শহীদ মিলনের পরিবারের পাশে দুমকী উপজেলা প্রশাসন

পটুয়াখালীর দুমকীতে শহীদ মিলন হাওলাদারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। রমজান উপলক্ষে তাদের জন্য ইফতার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।

শুক্রবার (৭ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি দুমকী উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ঝাটরা গ্রামে শহীদ মিলনের বাড়িতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছাত্র প্রতিনিধি মো. সাজ্জাদুল ইসলাম (দুর্জয়) ও মো. আমিনুল ইসলাম।

শহীদ মিলনের বাবা মো. হোসেন হাওলাদার ও মায়ের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন ইউএনও। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, উপজেলা প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে থাকবে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় রমজান উপলক্ষে শহীদ পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “শহীদ পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আজ ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে শহীদ মিলনের বাড়িতে গিয়েছিলাম এবং তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে।”

এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও শহীদ পরিবারকে নগদ অর্থ ও ইফতার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে নিষেধাজ্ঞার এক সপ্তাহ পার, এখনো খাদ্য সহায়তা পায়নি জেলেরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ইলিশ রক্ষায় দুই মাসের (১ মার্চ – ৩০ এপ্রিল) নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ পার হলেও জেলেরা এখনো সরকারী খাদ্য সহায়তা পাননি। ফলে বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় অনেকেই চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে তেঁতুলিয়া নদীর চররুস্তুম থেকে চরভেদুরিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে ৬ হাজার ৫২১ জন, যারা এই সময়ে চার কিস্তিতে প্রতি পরিবার ৪০ কেজি করে মোট ১৬০ কেজি চাল সহায়তা পাওয়ার কথা।

কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো জেলে এখনো চাল সহায়তা পাননি।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর অডেল গ্রামের জেলে রুহুল আমিন বলেন, “নদীতে এমনিতেই মাছ কম, যা পাওয়া যেত তা দিয়ে ধার-দেনা করে সংসার চালাতাম। আশা করেছিলাম সরকারি সহায়তা পেলে অন্তত রমজান মাসটা ভালোভাবে কাটবে। কিন্তু না মাছ পেলাম, না পেলাম চাল। এখন ধার-দেনা আরও বাড়ছে।”

কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের চাষি দলিল উদ্দিন মোল্লা বলেন, “বেশিরভাগ জেলে কিস্তির বোঝায় জর্জরিত। এই নিষেধাজ্ঞার সময় যদি কিস্তি আদায় বন্ধ থাকত, তাহলে আমাদের চাপ কিছুটা কমত। প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিলে আমরা উপকৃত হব।”

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “জেলেদের খাদ্য সহায়তা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মির্জাগঞ্জে পুলিশের অভিযানে যুবলীগ ও শ্রমিক লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান “অপারেশন ডেভিল হান্ট” পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে উপজেলা যুবলীগ ও শ্রমিক লীগ নেতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সুবিদখালী দারুস সুন্নাত মাদ্রাসার সামনে থেকে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি লোটাস শিকদারকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভয়াং বাজারে চাঁদাবাজি ও মারামারি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত লোটাস উপজেলার দেউলী গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।

অল্প সময়ের ব্যবধানে মির্জাগঞ্জ ব্রিজের ওপর থেকে উপজেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি নিজাম হাওলাদার (৪৯) ও তার সহযোগী রুবেলকে (৪০) ৯০ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে পুলিশ।

আটক নিজাম পূর্ব সুবিদখালী গ্রামের মৃত মুনসুর আলী হাওলাদারের ছেলে এবং রুবেল পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের সামসু হাওলাদারের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রুবেলের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৫টি মামলা রয়েছে।

একই রাতে মজিদবাড়ীয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মজিদবাড়িয়া গ্রামের করিম মৃধার ছেলে মিরাজ মৃধাকে (২৫) ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি আন্তঃজেলা মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।

উপজেলা সদরস্থ দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের ডোকলাখালী গ্রামের কাঞ্চু কবিরাজের ছেলে নুরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ছিলেন।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিম হাওলাদার বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করবে সরকার গৃহীত প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকায় ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা সামিরা হুসেইন। ইংরেজি সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার বিবিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনটি বাংলায় অনুবাদ করেছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেছেন, সংস্কার কার্যক্রম আমাদের প্রত্যাশিত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হলে ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়া প্রয়োজন হলে আমাদের আরও কয়েক মাস লাগতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তাকে দায়িত্ব নিতে বলা হলে তিনি তখন ‘হতচকিত’ বোধ করেন। তিনি বলেন, আমি কখনো ভাবিনি যে আমি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেব। আমি আগে কখনো প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলাম না, তাই সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আমাকে উপায়গুলো খুঁজে নিতে হয়েছে। যখন বিষয়টি ঠিক হলো তখন আমরা সংগঠিতভাবে কাজ শুরু করলাম। তিনি বলেন, আমার কাছে দেশের জন্য আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতি পুনর্গঠন মূল অগ্রাধিকার ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঢাকার সরকারি বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চায় কিনা। আমি তাদের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাশাপাশি অর্থনীতি। এটি একটি বিচূর্ণ অর্থনীতি, একটি বিপর্যস্ত অর্থনীতি। এমন মনে হচ্ছে যেন গত ১৬ বছর কোনো ভয়ঙ্কর টর্নেডো চলেছে, আর আমরা এখন সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে টুকরোগুলো তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে আসছি। গত গ্রীষ্মে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস বলেন, মানুষকে গুলি করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। প্রায় সাত মাস পরও ঢাকার বাসিন্দারা বলছেন যে আইনশৃঙ্খলা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, উন্নতি আপেক্ষিক বিষয়। যদি আপনি এটি গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে মোটামুটি সহনীয় মনে হবে। তিনি বলেন, যা এখন ঘটছে, তা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে আলাদা কিছু নয়। দেশের বর্তমান সমস্যাগুলোর জন্য আগের সরকারকে দায়ী করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমি বলছি না যে, এ ঘটনাগুলো ঘটতেই হবে। আমি বলছি, আপনাকে এটা বিবেচনায় নিতে হবে-আমরা কোনো আদর্শ দেশ বা আদর্শ শহর হঠাৎ করে তৈরি করিনি। এটি সেই দেশেরই ধারাবাহিকতা, যা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, যে দেশ বহু বছর ধরে একইভাবে চলছে।




দুমকিতে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ‘ফেমাস ব্রিকস’ নামে একটি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আখতার নিলয়। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে আবাসিক ও আবাদি জমির পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার চিমনি গুড়িয়ে দেয়। তবে এ সময় ইটভাটা মালিকপক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায় এবং উচ্ছেদ কাজে বাধা দেয়।

মালিকপক্ষের অভিযোগ, “কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই প্রশাসন আমাদের ইটভাটা ভাঙতে শুরু করে। আমরা বাধা দিলে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়।”

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আখতার নিলয় জানান, “এই ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ কাগজপত্র ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। আমরা নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “হামলার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। যথাযথ তদন্তের পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুমকির এই ‘ফেমাস ব্রিকস’ ইটভাটাসহ বেশ কয়েকটি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলছে। পরিবেশ দূষণ ও কৃষিজমির ক্ষতি রোধে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লঞ্চে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত নিলে ব্যবস্থা : নৌ পরিবহন উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঈদযাত্রায় লঞ্চে অতিরিক্ত নেওয়া যাবে না বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নেওয়া যাবে না। যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া তালিকাভুক্ত করে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে শুধু জরিমানা নয়, সেই লঞ্চের রুট পারমিটও বাতিল করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সচিবালয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৫ উপলক্ষ্যে নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নৌচলাচলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ১৫ রমজান থেকে বাস্তবায়ন শুরু হবে। জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উন্মুক্ত রাখতে হবে। বাস যাত্রাপথে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে রাস্তা বন্ধ করতে পারবে না। আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছি, তারা তিনটি জায়গায় র‌্যাকার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন। প্রয়োজন হলে বাস উঠিয়ে নিয়ে যাবেন। গোলাপ শাহ মাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত এমন একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা হয়, কেউ ৩টার সময় রওনা হলেও ৭টার লঞ্চ ধরতে পারে না। একটা সভ্য দেশ, সভ্য শহরে এটা হয় না।




মাত্র ১৫ দিনে বয়স্কদের জন্য কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু কলাপাড়ায়

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বয়স্ক পেশাজীবীদের জন্য মাত্র ১৫ দিনে সহজ পদ্ধতিতে কুরআন শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জোহর নামাজের পর কলাপাড়া এতিমখানা জামে মসজিদে এ প্রশিক্ষণ কোর্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ কাউসার হোসাইন, যিনি ‘মাত্র ১৫ দিনে কুরআন শিক্ষা’ পদ্ধতির উদ্ভাবক ও ই-শিক্ষালয়ের পরিচালক। রমজান মাসের পবিত্রতাকে সামনে রেখে এই প্রশিক্ষণ কোর্সে ১১০ জন বয়স্ক পেশাজীবী শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবী, ছাত্র এবং শ্রমজীবী মানুষ। তারা সবাই আন্তরিকভাবে কুরআন শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শিক্ষার্থী জয় আকন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, পবিত্র রমজান মাসে এমন একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। প্রশিক্ষক অত্যন্ত আন্তরিকভাবে শেখাচ্ছেন, যা আমাদের জন্য অনেক উপকারে আসবে।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাওলানা কাউসার হোসাইন এর আগে একটি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। যারা আগের ব্যাচে অংশ নিয়েছিলেন, তারা এখন অনায়াসে কুরআন পড়তে পারছেন। এবারের ব্যাচেও একই লক্ষ্য নিয়ে প্রশিক্ষণ চলছে।

সহযোগী প্রশিক্ষক মাসুম খান বলেন, “রমজান মাসে এমন একটি মহতী উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে। এটি শুধু কুরআন শেখার সুযোগ নয়, বরং ইসলামের জ্ঞান অর্জনেরও এক বিশেষ পথ।”

এ কোর্সের বিশেষত্ব হলো মাত্র ১৫ দিনে কুরআন শিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব। সহজ ও কার্যকর এই পদ্ধতির মাধ্যমে বয়স্ক ব্যক্তিরাও দ্রুত আরবি শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। যারা ছোটবেলায় কুরআন পড়তে শেখেননি বা ভুলে গেছেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত সহায়ক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

.




স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ৮ বিশিষ্ট ব্যক্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮ বিশিষ্ট ব্যক্তি ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যাদের নাম জানা গেছে তারা হলেন— মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী (মরণোত্তর), বিজ্ঞানী অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম, স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), লেখক ও ইতিহাসবিদ বদরুদ্দীন উমর, কবি আল মাহমুদ (মরণোত্তর), ভাস্কর নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), পপ সম্রাট আজম খান (মরণোত্তর) ও বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।




ইউপি চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্টে ১৪৩৭৬ কোটি টাকার লেনদেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাক মিয়ার অর্ধশত ব্যাংক হিসাবে ১৪ হাজার ৩৭৬ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৫০১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এছাড়া আরও ৫৫ কোটি ২৩ লাখ ৫২ হাজার ৯৫১ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চেয়ারম্যান লাক মিয়ার বিরুদ্ধে ভিজিডি, ভিজিএফ, এলজিএসপি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক ভূমি দখল ও মাদক ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে, চেয়ারম্যান লাক মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের নামের ১৪টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৬১ কোটি ১৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৪৬ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এছাড়া মাহমুদা বেগমের নামে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার ১৯৭ টাকার সম্পদের কোনও বৈধ উৎস খুঁজে পায়নি দুদক।

দুদকের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও জানান, চেয়ারম্যান লাক মিয়ার নামের ২৬৫ দশমিক ৬১ বিঘা জমি আদালতের মাধ্যমে ক্রোক করা হয়েছে—যার দালিলিক মূল্য ৭৫ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা। তার দুটি গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। যেগুলোর মূল্য দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এছাড়া ব্যাংক হিসাবে থাকা ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩২২ টাকা অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে।

১৯৯০-৯১ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দুদকের অনুসন্ধানে চেয়ারম্যান লাক মিয়ার এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আর ২০০৭-২০০৮ করবর্ষ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী তার স্ত্রী মাহমুদা বেগমের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

লাক মিয়ার কর্মচারীর হিসাবে ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন

দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন জানান, আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লাক মিয়ার একজন কর্মচারী হচ্ছেন মো. মহসিন মোল্লা। তার মাসিক বেতন ছিল ১২ হাজার টাকা। তার রয়েছে ১৪টি ব্যাংক হিসাব। এসব হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করেছেন ১০ হাজার ৩২২ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬২ টাকা। ১২ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী হলেও তিনি এনআরবি টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড এবং মেসার্স এনআরবি ট্রেডার্সের মালিক। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর মহসিন মোল্লা ও তার স্ত্রীর নামে নতুন অনুসন্ধান ফাইল খুলে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক




শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সেনাবাহিনীকে বাদ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল জাতিসংঘ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিল যে, সেনাবাহিনী দমনের পথে গেলে শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বিবিসির হার্ডটকে সম্প্রতি এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে এই হার্ডটক গত বুধবার প্রচার করে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত-সহিংসতা মানবাধিকারের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা জানাতে তিনি তখন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ছিলেন। সেখান থেকে তিনি বিবিসির সাংবাদিক স্টিফেন স্যাকুরের সঙ্গে আলাপ করেন। শুরুতে উপস্থাপক বিশ্বজুড়ে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে ভলকার তুর্ক জানান, এর ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা বারবার সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। বর্তমানে ৫৯টি দেশে সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতার পেছনে ভূরাজনৈতিক কারণ দায়ী।

উপস্থাপক গাজা-ইউক্রেন-সুদানের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রাণহানির কথা স্বীকার করে ভলকার তুর্ক বলেন, হতাহতের সংখ্যা যতটা কমিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টা করে জাতিসংঘ। মুক্ত ও অবাধ গণতন্ত্র না থাকাকে তিনি দায়ী করেন।

উপস্থাপক জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেছে। এর পর নিকারাগুয়া তার অবস্থান পাল্টিয়েছে। বড় দেশ থেকে ছোট দেশগুলোও যে প্রভাবিত হচ্ছে– এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

এর উত্তরে ভলকার তুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে বাংলাদেশের উদাহরণ দিতে চাই। আপনি জানেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ব্যাপক আন্দোলন করেছিল শিক্ষার্থীরা। শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। আশার কথা হলো, আমাদের কণ্ঠ তখন সোচ্চার ছিল। আমরা সেনাবিহিনীকে সতর্ক করেছিলাম, যদি তারা জড়িয়ে পড়ে তাহলে আর শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী হিসেবে থাকতে পারবে না। ফলে আমরা পরিবর্তনটা দেখতে পেলাম। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের দায়িত্ব নিলেন। ফলে স্পটলাইটে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তা আমরা এখানে দেখলাম।’