পিরোজপুরে মসজিদে হামলা-ছিনতাই, জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য গ্রেপ্তার

পিরোজপুরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদে হামলা, ভাঙচুর এবং টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক কমিটির পিরোজপুর জেলার সদস্য মুসাব্বির মাহমুদ সানি (৩২) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে পিরোজপুর সদর থানার ডিবি পুলিশ তাকে কাপুরিয়াপট্টি এলাকা থেকে আটক করে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মুসাব্বির সানি ও তার নেতৃত্বে থাকা ৩০-৪০ জনের একটি দল পিরোজপুর পৌরসভার অধীনে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের সাইটে হামলা চালায়। তারা সাইটের কর্মচারীদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে এবং অফিস কক্ষে রাখা ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা সিসি ক্যামেরা ও হার্ডডিস্কও ধ্বংস করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম থানায় মামলা করেছেন। মামলায় মুসাব্বির মাহমুদ সানি, তার ভাই সাজিদ এবং সহযোগী সাজিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, মুসাব্বির সানি এর আগে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সোবাহান বলেন, “মুসাব্বির সানির বিরুদ্ধে ভাঙচুর, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে। এছাড়া পিরোজপুর বালেশ্বর ব্রিজ টোল প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তবে ওই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোক্তা অধিকার অভিযানে দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা, ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

পিরোজপুরের কাউখালি উপজেলার উত্তর বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে মালিকের অনুপস্থিতিতে দোকানের তালা ভেঙে অভিযান পরিচালনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন করেছে প্রতিবাদ জানিয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২১ মার্চ শুক্রবার দুপুরে কাউখালি উপজেলার উত্তর বাজারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময়, সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারি দোকানের মালিক বাসুদেব খবর পেয়ে দোকানটি বন্ধ করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এরপর, ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা দোকানটি খুলতে চেষ্টা করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী বদরুদ্দোজা মিয়া তাদের বাধা দেন। এরপর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বদরুদ্দোজার সঙ্গে যোগ দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা কোনো ধরনের কার্যক্রম না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে, আজ রবিবার কাউখালি উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “মালিকের অনুপস্থিতিতে দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, এটা কোন ধরনের অভিযান? তালা ভাঙার অধিকার কোন আইনে আছে? নিয়ম মেনে অভিযান করা হোক।” তারা আরও বলেন, “তালা ভাঙার অভিযান আমরা চাই না।”

এ বিষয়ে বদরুদ্দোজা মিয়া বলেন, “ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের লোকজন অন্যায়ভাবে সাতক্ষীরা ঘোষ ডেয়ারীর বাসুদেবের দোকানের তালা ভাঙার চেষ্টা করেছিল। তাই আমি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই বিষয়টি প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি। আমরা এমন অভিযান চাই না।”

এ বিষয়ে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পিরোজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় বলেন, “আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করেছি। আমাদের অধিকার আছে আইন অনুযায়ী অভিযান চালানোর। কেউ যদি অভিযোগ আনে, তবে আমরা আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থান জানলেও ভারতের কিছু করার ছিল না: জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে হাসিনাবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি ভারতের কাছে পরিচিত ছিল, তবে সে সময় ভারত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম ছিল না। তিনি বলেন, ভারত সরকারের শেখ হাসিনার ওপর যথেষ্ট প্রভাব ছিল না, তাই শুধু পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ ছিল।

শনিবার (২৩ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারত এ বিষয়ে আগে থেকেই অবগত ছিল, কিন্তু সেসময় আমাদের অবস্থান এমন ছিল না যে আমরা কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব। আমাদের শেখ হাসিনার ওপর যথেষ্ট প্রভাব ছিল না।”

বৈঠকে, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি—বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তান—নিয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর তার বক্তব্যে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্কের মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তুর্ক সম্প্রতি বলেছিলেন যে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিল, যাতে তারা দমন-পীড়নে জড়িত না হয়, না হলে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে তারা বাদ পড়তে পারে।

২০১৫ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও হাসিনাবিরোধী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসন শেষ হয়। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন, এবং এখনও তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠক হতে পারে, তবে এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রমজানে নেক আমল ও সমাজসংস্কার

পবিত্র রমজান মাস শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধি ও আত্মোন্নতির সময় নয়, বরং এটি সমাজকে পরিশুদ্ধ এবং উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে এমন কিছু আমলের গুরুত্ব রয়েছে, যা পুরো সমাজকে একত্রিত করে, সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে। নিম্নলিখিত আমলগুলো তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে:

হাদিসে এসেছে, রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা শয়তানকে বন্দি রাখেন, ফলে পাপ ও অন্যায় থেকে দূরে থাকা সহজ হয়। সুতরাং, রমজানে যদি কেউ অন্যায় কাজ করে, তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করা উচিত। তবে, এই প্রতিবাদ কখনো রাষ্ট্রীয় আইন বা সামাজিক শান্তি বিপর্যস্ত করার কারণ হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানবজাতির জন্য তোমাদের আবির্ভাব হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ করো।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)

সমাজে অশান্তির একটি বড় কারণ হলো অন্যায়ভাবে মানুষের অধিকার হরণ করা। রমজান মাসে আমাদের উচিত, আমরা যদি পূর্বে কোনো কারণে অন্যের অধিকার হরণ করে থাকি, তা ফিরিয়ে দেওয়া। নবী (সা.) বলেছেন, “যার কাছে তার ভাইয়ের কোনো অধিকার থাকে, সে যেন আজই মিটিয়ে ফেলে, যেদিন কোনো টাকা-পয়সা থাকবে না, বরং সে দিন তার নেকি থেকে অধিকারীদের নেকি নিয়ে নেয়া হবে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)

রমজান মাসে পরনিন্দা, পরচর্চা ও বিবাদ থেকে বিরত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “রোজা ঢালস্বরূপ, এবং যে ব্যক্তি রোজা রাখে তাকে গালি দেওয়া বা মারামারি করার চেষ্টা করলে, সে যেন শুধু বলে, আমি রোজা আছি।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৫১)

আধুনিক সমাজে আত্মীয়তা অনেক সময় অবহেলিত হয়, কিন্তু ইসলাম আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করার গুরুত্ব দিয়েছে। রমজান মাসে এই সম্পর্কগুলো আরও শক্তিশালী করা উচিত। নবী (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করেন, কিন্তু কিছু মানুষের জন্য ক্ষমা নেই, যারা মা-বাবার অবাধ্য, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং বিদ্বেষ পোষণ করে।” (শুআবুল ঈমান, ৫/২৭৭)

হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত ও দোয়াকে নিষ্ফল করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৯৩)

প্রদর্শন ও খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা নেক আমলের সুফল ধ্বংস করে। রমজান মাসে কোনো ভালো কাজ করলে তা শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করতে হবে, এবং প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নেক কাজ করুন, এবং লোক দেখানো কাজ পরিহার করুন।” (সুনানে নাসায়ী, হাদিস: ৩১৪০)

সমাজ গঠনে প্রথমে ব্যক্তির চরিত্রের উন্নয়ন অপরিহার্য। রোজা হলো সংযম ও সাধনার মাধ্যমে নিজের কুপ্রবৃত্তি দমনের হাতিয়ার। নবী (সা.) বলেছেন, “একজন মুমিন তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে রোজা রাখার মতো মর্যাদা লাভ করে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৭৯৮)

রমজান মাসে এসব নেক আমলগুলো পালন করে আমরা শুধু নিজেদেরই পরিশুদ্ধ করতে পারি না, বরং পুরো সমাজকেও একটি আদর্শ সমাজে পরিণত করতে সাহায্য করতে পারি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের কোচ ও অধিনায়ক চূড়ান্ত হবে সোমবার

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন কোচ ও অধিনায়ক নিয়োগ নিয়ে সবার মাঝে এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা অপেক্ষার পর, অবশেষে সোমবার (২৪ মার্চ) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের পরবর্তী কোচিং প্যানেল এবং টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের নাম চূড়ান্ত করবে।

প্রধান কোচ ফিল সিমন্সসহ সিনিয়র সহকারি কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনদের মেয়াদ ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পর্যন্ত। এর পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ ও অধিনায়ক পদ শূন্য ছিল। এখন বিষয়টি চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরেই সিমন্সকে প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি এবং এই উইন্ডিজ কোচও সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছেন। দুই পক্ষের মাঝে চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, আর এখন তা চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এছাড়া, সালাউদ্দিনকেও নিয়ে আশাবাদী ক্রিকেট বোর্ড।

এদিকে, টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের নাম প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। বিসিবি প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদ আগেই এই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তবে এখন দেখার বিষয় হল, লিটন দাস কি সত্যিই নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এবারের বোর্ড মিটিংয়ে ফিল্ডিং কোচ নিয়োগের বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বিসিবি দুজন ফিল্ডিং কোচের সাথে আলোচনা করছে, একজন জাতীয় দলের সাথে যুক্ত থাকবেন, অন্যজন বয়সভিত্তিক দল এবং দেশীয় ক্রিকেটারদেরও ফিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণ দেবেন।

এছাড়া, আগামী বোর্ড মিটিংয়ে বিপিএলের লভ্যাংশ, পূর্বাচল স্টেডিয়াম এবং জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তি সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বুবলীকে খোঁচা দিলেন অপু বিশ্বাস?

ঢালিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে। সম্প্রতি, এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে অপু বিশ্বাসের দেওয়া ক্যাপশন নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। “ড্রামা কুইন না হয়ে, ডিভা কুইন হও” – এমন কথায় নিজের নিন্দা ও প্রশংসা দুইই জড়িয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই ‘খোঁচা’ কি বুবলীকে উদ্দেশ্য করে?

ছবিতে অপু বিশ্বাসের লুক ছিল বেশ আকর্ষণীয়। পরনে কালো রঙের পোশাক, চোখে কাজল আর মাথার চুল আলগা করা, যা দর্শকদের নজর কাড়ে। ক্যাপশনে “ড্রামা কুইন না হয়ে, ডিভা কুইন হও” লিখে তিনি প্রকাশ করেন একটি রহস্যময় বার্তা। তার ভক্তরা প্রশংসায় ভরালেও, নেটিজেনরা মনে করেন এই ক্যাপশনটি বুবলীকেই খোঁচা দেওয়ার উদ্দেশ্যে।

এদিকে, গত শুক্রবার ছিল বুবলী ও শাকিব খানের পুত্র শেহজাদের জন্মদিন। শেহজাদের সঙ্গে শাকিব খানের ছবিটি বুবলী তার ফেসবুকে শেয়ার করলে, সেখানেও অনেক মন্তব্য দেখা যায়। ফাতেমা ইসলাম নামে একজন লেখেন, “সতিনের পোস্ট দেখে আর সহ্য হচ্ছে না।” আর নুসরাত নামের একজন লেখেন, “ছোট বাচ্চার ছবি দেখে শরীরে এত জ্বালা হচ্ছে…”

এভাবে অপু বিশ্বাসের পোস্টে নানা ধরনের মন্তব্য আসতে থাকে, তবে বুবলী কিংবা অপু কেউই এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

ঢালিউডের দুই তারকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীকে নিয়ে এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়, বিশেষ করে শাকিব খানকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে শাকিব খান জানিয়েছেন, অপু-বুবলী তার অতীত, এবং বর্তমানে তিনি কারোর সঙ্গেই সম্পর্কিত নন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বাড়লে এইচআইভি ঝুঁকি বাড়বে: শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালক

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেছেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, কারণ এই ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে এইচআইভি/এইডস ছড়ানোর ঝুঁকিও বাড়বে। তিনি আরও বলেন, জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক, বিকৃত যৌনাচরণ, এবং বলপূর্বক দলবদ্ধ যৌন নিপীড়নের মাধ্যমে যৌনরোগের বিস্তার ঘটে, যার ফলে এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে।

আজ (২৩ মার্চ ২০২৫) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত ‘লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও এইচআইভি প্রতিরোধ’ বিষয়ক দুইদিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।

মশিউল মুনীর বলেন, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ফলে নানা ধরনের যৌনরোগ দ্রুত ছড়ায়, যা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তিনি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

কর্মশালার বক্তারা আরও বলেন, দেশে এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে সমকামী পুরুষ, মহিলা যৌনকর্মী, মাদক গ্রহণকারী এবং হিজড়া জনগোষ্ঠী, এবং তাদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে। এই জনগোষ্ঠীর উপর সহিংসতার বৃদ্ধি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়, তাই লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে সামাজিক ও স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

এই কর্মশালায় জাতীয় এইডস ও এসটিডি কন্ট্রোল প্রোগ্রাম-এর ডেপুটি ম্যানেজার ফাইজা মুকাররামা সভাপতিত্ব করেন, এবং বরিশাল হাসপাতালের উপ পরিচালক এস এম মনিরুজ্জামান, মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক এ জেট এম ইমরুল কায়েস, বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন এস এম মনজুর ই এলাহি এবং ডা. নওমি আফরিন বক্তৃতা দেন।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টা এবং স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এই কর্মশালার গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পায়

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লালমোহনে খাল খনন বন্ধ, দখলদারদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ

ভোলার লালমোহনে খাল খনন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খাল খননের কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা দায়সারা ভাবে চলানো হচ্ছে এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে খাল খনন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কিছু জায়গায় খাল খনন ঠিকমত হলেও অনেক জায়গায় প্রভাবশালীদের কারণে খাল খননের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলেও প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। দখলদাররা খাল দখল করে ঘর নির্মাণ করায় খাল খনন কাজ থমকে গেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, খাল খননের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোটা অংকের চাঁদা নিয়ে দখলদারদের সঙ্গে সমঝোতা করে কাজ বন্ধ রেখেছে। এমনকি, কিছু জায়গায় খাল কাটা হলেও সেটি একেবারে নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং অর্ধেক কাজ করেই থামানো হয়েছে।

খাল কাটা পাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হাসপাতাল এলাকা থেকে খাল খনন শুরু হওয়ার পর তাদের বাড়ি উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমানে দখলকারীরা খাল খনন থামিয়ে দেওয়ার কারণে তাদের বাড়ি এখন আর উচ্ছেদ করা হচ্ছে না। অনেক স্থানে খাল কাটা হলেও কাজ অসমাপ্ত রয়েছে এবং দখলকারীরা ঘর মেরামত করতে শুরু করেছে।

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের (বাপাউবো) সূত্রে জানা গেছে, পুরো এলাকায় ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, যেসব জায়গায় খাল খনন বন্ধ রয়েছে, সেগুলোতে প্রভাবশালীদের কারণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। খাল খননের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল ইসলাম জানায়, মাটি নরম হওয়ায় কিছু জায়গায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অন্য জায়গায় খনন চলছে।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ জানিয়েছেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে কোন কিছু জানানো হয়নি। তবে, তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। তিনি আরো বলেন, খাল খনন কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে যাতে বর্ষার আগেই কাজ সম্পন্ন হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ১৬ হাজার টাকার জাল নোটসহ কারবারী গ্রেপ্তার

বরিশালে ১৬ হাজার টাকার জাল নোটসহ একজন কারবারী গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার বিকেলে নগরীর পুরানপাড়ার মতাশা এলাকায় ক্রেতা সেজে দোকানদারকে জাল নোট দেওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম আশ্রাফুল আলম (৪৫), তিনি গৌরনদী উপজেলার শাহাজিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, তার কাছে ৩০ হাজার টাকার জাল নোট ছিল। আটকের আগেই ১৪ হাজার টাকার জাল নোট দিয়ে বিভিন্ন দোকানদারের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করেছিলেন তিনি। পরে তাকে এক হাজার টাকার ১৬টি জাল নোটসহ আটক করা হয়।

ওসি নাজমুল নিশাত জানিয়েছেন, আশ্রাফুল আলম নগরীর মতাশা এলাকায় এক নারীর দোকানে গিয়ে এক হাজার টাকার একটি জাল নোট দিয়ে পণ্য কিনতে চেয়েছিল। নোটটি সন্দেহজনক মনে হলে দোকানদার স্থানীয়দের জানায়। এরপর স্থানীয়রা নিশ্চিত হয় যে, এটি জাল নোট এবং তারা আশ্রাফুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। ওসি জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আশ্রাফুল আলমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে ২১ লাখ টাকার অবৈধ সিগারেট জব্দ

ঝালকাঠি শহরের বরিশাল-পিরোজপুর মহাসড়কের জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৩৫ কার্টন অবৈধ সিগারেট জব্দ করেছে। ২৩ মার্চ ২০২৫, রবিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তারা ৩ লাখ ৫০ হাজার শলাকা কিংস ব্রান্ডের দেশি সিগারেট জব্দ করে।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র এবং কিছু ডিলার ঝালকাঠি জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে, জাল ব্যান্ডরোল লাগিয়ে অবৈধ সিগারেট বিক্রি করে আসছিল। এসব সিগারেটের চালান কপি ছিল না এবং তারা নকল সিগারেট বিক্রি করে সরকারের রাজস্ব আয়ের ক্ষতি করছিল।

ঝালকাঠি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, “অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিগারেট জব্দ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ বিড়ি-সিগারেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কাস্টমস বিধি অনুযায়ী অবৈধ সিগারেট জব্দ দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম