পটুয়াখালীতে তিন শতাধিক ইমাম-মুয়াজ্জিনের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী বিতরণ

পটুয়াখালী পৌরসভার উদ্যোগে পৌর এলাকার ৩০০-এর বেশি ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মাঝে ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী পৌরসভার নতুন ভবনে এই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

পৌর প্রশাসক (উপসচিব) ও এলজিইডি পটুয়াখালীর উপ-পরিচালক জুয়েল রানার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান।

এবারের ঈদ শুভেচ্ছা সম্মানী হিসেবে ১২৬ জন ইমাম, ২৩৫ জন মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা. মুজিবুর রহমান, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ, সহকারী প্রকৌশলী এইচ এম সুলাইমানসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

সম্মানী বিতরণকালে পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টিকাদান, বাল্যবিবাহ রোধ, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইমামদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আমরা আশা করি।”

২০২০ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ প্রথমবারের মতো পটুয়াখালী পৌর এলাকায় ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় নেতাদের সরকারিভাবে বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সম্মানী বিতরণ করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও সমাজ উন্নয়নে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত রেখে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে জনগণের শক্তি দমন করা যায় না’ – এম জহির উদ্দিন স্বপন

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “এই দেশের মালিক হচ্ছে নাগরিকরা।” তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন সময় ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এবং ব্যক্তিরা জনগণকে পাশ কাটিয়ে জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছে, তবে জনগণ তাদের শক্তি দিয়ে বার বার প্রমাণ করেছে যে, রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে জনগণের শক্তি দমন করা যায় না।”

এই মন্তব্য তিনি শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডস্থ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় করেন। আলোচনা সভাটি ছিল “অবাধ জাতীয় নির্বাচনের জন্য ফ্যাসিবাদমুক্ত ও পেশাদারী প্রশাসন তথা রাষ্ট্র অপরিহার্য শর্ত” শীর্ষক, এবং এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম জহির উদ্দিন স্বপন।

গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় এম জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে পলাতক শেখ হাসিনা দেশের সকল বাহিনী ব্যবহার করেছেন। সরকারি বাহিনী ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টা করেছিলেন। একমাত্র দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ব্যতীত আর সকল বাহিনী হাসিনা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছিলেন, তারপরও সফল হননি।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ পান্না, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু প্রমুখ।

বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আলোচনা সভায় অংশ নেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ঈদযাত্রায় ফিরে এসেছে পুরানো দৃশ্য

বরিশাল নদী বন্দর এখন আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঈদে ঘরে ফিরতে আসা যাত্রীদের সঙ্গে বন্দরে ভোরে একে একে এসে পৌঁছেছে ১১টি লঞ্চ। শনিবার ভোর ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে, ৭টি সরাসরি লঞ্চ এবং আরও ৪টি ভায়া পথের লঞ্চ বরিশালে পৌঁছায়।

পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল নদী বন্দরে এমন ভিড় দেখা যায়নি। তবে এবারের ঈদে সেই পুরানো দৃশ্য আবার ফিরেছে। যাত্রীদের পদচারণায় বন্দরের প্রতিটি জায়গা ছিল পূর্ণ, পন্টুনে কোনো জায়গা ছিল না।

বরিশাল নদী বন্দরের ভোরটা একেবারে অন্যরকম, কীর্তনখোলার বুকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ঢাকার ভরা লঞ্চগুলোর আলোকসজ্জা দেখা যাচ্ছিল। প্রতি লঞ্চে ছিল মানুষের ভিড়, যার কোলাহলে বন্দরের বাতাস ছিল একেবারে জীবিত।

এবার ঈদ উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে বিশেষ সার্ভিস চালু হয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই সার্ভিসে অতিরিক্ত লঞ্চ সংযোজন করা হয়েছে, তবে লঞ্চ মালিকেরা এটাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ সার্ভিস হিসেবে মনে করছেন না। বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ এই সিদ্ধান্তকে অমূলক বলে উল্লেখ করেছেন।

নদী বন্দরের কর্মীরা, হকাররা, ভাসমান দোকানিরা সকলেই ব্যস্ত। এক শ্রমিক জানান, “ঈদের সময়ই আমাদের কাজ হয়, আমরা এই সময়টার জন্য অপেক্ষা করি।” তিনি আরও বলেন, “এবার বাড়ি ফিরলে ঈদে আনন্দ হবে, যদিও আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে।”

লঞ্চগুলোর অভ্যন্তরীণ আলোকসজ্জা দেখে মনে হচ্ছিল—নদীর বুকে ছোট ছোট শহর। এমন দৃশ্য অনেক দিন পর দেখা গেছে। তবে এবার লঞ্চে কেবিনের সংখ্যা সীমিত, যাত্রীদের জন্য ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১,২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ২,৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, পদ্মা সেতু চালুর পর এই নৌপথে যাত্রীসংখ্যা অনেক কমে গেছে। তবে ঈদের সময়ে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এই ভিড় আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এবার আরো ছোট হয়ে আসছে শেখ হাসিনার পৃথিবী!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কোন দেশ আশ্রয় দিতে রাজি নয় সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে নানা তথ্য বাতাসে ভেসে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কেউ রাজি হয় নি। ভারতও চেষ্টা করেছিল হাসিনাকে তৃতীয় কোন দেশে পাঠাতে।

কিন্তু ফিনল্যান্ড,যুক্তরাজ্য,সংযুক্ত আরব-আমিরাত কেউই রাজি হয় নি। এমন মূহর্তে ভারতেই থাকতে হচ্ছে হাসিনাকে। ভারতের ওপর চাপ ছিল ওয়াশিংটনের। চাপ ছিল ঢাকারও। ওয়াশিংটন দিল্লীর কাছে জানতে চেয়েছে,হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে ভারতে বসবাস করছেন?

অন্যদিকে ঢাকার দাবি ছিল হাসিনা ভারতে বসে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না।

গত ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতকে দাবি জানিয়ে আসছে হাসিনা যেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে।তারপরও যুক্তরাজ্যে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য দেন হাসিনা,যা ছিল ৮ ডিসেম্বরের ঘটনা।পরদিন ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী।

দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়,ভারতে বসে হাসিনার বক্তব্য পছন্দ করছি না আমরা। অবশেষে নয়া দিল্লীতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন,বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচুত্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাকে ভারত সমর্থন করে না,এবং এটি বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই ছোট বা ‍তুচ্ছ বিষয়।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন,শেষ পর্যন্ত ভারতও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন এ অবস্থায় আরো ছোট হয়ে আসছে হাসিনার পৃথিবী।




কুয়াকাটায় বিএনপি সভাপতির ছেলেদের দোকানে তালা: ব্যবসায়ীদের বিপদে পড়ার আশঙ্কা

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর দুই ছেলে সম্প্রতি সৈকতের পাশের শুঁটকি মার্কেটের ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টা নাগাদ এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ঈদের আগে দোকান বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলে তাদের আশঙ্কা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে, অগ্রিম ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন ব্যবসায়ীরা। তবে ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং জমির মালিকানা দাবি করেন তিন ব্যক্তি—কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী, রাশেদুল-আফতাব এবং বেল্লাল মোল্লা।

বিপাকে পড়া দোকানিরা জানান, জমির মালিকানা নির্ধারণের জন্য একাধিক বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এরপর, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর ছেলে, লতাচাপলী ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসুল্লী দোকানিদের নতুন চুক্তি করতে চাপ দেন। তবে জমির মালিকানা স্থায়ী না হওয়ায় তারা এতে রাজি হননি। বৃহস্পতিবার সকালে, রিয়াজ মুসুল্লী এবং তার ভাই মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মুসুল্লী লোকজন নিয়ে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

দোকানিরা বলেন, “আমরা বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলাম এবং তাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছিলাম। এখন নতুন করে অন্য কারও সাথে চুক্তি করতে চাই না। আমাদের জীবিকা শুঁটকি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল।” ঈদের বাজার ধরতে না পারলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

বেল্লাল মোল্লা দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী উম্মে সালমার কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। তিনি জানান, জমির মালিকানা নিয়ে কিছুদিন আগেও কোনো বিরোধ ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান দখল করা হয়েছে।

অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করে রাশেদুল ও আফতাব জানান, ১৯৭০ সালে লাল মিয়া ৫ একর ৯৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যার ওয়ারিশরা তাদের আমমোক্তারনামা দিয়েছেন। বর্তমানে এ জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি মামলা চলছে।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী মন্তব্য করেন, “আজিজ মুসুল্লীর দুই ছেলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই কাজ করেছে। এটা দলের জন্য বড় ক্ষতি।”

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী দাবি করেছেন, “জমির বৈধ মালিক আমি। যারা আমার সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা অবৈধভাবে জায়গা দখল করেছে।” তার ছেলে রিয়াজ মুসুল্লী বলেন, “এ জমি আমার বাবার। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু সমাধান না পেয়ে তালা দিতে বাধ্য হয়েছি।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনার পর, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন এবং ঈদের বাজারে আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই বিপ্লব না হলে হাসিনাকে বিতাড়িত করা যেত না: মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেছেন, “যুলাই বিপ্লব না হলে এদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতাড়িত করা যেত না।” তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনে পটুয়াখালী জেলায় ১৪ জন শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন বাউফলের সন্তান। বাউফলের মানুষ, তাদের অবস্থান নির্বিশেষে, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি এই শহীদদের প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আজ শুক্রবার বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শহীদ, আহত যোদ্ধা ও সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। হাসিনা সরকারের লুটপাটের কারণে দেশের অস্থিরতা দেখা দিলে ছাত্রজনতা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং এর ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন।

শাহিন আরও বলেন, “এই বিপ্লব যদি ব্যর্থ হতো, তবে আমাদের একজনকেও জীবিত রাখা হতো না।” তিনি আওয়ামী লীগের শাসনের সমালোচনা করে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শহীদ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এর পর জাতীয় পার্টি নামে একটি দল জন্ম নেয়, যা সবসময় হাসিনার চামচামি করেছে, কিন্তু এখন এই দলটি বিলুপ্তির পথে।”

এছাড়াও, বাউফলে খুন, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাউফল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এভাবে চলতে থাকলে বাউফলের শান্তি বিনষ্ট হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া কিংবা আহত হওয়া যাদের পরিবারের কেউ হয়রানির শিকার হলে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবেনা।”

এছাড়া, সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, “আপনারা কোন দুর্বৃত্তকে দলে আশ্রয় দেবেন না, কারণ তারা অপকর্ম করলে তার দায় দলকেই বহন করতে হবে।”

অধ্যাপক আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, শহীদ মেহেদি হাসানের বাবা মোশারেফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুজ্জামান সুপন, বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি জলিলুর রহমান, এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

 

মো : আল-আমিন, পটুয়াখালী।



মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক মিয়ানমারে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে শত শত মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে মান্দালয়ের অবস্থা বেশ শোচনীয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এক উদ্ধারকারী জানিয়েছেন ‘সেখানকার ক্ষয়ক্ষতি বিশাল’। তিনি বলেছেন, “মৃত্যুর সংখ্যাও অত্যাধিক। এখন পর্যন্ত আপনাদের আমরা এতটুকুই বলতে পারব। কারণ এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।” তিনি আরও বলেন, “হতাহতের সঠিক সংখ্যাটি এখনো জানা যায়নি। কিন্তু এটি অন্তত কয়েকশ হবে।”

শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের প্রথমটির রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।

মিয়ানমারের স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৫০ মিনিটে সাগাইং শহরের ১৬ কিলোমিটার (১০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এখন সামনে আসা শুরু করেছে।

এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গুরুতর আহত হয়ে হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এছাড়া অনেকে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খিত তিতের বরাতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মান্দালয় প্রদেশের ফো শিং মসজিদ ধসে পড়েছে। এছাড়া সেখানে আরও অন্তত তিনটি মসজিদ ভেঙে পড়েছে। মসজিদ ধসে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন মারা গেছেন।




থাইল্যান্ডে ৩০ তলা ভবন ধস, ভেতরে আটকা ৪৩ কর্মী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ব্যাপক ধাক্কা লেগেছে প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডেও। রাজধানী ব্যাংককে একটি নির্মাণাধীন ৩০ তলা ভবন ধসে পড়েছে এবং এতে আটকা পড়েছেন অন্তত ৪৩ জন নির্মাণ কর্মী।

ব্যাংকক পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী শহরের চাতুচাক মার্কেটের কাছে ছিল এই ভবনটির অবস্থান। ভূমিকম্পের সময় ৫০ জন কর্মী ছিলেন ভবনটিতে। ভূমিকম্পের সময়ে তাদের মধ্যে ৭ জন ভবনটির বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন, বাকিরা বের হতে পারেননি।

ভবন ধসের চিত্রটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন একজন নেটিজেন। মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় সে ভিডিওটি।




পটুয়াখালী গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষতি

পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা পৌরসভার টল ঘরের মুদি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৮ মার্চ) ভোররাত সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগার পর তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এতে মুজাফফর খন্দকার ও রবি পালের মুদি দোকান এবং মনোহারি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনে মুজাফফর খন্দকারের মালামাল বোঝাই গুদামও ভস্মীভূত হয়।

খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে শাহআলী প্যাদার মুদি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তিনটি দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।

মুজাফফর খন্দকারের ছেলে আতিকুর রহমান ও ভাগিনা মনির বলেন, “ভোররাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে ছুটে আসি। এসে দেখি সব পুড়ে যাচ্ছে, কোনো মালামালই বের করতে পারিনি। ঈদ উপলক্ষে দোকান ও গুদামে প্রচুর মালামাল ছিল, এতে আমাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

এসময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মুজাফফর খন্দকার ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম ঘটনাস্থলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, একই রাতে উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতাবাড়িয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাসুদেব দাসের বাড়ি পুড়ে গেছে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে বসতঘরের আসবাবপত্র, পোশাক ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়, যার ফলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া একটি গাভীও আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন সাব অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলাচিপা পৌরসভার মুদি দোকানে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা হবে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদ উপহার বিতরণ

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলমের উদ্যোগে এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল কারাবন্দি জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া।

এই উদ্যোগের আওতায়—
১৮০ জন পুরুষ বন্দিকে লুঙ্গি,
২৩ জন মহিলা বন্দিকে শাড়ি,
এক শিশুকে পোশাক দেওয়া হয়, যে তার মায়ের সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করছে।
বিনোদনের জন্য বন্দিদের মাঝে একটি এলইডি টিভি সরবরাহ করা হয়।

জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন—
আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী।
যাদব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।
মো. মেহেদী হাসান, প্রবেশন অফিসার।

তারা বন্দিদের মাঝে উপহার বিতরণ করেন ও তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপহার পেয়ে বন্দিরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন। এক বন্দি বলেন—
“আমরা কখনো ভাবিনি, কারাগারের ভেতর থেকেও ঈদ উদযাপন করতে পারব।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন,
“এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা বন্দিদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে।”

জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন,
“বন্দিরাও মানুষ, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। এই উদ্যোগ তাদের সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

সুশীল সমাজ মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ বন্দিদের মাঝে সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে ও তাদের মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখবে। এটি দেশের অন্যান্য কারাগারের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

পটুয়াখালী জেলা কারাগারের এই ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে দেশের কারাব্যবস্থার মানবিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম