ভুয়া সেনাসদস্য সেজে প্রতারণা, পটুয়াখালীতে যুবক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে সেনাসদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার নান্নু শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকান থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম কামরুল ইসলাম (১৯)। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সোরা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত মুনসুর আলী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম প্রায় এক মাস ধরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যার পর তিনি উপজেলার নান্নু শপিং কমপ্লেক্সে যান এবং শেফা কসমেটিকস অ্যান্ড গার্মেন্টস নামের একটি দোকানে ঈদের পোশাক কিনতে ঢোকেন।

পোশাক পছন্দ করার সময় তিনি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেন। তবে দোকানের মালিক মো. নাসির হাওলাদারের ভাই, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মিজান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কামরুল ইসলামের কথাবার্তায় সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং বিস্তারিত জানতে চান।

মিজানের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে তিনি বিষয়টি মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কামরুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ জানান, সেনাসদস্য পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শবে কদরের মহিমা ও ফজিলত

প্রতিবছর এমন একটি রাত আসে, যা অন্য সব রাতের তুলনায় অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। মহান আল্লাহ এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই রাতটি হলো লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাতে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআন মাজিদ নাজিল করেছেন এবং বান্দাদের জন্য অশেষ রহমত বর্ষণ করেন।

শবে কদরের গুরুত্ব

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—
“রমজান মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হেদায়েতস্বরূপ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“এই মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হলো, সে সমস্ত কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হলো।” (ইবনে মাজাহ: ১৬৪৪)

অন্য এক হাদিসে এসেছে—
“যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় শবে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (সহিহ বোখারি: ৩৫)

শবে কদরের তারিখ নির্ধারণ

শবে কদরের সঠিক তারিখ নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবাদের এটি রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে বলেছেন

সহিহ হাদিসে এসেছে—
“তোমরা শবে কদর রমজানের শেষ দশকে, বিশেষ করে বিজোড় রাতে খোঁজ করো।” (সহিহ বোখারি: ২০২৭)

২৭ রমজানকে শবে কদর হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে ২১, ২৩, ২৫, ২৯ রমজানের রাতেও এটি হতে পারে।

শবে কদরের লক্ষণ

রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছু নির্দিষ্ট আলামত বলে গেছেন, যার মাধ্যমে এই রাত চেনা যায়—

আকাশ ও আবহাওয়া:

  • রাতটি হবে শান্ত ও মনোরম।
  • বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা থাকবে না।
  • বাতাস থাকবে মৃদুমন্দ।

চাঁদের অবস্থা:

  • চাঁদ থাকবে উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ।
  • কখনো কখনো মেঘের আড়ালে থাকতে পারে।

পরদিন সূর্যের অবস্থা:

  • শবে কদরের পরের দিন সূর্য নির্জ্বল ও কিরণবিহীন হবে
  • সূর্য দেখতে হবে এক টুকরো থালার মতো।

শবে কদরের ইবাদত

এ রাতে বেশি বেশি—

  • নফল নামাজ পড়া
  • কোরআন তিলাওয়াত করা
  • তওবা ও ইস্তিগফার করা
  • দোয়া ও জিকির করা
  • সদকা-দান করা

বিশেষ দোয়া

হজরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যদি আমি শবে কদর পেয়ে যাই, তাহলে কী দোয়া পড়ব?

নবী (সা.) বললেন, এই দোয়া পড়বে—
اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নি”।
(অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমাকে ভালোবাসেন, আমাকে ক্ষমা করে দিন।)

শবে কদর এক মহিমান্বিত রাত। এটি পাওয়ার জন্য রমজানের শেষ দশকে বিশেষভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকা উচিত। এই রাতেই ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়, তাই আমাদের উচিত গুনাহ থেকে মুক্তি চেয়ে বেশি বেশি দোয়া করা


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এশিয়ার দেশগুলোর ভাগ্য একে অপরের সাথে জড়িত : প্রধান উপদেষ্টা




ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা ডিভিশন কমান্ডারের পদত্যাগ




জি কে শামীমের সাড়ে ৫ বছরের কারাদণ্ড, মা খালাস




দুমকীতে দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উদযাপিত স্বাধীনতা দিবস

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হয়েছে মহান স্বাধীনতা দিবস।

বুধবার (২৬ মার্চ) ভোরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। এরপর সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হকের নেতৃত্বে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আজিজ হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম মৃধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইউএনও। এরপর ১০টা ৪৫ মিনিটে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেয় বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ স্কাউটস, গার্লস গাইড এবং শিক্ষার্থীরা।

সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ জোহর উপজেলার সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেশ ও জাতির শান্তি এবং অগ্রগতি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

এরপর হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জার মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ উন্মুক্ত, উপচে পড়া ভিড়

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে কোস্টগার্ডের যুদ্ধজাহাজ বিসিজিএস অপরাজেয় বাংলা। বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পায়রা বন্দরের সার্ভিস জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উন্মুক্ত করা হয়।

জাহাজটি দেখার সুযোগ পেয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। দলবেঁধে শিক্ষার্থীরা জাহাজে উঠে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। কোস্টগার্ডের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং জাহাজের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জাহাজটি কীভাবে গভীর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনা করে, উপকূলীয় টহল দেয়, উদ্ধার ও অনুসন্ধান পরিচালনা করে, চোরাচালান ও জলদস্যুতা দমনসহ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে—এসব জানতে পেরে দর্শনার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। যুদ্ধকৌশল সম্পর্কেও আগ্রহভরে শোনেন অনেকে।

জাহাজ উন্মুক্তকরণ উপলক্ষে আয়োজিত এই কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী ভিড় করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য সমুদ্র নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক চার দিনের সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরের বিষয়ে জানা গেছে, ২৬ থেকে ২৯ মার্চ চীন সফর করবেন তিনি। ২৬ মার্চ (বুধবার) দুপুরে চীনের পাঠানো একটি উড়োজাহাজে ঢাকা থেকে রওনা হবেন। ২৭ মার্চ দেশটির হাইনান প্রদেশে আয়োজিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) সম্মেলনে যোগ দেবেন ড. ইউনূস। সম্মেলনের উদ্বোধনী প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেবেন তিনি। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে চীনের স্টেট কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রিমিয়ার দিং ঝুঝিয়াংয়ের বৈঠক হতে পারে।

২৮ মার্চ বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ড. ইউনূস। একই দিনে হুয়াওয়ে কোম্পানির উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন এন্টারপ্রাইজ পরিদর্শন করবেন তিনি। ২৯ মার্চ চীনের বিখ্যাত পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে এবং সেখানে তিনি বক্তব্য রাখবেন। পরে বেইজিং থেকে চীনের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।

প্রধান উপদেষ্টার বেইজিং সফরে ছয় থেকে আটটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি এ সফরে চারটি ঘোষণা আসতে পারে। যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশকে এক থেকে দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তার ঘোষণা দেবে চীন। এছাড়া মোংলা বন্দরের আধুকিয়ানে অর্থায়নের বিষয়টিও যুক্ত থাকবে।

৩ এপ্রিল থাইল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন ড. ইউনূস

আগামী ২ থেকে ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ষষ্ঠ বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ৩ এপ্রিল ব্যাংককে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




গলাচিপায় আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় চাষিদের দুশ্চিন্তা

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলেও বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় গলাচিপার আলু চাষিরা হতাশায় পড়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে কোনো হিমাগার না থাকায় কৃষকরা মাঠে-ঘাটে, বাগানে আলুর স্তূপ গড়ে তুলেছেন। এতে সংরক্ষণের অভাবে শুধু গলাচিপা উপজেলাতেই প্রায় ১০ কোটি টাকার আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

গলাচিপা উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান জানান, এ বছর উপজেলায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেড়ে গেছে, ফলে বাজারে আলুর দাম কমে গেছে। সংরক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা মাঠেই আলু স্তূপ করে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত আলু বিক্রিতে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। কালিকাপুর গ্রামের কৃষক মো. আল আমিন বলেন, “সাড়ে তিন একর জমিতে আলু চাষ করেছি। কিছু আলু বিএডিসি কিনে নিলেও বাকিগুলো ক্ষেতেই স্তূপ করে রাখতে হচ্ছে। বরিশালের হিমাগারে জায়গা পাচ্ছি না, তাই বুঝতে পারছি না এত আলু কীভাবে সংরক্ষণ করব।”

বোয়ালিয়ার কৃষক মো. মিজান মিয়া বলেন, “আমরা আড়াই একর জমিতে আলু চাষ করেছি, এতে প্রায় ৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অথচ ৪ টন আলু পেয়েছি, যার বর্তমান বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এতে উৎপাদন খরচই উঠছে না। পাইকার না থাকায় এখন পর্যন্ত একটাও বিক্রি করতে পারিনি। প্রতিদিন আলু পঁচছে, আর আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে।”

গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার জানান, প্রতি হেক্টর জমিতে ২৮ টন করে মোট ১০,৩৬০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজারে প্রতি টন আলুর দাম মাত্র ১,৫০০ টাকা, যা কৃষকদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “উপকূলীয় জেলায় একটি হিমাগার থাকলে কৃষকরা হয়তো এমন সংকটে পড়ত না।”

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত হিমাগার নির্মাণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এমন লোকসানের হাত থেকে তারা রক্ষা পেতেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিয়াকে (৫৭) আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৪ মার্চ) রাত পৌনে ২টার দিকে পৌর শহরের ইসলামপুর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দীন মাহমুদ জানান, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কলাপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে। পরে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন

বাবুল মিয়ার গ্রেপ্তারের ঘটনায় নীলগঞ্জ এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম