ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চর কুতুবনগর প্রকল্পের ৪৭ নম্বর ঘরে থাকা আব্দুর রহিম ও লিপি বেগমের সংসারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রান্নাঘরের আগুনে তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে গেছে, আর এখন তারা পথে বসার অবস্থায়।
রান্নাঘরের আগুনে পুড়ে যায় আব্দুর রহিম ও লিপি বেগম দম্পতির ঘরের সবকিছু। ছবি: আজকের পত্রিকা
নিজস্ব জমি না থাকার কারণে এই দম্পতির ঠাঁই হয়েছিল সরকারী প্রকল্পের একটি ঘরে। আব্দুর রহিম পেশায় গাড়িচালকের সহকারী হলেও বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কাজ করেন না। তবে সরকারের দেওয়া ঘরের সামনে একটি ছোট দোকান দিয়েছিলেন, যা থেকে তাদের সংসার চলত। কিন্তু আজকের অগ্নিকাণ্ডে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।
আজ শনিবার দুপুরে আব্দুর রহিমের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। যদিও প্রতিবেশীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু ওই ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে, অন্যান্য ঘরগুলো রক্ষা পেয়েছে।
প্রতিবেশীরা জানান, দুপুরে ইফতার ও রাতের খাবার রান্না করার সময় রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের ঘরের তিনটি কক্ষসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ঘরটি ছাড়া তাদের শরীরে পরিহিত জামাকাপড় ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিপি বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে এই প্রকল্পের ঘরটিতে থাকতাম। আজ দুপুরে রান্না করার সময় হঠাৎ করে দমকা বাতাসের সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যে চাল কাল এনেছিলাম, তা-ও পুড়ে গেছে। এখন কী খাব, কোথায় থাকব, কিছুই বুঝে পাচ্ছি না।’
ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘খবর পাওয়ার পর আমাদের টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু নদীপথের কারণে আমাদের পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাকি ঘরগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম