বরিশালে শ্রমিকনেতার ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বরিশালে সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ মার্চ) বরিশাল নগরের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রথমে একটি মিছিল নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে, পরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খুকু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন আহমেদ, ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ দপদপিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রমজান আকন, বরিশাল রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ২৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি মো. আরিফ ও সাধারণ সম্পাদক রিপন হাওলাদার।

নেতারা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৪ মার্চ বেলা ১১টার দিকে জামাল গাজীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী মোশারফ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তার বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের আহত করে। তারা বাসা থেকে টাকা-পয়সা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর শ্রমিকনেতা মোশারফের ভাবি সুখী ওই দিন বিকেল ৪টায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন।

এ অভিযোগের পর জামাল গাজীর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ১৪ মার্চ রাত আনুমানিক ৮টায় সোনারগাঁও টেক্সটাইল কারখানায় কর্মরত মোশারফ হোসেনকে ডেকে নিয়ে দপদপিয়া ব্রিজের কাছে হামলা চালিয়ে তাকে রক্তাক্ত করে জখম করে। পরে কারখানার শ্রমিকরা তাকে খুঁজে বের করে শেরেবাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নেতারা আরও বলেন, এই সন্ত্রাসী হামলা শ্রমিকরা কোনোভাবেই সহ্য করবে না। তারা অভিযোগ করেন, জামাল গাজী রূপাতলীর প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতা দেখিয়ে এই হামলা করেছেন, কিন্তু শ্রমিকদের একতার সামনে কোনো শক্তিই টিকবে না। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে বরিশালের সব কারখানা এক হয়ে বৃহৎ আন্দোলন ঘোষণা করবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধন

“সড়ক হোক শান্তির যাত্রার” শ্লোগানে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল জেলার গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যা সম্মিলিত গৌরনদীবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত হয়। মানববন্ধনের সঞ্চালনায় ছিলেন যুবদল নেতা তরিকুল ইসলাম কাফী।

এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি ও গৌরনদী প্রেসক্লাবের প্যানেল আহবায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও, মানববন্ধনে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির চিত্র তুলে ধরে অবিলম্বে মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জোর দাবি জানায়। বক্তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়ন না করা হয়, তবে তারা লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বহিস্কার

গৌরনদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফরিদ মিয়া দলবল নিয়ে পৌরসভা অফিসে প্রবেশ করে এক কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ মার্চ ফরিদ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি। নোটিশ পাওয়ার পরেও ফরিদ মিয়া আবারও দলবল নিয়ে পৌর কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চেষ্টা করেন। এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের কারণে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ মার্চ দুপুরে পৌরসভা অফিসে ফরিদ মিয়া তার দলবল নিয়ে পৌরসভার পানি শাখার কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের রুমে প্রবেশ করে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধর করেন। গিয়াস উদ্দিন খন্দকার অভিযোগ করেন, ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগিরা স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে টিসিবির মালামাল নেয়ার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে হামলা, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর দুমকিতে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ফেমাস ব্রিক্সের মালিক মো. কাইয়ুম হাওলাদারসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন।

গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী সন্তোষদি এলাকায় ফেমাস ব্রিক্স নামের অবৈধ ড্রামচিমনি ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযানে নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আক্তার নিলয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্ক্যাভেটর মেশিন দিয়ে ইটভাটার চুল্লিসহ আংশিক অংশ ভেঙে দেওয়া হয়।

এ সময় ইটভাটার মালিক, শ্রমিক ও অভিযুক্ত আসামিরা একত্রিত হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ অভিযানের টিমের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে অভিযান পরিচালনায় বাধার সৃষ্টি হয়, যার ফলে প্রশাসনকে অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য করা হয়।

মামলার প্রধান আসামি ফেমাস ব্রিক্সের মালিক মো. কাইয়ুম হাওলাদার। অন্যান্য আসামিরা হলেন—

  • চরগরবদি গ্রামের মৃত আমজেদ হাওলাদারের ছেলে আলী আকবর হাওলাদার (৫৭)
  • তার ভাই আবু বক্কর হাওলাদার (৫৫)
  • ফারুক হাওলাদার (৫৩)
  • ইটভাটার ম্যানেজার আবদুর রহিম (৪৫)
  • জয়নদ্দি হাওলাদারের ছেলে নয়ন হাওলাদার (৪৬)
  • জব্বর হাওলাদার (৫৩)
  • জব্বর মীরের ছেলে উজ্জল মীর (৩২)
    এছাড়া, আরও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আখতার নিলয় হামলার ঘটনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান এবং যথাযথ অনুমোদনের পর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত ১৭ মার্চ দুমকি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে নবনির্মিত সড়ক একদিনেই ধসে পড়ল!

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা আরএসডি-বাহেরচর জিসি সড়কের সম্প্রসারণ প্রকল্প নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর সড়ক নির্মাণ হলেও নিম্নমানের উপকরণ ও অনিয়মের কারণে মাত্র একদিনের মধ্যেই সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে।

বাউফল উপজেলার বগা থেকে কাছিপাড়া পর্যন্ত সড়কটি ১০ ফুট থেকে ১৮ ফুট প্রশস্ত করার প্রকল্প গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ১০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ছয় হাজার ৬৮৫ মিটার সড়কের কাজ শেষ হয় রোববার, কিন্তু পরদিন সোমবারই সড়কের একাধিক স্থান ধসে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফোরকান প্যাদা ও মোকছেদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “সড়ক নির্মাণের নিয়ম অনুযায়ী আগে পাইলিং করে পরে কার্পেটিং করার কথা। কিন্তু এখানে উল্টো হয়েছে। এছাড়া, ইটের ডাস্ট ব্যবহার করা হলেও রোলার মেশিন দিয়ে যথাযথ সংমিশ্রণ করা হয়নি।” তারা জানান, অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন তাদের হুমকি দেয়।

একজন শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা ঠিকাদারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছি। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে কাজ টেকসই হয়নি।”

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খায়রুল কবির রানার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি আবুল কালাম বলেন, “যে অংশ ধসে পড়েছে, তা দ্রুত ঠিক করে দেওয়া হবে।”

এদিকে, এলজিইডির বাউফল উপজেলার প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন বলেন, “কাজ করতে গেলে কিছু ভুলত্রুটি হতেই পারে। এখন পর্যন্ত ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়নি। ধসে পড়া অংশ মেরামত করিয়ে তারপর বিল প্রদান করা হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বকেয়ায় বন্ধ শেভরনের উন্নয়ন, উৎপাদন ধসের শঙ্কা!

বিল না পাওয়ার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ, যার ফলে গ্যাস উৎপাদনে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে দেশের ৬০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে, কিন্তু তাদের গ্যাস ফিল্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডে কমপ্রেসর বসানোর প্রকল্পটি ঝুলে গেছে, যা গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর আশা করেছিল। তবে, বর্তমানে শেভরনের বকেয়া বিল ১৬০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা তাদের ৪ মাসের গ্যাস বিলের সমান। প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ডলারের গ্যাস সরবরাহের পরেও বিল পরিশোধ করা হয়নি, যার ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের শুরুতে শুরুর কথা ছিল, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ সরকার গত অক্টোবর মাসে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিমাসে ২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে, এখনো পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি এবং বকেয়া পরিমাণ আরও বাড়তে শুরু করেছে।

শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত জালালাবাদ গ্যাস প্ল্যান্টে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, শেভরনের পাশাপাশি কাতার সরকারেরও পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা রয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি নিয়ে থাকে, কিন্তু বিল পরিশোধের জন্য উভয় দেশই চাপের মুখে রয়েছে।

এছাড়া, পেট্রোবাংলার কাছেও বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানি এবং বিদ্যুৎ খাতের কাছ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করছে। এসব বকেয়া পরিশোধ না হওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে, ফলে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কূটনৈতিক পাড়ায় ভবনের ফ্লোর দখলে হামলা, দু’দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর গুলশানে কূটনৈতিক পাড়ায় ভবনের ফ্লোর দখলের পাঁয়তারা নিয়ে দুটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত গুলশান সেন্টার পয়েন্টের ১৮ তলার ৩০ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর নিয়ে।

এসএস বিল্ডার্সের মালিক সাব্বির ইসলাম অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ফ্লোর দখলের জন্য সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেছেন। হামলা দু’টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ঘটেছে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তোলেছে।

২০০৬ সালে এসএস বিল্ডার্সের সঙ্গে ভবন মালিক পক্ষের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ভবনের ১০ তলার ১৪ হাজার স্কয়ার ফুট বিক্রির কথা ছিল। তবে, বিভিন্ন কারণে পুরো অর্থ পরিশোধ না করায় এই ফ্লোরটি দখল করা সম্ভব হয়নি। এরপর, ২০২১ সালের পর ফ্লোরটি দখল নিতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।

২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় হামলা চালানো হলেও, দ্বিতীয় দফায় ৯ মার্চ আরও এক দল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তারক্ষীদের শারীরিক নির্যাতন করে।

এরপর, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিদর্শন করে, তবে হামলাকারীরা সারারাত ধরে ভাঙচুর চালায় এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চললেও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রমাণ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের দলে দলে ভবনে প্রবেশ এবং ভাঙচুরের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

র‌্যাব-৮ এর সহায়তায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আলী আকবর ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আলী আকবরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে জানিয়ে এজাহারের বরাত দিয়ে জেলার বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা জানান, উপজেলার চাখার এলাকার ইলেকট্রিক মেকার মো. আলী আকবর ফকির (৫৬) ও তার সহযোগি মাহাবুব সিকাদার স্থানীয় এক নারীকে (৩৮) বিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।

২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে তারা পাত্রের সাথে দেখা করার কথা বলে ওই নারীকে উত্তর চাখার গ্রামের একটি নির্জন বাগানের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়।

সেখানে আলী আকবর ফকির কৌশলে গামছা দিয়ে ওই নারীর মুখ বেঁধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় তার সহযোগি মাহাবুব সিকদার লোকজনের গতিবিধি লক্ষ্য করে। পরে তারা ওই নারীকে বিষয়টি কারো কাছে না বলার জন্য বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদর্শন করে। পরেরদিন ভোরে মাহাবুব সিকদার তার ভ্যানে করে ওই নারীকে চাখার বাজারে নামিয়ে দেয়।

ওসি জানান, এ ঘটনায় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তিন মাস পর এ বিষয়টি পারিবারিকভাবে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের পহেলা ফেব্রুয়ারি ভিকটিম নারী বাদি হয়ে আলী আকবর ফকির ও তার সহযোগি ভ্যানচালক মো. মাহাবুব সিকদারকে আসামি করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

এরপর থেকে আসামিরা নিজ এলাকা থেকে আত্মগোপন করেন। পরে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাব-৮ এর সহায়তা চাওয়া হয়। র‌্যাব-৮ এর সহায়তায় ওই মামলার প্রধান আসামি মো. আলী আকবরকে ঢাকার মিরপুর থেকে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) দুপুরে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।




বরিশালে দিনে দুপুরে স্বর্ণের দোকানে চুরি, প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিল দুর্বৃত্তরা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বর্ষন জুয়েলার্স নামে একটি স্বর্ণের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকেলে ঘটিত এ চুরির ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকানের মালিক।

ঘটনাটি ঘটে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদর রোডে অবস্থিত বর্ষন জুয়েলার্সে, যা বাকেরগঞ্জ থানার পাশেই। চুরির সময় দোকানটি বন্ধ ছিল, আর দিনের আলোতেই থানা এলাকার কাছেই এমন ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

বর্ষন জুয়েলার্সের মালিক বিমল চন্দ্র দাস জানান, “দুপুর ২ টায় দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে গিয়েছিলাম। বিকেলে ৪ টায় দোকান খুলে দেখি সাটারের তালা খোলা এবং শোকেস ভাঙ্গা। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা চুরি হয়ে গেছে।”

বাকেরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, “চুরির ঘটনা জানার পর দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে দিনে দুপুরে এ ধরনের ঘটনা, অন্যদিকে থানার পাশেই চুরি হওয়া, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পবিপ্রবিতে অনিয়ম: ছয় কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত, আরও ২৬ জনের বিষয়ে তদন্ত চলছে

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ছয় কর্মকর্তাকে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইসঙ্গে আরও ২৬ জন কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা

বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তা হলেন—
১. শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু (সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে)
2. আয়েশা সিদ্দিকা (পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপ-রেজিস্ট্রার জসিম উদ্দিন বাদলের স্ত্রী)
3. মো. আরিফুর রহমান পিয়েল (পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ভাই)
4. মো. হাফিজুর রহমান (পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের ভাই)
5. তানভীর হাসান স্বাধীন (দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ছেলে)
6. তাকছিনা নাজনীন (জেলা যুবলীগের সম্পাদকের স্ত্রী)

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর ও এর আগের কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৩৯টি পদের বিপরীতে ২০২৩ সালের ২ ডিসেম্বর রিজেন্ট বোর্ডে ৫৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ করে সেকশন অফিসার পদে যেখানে তিনজন নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে ছয়জনকে সুপারিশ করা হয়। অথচ ২০০৮ সালের ইউজিসি অনুমোদিত অর্গানোগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেকশন অফিসারের পদ ছিল ৩০টি, কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তা বাড়িয়ে ৪৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের রুল ও পরবর্তী পদক্ষেপ

এক চাকরিপ্রত্যাশী শামসুল হুদা রিফাত এ বিষয়ে রিট পিটিশন করলে, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট হাইকোর্ট নিয়োগের বৈধতা নিয়ে রুল জারি করে। এরপর তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এর ভিত্তিতে ২৭ ফেব্রুয়ারি ছয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং আরও ২৬ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বরখাস্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।

 

মো:আল-আমিন।