দেশবাসীকে সতর্ক করে যা বললেন সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশবাসীকে সতর্ক করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলছেন, আপনারা যদি ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন। তাহলে এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত বরণকারী শহিদ অফিসারদের স্মরণে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফেরত আসবো।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে— আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিষোদ্‌গারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি। তারা (অপরাধী) খুব ভালোভাবেই জানে এই সময়ে অপরাধ করলে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে। আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি তাহলে এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই এগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে অতীতে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজকে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে এতো বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এর কারণ হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনা সদস্য ও সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে অসামরিক, সামরিক সবাই মিলে ইফেক্টিভ রেখেছে, সেজন্য এতোদিন ধরে একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যারা অপরাধ করে থাকে তাদের শাস্তি হবে, অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। নাহলে এই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে চিরতরে বন্ধ করতে চাই। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে- আমরা এমনভাবে কাজটা করবো এই সমস্ত অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড (অবমূল্যায়ন) না হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। এর বড় কারণ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকেই জেলে। র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন গুম-খুনের তদন্ত চলছ। অবশ্যই তদন্ত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনভাবে কাজটা করতে হবে যেন এই অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড (অবমূল্যায়ন) না হয়। এই অর্গানাইজেশনগুলোকে আন্ডারমাইন্ড করে আপনারা যদি মনে করেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, সেটা সম্ভব না। আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর না। দুই লাখ পুলিশ আছে, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার ভিডিপি আছে। আমার আছে ৩০ হাজার সদস্য। ৩০ হাজার সদস্য দিয়ে আমি কীভাবে পূরণ করবো। ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে, এটা দিয়ে আমরা দিন-রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, যে সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তি-শৃঙ্খলা আসবে না। এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, তদন্ত কমিশন হচ্ছে আরেকটা। আমরা চেষ্টা করবো তদন্ত কমিশনকে সহায়তা করতে। যে ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আমরা করবো।

নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে খেয়াল করবেন। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশটাকে একত্রিত রাখতে। উনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। উনি যেন সফল হতে পারে। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করবো। আসুন আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি, কাটাকাটি না করে একত্রিত থাকি। দেশ-জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারে, সেইদিকে কাজ করতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু দিনশেষে দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে আমরা যেন এক থাকতে পারি। তাহলেই দেশ উন্নত হবে, দেশটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে। বিশ্বাস করেন নাহলে আমরা আরও সমস্যার মধ্যে পড়তে যাবো। ওদিকে আমরা যেতে চাই না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন। তাহলে এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, না হলে আপনারা বলবেন আমি সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার, সবাই সুখে শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ করবেন না। একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো। কী কারণে আমি আজ পর্যন্ত এটা খুঁজে পাইনি। আমাদের সাহায্য করুন, আমাদের আক্রমণ করবেন না। আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক (অব), পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ আরও অনেকে।




পিরোজপুরে আগুনে ৪১ দোকান পুড়ে গেছে, কোটি টাকার ক্ষতি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত হয় বাজারের মাসুদ নামে এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর দোকান থেকে। পরে দ্রুত আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বাজারের প্রায় ৩০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে, বরিশাল, বানারীপাড়া, পিরোজপুর, কাউখালি ও নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে দোকানে গিয়ে দেখেন তার দুটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। মিয়ারহাট বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল বেপারী জানান, আগুনে প্রায় ৩০টি দোকান পুড়ে গেছে এবং এতে আনুমানিক শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার পাঁচপাড়া বাজারে আরেকটি আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ১১টি দোকান পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত হয় জয়দেব মজুমদারের সারের ও ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে। এরপর আগুন অন্যান্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

পিরোজপুর ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হতে পারে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে মশার উপদ্রব বেড়েছে, নগরবাসী অতিষ্ঠ

বরিশাল শহরে বেড়েছে মশার উপদ্রব। নগরবাসী একদিকে মশা থেকে রক্ষা পেতে মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল নগরীজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। নগরবাসী জানান, দিনের বেলাতেও মশার উৎপাতে তারা অতিষ্ঠ। অনেকেই মশার কয়েল ও মশারি ব্যবহার করেও উপশম পাচ্ছেন না। যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তাতে মশা নিধন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিত মশা নিধনে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নগরবাসীর অসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, তারা নিয়মিতভাবে নগরীর চারটি ওয়ার্ডে মশার স্প্রে এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এই ওষুধ সম্পূর্ণ কার্যকর এবং মশার ৯০% লার্ভা ধ্বংস হচ্ছে। তবে, নগরবাসীর ময়লা ফেলার প্রবণতা মশার উপদ্রব বাড়াচ্ছে।

এছাড়া, বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রও জানান, মশার লার্ভা ৯০% পরিমাণে নিধন করা সম্ভব হয়েছে। তারা প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

নগরবাসী অভিযোগ করেছেন যে, সিটি করপোরেশন থেকে ময়লা পরিষ্কার না করার কারণে মশার উপদ্রব দিন দিন বেড়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার ওষুধ ছিটানো হলেও তাতে মশা মরে না, বরং বাইরের মশা ঘরে ঢুকে আরও সমস্যা সৃষ্টি করছে। অনেকের মতে, সিটি করপোরেশন যে মশার ওষুধ ব্যবহার করছে তা সঠিকভাবে কার্যকর নয়।

বরিশাল সুশীল সমাজের প্রতিনিধি গোপাল সরকার জানান, “মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পেছনে সঠিক মিশ্রণ না হওয়া বা ওষুধের মান খারাপ থাকতে পারে।” তিনি আরও বলেন, মশার উৎসব যেন চলছে বরিশাল নগরীতে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, মশা নিধনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮টি ফগার মেশিন এবং ৬০টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের কাজ চলমান রয়েছে। সিটি করপোরেশনের চিকিৎসকরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন।

এদিকে, গত বছর মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

নগরবাসী দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশন যদি সময়মতো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করে এবং কার্যকর মশা নিধন ব্যবস্থা না নেয়, তবে বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল অঞ্চলে এলজিইডির ব্যাপক উন্নয়ন: পল্লী এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬,৮৪৩টি স্কিম বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে পল্লী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। সড়ক, সেতু এবং বিভিন্ন পল্লী অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলির পুনর্বাসনে গত মাস পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

এলজিইডির উন্নয়ন কর্মকা- ইতোমধ্যে বরিশাল অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন পল্লী এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বরিশাল বিএম কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মন্তব্য করেছেন যে, যে কোন এলাকার উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নই প্রথম শর্ত। এলজিইডি এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এবং তাদের পদক্ষেপগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন তারা।

এলজিইডির এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী ভায়া কুতুবপুর সড়কে ৬২০ মিটার দীর্ঘ ‘আর্চ-আরসিসি গার্ডার’ সেতুর নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে ২৪% সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এলজিইডি বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী।

এছাড়া, প্রায় ১০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জগন্নাথকাঠি-চাঁদকাঠি সড়কের কালিগঙ্গা নদীর ওপর ৬০০ মিটার দীর্ঘ ‘প্রী-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার’ সেতু নির্মাণ কাজও ১৫% সম্পন্ন হয়েছে। এর নির্মাণ কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এলজিইডির আরো কয়েকটি প্রকল্পের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ এবং পল্লী সড়ক উন্নয়ন কর্মকা- চলছে। এছাড়া, প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বরিশাল জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেরও অনুমোদন হয়েছে এবং শিগগিরই এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এলজিইডি বরিশাল অঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় প্রায় ৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স, ৫৫টি নতুন হাটবাজার, এবং সহস্রাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করেছে। এর পাশাপাশি ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় আর্সেনিকযুক্ত এবং লবণাক্ত পানির সমস্যা সমাধানে ৬০টি পুকুর খনন করা হয়েছে।

এলজিইডির এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বরিশালের পল্লী এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং এক সময়ের পিছিয়ে পড়া এলাকায় এখন উন্নয়ন দেখা যাচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারে থাকার চেয়ে রাজপথে থাকা বেশি প্রয়োজন, তাই পদত্যাগ করেছি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আমি মনে করেছি সরকারে থাকার চেয়ে রাজপথে থাকা বেশি প্রয়োজন, তাই পদত্যাগ করেছি বলে মন্তব্য করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি, সব কমিটি থেকে ইস্তফা দিয়েছি।

নাহিদ বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেই। তখন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা আমাদের কাছে মনে হয়েছিল যৌক্তিক। গত সাড়ে ছয় মাসের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কাজ করছে। হয়ত আমরা আশানুরূপ ফলাফল এখনো পাইনি। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে সরকারে একটা স্ট্যাবিলিটি এসেছে।

‘ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সরকারের বাইরে দেশের যে পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক শক্তি উত্থানের জন্য আমার রাজপথে থাকা প্রয়োজন। ছাত্র-জনতার কাতারে থাকা প্রয়োজন,’ বলেন সদ্য পদত্যাগ করা এই উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, আমরা যে গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা করি, সে আকাঙ্ক্ষার জন্য এবং গণঅভ্যুত্থানে যেসব ছাত্র-জনতা অংশগণ করেছে সেই শক্তিকে সংহত করতে আমি মনে করছি, সরকারের থেকে সরকারের বাইরে রাজপথে আমার ভূমিকা বেশি হবে। বাইরে যে আমাদের সহযোগী যোদ্ধা রয়েছে তারাও এটি চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজকে মূলত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছে।




উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে তার এ পদত্যাগ বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অনির্ধারিত বৈঠকে বসেছে। দুপুর আড়াইটার দিকে যমুনার সামনে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও বেশ কয়েকবার জানিয়েছিলেন পদত্যাগ করেই তিনি নতুন দলে যোগ দেবেন। আজকে তার পদত্যাগের মধ্যদিয়ে সে পথ অনেকটা সুগম হলো। আগামী শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রদের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে।

রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। নতুন এ দলের নাম না জানা গেলেও এর নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হবেন আকতার হোসেন থাকবেন বলে জানা গেছে।

নতুন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র এবং মুখ্য সংগঠক পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ পদগুলোতে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা ও আরিফুল ইসলাম আদীব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ থাকবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নাহিদ ইসলামকে ট্যাগ করে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সারজিস আলম দুপুরে ফেসবুক দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। রাজপথে স্বাগতম সহযোদ্ধা।’




ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদের সম্ভাবনা ফের বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার সম্ভাবনা ফের বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের প্রবেশের বিনিময়ে ক্ষমতা ছাড়তে প্রস্তুত বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রাত প্রস্তাব দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হলো।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ সোমবার ইউক্রেনের ন্যাটো জোটে প্রবেশের সম্ভাবনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশকে এই জোটে সদস্যপদ দেওয়া হলে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ফক্স নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেছেন, “আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি না যে, ইউক্রেনকে ন্যাটোতে প্রবেশ করানো এবং তারপরে মার্কিন সৈন্যদের অপরিহার্যভাবে ও বাধ্যতামূলকভাবে আর্টিকেল ফাইভের পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে (প্রতিরক্ষায়) যুক্ত হতে বা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার জন্য সরাসরি মার্কিন সৈন্যদের মোতায়েনের কোনও সম্ভাবনা আছে।”

তিনি ন্যাটোর আর্টিকেল ফাইভকে পারস্পরিক-প্রতিরক্ষা ধারা বলে উল্লেখ করেন, যা সদস্যদের কোনো মিত্রের প্রতিরক্ষায় সবাই আসতে বাধ্য যদি কোনও রাষ্ট্র আক্রমণের শিকার হয় এবং সাহায্যের অনুরোধ করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র একবারই তেমন আহ্বান জানিয়েছিল।

এর আগে ইউক্রেন পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য পদ পেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে রাজি হন ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

মূলত সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ আখ্যায়িত করার পর তার এমন আগ্রহের কথা সামনে আসে। সেদিন জেলেনস্কি বলেন, “আপনারা যদি আমাকে এই চেয়ার থেকে সরে যেতে বলেন, তা করতে আমি প্রস্তুত রয়েছি। আর ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদের বিনিময়েও আমি তা করতে পারি।”

এদিকে ফক্স নিউজের সাথে ওই সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ আরও বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন কিয়েভের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের খনিজ সম্পদের উৎপাদনে যোগদানের বিষয়ে একটি চুক্তি “খুব অল্প সময়ের মধ্যে” সম্পন্ন হবে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র যে ইউক্রেনে তার বিনিয়োগ রক্ষা করতে ইচ্ছুক, সেই ইঙ্গিতও দেওয়া হবে।




ইউক্রেনের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে রাশিয়ার পাশে যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধ ৩ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে ভোটাভুটি হয়েছে এবং জাতিসংঘে দুটি ভিন্ন ভোটে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এদিন ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহিত হয়েছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয়, প্রস্তাবে সেই দাবিও করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতিসংঘে ভোটাভুটিতে যুক্তরাষ্ট্র দুবার রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান টানা তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের পরিবর্তনের বিষয়টিই তুলে ধরছে।

প্রথমে দুটি দেশ মস্কোর কর্মকাণ্ডের নিন্দা এবং ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে একটি ইউরোপীয় খসড়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। তারপরও ওই প্রস্তাটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস হয়।

সংবাদমাধ্যম বলছে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ৩ বছর সম্পন্ন হয়েছে। এই আবহে জাতিসংঘে সোমবার ইউরোপ সমর্থিত একটি প্রস্তাব গৃহিত হয়েছে। সেই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেনের ভূখণ্ড থেকে যেন সেনা প্রত্যাহার করে নেয় রাশিয়া। এই প্রস্তাব জাতিসংঘে গৃহিত হওয়াটা মস্কোর জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জাতিসংঘের মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরও একটি প্রস্তাব সামনে আনা হয়। সেখানে যুদ্ধের সমাপ্তির কথা বলা হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে রাশিয়ার আগ্রাসনের কথা উল্লেখ ছিল না। সেই প্রস্তাব জাতিসংঘের সাধারণ সভায় প্রত্যাখ্যাত হয়। এটা নিঃসন্দেহে ট্রাম্প সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের নিন্দা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে ভোটাভুটিতে রাশিয়ার সঙ্গেই এক সুর ছিল আমেরিকার। এই প্রস্তাবে রাশিয়ার সঙ্গে শুধু আমেরিকাই ছিল না, রাশিয়া পাশে পেয়েছে বেলারুশ, উত্তর কোরিয়া এবং সুদানকেও।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় মার্কিন প্রস্তাবের পাশে থাকতে ইউক্রেনকে তার প্রস্তাব তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত আমেরিকার প্রতিনিধি। তবে নিজের অবস্থানে অনড় ছিল ইউক্রেন। এছাড়া মার্কিন প্রস্তাবের খসড়ায় ইউরোপ পক্ষের কিছু সংস্কারের দাবিকেও মেনে নেওয়ার কথা বলা হয়। যেখানে উল্লেখ করা ছিল— প্রতিবেশী দেশে হামলা করে জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন করেছে রাশিয়া।

অন্যদিকে জাতিসংঘে এদিনের ভোটাভুটিতে ইউক্রেনের পক্ষে সমর্থন ছিল বেশ কম। ভোটাভুটিতে ৯৩ টি দেশ তাদের প্রস্তাবের সমর্থন করে। ১৮ টি দেশ বিরোধিতা করে। আর ৬৫ টি দেশ ভোটাভুটি থেকে বিরত ছিল।

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নিয়ে বৈশ্বিক সমর্থন ছিল চোখে পড়ার মতো। এর আগে বিশ্বের ১৪০ টি রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা করেছিল। সেই জায়গা থেকে সর্বশেষ এই ভোটাভুটিতে কিয়েভের পক্ষে পড়া ভোটের সংখ্যা কমে যাওয়াকে বেশ তাৎপর্যের বলে মনে করা হচ্ছে।




দশমিনায় এক রাতে ২২ ঘর চুরি, আতঙ্কে মতুয়া সম্প্রদায়ের পরিবার

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক রাতেই ২২টি ঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের আউলিয়াপুর গ্রামে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাড়িগুলোতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় মাস আগে মতুয়া সম্প্রদায় ও কৃষ্ণ ভক্তদের মধ্যে মন্দির দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়, যেখানে কৃষ্ণ ভক্তদের একজন নিহত হন। এ ঘটনায় মামলা হলে মতুয়া সম্প্রদায়ের পুরুষ সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। ফলে সম্প্রদায়টির পরিবারগুলোতে কেবল নারী ও শিশুরা অবস্থান করছিল।

সোমবার রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে চোরচক্র একযোগে ২২টি ঘরে হানা দেয়। ফজরের আজানের সময় উত্তম চন্দ্র হাওলাদার প্রকৃতির ডাকে বাইরে বের হয়ে দেখেন, তার ঘরের দরজা খোলা, মালামাল এলোমেলো পড়ে আছে। চিৎকার দিলে অন্য ঘর থেকেও লোকজন বের হয়ে একই অবস্থা দেখতে পান। চোরেরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, থালা-বাটি ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী উত্তম চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “একসঙ্গে এতগুলো ঘর চুরির ঘটনা দশমিনায় প্রথমবার ঘটল। একটি দক্ষ চক্রই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”

বকুল চন্দ্র হাওলাদার বলেন, “আমাদের সম্প্রদায়ের পুরুষরা মামলা সংক্রান্ত কারণে এলাকা ছেড়ে থাকায় দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত রয়েছে।”

কৃষ্ণ ভক্ত স্বপন বলেন, “এক রাতে ২২টি ঘর চুরি হওয়ার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানাই।”

রনগোপালদী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অসিম সমাদ্দার বলেন, “মতুয়া সম্প্রদায়ের পুরুষশূন্যতার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ চুরি নয়, স্থানীয় ও অন্য উপজেলার লোকজন জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি।”

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ভাতিজা হত্যাকাণ্ড: চাচাসহ ৪ আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচার হাতে ভাতিজা শামীম (৩০) হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন

  • কুদ্দুস সিকদার (৫৫)
  • তার স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪৮)
  • পুত্র এনামুল সিকদার (২৩)
  • মেয়ে সুখী বেগম (২৫)

গ্রেফতার অভিযান

পটুয়াখালী র‍্যাব-৮ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ এর তথ্য অনুযায়ী শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এসময় ফজলু সরদারের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে র‍্যাব-১২। পরে তাদের পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং রবিবার সকালে তাদের গলাচিপায় নিয়ে আসা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের ঘটনা

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গলাচিপা উপজেলার গ্রামর্দন গ্রামে চাচা কুদ্দুস সিকদার বিরোধীয় জমিতে বসতঘর তুলতে গেলে ভাতিজা শামীম সিকদারসহ কয়েকজন বাধা দেন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। শামীমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৫ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

এ ঘটনায় নিহতের মা করফুল নেছা বাদী হয়ে গলাচিপা থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার হওয়া চারজনই ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

গলাচিপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সৈয়দউজ্জামান বলেন, “শামীম হত্যার ঘটনায় গলাচিপা থানায় মামলা হলে প্রযুক্তি ও র‍্যাবের সহায়তায় আসামিদের পাবনা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম