সিমিত পরিসরে বরিশাল বিভাগীয় সদরে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু

অবশেষে বরিশাল বিভাগীয় সদরে টিসিবির নির্ধারিত কিছু নিত্যপণ্য ট্রাকযোগে বিক্রি শুরু হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮টি বিভাগীয় সদরে ট্রাকযোগে টিসিবি পণ্য বিক্রি শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও বরিশালে তা শুরু হয়নি। তবে গতকাল থেকে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ১০টি মিনি ট্রাকের মাধ্যমে ছোলাবুট, চিনি, ভোজ্যতেল, মুসুর ডাল ও খেজুর বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়।

টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক জানান, মাথাপিছু ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি, ৫০০ গ্রাম খেজুর, ২ কেজি মুসুর ডাল ও ১ কেজি ছোলা বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যের বিক্রি মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছে: ভোজ্যতেল ১০০ টাকা লিটার, ছোলা ৬০ টাকা কেজি, চিনি ৭০ টাকা কেজি, মুসুর ডাল ৬০ টাকা কেজি, এবং খেজুর ১৫৫ টাকা কেজি।

তবে, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য মাত্র ১০টি মিনি ট্রাকে এই পণ্য সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় ভোক্তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়া, ৩৫ হাজার ফ্যামিলি কার্ডধারীকে পণ্য কিনতে সুযোগ দেওয়া হলেও, প্রায় ৪৯ হাজারেরও বেশি কার্ডধারী এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে ট্রাকযোগে পণ্য বিক্রি কার্যক্রমকে সাধারণ জনগণ সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অংশের মানুষ সরকার নির্ধারিত মূল্যে নিত্যপণ্য কিনতে পারছেন। বরিশালের ৩০টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের দাবি উঠেছে, পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলা ও উপজেলা সদরেও এই পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চালু করার দাবি জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




চলছে স্বরূপকাঠী কলেজিয়েট একাডেমীর সুবর্ণজয়ন্তীর প্রস্তুতি

পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী কলেজিয়েট একাডেমী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১ জানুয়ারি। এবার ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ায় স্কুলটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিশেষ সুবর্ণজয়ন্তী আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। এই উপলক্ষে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পাট গবেষণা কেন্দ্রের অফিসার্স ক্লাবে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একাংশ উপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে, যাতে দেশের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করতে পারেন।

এ বিষয়ে স্বরূপকাঠী কলেজিয়েট একাডেমীর অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল বেরুনী জানান, “নিবন্ধন কার্যক্রম শুধু ঢাকা ও স্বরূপকাঠী নয়, সারা দেশে ব্যাচভিত্তিকভাবে করা হচ্ছে। বিদেশে অবস্থানরত অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশগ্রহণ করবেন, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। তাই আমরা বিশেষভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নাম নিবন্ধন করে ফেলুন।”

স্বরূপকাঠী কলেজিয়েট একাডেমী দীর্ঘ পাঁচ দশকের শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থীকে প্রেরণা জুগিয়েছে এবং তাদের শিক্ষা জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এবার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো উদযাপন করবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশ-ঈমান রক্ষা ও ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ

ঝালকাঠির নেছারাবাদ দরবারের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ঈসালে-সওয়াব ওয়াজ-মাহফিলের সমাপনী দিনে দেশ-ঈমান রক্ষা এবং ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ গ্রহণ করা হয়েছে। বাদ ফজর শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এই মাহফিলের শেষ দিনে সভাপতিত্ব ও আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের গদিনশীন পীর ছাহেব, আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর।

মাহফিলের আগের দিন, রোববার সকাল ১০টায় দেশের খ্যাতনামা পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এই জলসায় আলেমসমাজের ঐক্য এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে একটি গণমুখী ইসলামী সরকার কায়েমের ব্যাপারে উপস্থিত লাখো মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইসলামী জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, যা সাধারণত অন্যান্য মাহফিলে দেখা যায় না।

সমাপনী বয়ানে হযরত নেছারাবাদী পীর ছাহেব হুজুর দেশ ও ঈমান রক্ষা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ইসলামের বাস্তবতা হলো, সৃষ্টির সবকিছু স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ইসলাম মেনে নিয়েছে। তবে মানুষের ইচ্ছাশক্তির উপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করেন। সুতরাং আমাদের জীবনকে মাওলার ইচ্ছাধীন করে জান্নাতের মুস্তাহেক হতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন মাওলানা গাজী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদির আল-মাদানী, মাওলানা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ আযীযাবাদী, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকী, মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বোখারী, মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, প্রফেসর ড. মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল হক সহ দেশের বিশিষ্ট আলেমরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ৩টি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি

বরগুনায় তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়ে ঢাকাস্থ বরগুনা জেলা সমিতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এন এম নাসির উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বরগুনায় আগে তিনটি সংসদীয় আসন ছিল, কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি আসন বাদ দিয়ে দুটি সংসদীয় আসন রাখা হয়। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা দক্ষিণাঞ্চলের এই অঞ্চলের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।

এসময় সংগঠনের নেতারা সিইসির কাছে তাদের দাবির সমর্থনে পুনর্বহালের আহ্বান জানান। তারা জানান, এই পরিবর্তন জনস্বার্থে ক্ষতিকর এবং বরগুনার জনগণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু, সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মল্লিক, উপদেষ্টা ডা. সুলতান আহমদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুল হাশেম, সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিনা চাষে সরিষা আবাদে বিপুল ফলন

বরিশালে চাষ ছাড়াই সরিষার বাম্পার ফলন, যা দেখে এলাকার কৃষকরা চমকে গেছেন। বিশেষভাবে, কোনো ধরনের জমি চাষ না করেও এই অঞ্চলে সরিষার সফল আবাদ হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কৃষক মো. গোলাম কবির জানিয়েছেন, আমন ধান পাকার আগে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ধান কাটা হলে প্রয়োজনীয় সার ও ওষুধ দেয়া হয় এবং এই প্রক্রিয়াতে জমিতে কোনো চাষ করতে হয় না। এভাবে বিনা চাষে সরিষার আবাদ সফল হওয়ায় কৃষকরা খুশি। তার মতে, জমি চাষ ছাড়াই সরিষা আবাদ করা সম্ভব এবং ফলনও চমৎকার হয়।

গোলাম কবির আরও বলেন, “প্রথমবার পাঁচ বছর আগে বিনা চাষে সরিষার আবাদ শুরু করি, তখন থেকে কৃষকদের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। আজকাল আমাদের এলাকায় প্রায় ৯০% কৃষক বিনা চাষে সরিষা রোপণ করছেন।” তিনি জানালেন, এই পদ্ধতিতে আবাদে খরচ কম, শ্রমও কম লাগে এবং ফলনও ভালো হয়।

এ বিষয়ে ভবানিপুর গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “গোলাম কবিরকে দেখে আমি এই পদ্ধতিতে সরিষা আবাদ শুরু করি। প্রথমবার খরচও কম ছিল এবং ফলনও বেশ ভালো পেয়েছি।”

এছাড়া নারী কৃষক ফজিলাতুন্নেছা জানান, “বিনা চাষে সরিষা আবাদে শুধু সার দিতে হয় এবং মাটির পরিস্থিতি অনুযায়ী সেচ দিতে হয়। এর বেশি কিছু করতে হয় না।”

স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, “পাঁচ বছর আগে যখন প্রথম বিনা চাষে সরিষা আবাদ শুরু হয়েছিল, তখন অনেকেই এটি নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু এখন ৯০% কৃষকই এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।”

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) মোসা. ফাহিমা হক জানান, “বরিশাল অঞ্চলে আমন ধান একটু দেরিতে পাকে, ফলে ধান কাটার পর সরিষা রোপণ করা সম্ভব হয় না। তাই আমন ধান মাঠে থাকার সময়ই সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেয়া হয়। এতে খরচ কমে, কিন্তু ফসল উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয় না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“নিরপেক্ষ ও শক্ত হাতে দেশ পরিচালনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় রাখতে নিরপেক্ষভাবে এবং শক্ত হাতে সরকার পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আপনি যদি এই সরকারের নেতৃত্ব দেন, তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে, আপনি পক্ষপাতিত্ব ছাড়া শক্ত হাতে দেশের সরকার পরিচালনা করবেন।”

তিনি আরও জানান, অনেকে বিএনপিকে সমালোচনা করছে যে তারা শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। “আমরা শুধু নির্বাচন নয়, বরং সার্বিক সংস্কারের কথা বলছি। যখনই প্রকৃত নির্বাচন হবে, তখনই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজকাল নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে, যা দেশের শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর। তবে আমরা আশাবাদী যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধতায় আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শক্তি, জাতির দুঃসময়ে তারা সবসময় এগিয়ে এসেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এই বাহিনীর সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের নজির।”

মির্জা ফখরুল শেষের দিকে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একত্র হয়ে এবং ধৈর্য ধরে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সুদের টাকা গ্রহণ করব না, সেটা হারাম” : শাহরুখ খান

বলিউড কিং শাহরুখ খান সম্পর্কে নতুন একটি বিষয় প্রকাশ্যে এসেছে। প্রযোজক রেণু চোপড়া সম্প্রতি শেয়ার করেছেন একটি বিশেষ ঘটনা, যেখানে তিনি জানান, শাহরুখ খান তাঁর ছেলের সিনেমা প্রযোজনা করতে গিয়ে একেবারেই সুদের টাকা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিলেন।

রেণু চোপড়া জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অভয় চোপড়া পরিচালিত সিনেমা ‘ইত্তেফাক’-এর প্রযোজনা করতে শাহরুখ খান আর্থিক সাহায্য দেওয়ার জন্য এককথায় রাজি হয়েছিলেন। সিনেমার চিত্রনাট্য পর্যন্ত না পড়ে, শুধুমাত্র বিশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি বিনিয়োগ করেছিলেন।

রেণু আরও বলেছেন, “শাহরুখ খান সবসময় আমাদের পাশে ছিল। প্রথমে, আমি তাঁকে দেখা করতে বললাম, কিন্তু তিনি বললেন, ‘আপনি কেন আসবেন? আমি আসব আপনার কাছে।’ এই সম্মানবোধ ও আন্তরিকতা সত্যিই অসাধারণ।”

এরপর যখন সিনেমার প্রযোজনা নিয়ে আলোচনা হয়, শাহরুখ খান নিজে এসে ছবিটির প্রযোজনা করতে রাজি হন। তিনি কখনোই ছবির চিত্রনাট্য দেখেননি বা শোনেননি, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেছিলেন যে, তাঁর সাহায্য করা উচিত। শাহরুখ খানের মতে, “আমি ঘোড়দৌড়ে বিনিয়োগ করতে চাই না, আমি জকির উপর বিনিয়োগ করতে চাই, যিনি ঘোড়া চালান।”

এছাড়াও, ছবির শেষের দিকে যখন রেণু চোপড়া শাহরুখ খানকে তাঁর বিনিয়োগের টাকা ফেরত দিতে যান, শাহরুখ সোজা বলেন, “সুদের টাকা আমি নিতে পারব না, সেটা হারাম।”

এটা সত্যিই এক অসাধারণ চরিত্রের প্রতীক যা বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানকে আরও সম্মানিত করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা

বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে অ্যাপল কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তি খাতেও বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে।

তারা জানায়, আগামী চার বছরে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়া হবে এবং টেক্সাসে নতুন একটি সার্ভার কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

এর পাশাপাশি, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি তার উৎপাদন কার্যক্রম মেক্সিকো থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করবে। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব রয়েছে, যা বিদেশে তৈরি পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে, অ্যাপল বাধ্য হয়ে উৎপাদন প্রক্রিয়া মার্কিন মুলুকে নিয়ে আসছে।

অ্যাপলের এই পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক উন্নতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সরকারি হাসপাতালেই বেশি যান মানুষ

এ বছর সরকারি হাসপাতালেই বেশি যাচ্ছেন বরিশালের মানুষ, তবে সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা

বরিশালের মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, একটি জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত এক বছরে গড়ে ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে ৬২ শতাংশ মানুষ, এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ। তবে, ৩৯ শতাংশ জনগণ কখনোই বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে যাননি। এই মানদণ্ডে, গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বরিশালের গ্রামাঞ্চলের মানুষ সরকারি হাসপাতালেই বেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রামে সরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন ৬৩ শতাংশ মানুষ, যেখানে শহরে এই হার ৫৯ শতাংশ। বয়সের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৮-২৯ বছর বয়সী মানুষ, এই বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ৩০-৪৯ বছরের ৬২ শতাংশ ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ে একটি জনমত জরিপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮,২৫৬টি পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, কিন্তু সেবার মান তেমন সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মান ভালো হলেও মূল্য বেশ বেশি, যা বেশিরভাগ মানুষকেই বাধাগ্রস্ত করছে।

বরিশালের মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামেও সরকারি হাসপাতালের প্রতি আগ্রহের হার বেশি (৬৮% এবং ৬৭%)। ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার হার সবচেয়ে কম, যা ৫৭ শতাংশ।

বরিশালের চট্টগ্রামের তুলনায় মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে যায়। চট্টগ্রামে ৭৫% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি, ঢাকায় ৬৬% ও বরিশালে ৬৬% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন।

দেশে সাত ধরনের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে ৩৮% মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে, গ্রামে মানুষ প্রধানত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৪২%) এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে (২৭%) চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরে বেশিরভাগ মানুষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যার হার ৩৭%।

সার্বিকভাবে, সরকারি হাসপাতালগুলির সেবার গুণমান নিয়ে জনমনে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নত হলে, বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবাদানকারীদের আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া ৮১% মানুষ কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে ৭৭% মানুষ এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন, তবে শহরে এই সংখ্যা ৮৯%। অন্যদিকে, ৪% মানুষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বা পল্লী চিকিৎসকের সেবা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে, হাসপাতালগুলির সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের প্রতি ভালো আচরণ নিশ্চিত করা গেলে, সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশি আগ্রহী হবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আনিসুল হকের ১৪০ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ২৭টি ব্যাংক হিসাবের ১৪০ কোটি ১৭ লাখ ৮ হাজার ৫০ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম আবেদনটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনিসুল হক এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অসাধু উপায়ে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এমন অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে আনিসুল হকের ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুর্নীতি, অপরাধ এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম