পিরোজপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা, গণপিটুনিতে নিহত ১

ডাকাতির সময় পিরোজপুরে গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছে। এ সময় আহত অবস্থায় আরেক ডাকাতকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। শনিবার (২২ নভেম্বর) রাতে সদর উপজেলার পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য অনুকূল চন্দ্র রায় ওরফে দুলালের বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় নিহতের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে আটককৃত সবুজ হাওলাদার (৫৫) এর বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে স্থানীয়দের ধাওয়ায় অন্য ডাকাত সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘর থেকে স্বর্ণের চেন, কানের বালা ও শাঁখাসহ অন্যান্য স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুলালের ভাই অমলেশ চন্দ্র রায়।

পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা জানান, রাত আড়াইটার দিকে খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাধা রমনের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের একটি টহল টিম পশ্চিম দূর্গাপুর গ্রাম থেকে আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে।




বরিশালে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু, পালিয়ে গেলেন চিকিৎসক-নার্স

বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সাথি আক্তার পরী নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়েছেন। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোড় এলাকার মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটনাটি ঘটেছে। পরী উজিরপুর উপজেলার ভরসাকাঠি গ্রামের ইমন আকনের স্ত্রী।

পরীর শ্বশুর নজরুল আকন জানান, শনিবার বেলা ১১টার দিকে পুত্রবধূর প্রসববেদনা শুরু হলে মদিনা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। প্রথমে ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার নরমাল ডেলিভারির কথা বলে ৫ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। পরে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় তিনি (নজরুল) অন্যত্র সিজার করার কথা বললে বরিশাল থেকে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এনে অপারেশন করানোর আশ্বাস দেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

নজরুল আকন বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিজারের মাধ্যমে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় পরী। সিজারের পরপরই সিজারকারী চিকিৎসক ক্লিনিক ত্যাগ করে চলে যান। পরে আধা ঘণ্টা পর পরীকে বেডে দেওয়া হলে তার শরীর সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শাসকষ্টের বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা জানায়- ক্লিনিকে কোনো অক্সিজেন নেই, বাইরে থেকে আনতে হবে। পরে একজন স্টাফ অক্সিজেন আনতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। তিনি আরও বলেন, পরীর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে আমরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করি।

এ সময় ক্লিনিকের চিকিৎসক রাজিব কর্মকার এসে পরীক্ষা করে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়ে ক্লিনিক থেকে থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ক্লিনিকের সব স্টাফরা পালিয়ে যায়। পরে পাশের একটি ক্লিনিক থেকে চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করিয়ে জানতে পারি পরী মারা গেছে। কোন চিকিৎসক সিজার করেছে জানতে চাইলে তিনি সিজারকারী চিকিৎসকের নাম জানাতে পারেননি।

তবে ক্লিনিকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রান্ত হালদার জানিয়েছেন, ডা. সমিরন হালদার নামের এক চিকিৎসক পরীর সিজার অপারেশন করেছে। এ বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ মুঠোফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি সিজারকারী ডা. সমিরন হালদারের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়েও তাকে না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহীন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এরপরও ওই ক্লিনিকের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফলতি পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




নৌকার ভোট এবার কার বাক্সে যাবে

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :   দেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া  আর এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে  সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগের ভোটের মাঠে অনুপস্থিতি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে, দলটির ভোট কোনদিকে যাবে। তবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত এই দলটির ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।

সূত্রগুলো জানাচ্ছে, জয়ের ব্যাপারে এক ধরনের নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে বিএনপির। তাই প্রকাশ্যে তারা দলটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান দেখাচ্ছে না। পাশাপাশি নির্বাচনি প্রচারণায় অনেক স্থানে বিএনপির প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

অন্যদিকে বসে নেই আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী বলে পরিচিত জামায়াতও। এ দলটিও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়াসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সংখ্যালঘুদেরও দু-একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা করছে জামায়াত। খোঁজ নিয়ে দুটি দলেই নতুন এই নির্বাচনি কৌশলের কথা জানা গেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ভোট টানার লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সঙ্গে জোট করবে কিনা তা নিয়ে দুই দলই পুনর্বিবেচনা করে দেখছে। এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট থাকলে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা ভোট নাও দিতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে দল দুটি নানা হিসাব-নিকাশ কষছে। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা এনসিপিকে প্রধান শত্রু মনে করে এমন আলোচনা আছে দেশের রাজনীতিতে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। এই সংগঠনের নেতৃত্বদানকারীরাই পরে এনসিপি গঠন করে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোট কারা পাবে সেটি নির্ভর করছে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, দলটির আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী থাকে তাদের ভোট দেবে।

 দ্বিতীয়ত, ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পর্কের ওপর।

 তৃতীয়ত, ৫ আগস্টের পর প্রার্থী বা তাদের কর্মীরা আওয়ামী লীগের কর্মীদের ওপর কতটা নির্যাতন চালিয়েছে সে বিবেচনা নির্ভর করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, প্রার্থীরা স্থানীয় হলে সুবিধা হলো নির্বাচনটি সামাজিক হয়। ফলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে না এসে থাকতে পারেন না। সে হিসাবে আওয়ামী সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা কেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, দলটির সমর্থকগোষ্ঠী বা ভোটাররা তাদের আদর্শের কাছাকাছি যদি কোনো প্রার্থী পায়, তবে তাদের ভোট দেবেন। আবার ‘না’ ভোট দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এছাড়া যদি কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের আকর্ষণ করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগের ভোট পাবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিজেই বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারবে না। এনসিপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও বলেছে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বর্তমানে দেশে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনও নৌকা প্রতীক স্থগিত করেছে।

নিরাপত্তার কথা ভেবে বিএনপির ধানের শীষকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এজন্যই কেউ কেউ মনে করছেন, কিছুটা জামায়াত প্রভাবিত উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের একাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিগত জাতীয় নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছে ৩০.০৮ শতাংশ, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৭.৪৪ শতাংশ, ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০.১৩ শতাংশ ও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৮.০৪ শতাংশ। এরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন হলেও তা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত। এর মধ্যে দুটি নির্বাচন একতরফা ও একটি নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই ভোট হয়ে যায়।

বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের মতে, আওয়ামী লীগের প্রায় ১৭ বছরের দুঃশাসনে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ ছিল। যার ফলাফল গত বছরের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের সাধারণ জনগণও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিল। যে কারণে আওয়ামী লীগের আগের ভোটের হারের সঙ্গে বর্তমান অবস্থা মেলানো যাবে না। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভোট সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হতে পারে এমন আলোচনা আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫ দিন বন্ধ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভায় ভূমিকম্প–পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সভায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও পরাঘাতের কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা ভূমিকম্প–পরবর্তী আবাসিক হলগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার বলে মতামত দেন। ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো খালি করার কথাও বলেন তাঁরা।

এর প্রেক্ষাপটে সভায় আগামী ৬ ডিসেম্বর শনিবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আবাসিক হলগুলো খালি রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আগামীকাল বিকেল পাঁচটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ছেড়ে যেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়




হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্ত্রী খ্রিষ্টান হবেন উষা, আশাপ্রকাশ ভ্যান্সেরহিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্ত্রী খ্রিষ্টান হবেন উষা, আশাপ্রকাশ ভ্যান্সের

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে তরুণদের সংগঠন ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’র একটি অনুষ্ঠানে এক তরুণীর প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ভ্যান্স তার স্ত্রী উষা একদিন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।

তবে এই মন্তব্য ভারতের ভেতরে এবং ভারতীয় প্রবাসীদের মধ্যে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মান্তরকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

ভ্যান্স জানান, তার স্ত্রী উষা ভ্যান্স দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় হয়েছেন এবং হিন্দু পরিবারে বেড়ে ওঠেছেন। ভ্যান্স নিজে ইভানজেলিকাল পরিবারে বেড়ে উঠলেও ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেন।

বিষয়টি অনেক ভারতীয় সহজভাবে নেয়নি। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ভায়েস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিচ্ছেন।

কিন্তু উষাই বহু বছর আগে ভ্যান্সকে ধর্মের সঙ্গে পুন:সংযোগ স্থাপন করতে উৎসাহ দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন এই ভায়েস প্রেসিডেন্ট।

লেখাপড়ার সময় ইয়েল ল স্কুলে ভ্যান্স ও উষার প্রথম পরিচয় হয়। এরপর ২০১৪ সালে, বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি।

২০১৯ সালে, ক্যাথলিক ধর্ম নিয়ে পড়ালেখা শুরু করেন ভ্যান্স। উষার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের বিষয়ে তিনি বলেন, উষার সঙ্গে প্রথম যখন দেখা হয়েছিল, তখন তিনি (ভ্যান্স) নিজেকে নাস্তিক ভাবতেন।

গত জুন মাসে এক সাক্ষাৎকারে উষা ভ্যান্স বলেছেন,আমি ক্যাথলিক নই। হওয়ার ইচ্ছাও নেই। সন্তানরা ক্যাথলিক স্কুলে পড়ে।

তিনি আরও জানান, সন্তানদের তার পরিবার থেকেও হিন্দু ধর্মের রীতিনীতি শেখানো হয় এবং তাদের নানী নিয়মিত মন্দিরে যান এবং পূজা করেন।

ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়ে ভায়েস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, স্ত্রীর ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে কোন দ্বন্দ্ব নেই। যদি উষা খ্রিষ্টধর্মে না আসে, তাতেও সমস্যা নেই। ঈশ্বর সবাইকে স্বাধীন ইচ্ছা দিয়েছেন এবং বিবেচনা করার জন্য বিবেক দিয়েছেন।’

নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের সময় থেকে ধর্ম, পরিবার ও ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সমন্বয়ে ভ্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি রক্ষণশীল শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো।




‘বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক চাইলে, অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠাতে হবে’

বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হলে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জোটসঙ্গীদের বিচারের দাবিতে’ আয়োজিত গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫০ বছর ধরে ভারত বন্ধু রাষ্ট্রের নামে বাংলাদেশকে শোষণ করে গিয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছিল। সেই ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে আবারও তাদের দেশে জায়গা দিয়ে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অব্যাহত রেখেছে। ভারত সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, বাংলাদেশের সাথে যদি সত্যিকার অর্থে সুসম্পর্ক চান, তাহলে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। আমরা আশা করবো, শেখ হাসিনাকে ফেরত দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারত নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

তিনি আরও বলেন, আদালত শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর রায় দিয়েছেন। আমরা ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু আজকে আমরা রাজপথে নেমেছি, এই রায় যেন অবিলম্বে দ্রুততার সাথে কার্যকর করা হয়। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মজলুম জনতা ইনসাফ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যত ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন, এই অন্তর্বর্তী সরকার সেই তৎপরতা শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের তাৎপরতা শুরু করেছে উল্লেখ করে বলেন, আমরা আহ্বান জানাবো- বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে কেউ বিচারের ব্যাপারে আপস করবেন না। তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদেরকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

সমাবেশে সুস্পষ্ট তিনটি দাবির কথাও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। সেগুলো হলো- শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করা, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোকে বিচারের আওতায় আনা।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে। ঐকমত্য কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে জাতীয় পার্টি না থাকলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ একটি চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এনসিপি মাঠে থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ।

অপরদিকে, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বিগত দিনে পিলখানা, শাপলা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মেরেছে। লাশ পুড়িয়ে ফেলেছে। আয়নাঘরে নির্যাতন করেছে। তাই তাদের বিচার করতে হবে। আমরা শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।

এছাড়া, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে কিছু আসন পাওয়ার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদী শক্তি বলে মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জানান, সিভিল সোসাইটির কিছু লোক আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দল প্রসঙ্গে কথা বলছে। তারা মূলত ব্যাংক লুটেরা। এনসিপি থাকতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।




বরিশালে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ উন্মুক্ত

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বরিশালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ উন্মুক্ত করা হয়েছে। বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত পরিদর্শন।

বরিশালে বিআইডব্লিউটির ঘাটে সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য বানৌজা পদ্মা যুদ্ধজাহাজ এসেছে।

বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে প্রচুর জনসাধারণের সমাগম ঘটে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল বেশি। বানৌজা পদ্মা জাহাজের অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন লে. কমান্ডার নাফিউর রহমান।




২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নরসিংদীতে ফের ভূমিকম্প

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবারও দেশে ভূমিকম্প হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আবারও দেশে ভূমিকম্প হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে নরসিংদীর পলাশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৩।

 




নাজিরপুরে বালু ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও উত্তোলনে বাধার অভিযোগ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে সরকারনির্ধারিত ইজারাকৃত স্থান থেকে বৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা সৃষ্টি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (২১ নভেম্বর) নাজিরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বালু ব্যবসায়ী মো. রাসেল খান (৪২)।
অভিযোগে রাসেল খান জানান, মধুমতি তালতলা ও বলেশ্বর নদীর নির্দিষ্ট অঞ্চল থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এ জন্য তিনি পিরোজপুর জেলা প্রশাসনে মোট ১ কোটি ৪৬ লাখ ২৩ হাজার ২৮৮ টাকা রাজস্ব পরিশোধ করেছেন।
তার অভিযোগ, ফরিদ শেখ (৫০) ও আলামিন খান (৩২)সহ আরও কয়েকজন তার বালু উত্তোলন কার্যক্রমে নানাভাবে বাধা প্রদান করে ৫ লাখ টাকা এবং প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। দাবিকৃত টাকা না দিলে উত্তোলন কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকা ১০–১২ জন সন্ত্রাসী তার কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হন।
নাজিরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং যাচাই–বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফরিদ শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না এবং ইজারাদারকেও চিনি না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিন খান বলেন, “রাসেল নামে ওই ইজারাদারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, আর এমন কোনো ঘটনার সঙ্গেও আমার সম্পৃক্ততা নেই।”
এ বিষয়ে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া জানান, “অভিযোগটি তদন্তধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”



বাসার সানশেড ভেঙে পড়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু

ছুটির দিন সকালে তিন সন্তানের সঙ্গে বাসাতেই ছিলেন দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল (৩৮)। হঠাৎ ভূমিকম্পে সব কেঁপে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে সন্তানদের হাত ধরে দ্রুত বের হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তার আগেই বাসার সানশেড ভেঙে তাদের মাথায় পড়ে। এতে প্রাণ হারান উজ্জ্বল ও তার ছোট ছেলে ওমর আলী (১০)। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই মেয়ে।

শুক্রবার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া গ্রামে। তিনি নরসিংদীতে জুট করপোরেশনে চাকরি করেন। সেই সুবাদে গাবতলি এলাকায় ভাড়া বাসার নিচতলায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। উজ্জ্বলের ছেলে ওমর স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়ত। মেয়ে উষা (১৭) ও তবুফা (১৪) নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উষা এবার এসএসসি পাস করেছে। তবুফা নবম শ্রেণিতে পড়ে। ঘটনার সময় উজ্জ্বলের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। স্বামী ও ছেলেকে হারিয়ে তিনি পাগলপ্রায়।

স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় সন্তানদের নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছিলেন উজ্জ্বল। ঠিক এই সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে তাদের বসতবাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে বাসার সানশেড ভেঙে উজ্জ্বল, তার ছেলে ও দুই মেয়ে আহত হয়। স্থানীয়রা প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দুপুরে সেখানে নেওয়ার পর ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। উজ্জ্বলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ও প্রতিবেশী তারিকুল ইসলাম শাহীন বলেন, উজ্জ্বল প্রায় ১০ বছর ধরে নরসিংদীতে চাকরি করছিলেন। স্ত্রী-সন্তান থাকত গ্রামের বাড়িতে। বছর চারেক আগে তাদের নরসিংদীতে নিয়ে আসেন। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভালোই ছিলেন উজ্জ্বল। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের সময় তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের ওপর পড়ে। বাবা-ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তারা আরও বলেন, দুই মেয়েকে বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। তাদের মা কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছেন। তাকে সারাজীবন এই ভয়াবহ শোকের বোঝা বয়ে বেড়াতে হবে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, বাবা-ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। উজ্জ্বলের দুই মেয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি।

এদিকে ভূমিকম্পের কারণে নরসিংদীতে আরও তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মারা গেছেন পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন শিবপুর উপজেলার আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৫ বছরের নাসির উদ্দিন। তিনি কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।