অবশেষে ৬০২ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিচ্ছে ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গত শনিবার ছয় জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিলেও দখলদার ইসরায়েলের ৬০২ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেয়নি। চুক্তি ভঙ্গ করে তাদের মুক্তি আটকে রেখেছিল ইসরায়েল। অবশেষে আজ বুধবার তারা মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। তবে এর আগে আরও চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ ফেরত দেবে হামাস।

সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, তাসি ইদান, ওহাদ ইয়ালোমি, ইতজিক এলগারাত এবং সোলোমো মান্তজুর নামের চার ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ প্রথমে মিসরের কাছে হস্তান্তর করবে হামাস। সেখান থেকে এই মরদেহগুলো ইসরায়েলে পাঠানো হবে। তবে এই চারটি মরদেহ হস্তান্তারের সময় হামাস মঞ্চে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান করতে পারবে না।

প্রায় ১০ দিন আগে ইসরায়েলের চার জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয় হামাস।

ওই সময় মঞ্চ তৈরি করে ওই মরদেহবাহী কফিন প্রদর্শন করে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। এ নিয়ে আপত্তি জানায় দখলদার ইসরায়েল। এরপর শনিবার যখন ছয় জীবিত জিম্মির মুক্তির পরও ৬০২ ফিলিস্তিনি আটকে দেয় দখলদার ইসরায়েল।




নতুন ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে যারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখ সারির সমম্বয়কদের উদ্যোগে ‌‘শিক্ষা, ঐক্য, মুক্তি’ স্লোগান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস)’। তবে আত্মপ্রকাশকে কেন্দ্র করে নতুন দলের কমিটিতে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। তাদের বিক্ষোভের ফলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টায় মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশের কথা ছিল।

তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে তা পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে ও মধুর ক্যান্টিনের ভেতরে দুটি গ্রুপে নতুন ছাত্র-সংগঠনের নেতৃত্বে আসা বাকের-জাহিদও সংগঠনের নামে স্লোগান দেন। অন্যদিকে মধুর ক্যান্টিনের সামনে আরেকটি গ্রুপ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে নতুন কমিটির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।

এসময় তারা ‌‘ঢাবির সিন্ডিকেট ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, ‘ঢাবির কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘প্রাইভেটের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘প্রাইভেট ছাড়া কমিটি, মানি না মানবো না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রশীদুল ইসলাম রিফাতকে নিয়েও স্লোগান দেন তারা। তাদের বলতে শোনা যায়, ‘দুঃসময়ের রিফাত ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘রিফাত ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।

একদিকে কমিটি ঘোষণা আটকানোর চেষ্টা করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে কমিটি ঘোষণা দিতে তৎপরতা।

একপর্যায়ে উভয় পক্ষে শুরু হয় উত্তেজনা। দুই পক্ষের হাতাহাতির মধ্যেই আবু বাকের মজুমদার ঘোষণা দেন নতুন ছাত্র সংগঠনের। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হন। বিকাল সোয়া ৫টার দিকে মধুর ক্যান্টিন থেকে প্রস্থান করে উভয়পক্ষের লোকজন। তবে মধুর ক্যান্টিনের আশপাশেও বিশৃঙ্খলভাবে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সোয়া ৬টা) ক্যাম্পাসের হল পাড়া ও মধুর ক্যান্টিনের পাশে অবস্থান নিতে দেখা যায় উভয়পক্ষের লোকজনকে।
নতুন ছাত্র-সংগঠনের একাধিক উদ্যোক্তা জানান, মূলত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রশীদুল ইসলাম রিফাত (রিফাত রশিদ) এর শীর্ষ পদে আসা নিয়ে বিভক্তির সূত্রপাত। রিফাত রশিদ শীর্ষ চারপদের একটিতে আসতে চান। কিন্তু সংগঠনের নারী সদস্যদের বিরোধিতার কারণে তাকে শীর্ষ পদ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে রিফাত রশিদের অনুসারী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বিক্ষোভরত অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে ঢাকা কলেজের ইন্টারমেডিয়েট শিক্ষার্থী নাহিদ হক বলেন, আমি রিফাত রশিদ ভাইয়ের জন্য আসছি। যখন ৬ সমন্বয়ক ডিবি হেফাজতে তখন কোটি টাকার প্রলোভনের মুখেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এখন রিফাত রশিদকে মাইনাস করা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে জানতে রশীদুল ইসলাম রিফাতকে (রিফাত রশীদ) একাধিকবার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।




পবিপ্রবির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য আয়োজন

দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম কেন্দ্র পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) তাদের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করা হলো।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ক্যাম্পাসজুড়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় বৃক্ষরোপণ ও রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান এবং প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। উপাচার্য বলেন,
“দক্ষ জনশক্তি তৈরি, উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আমরা নিরলস কাজ করছি। ভবিষ্যতে পবিপ্রবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করবো।”

দুপুরের পর কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, হাঁড়িভাঙা, হাঁস-মুরগি দৌড় ও রশি টানাটানির মতো জনপ্রিয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিকেলে টিএসসি কনফারেন্স হলে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষার্থী হল, একাডেমিক ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস সাজানো হয়। প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ, রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহ নান্দনিকভাবে সাজানো হয়।

বর্তমানে পবিপ্রবিতে ৮টি অনুষদে প্রায় ৪,২৯৬ শিক্ষার্থী স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। এখানে ২৪৭ জন শিক্ষক, ২২০ জন কর্মকর্তা ও ৪৮৯ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন।

উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৪৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় নতুন একাডেমিক ভবন, হল, মিনি স্টেডিয়াম, আধুনিক ব্যায়ামাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। গবেষণায়ও বিশ্ববিদ্যালয়টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, ইতোমধ্যে ৮০১টি গবেষণা প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উপাচার্য বলেন,
“আমরা গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে জোর দিচ্ছি। দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসারে পবিপ্রবি এখন একটি গর্বের নাম।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আহত ১১

ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতের এই হামলায় বিএনপির ১১ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন, তাদের মধ্যে যুবদলের ২টি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনা মদনপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডে ঘটেছে। আহতদের মধ্যে যুবদলের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন, ৪ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি মো. নাছির, সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল জমাদ্দার, যুবদলের সদস্য মো. জামাল, আবু সাইদ, ইয়াকুব, মো. শাহিন, মো. আরিফ, মোঃ শরিফ, ঝিলন ও মোঃ হেজু বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অভিযোগ করা হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহার, শিপন, শফিক, জাহাঙ্গীরসহ কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়েছে। হামলার সূত্রপাত হয় একটি ক্রিকেট খেলার ঘটনা থেকে, যা পরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। হামলাকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এ বিষয়ে ভোলা সদর থানার ওসি হাসনাইন পারভেজ জানান, “এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা

সিলেটে হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ইমামদের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি বলেন, ইমামদের বক্তৃতায় জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোর আলোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা মানুষের জীবনে কাজে লাগতে পারে এবং জাতিকে উপকৃত করবে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “হাওর এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইমামদের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ড. খালিদ হোসেন আরো বলেন, ইমামরা মসজিদের খুতবায় সমসাময়িক এবং জীবনের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি তুলে ধরলে জনগণ তা মেনে নেবে এবং এভাবে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তিনি খুতবায় অতীতের ইতিহাস এবং ভিত্তিহীন বিষয়বস্তু পরিহার করার আহ্বান জানান এবং ইমামদেরকে আয়ের উৎস বৃদ্ধির জন্য কাজ করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রণীত খুতবায় সন্ত্রাস, দুর্নীতি, মাদক, নারী নির্যাতন, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব-দায়িত্ব এবং অন্যান্য সামাজিক ও জীবনধর্মী বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইমামরা হাওরাঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ইমামরা শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, সামাজিক ইস্যুতেও কাজ করতে পারেন এবং জাতির সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইমামদের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বনাঞ্চল রক্ষা, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য অনুরোধ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগের কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. রেজাউল করিম, পিপিএম-সেবা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক বজলুর রশীদ। সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তা, ইমাম, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কবি হেলাল হাফিজের জীবনের গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘কি যেন ভুলতে চেয়েছিলাম’

বাংলা সাহিত্যজগতের অন্যতম জনপ্রিয় কবি হেলাল হাফিজের জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ নাটক ‘কি যেন ভুলতে চেয়েছিলাম’। কবির জীবনের অদেখা এক অধ্যায়, তার ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী এবং জীবনের গল্প এখন পর্দায় তুলে ধরেছেন নির্মাতা রুবেল আনুশ।

কবি হেলাল হাফিজ, যিনি তার কবিতার জন্য পরিচিত, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে ছিলেন এক তুখোড় প্রেমিক। কিন্তু প্রেমিক হিসেবে তিনি ছিলেন ব্যর্থ। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি কাটিয়েছেন সেই ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণা নিয়ে। তার জীবনের গল্পে রয়েছে এমন কিছু অভিজ্ঞতা, যা চোখে জল আনতে বাধ্য করবে।

নাটকটির গল্পে কিশোর হেলাল হাফিজের প্রেমের গল্পের মধ্যে দিয়ে তার জীবন তুলে ধরা হয়েছে। নাটকটির গল্পে দেখা যাবে, কিশোর হেলাল হাফিজ প্রেম করতেন হেলেন নামে এক কিশোরীর সঙ্গে। নেত্রকোনায় তারা প্রতিবেশী ছিলেন। কিন্তু হেলেনের বাবা, দারোগা বাবু, তাদের প্রেম মেনে নেননি। তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেন ঢাকায় এক সিনেমা হলের মালিকের সঙ্গে।

হেলাল হাফিজও ঢাকায় চলে যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। তার একমাত্র কবিতার বই প্রকাশ পায়, ‘যে জলে আগুন জ্বলে!’ হেলেনের স্বামী বইটি কিনে তাকে উপহার দেন। বইটি পড়ে হেলেন অনুভব করেন, পুরো কবিতার বই জুড়ে তার প্রেমিক হেলাল হাফিজের আকুতি ছিল তাকে না পাওয়ার। এই পড়ার পরই মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে তিনি ধীরে ধীরে পাগল হয়ে যান। একসময় তার স্বামী তাকে তালাক দেন এবং হেলেন নেত্রকোনায় ফিরে যান, যেখানে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

নাটকটির মধ্যে হেলাল হাফিজের সেই ব্যর্থ প্রেম এবং তার জীবনের এক গভীর কষ্টের গল্প ফুটে উঠেছে। নাটকটি দর্শকদের সামনে এনে দিয়েছে এক কবির হৃদয়বিদারক গল্প। নাটকটির প্রধান চরিত্র হেলাল হাফিজের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জুনায়েদ আহমেদ বোগদাদী এবং তার প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তন্নি মাহমিদ তৃণা।

নাটকটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন অব্রাহাম তামিম। এই নাটকটি বর্তমানে গ্লোবাল টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে উপভোগ করা যাচ্ছে।

“কবি হেলাল হাফিজের জীবন এক গভীর যন্ত্রণা এবং নিঃসঙ্গতার গল্প। তার প্রেমের ব্যর্থতা তার হৃদয়ে চিরকাল বয়ে চলেছে। এই নাটকের মাধ্যমে তার সেই অব্যক্ত কষ্টগুলো পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। আশা করছি, দর্শকরা কবির জীবনের এই অজানা দিকটি অনুভব করতে পারবেন।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তিন উপজেলার সাংবাদিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন ও রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিস্ফোরক মামলায় আসামি করার প্রতিবাদে এবং তাকে দ্রুত মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে তিন উপজেলার সাংবাদিকরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে দশটায় গৌরনদী প্রেসক্লাবের আয়োজনে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশ্ববর্তী গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের আহবায়ক মো. গিয়াস উদ্দিন মিয়া, এবং বক্তব্য রাখেন কো-আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান রিপন, খোকন আহম্মেদ হীরা, বদরুজ্জামান খান সবুজ, কাজী আল-আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এ সময় গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা দাবি জানান, সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে অনতিবিলম্বে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে দায়ের করা বিস্ফোরক মামলায় অব্যাহতি দেওয়া হোক, এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি শাকিল মাহমুদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার না করা হয়, তবে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, ১৮ ফেব্রুয়ারি উজিরপুরের সোনারবাংলা এলাকায় একটি জঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় তিনটি ককটেল ও দুটি পেট্রোল বোমা সদৃশ্য বোতল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিলেও, রহস্যজনকভাবে বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সবুজ হাওলাদার বাদি হয়ে ৭৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ছাত্রদল, ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ সাংবাদিক শাকিল মাহমুদ বাচ্চুকে আসামি করা হয়। তবে বাদি সবুজ হাওলাদার দাবি করেছেন, তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতাদের চাপের মুখে মামলার বাদি হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের দাপট, টেস্ট সিরিজ জয়

বাংলাদেশ নেপালকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই পাঁচ ম্যাচের কাবাডি টেস্ট সিরিজ জয় করেছে। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত চতুর্থ ম্যাচে বাংলাদেশ ৪৯-২৪ পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করে সিরিজ নিশ্চিত করে।

এই ম্যাচে জয়ের পরই সিরিজের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়, কারণ নেপালের জন্য সিরিজে টিকে থাকতে জয় ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৫৩-২৯ পয়েন্টে নেপালকে পরাজিত করলেও, দ্বিতীয় ম্যাচে নেপাল ৪৫-৪২ পয়েন্টে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা আনে। তবে তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৪২-৩৭ পয়েন্টে নেপালকে হারিয়ে আবারও সিরিজে এগিয়ে যায়।

প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে সেই ধারাটা বজায় রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে চতুর্থ ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ফিরে আসে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথম ছয় মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ দুটি লোনা পায় এবং বেশ শক্তিশালী অবস্থানে চলে আসে। প্রথমার্ধে ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ, তাদের সংগ্রহ ছিল ৩১ পয়েন্ট, আর নেপালের ছিল ১৮ পয়েন্ট।

দ্বিতীয়ার্ধেও উজ্জীবিত বাংলাদেশ সহজেই জয় পায় এবং সিরিজ নিশ্চিত করে। আগামী শুক্রবার সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ম্যাচটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার জন্য অনুষ্ঠিত হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরে দাঁড়ালেন জোনায়েদ ও রাফে




থাইল্যান্ডে ডাবল-ডেকার বাস দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত

থাইল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় প্রাচীন বুরি প্রদেশে একটি ভয়াবহ ডাবল-ডেকার বাস দুর্ঘটনায় ১৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছে। আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) জানানো হয়েছে, বাসটি পাহাড় থেকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটনাস্থলে ১৭ জন নিহত হয় এবং পরে হাসপাতালে আরও একজন মারা যান। এছাড়া, আরও ৩১ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিওয়াপাস ফুরিপাচাইবুনচু জানান, বাসটির চালক জানিয়েছেন যে, পাহাড় থেকে নামার সময় ব্রেক ফেল করার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় বাসে মোট ৪৯ জন যাত্রী ছিল এবং যারা বেঁচে গেছেন, তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডে সড়ক দুর্ঘটনা খুবই সাধারণ, এবং দেশটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সড়ক দুর্ঘটনা মৃত্যুর হার ধারণ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

গত বছর অক্টোবরে ব্যাংককের শহরতলীতে একটি স্কুল বাস দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ছিল শিশু। এছাড়া, ২০১৪ সালে একটি ১৮ চাকার ট্রাকের সাথে বাসের সংঘর্ষে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছিল, অধিকাংশই স্কুল শিক্ষার্থী ছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম