শহীদ হয়েছেন, তাদের ডেথ সার্টিফিকেটে গুলিতে মারা গেছে— এই কথাটিও লিখতে দেওয়া হয়নি। শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্বরে মারা গেছে এ ধরনের কথা লিখতে বাধ্য করা হয়েছে। আন্দোলনে শহীদের লাশ দাফন করতে যাচ্ছে জানতে পারলে রাস্তায় পুলিশ তাদের পরিবারের ওপর হামলা-আক্রমণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, শহীদদের সুরতহাল প্রতিবেদন বা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং কেন সেগুলো নেই। আমরা আদালতকে জানিয়েছি যে, সেই মুহূর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দ্রুত শহীদদের লাশ দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই এ কারণে তাদের কোনও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি কোনও স্বাভাবিক বিষয় নয় বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি জাজ্বল্যমান প্রমাণ। এটিই প্রমাণ করে কী ধরনের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়েছিল।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্মমতার প্রমাণগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক করার পর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার প্রমাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।




গুগল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নকল ছবি শনাক্ত করার উপায়

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো দিন দিন বাড়ছে। অপরাধীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নকল ছবি তৈরি করে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে। এতে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক সম্মানহানিও হচ্ছে।

গুগলের ফিচার এবং হোয়াটসঅ্যাপের নতুন উদ্যোগ

বিশ্বের শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন গুগল সবসময় নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করে, যা ব্যবহারকারীদের জীবন সহজ করতে সাহায্য করে। এবার ফেক ছবি শনাক্ত করতে গুগলের রিভার্স ইমেজ সার্চ ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ফিচার?
হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ফরওয়ার্ড করা অনেক সহজ। তবে এগুলোর সত্যতা যাচাই না করায় ভুয়া তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফেক কন্টেন্ট শনাক্তে নতুন ফিচারটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কীভাবে কাজ করবে ফিচারটি?
১. হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট স্ক্রিনে নতুন একটি থ্রি-ডট মেন্যু অপশন দেখা যাবে।
২. কোনো ছবি বা ভিডিওতে ক্লিক করলে সেখানে “সার্চ অন দ্য ওয়েব” অপশন আসবে।
3. এই অপশনে ক্লিক করলেই ছবিটির উৎস এবং এর আসল তথ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

গুগলের রিভার্স ইমেজ সার্চের সুবিধা:

ছবির আসল উৎস খুঁজে পাওয়া।

ভুয়া ছবি শনাক্ত করা।

বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

ফেক ছবি শনাক্তের উপায়:

গুগলের রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে যে কোনো ছবি আপলোড করে এটি ভুয়া কিনা তা যাচাই করা সম্ভব।

অ্যান্ড্রয়েড: গুগল ক্রোম ব্রাউজার থেকে সরাসরি রিভার্স ইমেজ সার্চ করতে পারবেন।

আইফোন: একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ছবি শনাক্ত করতে পারবেন।

 

গুগল এবং হোয়াটসঅ্যাপের এই উদ্যোগ ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি ব্যবহারকারীদের ভুয়া কন্টেন্ট থেকে বাঁচাবে এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 রাজপথে প্রতিপক্ষদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানে শিরিন

বিএনপির স্থগিত সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন বলেছেন, কিছু মানুষ তার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এবং রাজপথে টিকে না পেরে অন্ধকারের মাধ্যমে তার পথরোধ করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, এসব ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রত্যয় তার রয়েছে, এবং তার রাজনৈতিক আদর্শ ও দলের নেতাদের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, রবিবার, সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিরীন এসব মন্তব্য করেন।

শিরীন বলেন, “আমি একজন নারী হিসেবে রাজপথে প্রতিযোগিতা করে উঠে এসেছি। রাজনীতিতে নারীদের জন্য অনেক বাধা থাকলেও, আমি দলের সহায়তায় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এ পর্যন্ত এসেছি। তবে কিছু নষ্ট-ভ্রষ্ট মানুষ আমার ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং আস্থা রয়েছে জিয়া পরিবারের প্রতি, এবং তারেক রহমানের নির্দেশনা এবং আস্থাই আমাকে চলতে সাহায্য করছে। আমি এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে প্রমাণ করবো, ইনশাআল্লাহ।”

শিরীন বলেন, তিনি বরিশাল বিভাগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাজপথে ছিলেন, এবং তার উপর একাধিক মামলা, গ্রেফতার এবং কারাবরণ হয়েছে। তিনি বলেন, “বরিশালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করতে গিয়ে আমাকে একাধিক মিথ্যা সংবাদে জড়িয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে।”

তিনি একাধিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং বলেন, “এই সকল সংবাদ উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাকে এবং আমার দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

শিরীন দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তার বিরুদ্ধে একাধিকবার মিথ্যা খবর প্রচার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জলদস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা মৎস্য উপদেষ্টার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জলদস্যুদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে আর কোনো জেলে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি জানিয়েছেন, সাগরে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে সরকার পুরোপুরি সক্রিয় রয়েছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি, রোববার ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার কলাতলিতে অনুষ্ঠিত জেলে নিবন্ধন হালনাগাত সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘‘প্রকৃত জেলেদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তাদের নিবন্ধন করা হবে এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করবে না।’’

এছাড়া, জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চালের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন ফরিদা আখতার। তিনি জানান, বর্তমানে ২৫ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ৪০ কেজি করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আর ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫০ কেজি চাল দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলেরা চালের সঙ্গে ডাল ও তেল পাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন, যা তিনি ন্যায়সঙ্গত দাবি বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, নৌ পরিবহন ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ালর জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জলদস্যুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, জলদস্যুদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়ার আখতার জাহান, বরিশাল মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাসসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে গাছ কেটে ভুক্তভোগী উদ্যোক্তার লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে শত্রুতার কারণে এক উদ্যোক্তার ৫৪ শতাংশ জমির গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষক আব্দুর রব হাওলাদারের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম।

ঘটনাটি ঘটেছে ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের মধ্য বালিপাড়া এলাকায়। সাইফুল ইসলাম মৃধা, যিনি ওই এলাকার বাসিন্দা, কিছু মাস আগে ৫৪ শতাংশ জমিতে কুমরা, লাউ, শসা ও বেগুনের চারা রোপণ করেছিলেন। প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে গাছগুলোকে যথাযথভাবে গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

রোববার সকালে, প্রতিদিনের মতো পানি দেওয়ার জন্য তিনি ক্ষেতে যান এবং দেখেন, ১ হাজার ২৫০টি গাছের গোড়া থেকে কাটা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যুব উন্নয়ন ট্রেনিং নিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতা অর্জনের জন্য এই জমি নিয়েছিলেন। গত বছর জমিটি আব্দুর রব হাওলাদার নিয়েছিলেন, কিন্তু এ বছর জমি না পেয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তিনি আরও জানান, এসব গাছের প্রায় সবগুলোতে ফল ধরেছিল, যার মধ্যে কুমরা গাছ ছিল ৫০০টি, শসা গাছ ৩৫০টি এবং বেগুন গাছ ৪০০টি। গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অভিযুক্ত কৃষক আব্দুর রব হাওলাদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, সাইফুলের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে তাদের বিরোধ রয়েছে এবং তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল জানান, সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দিয়েছেন এবং অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইন্দুরকানী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, ইন্দুরকানী থানার ওসি মারুফ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ মো. বেল্লাল হোসেন (২১) ও ফয়সাল (১৮) নামে দুই যুবককে আটক করেছে। আটক বেল্লাল ওই ওয়ার্ডের মোতালেব মিয়ার ছেলে এবং ফয়সাল আকবার কাজীর ছেলে। জানা গেছে, বেল্লাল সম্প্রতি আলোচিত ব্যবসায়ী শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

শনিবার রাতে বেল্লাল ও ফয়সাল ভুক্তভোগীর ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করে। পরিবারের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তা উপেক্ষা করে ভুক্তভোগীকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, “মেয়েকে মুখে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা এই নৃশংস ঘটনার বিচার চাই।”

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. বশার মৃধা বলেন, “বেল্লাল একজন কুখ্যাত অপরাধী। তিনি শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলার আসামি এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ জানান, “শনিবার রাত ৩টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় মো. বেল্লাল হোসেন ও ফয়সালকে আটক করা হয়েছে। বেল্লাল আগে থেকেই শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ অভিনেতা আজাদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাভারের আশুলিয়ায় দুর্বৃত্তদের ছোড়াগুলিতে নিজ বাড়িতে আহত হয়েছে ছোট পর্দার অভিনেতা আজিজুর রহমান আজাদ (৩৪)। এসময় অভিনেতার স্ত্রী রোকসানা হক (৩০) ও মা আজিজুন্নাহার (৬৫) আহত হয়েছে।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ভোরে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অভিনেতার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তরা প্রবেশ করে অভিনেতাকে গুলি করে।

এসময় আজিজুরের মা আজিজুন্নাহারও আহত হন। পরে প্রতিবেশীরা আহত অবস্থায় অভিনেতা আজিজুর ও তার স্ত্রী এবং মাকে উদ্ধার করে শিপ ইন্টারন্যাশনাল হসপিটাল ভর্তি করে।

চিকিৎসক ডা.কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, অভিনেতা আজিজুরের শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে। তবে বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিনেতার বাড়িতে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এতে একজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, অভিনেতা আজিজুর রহমান আজাদ আশুলিয়ায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে। ভোরে দুইজন দুর্বৃত্ত পিস্তল নিয়ে অভিনেতার দোতলা বাড়ির রান্নাঘরে গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে অভিনেতা আজিজুর রহমানের দুই পায়ে তিনটি গুলি করে ও তার স্ত্রী রোকসানা হকের মাথায় কড়াই দিয়ে আঘাত করে।




২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা করেছে সরকার। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়, সরকার প্রতি বছর ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং এ তারিখকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ (সরকারি ছুটি ব্যতীত) হিসেবে পালনের নিমিত্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখের ০৪.০০.০০০০.৪১৬.২৩.০০২.১৭.৬৫৪ সংখ্যক পরিপত্রের ‘গ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

এ সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থাকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।




পবিপ্রবিতে ‘ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায় হাতাহাতি’, আহত ২

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন আহত হন। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্ত বাংলা চত্বরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসনের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে আসেন। তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই তার সমর্থক দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জানা যায়, বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন হাওলাদার, ইব্রাহিম খলিল ও মতিউর রহমান দিপুর পক্ষ দাওয়াত পেলেও, আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের গ্রুপকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এতে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

সংঘর্ষে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইব্রাহিম ও সদস্য মতিউর রহমান দিপু আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, “ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করায় এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।”

এদিকে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান বলেন, “আলতাফ হোসেন চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হলেও তার দুমকি তথা পবিপ্রবিতে আগমনের বিষয়ে আমরা উপজেলা বিএনপির নেতারা কিছুই জানতাম না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন

ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নুসরাত ইসলাম তাসমিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আনিকা আক্তার।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান খান এবং সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু নতুন কমিটির অনুমোদন দেন। কমিটিকে আগামী ২১ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন:

  • সিনিয়র সহসভাপতি: নাদিরা আক্তার বুশরা
  • সহসভাপতি: মিম আক্তার, নুসরাত জাহান ফেরদৌসি, সুমাইয়া আক্তার, মারুফা আক্তার, মরিয়ম খান জেরিন, ফরিয়া জামান
  • সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: সুম্মিতা খানম
  • যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ফারজানা আক্তার ইভা, মারিয়া আক্তার, নুপা আক্তার চাদনী, তাসমিয়া ও সানজিদা আক্তার
  • সাংগঠনিক সম্পাদক: সোহানা ইসলাম জান্নাত
  • প্রচার সম্পাদক: মুনতাহিনা জাহান রাইসা
  • দপ্তর সম্পাদক: নুসরাত জাহান তুষ্টি

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু বলেন, “কলেজ সৃষ্টির পর থেকে এই প্রথমবারের মতো মহিলা কলেজে ছাত্র সংগঠন নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম