গলাচিপায় বাম্পার তরমুজের ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

তরমুজ চাষে পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা গলাচিপা ধীরে ধীরে “তরমুজের শহর” হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রতি বছর এখানকার নদী ও চরাঞ্চলের উর্বর মাটিতে বিপুল পরিমাণ তরমুজ উৎপাদিত হয়। এবারের মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগবালাই কম থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপারীরা গলাচিপায় তরমুজ কিনতে ছুটে আসছেন, ফলে কৃষকদের আশা—এবারের বেচাকেনা সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
গলাচিপার গোলখালী, পানপট্টি, রতনদী তালতলী, চর কাজল, চর বিশ্বাসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর তরমুজ চাষ হয়েছে। আগাম জাতের তরমুজ চাষে কৃষকরা ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন। ১২ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করা কৃষক মো. খোকন জানান, প্রতি বিঘায় ৮৫ হাজার টাকা খরচ হলেও দেড় থেকে দুই লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন। অন্যদিকে, কৃষক কামাল হোসেন জানান, তিনি দেরিতে চাষ করেছেন যাতে বাজারে ভালো দাম পান, তবে সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্য নিয়ে তিনি কিছুটা উদ্বিগ্ন।
গলাচিপায় তরমুজ মৌসুম ঘিরে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। পটুয়াখালীর সবচেয়ে বড় তরমুজ ঘাট গলাচিপার আমখোলা-মুশুরীকাঠি থেকে প্রতিদিন ২০০-৩০০ ট্রাক তরমুজ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। মুশুরীকাঠি থেকে হরিদেপুর পর্যন্ত সাতটি ঘাটে প্রতিদিন ১৫০-২০০ ট্রাক তরমুজ পরিবহন করা হয়। ঘাটে শ্রমিকদের ব্যস্ততা চরমে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিদিন ১৫০০ শ্রমিক কাজ করছেন।
এ মৌসুমে তরমুজ ঘাটগুলোর আশপাশে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, হোটেল ও চায়ের দোকান। ভাসমান হোটেল ব্যবসায়ী মোসামাৎ আকলিমা বেগম জানান, প্রতিদিন ২০-২৫ কেজি চালের ভাত বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য ব্যবসায়ী কোহিনুর, সেফালিসহ অনেকেই ছোটখাটো হোটেল, চায়ের দোকান এবং অন্যান্য পণ্যের দোকান খুলেছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরজু আক্তার জানান, এ বছর ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় এবার ২৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫,০০০ হেক্টর বেশি। এ বছর গ্রেট ওয়ান, বিগ ফ্যামেলি, আনন্দ সুপার, লাকী ড্রাগনসহ বেশ কয়েকটি জাতের তরমুজের চাষ বেশি হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, বিনিয়োগ বেশি হলেও তরমুজ চাষ লাভজনক। তারা আশা করছেন, যদি সহজ শর্তে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়, তবে আরও বড় পরিসরে চাষ করা সম্ভব হবে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে গলাচিপা দেশের সবচেয়ে বড় তরমুজ উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।








