ইসলামে গুরুত্বপূর্ণ দান ও কেন এটি আদায় করা প্রয়োজন

ফিতরা বা ফিতরাহ হলো ইসলামের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দান, যা ঈদুল ফিতরের আগে অবশ্যই আদায় করতে হয়। এটি যাকাতুল ফিতর বা সাদাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত এবং এটি রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি মার্জনা করার একটি মাধ্যম হিসেবে আদায় করা হয়।

ফিতরা শব্দটি আরবি শব্দ, যার অর্থ হলো ‘রোজা ছাড়া’। এটি মূলত রমজান মাসের শেষে, ঈদুল ফিতরের দিন সকালে অসহায় ও গরিবদের সাহায্য করার জন্য দান করা হয়। এই দানের মাধ্যমে ঈদ উৎসবে গরিবদেরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়, যাতে তারা আনন্দের সময় ধনীদের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

ফিতরা কী?::

ফিতরা বা সাদকাতুল ফিতর হলো ঈদের নামাজের আগে গরিব-দুঃখীদের দেওয়া নির্ধারিত সাদকা। এর মাধ্যমে রোজা পালনের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে আত্মশুদ্ধি এবং পবিত্রতা অর্জন হয়। যারা নিসাব পরিমাণ সম্পদ, যেমন সোনা বা রুপার সমমূল্যের মালিক, তাদের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এটি মূলত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে আদায় করতে হয়।

ফিতরা কেন আদায় করতে হয়?::

ফিতরা আদায় করার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। রমজানের রোজা পালনকালে যদি কোনো ত্রুটি বা ভুল ঘটে, তবে তার সংশোধন করতে ফিতরা দেওয়া হয়। এটি গরিব ও অসহায়দের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যাতে তারা ঈদের দিন ভালো খাবার ও পোশাক পায় এবং তাদের মনও আনন্দিত হয়।

এছাড়া, ফিতরা মানুষের আত্মশুদ্ধির একটি উপায় হিসেবে কাজ করে, কারণ এটি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ঘটায়।

ফিতরা আদায়ের উপকারিতা:

ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে রোজার যে কোনো ভুল বা ত্রুটি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং এটি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। হাদিসে এসেছে, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিমদের জন্য সাড়ে ৩ কেজি খেজুর বা যব খাদ্য আদায় ফরজ করেছেন।” (বুখারি, মুসলিম)

ফিতরা দিয়ে গরিবদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া যায়, যাতে তারা ঈদ উদযাপন করতে পারে, এবং এটি তাদের জন্য এক প্রকার উপহার বা দানের মতো কাজ করে।

ফিতরা আদায় করার নিয়ম:

ফিতরা আদায় করার সময়, এটি ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে করা উচিত। মুসলিম পরিবারের নাবালক ছেলে-মেয়ের পক্ষ থেকে তাদের বাবা-মা ফিতরা আদায় করে দেবেন। ঈদের দিন গরিবদের মধ্যে ফিতরা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এটি অবশ্যই যথাসময়ে আদায় করা জরুরি।

এটি কেবল রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি মেটানোর জন্য নয়, বরং গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেও করা হয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানে সাধ্যমতো ফিতরা আদায় করার তাওফিক দান করুন, যাতে আমরা তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারি।


মোঃ আব্দুল কুদ্দুস,
জেনারেল ম্যানেজার, সোনালী ব্যাংক পিএলসি

 




২৫ কোটি টাকার প্রকল্প কাজে আসছে না, কৃষকের জীবন বিপর্যস্ত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার মেরামতপুর-পিরোজপুর খালে ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা প্রদান। তবে বাস্তবে এই প্রকল্পটি কৃষকদের জন্য কোনো কার্যকরী সমাধান হয়ে উঠেনি। বরং কৃষকরা বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সমস্যায় পড়ছেন।

এই প্রকল্পটির আওতায় খনন করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার খাল, নির্মাণ করা হয়েছে এক হাজার ৫৩৫ কিলোমিটার খালপাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, চারটি ফুটওভারব্রিজ, ২০টি সৌরচালিত পাতকুয়া এবং ১০টি সৌর এলএলপি। প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৯ সালের মে মাসে এবং খাল খনন কাজ শেষ হয় ২০২১ সালের শেষে। তবে এসব সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌছাচ্ছে না, বরং স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, খালগুলোর অধিকাংশ অংশে পানি নেই, বরং অনেক স্থানই পুকুর বা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মুর্শিদপুর-নওটিকা, ইউসুফপুর-পবার কাঁটাখালী খালের পরিস্থিতি বেশ খারাপ। খালের মাঝে আবর্জনা ও মাটি জমে খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, প্রকল্পটি তড়িঘড়ি এবং প্রয়োজনীয় জরিপ ছাড়া বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার ফলে কৃষকরা কোনো সুফল পাচ্ছেন না। কিছু খাল দখল হয়ে গেছে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষকরা কৃষিকাজ করতে পারছেন না।

বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) এর প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজিরুল ইসলাম দাবি করেছেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল সফল, তবে খাল ভরাট হয়ে গেলে সে দায় তাদের নয়। তবে অনেক স্থানেই খাল দখল হয়ে গিয়েছে এবং খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা কৃষকদের জন্য বড় বিপদ।

বাঘার মুর্শিদপুর ও পিরোজপুরের কৃষকরা বলেন, প্রকল্পের কারণে জলাবদ্ধতার সমস্যা বেড়েছে এবং খাল খননের সময় নষ্ট হয়েছে দেড় কোটি টাকার সড়ক।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি সফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং জনমত উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্পের বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে, যেন ভবিষ্যতে এমন প্রকল্পের যথাযথ পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যায়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরগুনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা গ্রেপ্তার

বরগুনায় এক পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হাসপাতালে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ঘটনার সাত দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোসলেম (৬৫) নামে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে পৌরশহরের নয়াকাটা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত বৃদ্ধ মোসলেম সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিশুর নাম ফাহিমা (৮) (ছদ্মনাম)। বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বৈকালীন বাজার এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা ভিক্ষুক ও মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তিনি শহরের বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এবং বরগুনা সদর হাসপাতাল এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকত।

জানা গেছে, অভিযুক্ত মোসলেম বরগুনা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। গত ৭ মার্চ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের গেটের কাছে পথশিশু ফাহিমাকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তার পাশবিক নির্যাতনের ফলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে খোঁজ করলে একপর্যায়ে হাসপাতালে দেখা যায়, শিশুটিকে কোনো রেজিস্ট্রারে ভর্তি করা হয়নি। পরে পঞ্চম তলার একটি ওয়ার্ডে তার সন্ধান মেলে।

শনিবার (১৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় তার সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে শিশুটি নিজেই অভিযুক্ত মোসলেমকে শনাক্ত করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোসলেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

বরগুনা থানা ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান মো. আবদুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে সারারাত অভিযান চালিয়ে আমরা নির্যাতিত শিশুটিকে উদ্ধার করি এবং তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনজনকে আটক করি। এদের মধ্যে এক বৃদ্ধকে শিশুটি শনাক্ত করেছে এবং আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের শিবির নেতাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ এবং উপজেলা সেক্রেটারি মাইনুল ইসলাম পলাশকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল জেলার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাইনুল ইসলাম পলাশকে বহিষ্কার করার পেছনে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ছাত্রশিবিরের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর আগে, ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে গৌরনদী উপজেলার নলচিড়ার ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর বসতঘর থেকে তাকে এবং এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অশোভন আচরণ করার অভিযোগে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন।

শিবিরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং ইসলামী নৈতিকতার বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে মাইনুল ইসলাম পলাশকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

ছাত্রশিবির আরো জানায়, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার পর, মাইনুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

শিবির আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, ‘ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রদের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক উৎকর্ষতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং কখনোই কোনো নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় দেয় না।’

তারা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানায়, ‘এ বিষয়ে যা কিছু প্রচারিত হচ্ছে, তা সংগঠনের কোনো বক্তব্যের প্রতিফলন নয়। আমরা সবাইকে সত্যতা যাচাই করে মন্তব্য করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ

বরিশালে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছরের কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনসহ পুরো বরিশাল জেলা মিলিয়ে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকায় নগর মাতৃসদন কম্পাউন্ডে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

এবারে, বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলার ১০ উপজেলায় মোট ৩০টি ওয়ার্ডে ৫৮ হাজার ৪৬০ শিশু এবং ১০টি উপজেলার ২৫৮টি ওয়ার্ডে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরিশাল জেলার ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৪ হাজার ৩৪১ শিশুকে নীল রঙের এক লাখ ওট ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হবে, এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৯ শিশুকে লাল রঙের দুই লাখ ওট ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

এছাড়া, এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করবে ৪ হাজার ১৪৬ জন স্বেচ্ছাসেবক, যারা বরিশাল জেলার ২ হাজার ৭৩টি স্থায়ী-অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে সেবা প্রদান করবেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনও এর আওতায় ২২০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৪৬০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মনজরুল ইসলাম শুভ্র জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করার লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বাউফলে পৃথক স্থানে কিশোরী ও তরুণের ম’রদে’হ উদ্ধার

পটুয়াখালীর বাউফলে পৃথক দুটি স্থানে এক কিশোরী ও এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রাম ও ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন গুচ্ছগ্রাম থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন—শৌলা গ্রামের কাঞ্চন খাঁ বাড়ির নজরুল খানের মেয়ে কুমকুম আক্তার (১৪) এবং ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম (২২)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকালে শৌলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কুমকুম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তবে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে, শুক্রবার ভোরে ডালিমা ব্রিজ সংলগ্ন গুচ্ছগ্রাম থেকে জাহিদুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের বরাতে জানা যায়, ভোরে সেহেরি খেয়ে নামাজ আদায়ের জন্য বের হন জাহিদুল। সকাল ৭টার দিকে পরিবারের লোকজন ঘরের পেছনে কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছিলেন জাহিদুল, তার স্ত্রী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঈদ ইত্যাদিতে জনপ্রিয় চার নায়িকা নিয়ে সোহাগের চমক

ইত্যাদি মানেই চমক এবং নান্দনিক মান। ঈদ ইত্যাদিতে সেই চমক আরও বাড়তি হয়ে থাকে, যেখানে থাকে ব্যাপক আয়োজন, বর্ণিল পরিবেশ এবং জনপ্রিয় তারকাদের নাচ। এবারের ঈদ ইত্যাদির নাচেও সৃজনশীলতা এবং বৈচিত্র্য রয়েছে। জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগ এবারের ঈদ ইত্যাদির জন্য এক নতুন আঙ্গিকের নাচের আয়োজন করেছেন, যেখানে অংশগ্রহণ করছেন সাফা কবির, সাদিয়া আয়মান, সামিরা খান মাহি এবং পারসা ইভানা।

এবারের নাচটি একদিকে যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি একদল দক্ষ নৃত্যশিল্পীর সাথে এই নাচটিতে সোহাগের চমক তুলে ধরা হয়েছে। সোহাগ বলেন, “এবারের নাচটিতে সাদিয়া আয়মানকে প্রথমবার প্রপার আয়োজনে নাচতে দেখা যাবে। সাফা, মাহি এবং ইভানাকেও একটু ভিন্নভাবে দর্শক দেখবেন।”

এছাড়া, এবারের নাচের মিউজিকেও রয়েছে বিশেষ বৈচিত্র্য—এটি তৈরি হয়েছে ক্লাসিক্যাল, ফোক, অ্যারাবিক এবং আধুনিক কম্পোজিশনের সংমিশ্রণে। তরুণ সংগীত পরিচালক আকাশ মাহমুদ মিউজিকটি তৈরি করেছেন।

এবারের ঈদ ইত্যাদি অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে ঈদের পরদিন রাত ৮টায় বাংলা সংবাদের পর প্রচারিত হবে। এই বিশেষ আয়োজনটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত, এবং নির্মাণ করেছে ফাগুন অডিও ভিশন। স্পন্সর করেছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড।

মো: তুহিন হোসেন,
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম,




আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় রোববার

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আগামী রোববার (১৬ মার্চ) ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন রায়ের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, মামলার রায় রোববারের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে বুয়েটের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী পিটিয়ে হত্যা করেন।

এছাড়া, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর ২৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষ হয় এবং রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর, আদালত এই হত্যা মামলায় ২০ বুয়েট শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার নথি ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং গত বছরের ২৮ নভেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চে এই বিষয়ের শুনানি শুরু হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঈদযাত্রা: ২৫ মার্চের টিকিট বিক্রি শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) ২৪ মার্চ ভ্রমণের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় এবং শনিবার (১৫ মার্চ) সকাল ৮টায় ২৫ মার্চ ভ্রমণের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এই বছর, রেলওয়ের সব অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রীদের সুবিধার জন্য, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করা হবে। গত ৯ মার্চ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে টিকিট বিক্রির তথ্য জানানো হয়েছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়:

  • ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ
  • ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ
  • ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ
  • ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ
  • ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ
  • ৩০ মার্চের টিকিট ২০ মার্চ

এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ৩১ মার্চ, ১ এপ্রিল ও ২ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি করা হবে। ঈদযাত্রায় এবার প্রতিদিন ঢাকা থেকে ৩৫,৩১৫টি অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে যাত্রীদের জন্য।

এবার বাংলাদেশ রেলওয়ে ৮ থেকে ১০ জোড়া বিশেষ ট্রেনের বদলে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব বিশেষ ট্রেনের মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল ১ ও ২, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ৩ ও ৪, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ৫ ও ৬, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ৭ ও ৮ এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর-জয়দেবপুর রুটে পাবর্তীপুর ঈদ স্পেশাল ৯ ও ১০ নামে ট্রেন চালানো হবে।

ঈদে অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে, বাংলাদেশ রেলওয়ে ৬৪টি অতিরিক্ত যাত্রীবাহী কোচ সার্ভিসে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া ১৯টি অতিরিক্ত লোকোমোটিভ ব্যবহার করবে।

ঈদযাত্রা উপলক্ষে দেশের সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি (ডে-অফ) বাতিল করা হয়েছে। ২৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে না, এবং ঈদের দিন কোনো আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে না।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




থাইল্যান্ডের কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা

থাইল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে চীনে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। শুক্রবার (১৫ মার্চ) এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

এ ব্যাপারে এক দাফতরিক বিবৃতিতে মার্কো রুবিও বলেন, “২৭ ফেব্রুয়ারি, ৪০ জন উইঘুরকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান থাই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্ত শিগগিরই কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, চীনের সরকার দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলিমদের ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা উইঘুরদের চীনে ফেরত না পাঠায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চীন প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছে, যেখানে উইঘুর মুসলিমরা আশ্রয় নিয়েছে, তাদের চীনে ফেরত পাঠানোর জন্য। যুক্তরাষ্ট্র এই চীনের তৎপরতা ঠেকাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

থাইল্যান্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র রাষ্ট্র হলেও, এর আগে কখনও থাই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশেষজ্ঞ মারি হিবার্ট জানান, এটি একটি বিরল ঘটনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউএস কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে যাতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেওয়া উইঘুর মুসলিমদের চীনে ফেরত পাঠানো নিরুৎসাহিত হয়। তবে, কতজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা প্রকাশ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে যে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু কর্মকর্তারা নয়, তাদের পরিবারও আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতে, থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এই উইঘুর মুসলিমদের চীনে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পক্ষ থেকে আপত্তি উঠেছিল। দুটি দেশ থাইল্যান্ডকে উইঘুরদের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে ব্যাংকক তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দিয়ে উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম