মেয়ের বাড়ি যাওয়া হলো না বৃদ্ধা সুনীতির

বরিশালের উজিরপুরে ইজিবাইকের চাকায় শাড়ির আঁচল পেঁচিয়ে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন সুনীতি মিস্ত্রী (৭০)। শনিবার (১ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মেয়ের বাড়ি মাদার্শীতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর এলাকার বাসিন্দা নগেন মিস্ত্রীর স্ত্রী সুনীতি মিস্ত্রী ইজিবাইকে চড়ে চতলবাড়ী মোড় অতিক্রম করছিলেন। এ সময় হঠাৎ তার শাড়ির আঁচল ইজিবাইকের চাকায় পেঁচিয়ে যায়, এতে তিনি গলায় ফাঁস লেগে গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের বক্তব্য
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এ বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ইজিবাইক চালকদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলে মত দিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় বেড়েই চলেছে প্রাণহানি, ধ্বংসস্তূপে মিলল আরও ২৩ লাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আরও ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর ফলে অবরুদ্ধ এই উপত্যকাটিতে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ৪৮ হাজার ৪০০ জনে পৌঁছেছে।

দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় পর গত জানুয়ারি মাসে ফিলিস্তিনের গাজায় কার্যকর হয়েছে যুদ্ধবিরতি চুক্তি। তবে এরপর থেকেই সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে নিহতদের লাশ। আর এতে করে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির সংখ্যা।

শনিবার (১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকর্মীরা গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে আরও ২৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন। এর ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৩৮৮ জনে পৌঁছেছে বলে শনিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি গোলাবর্ষণে গত ৪৮ ঘণ্টায় দুজন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন এবং তারাও প্রাণহানির এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া আরও ২৩ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এতে করে ইসরায়েলি আক্রমণে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৮০৩ জনে পৌঁছেছে। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় পড়ে থাকলেও উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।




ছোটখাটো লেনদেনে লাগবে না পিন, নতুন ফিচার হোয়াটসঅ্যাপের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রযুক্তির উন্নতিতে লেনদেনের জন্য এখন আর ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না মনুষকে। অধিকাংশ মানুষই যাবতীয় লেনদেন করেন অনলাইনেই। সেই কথা মাথায় রেখে আগেই পেমেন্ট ফিচার এনেছিল হোয়াটসঅ্যাপ। এবার মিলতে চলেছে বাড়তি সুবিধা।

পেমেন্ট সংক্রান্ত ফিচারে বড়সড় পরিবর্তন আনছে মেটা মালিকানাধীন অ্যাপটি। যার ফলে লেনদেন আরও সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। হোয়াটসঅ্য়াপে পেমেন্টের এই নতুন ফিচার গুগল পে, ফোন পে-কে রীতিমতো টেক্কা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউপিআই লাইট নামে নতুন ফিচার আনতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ। সংস্থার দাবি, এবার লেনদেন হবে আরও সহজ। ছোটখাটো লেনদেনে আর লাগবে না পিন। ফলে আরও কম সময়ে পাঠানো যাবে টাকা। ইতোমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ফিচার চালু করা হয়েছে। পরে সবাই এই ফিচারের সুবিধা পাবেন।

হোয়াটসঅ্যাপে নতুন সুবিধা, অটো অনুবাদ হবে মেসেজ
হোয়াটসঅ্যাপে স্টিকার দিয়ে ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা
এছাড়াও আরও একটি ফিচার আসছে হোয়াটসঅ্যাপে। সেটি হলো অডিও মেসেজ ট্রান্সলেশন। আগেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ফিচার চালু হয়েছিল। এবার সবাই এই ফিচারের সুবিধা পাবেন। ‘স্পিচ রেকগনিশন টেকনোলজি’ ব্যবহার করে অডিও মেসেজ লিখিত টেক্সটের চেহারা দেবে নতুন ফিচার। কেবল ইংরেজি নয়, অন্য ভাষাতেও টেক্সট করা যাবে।




রোজা রাখার ৫ স্বাস্থ্য উপকারিতা জেনে নিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রমজান মাসে রোজা রাখার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বের পাশাপাশি অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। এই মাসে রোজা রাখার মাধ্যমে শরীরকে খাবার থেকে বিরতি দেওয়া হয়। যা আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই পবিত্র মাসে রোজা রাখলে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক উভয় উভয় অর্জন করা যায়। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক রোজা রাখার ৫টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে-

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

রোজা রাখার ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের উৎপাদন হ্রাস করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎপাদন বৃদ্ধি করে, যা অসুস্থতা এবং রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। পুষ্টিবিদদের মতে, রোজা অন্ত্রের আস্তরণকে শক্তিশালী করে। এটি অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকারক এবং ক্ষতিগ্রস্ত উপাদান থেকে কোষকে পরিষ্কার করে।

২. ইনসুলিন
রোজা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
রোজার সময় শক্তির জন্য সঞ্চিত গ্লুকোজের ওপর নির্ভর করলে শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়, যার ফলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়। গবেষণা অনুসারে, রমজান মাসে রোজা রাখার ইতিবাচক ফলাফল রয়েছে। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে।

৩. ওজন কমায়

ওজন কমানোর জন্য রোজা একটি দুর্দান্ত উপায়। সাহরি ও ইফতারে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্যালোরি গ্রহণ কমিয়ে এই মাসে ওজন কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে রমজান মাস ছাড়া বছরের অন্যান্য সময়েও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রলোভন এড়াতে হবে।

৪. হৃদরোগের জন্য ভালো

রোজা রাখলে তা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে, যা প্রদাহ কমাতে এবং রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করতে সহায়তা করে। তবে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ আছে তাদের রোজা শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৫. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে

রোজা রাখার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকারিতার মধ্যে একটি হলো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উন্নতি। রমজান মাসে মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রপিক ফ্যাক্টর (BDNF) উৎপাদন বেশ বৃদ্ধি পায়। BDNF হলো একটি প্রোটিন যা মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি এবং বেঁচে থাকার জন্য সহায়তা করে। এটি স্মৃতিশক্তি, শেখা এবং মানসিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করে।




রমজানে নতুন সূচিতে চলবে পুঁজিবাজারের লেনদেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রোববার (২ মার্চ) শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। এ উপলক্ষ্যে দেশের পুঁজিবাজারের লেনদেন সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

রমজান মাসে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত পুঁজিবাজারে লেনদেন চলবে। এর মধ্যে শেষ ১০ মিনিট পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে। সে হিসেবে রোজায় পুঁজিবাজারে ৪০ মিনিট কম লেনদেন হবে।

সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোজায় সকাল ১০টা থেকে থেকে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চলবে। এরপর ১০ মিনিট হবে ‘পোস্ট ক্লোজিং সেশন’। তবে ডিএসই দাপ্তরিক কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে।

সাধারণত পুঁজিবাজারে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন চলে। এরপর ১০ মিনিট থাকে পোস্ট ক্লোজিং সেশন।




জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজ থেকে যেভাবে চলে যেতে বলা হয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্যে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোর পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নির্ধারিত সময়ের আগে হোয়াইট হাউজ থেকে বেরিয়ে যান। এরপর জানা যায়, জেলেনস্কিকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক মাইক ওয়াল্টজ ফক্স নিউজকে শনিবার (১ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাকেই জেলেনস্কিকে কাছে পাঠানো হয়। ওই সময় তিনি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে জানিয়ে আসেন, ‘তিনি এখানে আর স্বাগত না।’

মাইক ওয়াল্টজ বলেন, “বাক বিতণ্ডার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, আমি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরামর্শ দেই, ওভাল অফিসে সেই অপমানের পর, আমরা আর আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কারণ দেখতে পারছিলাম না। ওই সময় যদি আলোচনা হতো তাহলে বিষয়টি আরও পেছন দিকে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জেলেনস্কিকে বলি, এখানে সময় আপনার পক্ষে নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে সময় আপনার পক্ষে নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় আপনার পক্ষে নেই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাকে বলি, ‘মার্কিন করদাতাদের ধৈর্য্যও সীমিত নয়।”

ফক্স নিউজের উপস্থাপক তাকে জিজ্ঞেস করেন জেলেনস্কি কী ওই সময় পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন। জবাবে ট্রাম্পের এই নিরাপত্তা পরামর্শক বলেন, “না তিনি বুঝতে পারেননি, সত্যি বলতে। তার দল বুঝতে পেরেছিল। তার রাষ্ট্রদূত এবং পরামর্শক বাস্তবতা বুঝতে পারে। আমি বোঝাচ্ছি, তারা রীতিমতো কাঁদছিল যেন আলোচনা সামনে এগিয়ে যায়। কিন্তু জেলেনস্কি তখনও তর্ক করছিল।”

এদিকে হোয়াইট হাউজে ‘অপদস্থ’ হলেও ইউরোপের নেতারা জেলেনস্কির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তারা ইউক্রেনের পাশে থাকবেন।




নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ফাল্গুনী গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ফাল্গুনী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১ মার্চ) ফাল্গুনী দাসকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার শাহবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর।

চবি ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রূমী বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমরা কয়েকজন বন্ধু বইমেলা প্রাঙ্গণে ছিলাম। হঠাৎ ফাল্গুনী দাসের মতো একজনকে দেখতে পাই, তিনি উজান প্রকাশনীর স্টলের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। নিশ্চিত হয়ে সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুরকে কল দিলে তিনি এসে ফাল্গুনী দাসকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ফাল্গুনী দাস বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উসকানিদাতা। এ ছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।

শাহবাগ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের চবি শাখার সহ-সভাপতি ফাল্গুনী দাসকে আটক করা হয়েছে। তাকে শনিবার কোর্টে চালান করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।




পটুয়াখালীর বাউফলে কৃষকের তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাই, চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে চাঁদার দাবিতে কৃষকের তরমুজভর্তি ট্রলার ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া ৫০০ তরমুজ উদ্ধার করে ভুক্তভোগী কৃষকের ছেলেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন—নাজিরপুর ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মো. সাইফুল (৩৫), মো. মেহেদী হাসান (২০) ও গোলাম মুর্তজা (৪০)। এর মধ্যে সাইফুল নাজিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে উপজেলা ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কৃষক মো. মানিক ব্যাপারী তার খেত থেকে ৮৬০টি তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠিয়ে বরিশালে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেনের ছেলে মো. সাইফুল দেশি অস্ত্রসহ ২০-২৫ জনের একটি দল নিয়ে এসে ট্রলারের চালককে মারধর করে এবং তরমুজভর্তি ট্রলারটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে নিমদী লঞ্চঘাটের পাশে ইটভাটার কাছে নোঙর করে চাঁদা দাবি করা হয়।

ভুক্তভোগী কৃষক জানান, ট্রলার ফেরত পেতে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাইফুল ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় কৃষক মানিক ব্যাপারী ও তার ছেলেকে মারধর করে তরমুজ অন্য ট্রলারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ট্রলারটি ফেরত দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বুধবার রাত ১২টার দিকে মানিক ব্যাপারী বাদী হয়ে মো. সাইফুলসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাউফল থানায় মামলা দায়ের করেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং লুট হওয়া ৫০০ তরমুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুলের বিরুদ্ধে মাদক, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নাগরিক পার্টির ২১৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির ২১৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। রোববার (২ মার্চ) ভোররাতে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে বাংলাদেশের নাগরিকরা মুক্ত হয়েছে। তবে শহীদ মিনারে ঘোষিত অভ্যুত্থানের এক দফা তথা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে এই জনপদের মানুষ ইতিহাসের নানান সময়ে নিজেদের হাজির করেছে। প্রায় ২০০ বছরের উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা ১৯৪৭ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র অর্জন করি। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্র এই জনপদের মানুষের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষকে ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আরও বলা হয়, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে এই জনপদের মানুষ ১৯৭১ সালে একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে প্রণীত মুজিববাদী সংবিধানের মধ্য দিয়ে নির্মিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দিয়েছে। যার ফলে এ দেশের নাগরিকরা ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় বাকশাল, স্বৈরতন্ত্র এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদের শিকার হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো থেকে ফ্যাসিবাদের সকল উপাদান ও কাঠামোকে বিলোপ করতে এবং এই জনপদের মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপদানে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আমরা, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানী ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেছি।

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম বীর যোদ্ধা শহীদ ইসমাঈলের বোন মিম আক্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। উক্ত আহ্বায়ক কমিটি (আংশিক) আগামী ১ বছরের মধ্যে এই রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র ও ইশতেহার প্রণয়ন, কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সাংগঠনিক বিস্তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।




পটুয়াখালীতে ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় হামলা, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের শিয়ালী গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার মা ও ভাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে বখাটে হাসিব প্যাদা ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা মানিক প্যাদা বাদী হয়ে হাসিবসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পরিবারটিকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১ মার্চ) দুপুরে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির পরিবার এই অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিশুটির বাবা মানিক প্যাদা জানান, তার মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরে একই বাড়ির হাসিব প্যাদা তাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করছিল। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাসিব আবারও অশালীন আচরণ করলে শিশুটি তার মাকে জানায়। এরপর তার মা রেক্সোনা বেগম ও ভাই শাহাজাদা প্রতিবাদ করলে হাসিব ও তার দলবল তাদের ওপর হামলা চালায় এবং লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর রাতেই হাসিবসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়। কিন্তু মামলা হওয়ার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পরিবারটিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মানিক প্যাদা।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বাড়িতে তালা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন হাসপাতালে বারান্দায় পরিবার নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ২৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বাদীর আপত্তির কারণে মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম