বরগুনায় ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বড় ভাইয়ের

বরগুনার আমতলীতে ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক বড় ভাই। তার দাবি, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে ওই দুই ভাই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। ওই সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বড় ভাই মফিজ উদ্দিন হাওলাদার সোমবার এমন অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মফিজ জানান, গত বছর উপজেলার তিনি তার পুকুর সেচ দেন। ওই পুকুরের মাছ ধরে ছোট ভাই মিলন হাওলাদারের পুকুরে রাখেন তিনি। সবশেষ এক বছর ধরে ওই পুকুরেই মাছগুলো রেখেছেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মফিজ ভাইয়ের পুকুরে রাখা মাছ শিকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ছোট দুই ভাই মিলন ও আব্দুর রব এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছোট দুই ভাই বড় ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মফিজের ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষায় স্ত্রী হেলেনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে।

খবর পেয়ে মফিজের ছেলে রিয়াজ হাওলাদার বাড়িতে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। মেয়ে মাহফুজা ও জামাতা শিবলী শরীফ আসলে তাদেরও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার পর সন্ত্রাসীরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে শিবলী, মাহফুজা ও রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মফিজ বলেন, ‘গত বছর ভাইয়ের পুকুরে মাছ রেখে আমি চাষাবাদ করছি। মাছ ধরতে গেলে দুই ভাই আমাকে বাধা দেয়। এর জেরে তারা আমাকে হত্যা করতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিল। গত বুধবার বাড়িতে একা পেয়ে সন্ত্রাসীসহ আমার দুই ভাই আমাকে মারধর করেন। আমি আমার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করে।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ছোট ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, ‘বড় ভাই মফিজ আমার পুকুরে গত একবছর ধরে মাছ চাষাবাদ করছেন। এ নিয়ে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার বড় ভাই আমাকে মারধর করেছে।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার পাঁচজনকে আনা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুত্বর দেখে তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লালমোহনে ১৫ লাখ টাকার অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী অবৈধ জাল প্রায় ১৫ লাখ টাকার বাজারমূল্য নিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য দপ্তরের বিশেষ কম্বিং অপারেশনের অংশ হিসেবে লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের দিনারেরপুল সংলগ্ন বেতুয়াখালে অভিযান পরিচালিত হয়।

এ অভিযানে উদ্ধার হওয়া ২২টি রিং জাল এবং ১০টি বেহুন্দি জাল বাজারে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মূল্যবান ছিল। উদ্ধারকৃত জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানকালে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ, উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান, ক্ষেত্র সহকারী মো. নেছার উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম সোহাগসহ মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য সদস্য এবং পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গুড় তৈরিতে ব্যস্ত বরিশালের আখ চাষিরা

বরিশাল জেলায় আখ চাষি এবং গুড় তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকেই, বিশেষ করে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আখ চাষি মো. রিপন, যিনি গত ১০ বছর ধরে নিজ হাতে ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করে বিক্রি করছেন, বলেছেন যে রমজান মাসে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। রিপন জানান, গত বছর প্রায় আড়াই লাখ টাকার গুড় বিক্রি করেছেন এবং বর্তমানে প্রতিকেজি গুড় ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি তাফালে বিশেষ বালতির মাধ্যমে ১০ বালতি আখের রস দিয়ে গুড় তৈরি করা হয়, যা থেকে প্রায় ৩৩ কেজি বা ৯ হাজার টাকার গুড় উৎপাদন হয়। এই গুড়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রস্তুত করা হয়, যা ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।

আখ চাষি সেলিম মোল্লা বলেন, তাঁদের পরিবারের ঐতিহ্য অনুযায়ী, আখের রস থেকে গুড় তৈরি করা হয়ে থাকে এবং তাঁদের তৈরি গুড়ে কোনো ধরনের হাইড্রোজ বা কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় না। মাটির চুলার আগুনে তৈরি গুড়ের স্বাদ অতুলনীয়, যা ক্রেতাদের কাছে খুবই জনপ্রিয়।

এছাড়া, বাজারে ভালো মানের গুড়ের দাম বেশি হলেও তার চাহিদা থাকে বেশি, বিশেষ করে রমজান মাসে। ক্রেতারা অনেক সময় গুড়ের মান যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে, ভালো মানের ভেজালমুক্ত গুড় কেনার জন্য বেশি দামের গুড়কে প্রাধান্য দেন।

বরিশাল জেলার ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮৩ হেক্টর জমি, তবে বর্তমানে ৩৩২ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাথরঘাটায় প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা

পাথরঘাটা পৌর শহরে প্লাস্টিক এবং পলিথিন বর্জনের উদ্দেশ্যে একটি সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। “প্লাস্টিক-পলিথিন বর্জন করি, সুস্থ-সুন্দর জীবন গড়ি”—এমন স্লোগানে কর্মসূচি পরিচালিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন জলবায়ু যোদ্ধা ও সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম খোকন। তিনি এক হাতে প্লাস্টিক ও পলিথিন এবং অপর হাতে কাপড়ের ব্যাগ ও সবুজ গাছের পাতা ধারণ করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রদর্শন করেন।

এছাড়া, বাঁশের তৈরি ঝুরি (খারই) হাতে শফিকুল ইসলাম খোকন একটি স্লোগান দেন, “হাডে যামু খারই লইয়া, পলিথিনে আর আনমুনা”, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

অ্যাকশনএইডের সহযোগিতায় এবং এনএসএস-এর আয়োজনে সকাল ১০টায় পাথরঘাটা পৌর শহরে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি এবং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু জোট, প্রত্যয়, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরার (ধরা) সদস্যবৃন্দ।

পাথরঘাটা পৌর শহরের গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড প্রোটেকশন কর্মকর্তা সৈকত চন্দ্র হাওলাদার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সাদিয়া তুলি, জলবায়ু যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম খোকন, সমাজকর্মী মেহেদী সিকদার এবং পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সদস্যরা।

শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যবহারের কুফল সম্পর্কে মানুষ জানলেও, এ থেকে মুক্তির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহ কম। সরকারও পলিথিন তৈরির কারখানা বন্ধের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না, তাই মানুষকে সচেতন করার জন্য আমরা এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা চালাচ্ছি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ছোট বোনের স্বামীর সাথে অসামাজিক কাজের সময় বড় বোন আটক

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বন্দর সংলগ্ন বাসভবনে পরকীয়ার সম্পর্কের মাঝে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় বড় বোনকে (জেঠাস/বড় শ্যালিকা) হাতেনাতে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর সোমবার দুপুরে আটককৃত দুইজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে, গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বাসুদেবপাড়া গ্রামে বাসিন্দা সানাউল প্যাদা (৪০) এবং একটি ইটালি প্রবাসীর স্ত্রী (৩৪) এর মধ্যে। ইটালি প্রবাসী স্বামী বাড়িতে ফিরে আসার পর দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। এরপর, প্রবাসীর স্ত্রী তার ছোট মেয়ে নিয়ে গৌরনদী বন্দর সংলগ্ন বাসভবনে চলে আসেন।

ইটালি প্রবাসী জুয়েল বেপারী অভিযোগ করেন, “আমি বাড়িতে আসার পর আমার স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ে জানতে পারি। রবিবার দিবাগত রাতে, সানাউল প্যাদা আমার স্ত্রীর সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়।” খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করেন এবং থানায় পুলিশকে খবর দেন। রাত ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন, “অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে সানাউল প্যাদা এবং প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




শেবামেকে অষ্টম দিনেও চলছে শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শাটডাউন

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবামেক) এ শিক্ষক সংকটের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা গত ৮ দিন ধরে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে। সোমবার, অষ্টম দিনেও ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকার কারণে একাডেমিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কলেজে মোট ৩৩৪টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে ১৮৮টি পদ শুন্য রয়েছে। বিশেষ করে মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথোলজি, ফিজিওলজি, সিসিইউ, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ডিপার্টমেন্ট এবং ডেন্টাল ইউনিটের অধিকাংশ বিভাগে শিক্ষক সংকট বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীরা পূর্বে আন্দোলন করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ছয়জন শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে, তবে শিক্ষার্থীরা এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের দাবি, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন না হলে তারা আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সারাদেশে ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঝালকাঠিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাইয়ান বিন কামাল, ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি, মাইশা মেহজাবীনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন। তারা ৪৭ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবো।”

এ প্রতিবাদী মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি জমি দখল: দক্ষিণাঞ্চলে চলছে মহোৎসব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক সরকারের পতনের পর, দক্ষিণাঞ্চলে শুরু হয়েছে সরকারি জমি দখলের এক নতুন মহোৎসব। বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা, যেমন গৌরনদী, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, এবং আগৈলঝাড়া, পানিপ্রকল্প এবং সড়ক বিভাগের জমি দখলের জন্য একে একে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে স্থাপন করা হচ্ছে অস্থায়ী দোকানপাট এবং বাজার। এই জমিগুলো দখল করে দখলদাররা মাসিক ভাড়া আদায় করে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করছে।

এছাড়া, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত কলোনিগুলোও বেদখলে রয়েছে, এবং তারা জানান, সরকার চাইলে জমি ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, দ্রুতই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিক ও বিপ্লবী বাংলাদেশের সম্পাদক নুরুল আলম ফরিদ বলেছেন, “সরকারকে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে, তবুও বিষয়টি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, বরিশাল জেলায় তাদের ৩,১৭৫ একর জমি রয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগ জমিই এখন দখলে রয়েছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, দখলদারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।

বরিশালের সওজ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মাসুদ খান বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ স্থাপনা রাখবো না, এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এভাবে চলতে থাকলে সরকারি সম্পত্তি থেকে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, এবং সচেতন মহল মনে করেন যে, দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




“গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ-খবর নেয় না কেউ: বিএনপি নেতা”

গণমাধ্যমকর্মীরা দেশের উন্নয়ন, সমাজের অন্ধকার দিক উন্মোচন ও মানুষের পাশে থেকে কাজ করেন, কিন্তু তাদের খোঁজ নেয় না কেউ। রাজনৈতিক নেতাদের উচিত গণমাধ্যমকর্মীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের মূল্যায়ন করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র স্থায়ী হতে পারে না। একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এই বক্তব্যগুলো বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ। তিনি ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির (বিআরইউ) কার্যালয়ে সোমবার এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আবু নাসের বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য সম্পর্কে সকলেই অবগত আছেন। দলের নাম ভাঙিয়ে কোনো অপরাধমূলক কাজ হলে ছাড় দেয়া হবে না। দেশের সব বিএনপি নেতার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান উন্নত দেশে বসবাস করে বিভিন্ন দেশের নিয়ম-কানুন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। যদি দল মনে করে, আমাকে নির্বাচনে মনোনীত করবে, তবে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।”

এছাড়া, বিআরইউ সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক খালিদ সাইফুল্লাহ তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশ ছিল ‘পুলিশ রাষ্ট্র’। দলীয় ক্যাডার স্টাইলে পুলিশ মাঠে সক্রিয় ছিল। বিএনপি নেতাকর্মীদেরসহ নিরীহ মুসল্লিরা জামায়েত-শিবির তকমা দিয়ে গ্রেফতার হয়েছিল। আমি ও আমার পরিবার এই সময়ে মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত হয়েছিলাম।”

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বিআরইউ সভাপতি আনিসুর রহমান খান স্বপন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা, যেমন: রাসেল হোসেন (দখিনের সময়), মো. নূরুজ্জামান (কাগজ), শাহিন হাফিজ (ইত্তেফাক), মাসুদ রানা (নিউ নেশন), সৈয়দ মেহেদী হাসান (ঢাকা পোস্ট), শাওন খান (জাগো নিউজ), রবিউল ইসলাম রবি (বাংলা কাগজ), নাজমুল ফকির (বাংলা টিভি), সিএইচ মাহাবুব রহমান (আমাদের বরিশাল) এবং অনেক স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদকর্মী।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিআরইউ সাবেক সভাপতি ও ডেইলি স্টারের সাংবাদিক সুশান্ত ঘোষ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি: ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাছ রক্ষা এবং রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেভাবে কষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, ঠিক একইভাবে মনপুরাবাসী মাছ রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার, মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ চর গোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম পরিদর্শন এবং মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিশেষভাবে পরিচিত তার মাছের জন্য, বিশেষত ইলিশের জন্য। অন্য কোথাও ইলিশ পাওয়া গেলেও তার স্বাদ বাংলাদেশের ইলিশের মতো হয় না।” তিনি আরও বলেন, মাছের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাতে তারা ডিম পাড়তে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, “মৎস্য কর্মকর্তারা জেলেদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সরাসরি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরো বলেন, “এখন শুধু মাছ ধরা নয়, কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগল পালনেও জেলেদের মনোযোগী হতে হবে, যার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

মনপুরার জেলেদের জন্য তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা ছাড়াও তাদের রক্ষা করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, টর্চ লাইট সরবরাহ করা হবে।

তিনি মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলেদের যে বড় সমস্যা তা উল্লেখ করে বলেন, খাল খনন এবং নদী ও সাগরে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পরে, ফরিদা আখতার ৮০ জন জেলেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও টর্চ লাইট বিতরণ করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা, মনপুরা উপজেলার মৎস্যজীবীরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম