পটুয়াখালীর বাউফলে কৃষকের তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাই, চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাঁদার দাবিতে কৃষকের তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া ৫০০ তরমুজ উদ্ধার করে ভুক্তভোগী কৃষকের ছেলেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন—নাজিরপুর ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মো. সাইফুল (৩৫), মো. মেহেদী হাসান (২০) ও গোলাম মুর্তজা (৪০)। এর মধ্যে সাইফুল নাজিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে উপজেলা ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কৃষক মো. মানিক ব্যাপারী তার খেত থেকে ৮৬০টি তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠিয়ে বরিশালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল দেশি অস্ত্রসহ ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে এসে ট্রলারের চালককে মারধর করে এবং তরমুজভর্তি ট্রলারটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে নিমদী লঞ্চঘাটের পাশে ইটভাটার কাছে নোঙর করে চাঁদা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী কৃষক জানান, ট্রলার ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কৃষক মানিক ব্যাপারী ও তার ছেলেকে মারধর করে তরমুজ অন্য ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ট্রলারটি ফেরত দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় বুধবার রাত ১২টার দিকে মানিক ব্যাপারী বাদী হয়ে মো. সাইফুলসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেন।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া ৫০০ তরমুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুলের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








