নিষেধাজ্ঞার ১২ দিনেও জেলেদের বাড়িতে পৌঁছায়নি সরকারি চাল

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের জন্য ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে, তবে ১২ দিন পার হলেও এখনও জেলেদের কাছে সরকারি বরাদ্দের চাল পৌঁছেনি। এর ফলে জেলেরা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন এবং কেউ কেউ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে ইলিশ ধরতে নামছেন।
সরেজমিনে ভোলা জেলার সদর উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া, ভেদুমিয়া ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুরসহ ইউনিয়নগুলোর মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে। শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর জেলে মো. জামাল মাঝি ও সুমন মাঝি জানান, “২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন হয়ে গেছে, এখনও আমরা সরকারিভাবে চাল পাইনি। কাজ-কাম নেই, সংসারে অনেক অভাব। রোজার মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে অনেক উপকার হতো।”
ভেলুমিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মোশারেফ মাঝি ও ইলিশা ইউনিয়নের জাংশন এলাকার মেঘনা নদীর জেলে হানিফ মাঝি বলেন, “অভিযান চলাকালীন আমরা নদীতে নামি না, কিন্তু কাজকাম নেই। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আড়ৎদারদের থেকে টাকা ধার করে চাল কিনছি, কিন্তু যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে আরও ভালো হতো।”
এছাড়া, কিছু জেলে নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন যে, “নিষেধাজ্ঞার এই কয়েকদিন আমরা নদীতে নামিনি, কিন্তু ঘরের চাল কিনতে হতো, সংসার চালাতে হতো, এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছি।”
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন, “প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে ভোলার সাত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হবে।”
তিনি আরও জানান, “মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভোলা জেলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন জেলে থাকলেও ৮৯ হাজার ৬০০ জেলেকে ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হবে।”








