বিড়ালের সন্ধানে পোস্টার, পুরস্কার ঘোষণা!

হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালকে খুঁজে পেতে পাথরঘাটা পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানো হয়েছে। এই উদ্যোগ নিয়েছেন তানিয়া নামের এক নারী, যিনি পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আজ শনিবার (১৫ মার্চ), পাথরঘাটা শহরের বিভিন্ন দেয়ালে বিড়ালের সন্ধান চেয়ে পোস্টার দেখা যায়। পোস্টারে লেখা ছিল— “১০ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে পাথরঘাটা বাজার (গোলচত্বর) থেকে বিড়ালটি হারিয়ে গেছে।” পোস্টারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিড়ালটির গলায় একটি ঘণ্টা বাঁধা এবং রং ছিল ‘মাটি মাটি শেওলা’।

তানিয়া এনটিভি অনলাইনকে জানান, তার প্রিয় বিড়ালটি এক মাস আগে হারিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেছেন, কিন্তু বিড়ালটির সন্ধান পাননি। অবশেষে তিন দিন আগে শহরের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগিয়ে ১ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তাছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাথরঘাটার বিভিন্ন গ্রুপে বিড়ালটির সন্ধান চেয়ে পোস্টও করেছেন তিনি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন, গুতেরেসের আশ্বাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আজ সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘের নতুন ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশ্বাস দেন।

গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলায়। তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানও স্মরণ করেন, যাদের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এ সময়, তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা করেন। গুতেরেস আরও জানান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের পর গুতেরেস গুলশানে জাতিসংঘের নতুন ভবন পরিদর্শন করেন এবং ‘ইউএন হাউস ইন বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় তরমুজের অভাবনীয় ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

এ বছর ভোলায় তরমুজের রেকর্ড ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। জেলায় তরমুজের প্রচুর উৎপাদন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রোজার মাসে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

ভোলার কৃষকরা জানান, এবছর আগাম চাষের ফলে তরমুজ বাজারে দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা খুশি এনে দিয়েছে। তবে কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও সাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানে ভোলা একটি কৃষি প্রধান জেলা। এখানকার কৃষকরা প্রতিবছর তরমুজ চাষ করেন, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে, এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় অধিকাংশ কৃষক ভালো ফলন পেয়েছেন।

সদর উপজেলার বাঘমারা চর এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে তিনি তার মূল পুঁজি ফিরে পেয়েছেন এবং ভালো লাভের আশা করছেন।

অপরদিকে, চরফ্যাশন উপজেলার কৃষকরা আরও বেশি ফলন পেয়েছেন। এখানকার কৃষক আবু তাহের জানান, ৪ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে তিনি বর্তমানে লাভের মুখ দেখছেন।

এদিকে, ভোক্তারা খুশি যে রোজায় তরমুজ সহজে পাওয়ায়, বিশেষ করে ইফতারিতে তরমুজের শরবত খেতে তারা আগ্রহী। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী কৃষকদের সঙ্গে চাঁদাবাজি করছে, বিষয়টি প্রতিরোধের জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শামিম আহমেদ বলেন, “এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, এবছর ভোলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের টার্গেট ছিল, যার মধ্যে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সৌদির টি-টোয়েন্টি লিগ চালুর পরিকল্পনা”

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে বড় একটি নাম হয়ে উঠেছে। ফুটবল, কার রেসিং এবং গলফের ক্ষেত্রে তাদের সাফল্যের পর, এবার তারা ক্রিকেটেও বড় কিছু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত, ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সৌদি আরব প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম দ্য এজ সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের এই লিগে মোট আটটি দল অংশগ্রহণ করবে। এই দলগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর টেনিসের গ্র্যান্ড স্লামের মতো খেলা চালিয়ে যাবে। তাদের লক্ষ্য হল ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানো, বিশেষত ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বাইরে ক্রিকেটের আধিপত্য বিস্তার করা।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ নীল ম্যাক্সওয়েল। এই লিগের অর্থায়ন করবে সৌদি আরবের স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ, এসআরজে স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট। তারা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

লিগের মাধ্যমে সৌদি আরব নতুন আয়ের বিকল্প তৈরি করতে চায় এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো সংগ্রাম করা দলগুলিকে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, এই লিগ চালু করতে আইসিসির অনুমোদন প্রয়োজন, যেখানে জয় শাহ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যদি এই লিগ চালু হয়, তা সৌদি আরবের বৈশ্বিক ক্রীড়া ভাবমূর্তি বদলাতে সহায়তা করবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘ভারতে এসো না, চেষ্টা করলেও পারবে না’

ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের অন্যতম নায়ক বরুণ চক্রবর্তী। ডানহাতি স্পিনার হিসেবে তিনি বিশেষ বৈচিত্র্যময় বোলিং করে ভারতকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ফাইনালে যখন ভারত নিউ জিল্যান্ডের উইকেট নিতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন বরুণ ব্রেকথ্রু এনে দেন। পরবর্তীতে আরও ২ উইকেট নেন। সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তার শিকার ছিল ৯ উইকেট। বরুণ অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে শূন্য থেকে অসাধারণ বোলারে পরিণত হয়েছেন।

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অভিষেক হয়েছিল, কিন্তু সেই বছর ভারত গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি। এতে প্রবল সমালোচনা হয় এবং বরুণও বাদ পড়েন। তিনি জানান, ওই সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, ‘‘ভারতে এসো না, চেষ্টা করলেও পারবে না।’’ বরুণ বলেন, ‘‘লোকেরা আমার বাড়ির কাছে এসে আমাকে খুঁজে বের করত, মাঝে মাঝে আমাকে লুকিয়ে থাকতে হতো। বিমানবন্দর থেকে ফিরলে কিছু লোক বাইকে করে আমার পিছু নিত।’’

এই কঠিন সময় পেরিয়ে আজ বরুণ যে অবস্থানে রয়েছেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘‘যখন আমি সেইসব কঠিন সময় এবং বর্তমানে যে প্রশংসা পাচ্ছি, তার দিকে ফিরে তাকাই, তখন আমি খুশি হই। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে এত ভালো জিনিস একসাথে ঘটে।’’

নিজের ওপর যে আস্থা জন্মেছে, তা নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী। বরুণ বলেন, ‘‘চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আমার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। আমি মাত্র চারটি ম্যাচ খেলেছি, আর যখন আমি ভালো খেলেছি, তখন মনে হয়েছে, আমি এখানেই থাকবো এবং আমার জন্য একটা জায়গা আছে। তবে সাফল্য আমি এমনটা আশা করিনি।’’


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে রাজনৈতিক নেতারা

বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়েছে দেশের বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা।

শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুর ১টায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

এর আগে সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘ হাউজ উদ্বোধন করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। উদ্বোধন শেষে তিনি জাতিসংঘের কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আলোকচিত্র ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয় ও গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

বিকালে, জাতিসংঘ মহাসচিব এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন বলেও জানা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাকিস্তান থেকে ২৬ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আসলো

পাকিস্তান থেকে ২৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আতপ চাল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এই চালের নমুনা পরীক্ষা শেষে খালাসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমদাদ ইসলামের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩১ জানুয়ারি সম্পাদিত জি টু জি চুক্তির আওতায় এমভি মরিয়ম জাহাজটি পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এর আগে গত ৫ মার্চ পাকিস্তান থেকে চাল নিয়ে ‘এমভি সিবি’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছিল। পাকিস্তানি পতাকাবাহী এই জাহাজটি বন্দরে ভিড়েছিল।

খাদ্য অধিদফতর জানায়, পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল আমদানি করা হচ্ছে, এর মধ্যে এমভি সিবি দিয়ে প্রথম চালান এসেছে এবং বাকি চাল শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারে ৪৩ দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে ৪৩টি দেশের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সুপারিশের ভিত্তিতে তৈরি খসড়া তালিকাটি তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ধাপ:

  1. রেড লিস্ট (পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা)
    প্রথম ভাগের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ একেবারে নিষিদ্ধ করা হবে। এই তালিকায় ১১টি দেশ রয়েছে:

    • আফগানিস্তান, ভুটান, কিউবা, ইরান, লিবিয়া, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন।
  2. অরেঞ্জ লিস্ট (আংশিক নিষেধাজ্ঞা)
    দ্বিতীয় ভাগের দেশগুলোর ওপর নতুন ভিসা প্রদান বন্ধ করা হবে এবং কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের প্রবেশে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে। এই তালিকায় ১০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত:

    • বেলারুশ, ইরিত্রিয়া, হাইতি, লাওস, মিয়ানমার, পাকিস্তান, রাশিয়া, সিয়েরা লিওন, দক্ষিণ সুদান, তুর্কমেনিস্তান।
  3. ইয়েলো লিস্ট (৬০ দিন সময়)
    তৃতীয় ধাপে ২২টি দেশকে ৬০ দিনের সময় দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ দূর করার জন্য। এই দেশগুলো যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধান না করে, তাহলে তাদের ওপর পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো:

    • অ্যাঙ্গোলা, অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা, বেনিন, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডমিনিকা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, গাম্বিয়া, লাইবেরিয়া, মালাউই, মালি, মৌরিতানিয়া, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সাও টোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ, ভানুয়াতু, জিম্বাবুয়ে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ::

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, কোন দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত তা নির্ধারণ করতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকা হোয়াইট হাউজে পৌঁছানোর আগে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত রূপ এখনও নিশ্চিত নয়।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমিকনেতা মোশারফ হোসেনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বরিশালের সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেনের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে আজ সোনারগাঁও টেক্সটাইল গেটে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সহসভাপতি জসিম হাওলাদারের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ সমাবেশে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খুকু মনি, সহসভাপতি ইমরান হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক, বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বরিশাল রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল রাজ্জাক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ দপদপিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আকন, বরিশাল রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ২৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো: আরিফ, সাধারণ সম্পাদক রিপন হাওলাদার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

নেতৃবৃন্দ জানান, গত ১৪ মার্চ সকাল ১১ টায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে জামাল গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী মোশারফ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে এবং তার পরিবারের সদস্যদের আহত করে। সন্ত্রাসীরা মোশারফ হোসেনের বাসা থেকে টাকা, কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। পরে মোশারফ হোসেনের ভাবি সুখী এই ঘটনায় কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ দায়েরের পর, রাত আনুমানিক ৮ টায় জামাল গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা সোনারগাঁও টেক্সটাইল কারখানায় কর্মরত মোশারফ হোসেনকে ডেকে নিয়ে দপদপিয়া ব্রিজের কাছে হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে। আহত অবস্থায় শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই সন্ত্রাসী হামলা শ্রমিকদের জন্য সহ্য করার মতো নয়। তারা হুশিয়ারি দেন, জামাল গাজী রূপাতলীর প্রভাবশালী নেতার সাহায্যে এই হামলা চালিয়েছে, কিন্তু শ্রমিকদের একতার সামনে কোনো শক্তিই টিকবে না। বক্তারা দাবি করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার না করা হলে বরিশালের সকল কারখানা এক হয়ে বৃহৎ আন্দোলন ঘোষণা করবে।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে, এক বিক্ষোভ মিছিল রূপাতলি এলাকা প্রদক্ষিণ করে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস না পাওয়ায় শিল্পে দুরবস্থা 

বর্তমানে বাংলাদেশে শিল্পখাতে গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহের কারণে উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে, যা শিল্পকারখানাগুলোর জন্য এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এবং ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) নতুন গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এই প্রস্তাবটি দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, বিশেষত এটি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব:

পেট্রোবাংলার প্রস্তাব অনুসারে, নতুন গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের দাম ৩০ থেকে ৩১.৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৭৫.৭২ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রাহকদের অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারে একই দামে বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই প্রস্তাব শিল্পের জন্য এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের উপর পড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ:

গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বেসরকারি খাতের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে অপচয়ও বেশি, বিশেষ করে তিতাস গ্যাসের সিস্টেম লস ১৩.৫৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সুতরাং, সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য গ্যাস কোম্পানির দক্ষতা বাড়ানো এবং অপচয় কমানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

শিল্প খাতে বিরূপ প্রভাব:

গ্যাস সংকট এবং জ্বালানির খরচ বৃদ্ধি শিল্পের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, বিশেষ করে গাজীপুর, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ভালুকা ও নরসিংদী অঞ্চলের শিল্পকারখানায়। সিরামিক ও স্টিল শিল্পের উৎপাদন কমেছে ৫০ শতাংশ। এছাড়া, ২০২৩ সালে নতুন গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে খরচের চাপ আরও বেড়েছে, যা বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি:

জ্বালানি খরচ ২০২২ সালে প্রতি গজ কাপড় উৎপাদনে ছিল ১৮ টাকা, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ২৬ টাকা হয়ে গেছে। একইভাবে নিট শিল্পে সুতা উৎপাদনে খরচ ২.৪৫ ডলার প্রতি কেজি দাঁড়িয়েছে, যখন পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে নিট কাপড় আমদানি করতে খরচ হচ্ছে ২.১৮ ডলার প্রতি কেজি। এই কারণে ২০২৪ সালে নিট সেক্টরে কাপড় আমদানি ৩৯ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান:

এছাড়া, শিল্পের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৫৭ শতাংশে নেমে গেছে, এবং বিদেশি বিনিয়োগও ৭১ শতাংশ কমেছে। বেকারত্বের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের শ্রমবাজারের জন্য বড় একটি সংকেত। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের কাছে গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানিয়েছেন এবং গ্যাস সরবরাহের উন্নয়নসহ অপচয় কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, “গ্যাস ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রস্তাব শিল্পের জন্য বিপজ্জনক হবে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পথে একটি বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

এখন ব্যবসায়ী নেতারা আশা করছেন, সরকার গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে শিল্পখাত টিকে থাকতে পারে এবং নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম