কলাপাড়ায় মুখোশধারী ডাকাতদের তাণ্ডব, ২৪ লাখ টাকার সম্পদ লুট

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সশস্ত্র ডাকাত দল একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) মধ্যরাত থেকে রাত ৩টার মধ্যে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ধানখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানখালী গ্রামের দেলোয়ার জমাদ্দার (৬৫) ও তার পরিবার রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত দল দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে তারা হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং খাটে শুইয়ে রাখে।

ডাকাতরা পিস্তল ও রামদা উঁচিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ঘরের চাবি ছিনিয়ে নেয়। এরপর আলমারি ও শোকেস খুলে প্রায় ২৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা গেছে, ডাকাতরা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল। তাদের মধ্যে একজন লুঙ্গি পরিহিত ও কাঁচা দাড়িওয়ালা ছিল, বাকিরা শর্ট প্যান্ট পরা ছিল।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় এ সভা শুরু হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক যাদব সরকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

  • সিভিল সার্জন ডা. মো. খালিদুর রহমান মিয়া
  • পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ
  • পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা
  • জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাড. মো. নাজমুল আহসান

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—

  • পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন
  • পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন
  • অধ্যক্ষ সাইফুল মজিদ মো. বাহাউদ্দিন (আব্দুল করিম মৃধা কলেজ)
  • বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন পটুয়াখালীর প্রতিনিধি মিরাজ ইমতিয়াজ
  • অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মাহমুদ
  • সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফ্ফাত আরা জামান ঊর্মি
  • বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ও জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা

বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এ দিনটি বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়।

বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান এবং বলেন, জাতির জন্য আত্মত্যাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। তাদের আদর্শ অনুসরণ করেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় সড়কে গাছ ফেলে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি

বরগুনায় সড়কে গাছ ফেলে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী ইমরান পরিবহন নামক যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা বাসে থাকা যাত্রীদের মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঘটনা ঘটে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার বরগুনা-বরিশাল সড়কের গলাচিপা ও চান্দুখালী এলাকা মাঝামাঝি। একই সময়ে ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে ছেড়ে আসা লাবিবা পরিবহন নামক বাসে হামলা চালানো হয়। সড়কে গাছ ফেলে দুটি ট্রাক ও একটি পিকআপের গতিরোধ করে ডাকাতরা হামলা চালায়। তবে এই ঘটনায় লাবিবা পরিবহনের চালক সামান্য আহত হলেও যাত্রীদের কেউ হতাহত হয়নি।

ইমরান পরিবহনের বাসটি সোমবার রাতে বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়। বেতাগী উপজেলার গলাচিপা এলাকা পার হওয়ার পর চালক দেখতে পান সড়কে দুটি বাস এবং ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাড়ি থামানোর সাথে সাথেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাত থেকে আটজন ডাকাত সদস্য বাসে প্রবেশ করে। তারা যাত্রীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুটে নেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

ইমরান পরিবহনের চালক মো. আয়নাল জানান, “লাবিবা পরিবহনের বাস দাঁড়িয়ে দেখে আমাদের গাড়ি থামানো হয়। পরে হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার জানালার গ্লাস ভেঙে গলা লক্ষ্য করে অস্ত্র ধরে ডাকাতরা।” তিনি আরও বলেন, ডাকাতরা বাসের দরজার গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং যাত্রীদের মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

লাবিবা পরিবহনের স্টাফ মো. শামীম বলেন, “আমরা সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক ও পিকআপ দেখে গাড়ি থামাই। পরে তিন-চারজন ডাকাত সদস্য বাসে হামলা চালিয়ে গ্লাস ভাঙচুর করে।”

বেতাগী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।”




 হজযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে

পবিত্র হজযাত্রাকে আরও মসৃণ এবং নিরাপদ করতে বাংলাদেশ সরকার একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। এই অ্যাপটি হজযাত্রীদের যাত্রার পূর্ব, চলাকালীন এবং ফিরে আসার পরেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “হজ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গভীর আধ্যাত্মিক সফরগুলোর মধ্যে একটি। তবে অনেক সময় বাংলাদেশের হাজিরা ভাষাগত বাধা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অতিরিক্ত ভিড়, প্রশাসনিক জটিলতা এবং লজিস্টিক সমস্যার সম্মুখীন হন।” তিনি আরও জানান, এই অ্যাপটি বাংলা ভাষায় রিয়েল-টাইম নির্দেশনা এবং সহায়তা প্রদান করবে এবং এটি সরকার-সমর্থিত বিশেষ ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া, হাজির লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতে লাগেজ ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হজযাত্রীরা প্রতিদিনের করণীয়, যাতায়াতের বিস্তারিত বিবরণ, এবং কোন দোয়া পড়তে হবে, তা জানতে পারবেন। এছাড়া, বিভিন্ন পবিত্র স্থান সম্পর্কিত ছবিসহ ইতিহাস ও তথ্য প্রদান করা হবে। যদি হাজিদের কোনো প্রশ্ন থাকে, তারা কল সেন্টারের মাধ্যমে তা জানতে পারবেন এবং শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “হজের মূল লক্ষ্য যেন ভ্রমণের দৈনন্দিন ঝামেলা দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সকল ব্যবস্থাই এই অ্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১শ’ জন হজের জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২শ’ জন এবং বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮১ হাজার ৯শ’ জন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সামগ্রিক ঐক্য পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে’: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সামগ্রিক ঐক্য সৃষ্টি হওয়ায় পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরেছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সামগ্রিক ঐক্য পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। তারা এই ঐক্য ভাঙতে চায় এবং এর জন্য তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “আপনি টেরও পাবেন না, কখন তারা আপনাকে পুতুল বানিয়ে ফেলবে। আমাদের সচেতনতা এবং ঐক্য দিয়েই পলাতক অপশক্তির ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিতে হবে।”

এছাড়া, গুজবের বিষয়ে ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনার ছবি জুড়ে দেয়া, এক দেশটির ঘটনা অন্য দেশের হিসেবে চালিয়ে দেয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করার মতো অভিনব প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের সময় এই গুজব আরো ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।”

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে আরো বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। গুজবই হলো জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গুজব দেখা মাত্র তার উৎস খুঁজে বের করুন এবং গুজবকে অবহেলা করবেন না। বহু অভিজ্ঞ সমর বিশারদ এবং সীমাহীন অর্থ এই গুজবের পেছনে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানকে সফল করা, এবং তা ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মানববন্ধন করতে এসে অভিযুক্ত নারীকে পেয়ে মারধর

ভোলায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করতে এসে অভিযুক্ত নারীকে পেয়ে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নারীর নাম নাজনীন (৩৫)। তিনি ভোলা পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা দুপুরের দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানবন্ধন করতে আসেন। এসময় ওই নারী এলে মানববন্ধনে আসা কয়েকজন নারীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাজনীনকে মারধর করেন মানববন্ধনে আসা কয়েকজন নারী ও দুই কিশোর। পরে কয়েকজন পথচারী ওই নারীকে ছাড়িয়ে আনেন।

আহত নারী নাজনীন বলেন, ‘আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে ফোনে বিরক্ত করছিলেন খাবার হোটেল ব্যবসায়ী নাঈম। ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। পরে আমি কয়েকজনকে জানালে তারা এসে নাঈমকে আমার ঘরে পান। এরপর আমি নাঈমকে জুতাপেটা করি, যাতে তিনি আর এমন কাজ করার সাহস না পান। পরে তিনি আমিসহ উপস্থিত সবার কাছে মাফ চেয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় নাঈম ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে আজ মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে আমাকে মারধর করেছেন।’

তবে অভিযুক্ত নাঈম ও তার পরিবারের দাবি, মানববন্ধন করতে গেলে নাজনীন এসে হুমকি ও মানববন্ধন পণ্ড করতে চান। পরে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তারা মানববন্ধন শেষ করে চলে যান।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাত হাসনাইন পারভেজ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কিন্তু কেউ এখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




তামিম ইকবাল তার ফেসবুক পোস্টে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম তারকা তামিম ইকবাল সম্প্রতি ফেসবুকে একটি আবেগপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করেছেন, যেখানে তিনি তার পরিবার, ভক্ত এবং সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রায় দেড়দিন ধরে অসুস্থ থাকায়, তামিমের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট ভক্তদের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে, অবশেষে সকলের দোয়া এবং আল্লাহর রহমতে তিনি সংকট কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন।

তামিম তার পোস্টে বলেন, “দুই বছর আগে এই রোজার সময়ই অনুপের কাছে গিয়েছিলাম। সেদিন জানতে পারলাম, অনুপের বাবা চার বছরেও হার্টের অপারেশন করতে পারেননি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন, “হৃদয়ের স্পন্দনই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে, কিন্তু এই স্পন্দন যে কোনো ঘোষণা না দিয়েই থেমে যেতে পারে — এই কথাটি আমরা বার বার ভুলে যাই। গতকাল দিনটি শুরু করার সময় কি আমি জানতাম, আমার সাথে কী হতে যাচ্ছে?”

পোস্টে তামিম তার ফিরে আসার জন্য আল্লাহর অশেষ রহমত এবং তার পাশে থাকা কিছু অসাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। “এই বিপদের সময়ে আমি পাশে কিছু অসাধারণ মানুষকে পেয়েছিলাম, যাদের বিচক্ষণতা ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আমি এই সংকট কাটিয়ে ফিরে এসেছি,” তিনি বলেন।

এছাড়া, তামিম তার সকল ভক্ত এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি অনুরোধ করেন, “জীবন আসলে কতটা ছোট, আর এই ছোট জীবনে সবাই যেন একে অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়—এটিই আমার অনুরোধ।”

তিনি পোস্টে আরও বলেন, “আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা। সবাই আমার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের ভালোবাসা ছাড়া আমি তামিম ইকবাল কিছুই না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্যামসাং সিইও হান জং-হি মারা গেছেন

স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ভাইস চেয়ারম্যান হান জং-হি আজ (২৫ মার্চ) সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন।

হান জং-হি ২০২২ সাল থেকে স্যামসাংয়ের ডিভাইস এক্সপেরিয়েন্স (ডিএক্স) ইউনিটের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, যেখানে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন এবং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যু দক্ষিণ কোরিয়ার করপোরেট জগতে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুস্থ ছিলেন, এবং গত সপ্তাহে তিনি স্যামসাংয়ের বার্ষিক সাধারণ শেয়ারহোল্ডার সভা পরিচালনা করেছিলেন।

স্যামসাং এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই কঠিন সময়ে তার পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।” হান ১৯৮৮ সালে স্যামসাংয়ে যোগদান করেছিলেন এবং দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবনে স্যামসাংয়ের টিভি ব্যবসাকে বৈশ্বিক শীর্ষস্থানে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি ডিএক্স বিভাগ এবং ডিজিটাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবসার প্রধান হিসেবেও কোম্পানির প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, বিশেষ করে প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মধ্যেও।

হানের মৃত্যু এমন এক সময়ে ঘটল, যখন স্যামসাং বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে তার আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অ্যাপল এবং চীনা নির্মাতা শাওমির মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারণে স্যামসাং চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অ্যাপল বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে ২৩ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষে ছিল, আর স্যামসাং ১৬ শতাংশ শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন করপোরেট নেতা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। স্যামসাংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী এলজি ইলেকট্রনিক্সের সিইও চো জু-ওয়ান বলেন, “আমি অত্যন্ত দুঃখিত। স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের সকলের প্রতি আমার সমবেদনা রইল। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ইলেকট্রনিক শিল্পের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামিমকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন সাকিবের বাবা-মা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল, যিনি সম্প্রতি মাঠে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন, এখন সাভারের কেপিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তামিমের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে এবং তিনি এখন হাঁটতে চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকদের মতে, তিনি এক প্রকার ‘মৃত্যুর দুয়ার’ থেকে ফিরে এসেছেন, তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনও কিছু সময় লাগবে।

এদিকে, তার সুস্থতার জন্য দেশবাসী থেকে শুরু করে ভক্ত, সমর্থকরা এবং সতীর্থরা প্রার্থনা করছেন। টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও তার ফেসবুক পেজে তামিমের জন্য দোয়া চেয়ে পোস্ট করেছেন।

আজ মঙ্গলবার, সাকিব আল হাসানের বাবা-মা সাভারের কেপিজি হাসপাতালে তামিমকে দেখতে যান। তারা কিছু সময় তামিমের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। সাকিবের বাবা মাশরুর রেজা জানান, “তামিমের বাবা আমার খেলার বন্ধু, তাই তার জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই।”

তামিমের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর, সাকিব আল হাসান নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার জন্মদিনের দিনও তামিমের অসুস্থতায় মন খারাপের কথা জানান। তিনি লিখেন, “আজ আমার বিশেষ দিন, তবে মনটা পুরোপুরি আনন্দে নেই, কারণ আমার প্রিয় সতীর্থ ও বন্ধু তামিম ইকবাল অসুস্থ। মাঠে আমরা একসঙ্গে অনেক লড়াই করেছি, অনেক স্মৃতি রয়েছে, এবং সবসময় চাইব আমাদের এই পথচলা আরও দীর্ঘ হোক।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামিমের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে কত দিন লাগবে জানালেন চিকিৎসক