শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টক শোতে এ মন্তব্য করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কোনো বিচারের আগে যদি শর্ত থাকে, তাহলে সেই বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত বেঁধে দিয়ে কখনো বিচারকে আটকে ফেলার চেষ্টা ভালো পরিণতি নিয়ে আসে না।

শেখ হাসিনার রায়ে দেশের জনণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়েছে। এই রায়টির ঘিরে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে নানা মন্তব্য দেখতে পাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নানা পর্যবেক্ষণ দেখছি। ডেভিড বার্গম্যান যিনি খুবই সোচ্ছার ছিলেন হাসিনার শাসনামলে।

তিনিও হাসিনার রায় ঘিরে তার লেখা আর্টিকেলে বলেছেন, প্রসিকিউশনের হাতে শক্ত প্রমাণ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে বিচারের দৃশ্যমানতাই একমাত্র শর্ত নয়। আমরা দেখলাম বিচারের দৃশ্যমানতার পাশাপাশি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, গণভোট আগে হওয়া। এ রকম নানান রকম শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ নয় জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের শর্ত এসেছে। এসব দাবি মধ্যে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা না হলে জামায়াতসহ যারা এই দাবিটা তুলেছে তারা নির্বাচনে আসবে কি না এটা একটা বড় প্রশ্ন।’ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হলে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




বিজয় দিবস নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ঘিরে দেশে কোনো অস্থিরতা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষ্যেও কোনো শঙ্কা নেই।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এমন কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার রায়কে ঘিরেও কোনো রকম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসে কোনো অস্থিরতার সম্ভাবনা নেই।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে কোনো পরিবর্তন নেই। আগে যেভাবে সব কর্মসূচি হয়েছে, এবারও সেভাবে হবে। বরং আরও বেশি হবে। তবে গতবারের ন্যায় এবারও প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।

গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়া মঙ্গলবার রাতে ডিবি পরিচয়ে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে পরে ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়টা আমি প্রথম শুনলাম। অনুসন্ধান করার পর হয়তো আমি বিষয়টা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবো। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ঝালকাঠিতে সড়ক অবরোধের অভিযোগে দুই ছাত্রলীগ নেতা আটক

ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ ও স্লোগান দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার দিকে গাবখান ব্রিজের পশ্চিম ঢাল এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেলসহ তাদের গ্রেপ্তার করে।

আটককৃতরা হলেন—ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের টিপু হাওলাদার, যিনি উপজেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পারদেশীপুর ইউনিয়নের ওলি যিনি বাকেরগঞ্জ পারদেশীপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ৪ জন যুবক দুটি মোটরসাইকেলে করে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের প্রতাপ এলাকায় এসে টায়ারে আগুন ধরিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে দ্রুতস্থান ত্যাগ করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সড়কে আগুন দেওয়ার সেই ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলছে, আটক টিপু হাওলাদার ও ওলি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিব মাহমুদ অপু ও সদস্য দিপুসহ তাদের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় গাছ কেটে অবরোধ সৃষ্টি, বাড়িতে ভাঙচুরসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। ওলিকে স্থানীয়ভাবে “ভাড়াটিয়া খুনি” হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানায়, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সিসার কারবার

আইটি ব্যবসার আড়ালে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ মাদক সিসা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেতা সেজে চক্রের হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিএনসির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- আব্দুল আলিম ওয়াসিফ ও আশিকুর রহমান সামি। রোববার রাজধানীর বাড্ডা ও হাতিরঝিল এলাকায় অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় উদ্ধার করা হয় ১৮ কেজি সিসা, যা সাম্প্রতিক কালের সর্বোচ্চ।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসি মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেন, গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মাদক পাচারের বিষয়ে নজরদারি করে আসছে। এই তৎপরতায় বিভিন্ন সময় বেশকিছু চালান জব্দ করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে, ডিএনসির কাছে গোপন তথ্য ছিল যে একটি চক্র ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে দেশব্যাপী সিসা সরবরাহ করছে। এর ভিত্তিতে রোববার ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল উপপরিচালক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ক্রেতা সেজে অভিযান চালায়। প্রথমে চক্রের ডেলিভারিম্যান আশিকুর রহমান সামির সঙ্গে যোগাযোগ করে হাতিরঝিল এলাকায় পণ্য ডেলিভারির সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। রোববার রাত ১১টায় হাতিরঝিল মহানগর প্রকল্প এলাকায় সামি সিসার জারভর্তি ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হলে ডিএনসি দল তাকে আটক করে। তার স্কুলব্যাগ তল্লাশিতে ২ কেজি সিসা পাওয়া যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে সামি জানায়, সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন অর্ডার অনুযায়ী সিসা সরবরাহ করে। এ চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক আব্দুল আলিম ওয়াসিফ। তার দেওয়া তথ্য যাচাই করে ডিএনসি দল দ্রুত উত্তর বাড্ডার বিটিআই প্রিমিয়াম প্লাজায় অবস্থিত ‌‘ইনোভেট’ দোকানটিকে চিহ্নিত করে। সেদিন রাতেই দোকানে প্রবেশ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিশ্চিত হলে দোকানের মালিক ওয়াসিফকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে স্টোর রুম তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় আরও ১৬ কেজি সিসা (১৬ জার), ৩টি হুক্কা সেট, ২টি পাইপ, চারকোল ১০ প্যাকেট,    আইফোন–১৩, ৫টি ওয়াইফাই সিসিটিভি ক্যামেরা।

ওয়াসিফ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন যে, তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিসা সরবরাহ করতেন এবং সামি তার হয়ে ডেলিভারি দিতেন।

ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে; শিগগিরই আরও অভিযান চালানো হবে।




বরিশালে অপসো স্যালাইনের শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান, সড়ক অবরোধ

বরিশালে অপসো স্যালাইন (ওএসএল) ফার্মা লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীরা দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের একটি পক্ষ চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে দীর্ঘ ১৮ দিন ধরে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সামনে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। অপর একটি পক্ষ কাজে যোগ দিতে অবস্থান নিয়েছে।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরীর বগুড়া রোডে সড়ক অবরোধ করে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা। পরে সেখানে মালিক পক্ষ থেকে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিন্দ কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকপক্ষ জানায়, শ্রম আইন মেনে অপসো স্যালাইনের স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ জন শ্রমিককে অবসান দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ ভাগ শ্রমিক তাদের পাওনা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু কিছু শ্রমিক ও বহিরাগতরা অন্য বিভাগের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা প্রদান করছেন। তারা জানান, এতে করে কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

ডেঙ্গুর বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ থাকলে সামনে সংকট দেখা দিতে পারে। কাজে যোগ দিতে আসা আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কোম্পানিতে ঢুকতে গেলে তাদের ওপর বাধা দেওয়া হয়। যাদের চাকরি রয়েছে তারা যেন কাজ করার সুযোগ পান সেই দাবি জানান তারা। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা বলেন, চাকরি পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এদিকে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বগুড়া রোড ও আশপাশের সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।




বদলি ও নিয়োগ নিয়ে অস্থির প্রশাসন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনে বিভিন্ন পর্যায়ে শুরু হয়েছে রবদবল এটা রাস্ট্রের নিয়মিত কাজেই অংশ। কোথাও নতুন করে পদায়ন হচ্ছে, কাউকে বর্তমান পদ থেকে অনত্র বদলি করা হচ্ছে। কাউকে নিয়োগ দিয়ে সে নিয়োগ বাতিলও করা হচ্ছে। তবে  নিয়োগ-বদলির নানানরকম কার্যক্রম নিয়ে অস্থিরতা রয়েছে প্রশাসনে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে কেউ স্বস্তি পাচ্ছে না। চেয়ারে টিকে থাকা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। কার কখন বদলি হয়, আবার বদলি হলে যোগদান করতে পারবেন কি না, সে নিয়ে থাকছেন আতঙ্কে। জনপ্রশাসনসহবিভিন্ন মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়োগ-বদলি একটি নিয়মিত কাজের অংশ, তবে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছেন না। কর্মকর্তারাও জনপ্রশাসনের ডেস্ক কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্টদের আস্থায় নিতে পারছেন না। এসব বিভিন্ন কারণে সমালোচনা হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্তরে রদবদল হতে পারে, সে কারণে প্রতিনিয়ত জনপ্রশাসনে ঘুরছেন কর্মকর্তারা। কেউ নিজের বর্তমান অবস্থানে আরও কিছু দিন থাকার জন্য জনপ্রশাসনে

এদিকে সম্প্রতি আবার বিভিন্ন ব্যাচের ‘দলীয় লেবাস’ ধারণ করে কিছু কর্মকর্তার রদবদলে খবরদারি বেড়েছে। যাকে তাকে দোসর তকমা দিয়ে ভালো জায়গায় পোস্টিং দেওয়া থেকে বিরত রাখতে কাজ করছেন বলেজানা গেছে। এতে অনেক মন্ত্রণালয় বা দপ্তরে ভালো কর্মকর্তার চেয়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের আধিপত্য বাড়ছে। আর মন্ত্রণালয়গুলোতে কাজের ক্ষেত্রে বাড়ছে স্থবিরতা। জনপ্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন বিভিন্ন ব্যাচের অভিযোগ শুনে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। সবাই একে অন্যের দোষারোপ করতে আসেন। ব্যাচের কর্মকর্তারা তার ব্যাচমেটদের দমিয়ে রাখতে আসেন। কেউ আসেন বিগত দিনে কার কার সঙ্গে ছবি আছে এসব দেখাতে।’

প্রশাসনের ২৪ ব্যাচের যুগ্মসচিব হতে না পারা কর্মকর্তারা আর ৩০ ব্যাচের উপসচিব হতে না পারা কর্মকর্তারা পদোন্নতির আশায় আছেন। নিয়মিত ব্যাচ ২০-এর কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সচিব করা হচ্ছে না এখনো, এ নিয়েও অস্বস্তিতে আছেন কর্মকর্তারা। বর্তমানে ৩৪, ৩৫ এবং ৩৬ ব্যাচের কর্মকর্তারা ইউএনও।




দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি

দেশে এখন মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন আর নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩৪ জন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। এই ভোটার তালিকাতেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আখতার আহমেদ জানান, গত ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজর ২৭৪।

২ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ আর পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ। আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়ে কোনো দাবি আপত্তি না আসায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) এ দুটি দলকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিছু আপত্তি আসায় বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টিকে এখনো নিবন্ধন দেওয়া হয়নি।

দলটির বিষয়ে আসা আপত্তিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ জানান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের জন্য সরকারের কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পায়নি নির্বাচন কমিশন।




আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কিনছে সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আনসার বাহিনীর জন্য ১৭ হাজার শর্টগান কেনা হবে।

মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। বৈঠকের পরে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আনসারদের অস্ত্রগুলো অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।’

তিনি আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য ‘৪০ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরা’ কেনা হচ্ছে না। বরং ‘যেসব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ সেখানে দেওয়া হবে। স্বচ্ছতার সঙ্গে কেনা হবে। ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনা করে ঠিক করবে।’

অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, চাহিদা থাকায় ‘এক কোটি ই-পাসপোর্টের বই’ কেনার জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া টিকার সংকটের বিষয়টি বিবেচনা করে ‘ইপিআই টিকা’ কেনা হবে। ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রোজার আগে চাল ও গম আমদানি করা হবে।




পাকিস্তানের নির্দেশে হাসিনার মৃত্যুদণ্ড : শুভেন্দু

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদল বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

গতকাল সোমবার বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের কাছে তিনি দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় পাকিস্তানের নির্দেশে দেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এটা পাকিস্তানের নির্দেশেই করা হয়েছে। এটা কার্যকর হবে না। শেখ হাসিনা অন্য দেশের হলেও তিনি বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি একজন প্রগতিশীল মুসলমান। শেখ হাসিনা কখনো চরমপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।’

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এই রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে। তারা সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় লক্ষ করেছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে ভারত সব সময় বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র, অংশগ্রহণ ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করব।’




কারাগারে অসুস্থ হয়ে পটুয়াখালীর সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের মৃত্যু

পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর হাওলাদার (৫৫) কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হঠাৎ অসুস্থতার ঘটনা এবং চিকিৎসার অল্প ব্যবধান তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান—জাফর হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এমন তথ্য তারা জানতেন না। মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ভাগ্নি রুমা বলেন, “আমার মামা সুস্থ মানুষ ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টা আমরা জানতাম না। মৃত্যুর পরই সব জানতে পারছি।” পরিবারের দাবি, খবর পেয়ে তারা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান, কিন্তু তখন আর তাকে পাওয়া যায়নি।

কারা সূত্র জানায়—১১ নভেম্বর ‘গ ডেভিল হান্ট’ নামে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে জাফর হাওলাদারকে আটক করা হয়। আটকের পর থেকে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারেই ছিলেন। সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। মাত্র ১০ মিনিট পর, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা ও ইসিজি করা হলে তিনি তখনও জীবিত ছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানান। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২টা ১৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় কারা প্রশাসন জরুরি প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে। পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আতিকুর রহমান বলেন, “কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মরদেহ বর্তমানে সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে জাফর হাওলাদারের জনপ্রিয়তা ও আলোচিত ভূমিকা থাকায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বিষয়টি তদন্তের দাবি করেছেন। কারাগার, হাসপাতাল এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়ভাবে জানা যায় জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ইউনিয়নের সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের কারণে এলাকায় পরিচিতি পান। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন।

পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম