বরিশালের মেয়ে বিয়ে করলেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চট্টগ্রামের সমন্বয়ক রাফি

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ, তালাত মাহমুদ রাফি, আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিয়ের খবর জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে নতুন জীবনের শুরু ঘোষণা করেন।

স্ট্যাটাসে রাফি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। নতুন যাত্রায় আপনাদের দোয়া একান্ত কাম্য।” রাফি তার স্ত্রীর নামও জানিয়েছেন, জান্নাতুল ফেরদাউস মিতু। ফেসবুকে মিতুর বাড়ি বরিশাল উল্লেখ করা হয়েছে, এবং তিনি পড়াশোনা করেছেন বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজে।

ফেসবুক পোস্টে রাফি তার স্ত্রীকে ট্যাগ করেছেন, এবং সেখানে তাদের একসঙ্গে ছবি দেখানো হয়েছে, যা বিয়ের খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে।

রাফির বিয়ের খবর প্রকাশের পর, তার বন্ধু, সহযোদ্ধা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনুসারীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এবং তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

এদিকে, রাফি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের (২০২২-২৩) শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

ট্যাগ: #বরিশাল #বিয়ে #রাফি #চট্টগ্রাম #জুলাইআগস্টআন্দোলন #নতুনজীবন #শুভেচ্ছা #ফেসবুক #মিটু #বৈষম্যবিরোধী #নাট্যকলা




খাদ্য সহায়তা না পেয়ে বিপাকে বাউফলের জেলেরা

বেসরকারি একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে জাল কিনেছেন বাউফলের জেলে আবুল রাঢ়ী ও সহিদ খাঁ। প্রতি সপ্তাহে চার হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়, অথচ মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে আয় বন্ধ। তারা বলেন, “আগে ১৬০ কেজি চাল পেতাম, এখন শুনি আসতে দেরি হবে। পেট তো দেরি মানে না! সরকার নিষেধাজ্ঞা দেয়, কিন্তু খাওনের ব্যবস্থা করে না। বাধ্য হয়েই নদীতে জাল ফেলি, আর তখনই পুলিশ ধরে নিয়ে যায়।”

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দেশের পাঁচটি অভয়াশ্রমে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর আওতায় রয়েছে বাউফলের চররুস্তম থেকে ভোলার চরভেদুরিয়া পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার তেঁতুলিয়া নদীর এলাকা। বাউফল উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৫২১, তবে বেসরকারি হিসাবে তা প্রায় ১০ হাজার। প্রতিবছর নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতি জেলে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল পান। কিন্তু এবছর ১৫ দিন পার হলেও সরকারি খাদ্য সহায়তা আসেনি।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের জেলে রুহুল আমিন বলেন, “নদীতে এমনিতেই মাছ কম। ধারদেনা করে সংসার চালাই। ভেবেছিলাম, সরকারি সহায়তা পেলে কষ্টের সময়টা কেটে যাবে। কিন্তু কিছুই পাইনি।”

খাদ্য সহায়তা না পেয়ে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নদীতে জাল ফেলছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজারে জাটকা বিক্রি হচ্ছে। এতে ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে।

গলাচিপা, দশমিনা, রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন উপজেলার অসাধু ব্যবসায়ীরা কাশিপুর, বগা ফেরিঘাট ও যাত্রীবাহী বাসে করে জাটকা ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচার করছে। সম্প্রতি একটি বাস থেকে大量 জাটকা জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন।

বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “জেলেদের খাদ্য সহায়তা দ্রুত সময়ের মধ্যে দেওয়া হবে।” তবে কবে নাগাদ সহায়তা পৌঁছাবে, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রমজানে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা

রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই পর্যটকদের উপস্থিতি কমে গেছে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায়। সারাবছর যে সৈকত থাকে পর্যটকের কোলাহলে মুখর, সেখানে এখন নেমেছে সুনসান নীরবতা।

রবিবার কুয়াকাটা সৈকত ঘুরে দেখা যায়, বিচের বেঞ্চগুলো খালি পড়ে আছে, স্পিডবোটগুলো অলস সময় পার করছে। অন্য সময় যেখানে পর্যটকের ঢল নামে, এখন সেখানে দেখা মিলছে হাতে গোনা কয়েকজন দর্শনার্থীর।

এই অবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। রুমের বুকিং কমে গেছে অনেকাংশে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজানের শেষ ভাগে কিছু পর্যটক আসতে পারে, তবে পুরো মাসেই ব্যবসা মন্দা যাবে বলে আশঙ্কা তাদের।

বিশেষ করে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন শুঁটকি, ঝিনুক, ছাতা, বেঞ্চসহ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের অনুপস্থিতিতে অনেকে দোকান বন্ধ রেখেছেন, যারা চালু রেখেছেন, তারাও বেচাকেনা না থাকায় ইফতারের আগেই দোকান গুটিয়ে নিচ্ছেন।

সৈকতের এক আচার বিক্রেতা আরাফাত হোসেন বলেন, “পর্যটক নেই বললেই চলে। দিনে এক-দুইটা বিক্রি হয়, তারপরও দোকান চালু রাখছি। কিন্তু ইফতারের আগেই বন্ধ করে দেই, লাভ হচ্ছে না।”

পর্যটকদের ছবি তুলে জীবিকা নির্বাহ করেন ফটোগ্রাফার রহিম। তিনি বলেন, “মার্চ মাসে আমরা সবসময় পর্যটকদের ভিড় পাই। এবার পুরো চিত্র পাল্টে গেছে। ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, কিন্তু কেউ নেই। একশ টাকাও রোজগার করতে পারছি না।”

কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, রমজানের প্রথম দিকে পর্যটক কম থাকলেও শেষের দিকে কিছু বুকিং পাওয়া যায়। ঈদের সময় কিছু পর্যটক আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

পর্যটক না থাকলেও কুয়াকাটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু। তার ভাষ্য, “পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আমাদের টহল টিম নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু দুমকির আলমগীর, মানবেতর জীবনযাপন – সাহায্যের আবেদন

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের পূর্ব কার্তিকপাশা গ্রামের ভ্যানচালক মো. আলমগীর শরীফ (৫০) সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাঁ পায়ের জটিল অস্ত্রোপচারের পরও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। বর্তমানে তিনি চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গত বছরের ২০ জানুয়ারি উপজেলার থানা ব্রিজ সংলগ্ন লেবুখালী-বাউফল মহাসড়কে পেছন থেকে একটি অটোগাড়ির ধাক্কায় আলমগীরের ভ্যান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে সামনে থাকা একটি টমটমের সঙ্গে সংঘর্ষে তার বাঁ পায়ের হাঁটুর হাড় ২২ টুকরায় ভেঙে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে শ্যামলী ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি তার শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করেছেন। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পায়ের আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

অসুস্থ আলমগীর বলেন, “ভাঙা পা নিয়ে সবসময় শুয়ে থাকতে হয়। কী খাব, কীভাবে চিকিৎসা করাব বুঝতে পারছি না। সমাজের বিত্তবানদের ও সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।” তিনি সহৃদয় ব্যক্তিদের তার মোবাইল নম্বরে ০১৭৯৪৪০৫০৪৪ (নগদ) ও ০১৩৩৪০৮৩৮১ (বিকাশ) অ্যাকাউন্টে সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।

পূর্ব কার্তিকপাশা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় আলমগীরের আয়েই তার ছয় সদস্যের পরিবার চলত। কিন্তু দুর্ঘটনার পর থেকে পরিবারটি দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। প্রতিবেশীরা যতটা সম্ভব সহায়তা করছেন, তবে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, “ভ্যানচালক আলমগীর যদি আবেদন করেন, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আলমগীর শরীফের চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষ, দাতব্য সংস্থা ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। তার পাশে দাঁড়ালে একটি পরিবার নতুনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা ইউএনও’র ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, হ্যাকিংয়ের অভিযোগে জিডি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ “Uno Galachipa” থেকে দেওয়া একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই পোস্টে ইউএনও নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী বলে স্বীকার করেছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেছেন।

রবিবার (১৬ মার্চ) রাত ৯:২০ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে ইউএনও মিজানুর রহমান লেখেন—

“আমার (মিজানুর রহমান) বিরুদ্ধে বড় একটা অভিযোগ হলো আমি ছাত্রলীগ করতাম। হ্যাঁ, একসময় করতাম। সো, কি হয়েছে? নুরু ভাইও এক সময় ছাত্রলীগ করত। তিনি একসময় জননেত্রীর পা ছুঁয়ে সালামও করেছেন। সো, তাতে কি নুরু ভাইয়ের জনপ্রিয়তা এখন কম?”

তিনি আরও লেখেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কারণে আমরা মোটেই লজ্জিত নই, কারণ এই দেশমাতৃকার জন্ম তা হাত ধরেই। আরেকটা অভিযোগ হলো দুর্নীতির। Who is free from it? যে দুর্নীতি করে না বুঝতে হবে সে সুযোগ পায় না।”

সবশেষে মন্তব্য করেন, “সোজাসাপটা কথা। একদিন আমাদেরও সময় আসবে। Every dog has its barking day.”

পোস্টটি মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছেন, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন মন্তব্য কতটা নৈতিক? কেউ কেউ বিষয়টি তদন্তের দাবি তুলেছেন।

ইউএনও’র বক্তব্য: ফেসবুক পেজ হ্যাকের অভিযোগ

পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর রাত সাড়ে ১০টায় গলাচিপা অফিসার্স ক্লাবে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ইউএনও মিজানুর রহমান। তিনি দাবি করেন,

“আমার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Uno Galachipa’ কে বা কারা হ্যাক করেছে এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে। আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে গলাচিপা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই ফেসবুক পেজটি ইউএনও নিজেই পরিচালনা করতেন। তবে পোস্টটি তার নিজের লেখা কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই নানা আলোচনা চলছে।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা ইউএনও’র ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



তেঁতুলিয়া নদীতে তরমুজ বোঝাই ট্রলারে ডাকাতি ও গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীতে তরমুজ বোঝাই ট্রলারে ডাকাতির চেষ্টা ও গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহতের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে বাউফল থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ডাকাত নিহতের ঘটনায় ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া, ডাকাতদের হামলায় ট্রলারের শ্রমিক ও মালিকপক্ষের আহত হওয়ার ঘটনায় মো. শহিদুল মাতুব্বর বাদী হয়ে ২২৫ ও ৩৯৮ ধারায় অপর মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলায় ৭-৮ জন অজ্ঞাত ডাকাতকে আসামি করা হয়েছে।

এসআই মো. সাইফুল ইসলামের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৫ মার্চ) ভোর সোয়া ৪টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় একটি তরমুজ বোঝাই ট্রলারে ডাকাত দল হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গণপিটুনিতে আহত এক ডাকাতসহ তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক ডাকাত মারা যান

পরে সিআইডি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত ডাকাতের নাম কবির (৩৫), পিতা মফিজল বেপারী, ঠিকানা ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ বালিয়া ৫ নম্বর ওয়ার্ড

মামলার এজাহারে বাদী শহিদুল মাতুব্বর উল্লেখ করেন, তারা গলাচিপা উপজেলার চর কপালবেড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরকাজল এলাকা থেকে ১০ হাজার পিস তরমুজ কিনে চাঁদপুরে বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন। পথে বাউফলের ধুলিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় ৭-৮ জনের একদল ডাকাত ট্রলারে হামলা চালিয়ে তরমুজ লুটের চেষ্টা করে

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, নিহত ডাকাত কবিরের পরিচয় শনাক্তের পর তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কবিরের স্ত্রী তার লাশ গ্রহণের সম্মতি জানিয়েছেন, এবং লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সরিষার বাম্পার ফলনে মৌচাষিদের মুখে হাসি

বরিশালে সরিষার ফলন এই বছর আশাতীত ভাবে ভালো হওয়ায়, সেখানে মৌচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌচাষের ফলে মধু উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকদের মতে, এই বছরে মধু উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ঘুরে প্রায় প্রতিটি ফসলের মাঠেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের চাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য খাঁচা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। কৃষি বিভাগের মতে, সরিষা ক্ষেতের পাশের মধু চাষের ফলে পরাগায়ন ঘটে, যার ফলে সরিষার ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে সরিষার বাম্পার ফলন লাভের কারণে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল থেকে এসে এই অঞ্চলে মধু চাষ শুরু করেছেন তিনি। মধু চাষি মো. মুন্না খান জানান, “১০৫টি বাক্সে ৮০০টিরও বেশি চাক বসিয়েছি। এক মাসে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করেছি, আর এখনও ৫ মণ মধু সংগ্রহের আশা করছি।”

আরেক চাষি আয়নাল হক বলেন, “এ বছর গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি মধু পাওয়া যাবে।”

মধু কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে, ফলে এতে কোনো ভেজালের শঙ্কা নেই। স্থানীয় ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি, এখানে ভেজাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিচ্ছি।”

এছাড়া, কৃষক এনায়েত করিম জানান, সরিষার ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে আগের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুরাদুল হাসান বলেন, “মৌমাছির পরাগায়ন কার্যক্রম সরিষার ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি মৌচাষিদেরও লাভবান করেছে। এর ফলে এ বছর সরিষা ও মধু চাষে বৃদ্ধি পেয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

আগামীকাল সোমবার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের ১২৭ জন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ক্রাইম টিমের সদস্যসহ ১২৭ জন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। সেখানে ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন। এরই অংশ হিসেবে আগাম আলোচনার জন্য আগামীকালের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বাসের ধাক্কায় সাবেক সেনাসদস্য নিহত, আহত ২

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মজিবর রহমান মোল্লা (৭০) নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন ভ্যানচালক সাইদুল মোল্লা (৩৮) এবং তার সহযাত্রী লামিয়া আক্তার (১০)। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার সকাল ১১টার দিকে বার্থী ইউনিয়নের কটকস্থল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি আমিনুর রহমান জানান, লাবিবা পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল ১০টার দিকে ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কটকস্থল এলাকায় পৌঁছালে বাসটি সামনে চলতে থাকা একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানের যাত্রী মজিবর, সহযাত্রী লামিয়া এবং চালক সাইদুল গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক সাবেক সেনাসদস্য মজিবর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

ঘাতক বাসটিকে হাইওয়ে থানা পুলিশ আটক করেছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-ভোলা রুটে আবারও চলবে যাত্রীবাহী জাহাজ

চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার চরফ্যাশন রুটে আবারও চালু হতে যাচ্ছে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল। আগামী ২০ মার্চ থেকে এমভি বার আউলিয়াএমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামে দুটি অত্যাধুনিক জাহাজ প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে ভোলার চরফ্যাশন, মনপুরা, ঢালচর ও নোয়াখালীর হাতিয়া হয়ে আসা-যাওয়া করবে।

বিআইডব্লিউটিসি‘র ভোলা অঞ্চলের ম্যানেজার (মেরিন) মো. আল-আমিন জানান, এমভি বার আউলিয়া একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতি সম্পন্ন নৌযান, যা উপকূলবাসীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ববহ হবে। অন্যদিকে, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি জাহাজ, যা বিআইডব্লিউটিসির সাথে সমন্বয় করে যাত্রী বহন করবে।

২০২৩ সালে এই দুই জাহাজ একটি মাসব্যাপী চলাচল করেছিল, তবে তখনকার সরকারের সময়ের আভ্যন্তরীণ রুটের অসাধু লঞ্চমালিক সিন্ডিকেটের কারণে এই যাত্রীবাহী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে, সম্প্রতি নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে আগামী ২০ মার্চ থেকে ফের নিয়মিতভাবে এই জাহাজগুলো চলাচল করবে।

বার আউলিয়া জাহাজের ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল ৮ টায় চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে একটি জাহাজ নোয়াখালী হয়ে ভোলার চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং একই সময়ে ভোলার চরফ্যাশন থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
এমভি বার আউলিয়া ও এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজগুলো যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা ও নোয়াখালীর হাতিয়া অঞ্চলের চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম