ইসলামী ব্যাংকগুলো একীভূত করা হবে : গভর্নর

 পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে আইনি ও নৈতিক—উভয় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। যারা অর্থ পাচার করেছে, তাদের জীবন কঠিন করে ফেলা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ অর্থ পাচার না করে। সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহায়তা প্রয়োজন কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকগুলো একীভূত করে বড় দুটি ইসলামী ব্যাংক গড়ে তোলা হবে। ব্যাংক খাতের সংস্কার চলমান রাখতে রাজনৈতিক সমর্থন প্রয়োজন। রাজনীতির পালাবদল হলেও এসব সংস্কার চলতে হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে হবে।

গভর্নর বলেন, যেসব ব্যাংকে অনিয়ম হয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে সেসব ব্যাংকের পর্ষদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে ১১টি ব্যাংক ও এরপর আরও দুই ব্যাংকে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আরও একটি ব্যাংক নিজেই পর্ষদে পরিবর্তন এনেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কারা পর্ষদে আসবেন, স্বতন্ত্র পরিচালক কারা হবেন, তাঁদের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ব্যাংক খাতে সমস্যার পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকও একটি কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালী করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর বিভিন্ন চাপ থাকে, সেই সঙ্গে আছে ব্যাংক খাতে দ্বৈত শাসন। স্বায়ত্তশাসন ও তদারকি বাড়াতে কাজ চলছে, যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর হয়ে ওঠে। ব্যাংক খাতে যেসব সমস্যা হচ্ছে বা হতে পারে, তা যেন আগেই জানা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা যাতে তাদের দায়িত্ব পালন করে, তা নিবিড়ভাবে তদারকি করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্টিং পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে। সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে জমা নেওয়া হবে।’




এসএসসি পরীক্ষায় মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১০ এপ্রিল শুরু হবে। এ বছর মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে ৯টি সাধারণ ধারার শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন।

এ বছর সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নকলমুক্ত পরিবেশে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নিচে এসএসসি পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত নির্দেশনাগুলি দেয়া হলো:

১. পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ

পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

২. নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা

প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে।

৩. পরীক্ষার ধরণ

প্রথমে বহুনির্বাচনি এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

৪. প্রবেশপত্র সংগ্রহ

পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিকট থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিন দিন পূর্বে সংগ্রহ করবে।

৫. ধারাবাহিক মূল্যায়ন

শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান, খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়গুলো এনসিটিবির নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে।

৬. OMR ফরম পূরণ

পরীক্ষার্থীরা তাদের উত্তরপত্রের OMR ফরমে পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। উত্তরপত্র কোনো অবস্থাতেই ভাঁজ করা যাবে না।

৭. পাসের শর্ত

প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি এবং ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

৮. পরীক্ষার বিষয়

প্রতিটি পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়/বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।

৯. স্থানান্তরিত পরীক্ষা কেন্দ্র

কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিজ বিদ্যালয়ে/প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।

১০. ক্যালকুলেটর ব্যবহার

পরীক্ষায় সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

১১. মোবাইল ফোন ব্যবহার

কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে মুঠোফোন আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবেন না।

১২. উপস্থিতি পত্র

সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতি পত্র ব্যবহার করতে হবে।

১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা

ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্র বা ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

১৪. পুনঃনিরীক্ষা

পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষার জন্য অনলাইনে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

এছাড়া, এসএসসি পরীক্ষার সংশোধিত সময়সূচি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 পিরোজপুরে গ্রাম পুলিশের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ উদ্বোধন

পিরোজপুরে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল, ২০২৫) সকাল ১১টায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি) এর আয়োজনে এবং পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করা হয়।

এ প্রশিক্ষণ কোর্সে পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে মোট ৪০ জন গ্রাম পুলিশ অংশগ্রহণ করছেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি এই প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন করেন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. আব্দুল কাইয়ুম।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশিদ, পিরোজপুর স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ডার মো. ইসমাইল হোসেন।

এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশদের স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানানো হয়।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, তাপমাত্রা কমতে পারে

ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী তিন দিন বজ্রবৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আজ বুধবার (০৯ এপ্রিল) আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় উত্তর দিকে এবং পরে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এ অবস্থায় আজ বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, ফেনী ও যশোর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস:

  • বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
  • শুক্রবার (১১ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।
  • শনিবার (১২ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, অন্যত্র আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
  • রোববার (১৩ এপ্রিল): একই ধরনের পূর্বাভাস থাকছে, তবে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী ৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দরুদ পাঠের বরকতে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা

দরুদ পাঠের বরকত এতই শক্তিশালী যে, তা মানুষের জীবনে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ও বিশেষ রহমত নিয়ে আসে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায় যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্মরণ করে পাঠ করা দরুদ মানুষের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। নিচে এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যেখানে দরুদ পাঠের বরকতে অসাধারণ ফল পাওয়া গেছে।

১. গায়েবি সাহায্য: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মরুভূমিতে চলতে চলতে ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ প্রতি দরুদ পাঠ করতে শুরু করেন। তখনই একদল অশ্বারোহী এসে ডাকাতদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাকে উদ্ধার করে। তারা জানায়, “তুমি যখন দরুদ পাঠ করছিলে, আল্লাহ আমাদেরকে তোমার সাহায্যে পাঠিয়েছেন।” (কিতাবুশ-শিফা, ইমাম ক্বাযী আয়াদ)

২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার জান্নাতের বাগানে বসে ছিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার কবরের আজাব মাফ করে দেবেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

৩. অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টি ফিরে আসা: হযরত উসমান ইবন হানিফ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার দৃষ্টি চলে গেছে, আমি কী করতে পারি?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি দু’রাকাত নামাজ পড়ো এবং ‘আল্ল-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিন ওয়াশফি’নি’ পাঠ করো।” ওই ব্যক্তি এ আমল করলেন এবং অলৌকিকভাবে তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮)

৪. রোগমুক্তি: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, “আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত, কিছুতেই সুস্থ হচ্ছি না।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমাকে শিফা দান করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পাঠ করতে শুরু করলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। (আল-কাওকাবুদ দুররী)

৫. ঋণ থেকে মুক্তি: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললো, “আমি প্রচণ্ড ঋণের মধ্যে পড়েছি।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পড়তে লাগলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে গেল। (দারেমি, হাদিস: ২৭৫৫)

৬. অভাব দূর হওয়া: ইমাম ইবনে জাওযী (রহ.) তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি এতটাই অভাবে পড়েছিলেন যে খাবার কিনতে টাকা ছিল না। এক আলেম তাকে বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার অভাব দূর করবেন।” সে এই আমল শুরু করল এবং কিছুদিনের মধ্যে তার রিজিকের দ্বার খুলে গেল। (কিতাবুল আওরাদ)

৭. ক্ষমার সুসংবাদ: হযরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, “আমি আমার দু’আর মধ্যে আপনার জন্য কতটুকু দরুদ রাখব?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি যত বেশি পারো।” তিনি বললেন, “তাহলে আমি আমার দু’আর পুরো সময় আপনাকে দরুদ পড়তে ব্যয় করব।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমার সব চিন্তা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

৮. বিপদ থেকে মুক্তি: হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সাগরপথে সফর করছিলেন। ঝড় শুরু হলো এবং নৌকা ডুবে গেল। তিনি দরুদ পাঠ করতে করতে বেঁচে গেলেন। (শারহু শিফা)

৯. জান্নাতের সুসংবাদ: ইমাম কুরতুবি (রহ.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ শরীফ পড়তেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। তিনি বললেন, “তোমার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ আছে, কারণ তুমি জীবনে নিয়মিত আমার প্রতি দরুদ পাঠ করেছ।” (তাফসির কুরতুবি)

১০. রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্বপ্নে দেখা: হযরত আবু ইয়াজিদ (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ১০০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পাবে।” তিনি একদিন এ আমল শুরু করলেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। (তাফসির কুরতুবি)

১১. মৃত্যু-মূহুর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ সাক্ষাৎ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি মৃত্যুশয্যায় শান্ত ছিলেন এবং বলছিলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ এসেছেন, তিনি আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।” তার পরিবার জানতে পেরে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেন, “আমি প্রতিদিন ৫০০ বার দরুদ পাঠ করতাম।” (রুহুল বায়ান)


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার

ভোলার মনপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রদল নেতা মো. রাশেদ হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিন মিঝি, মো. হালিম মিঝি এবং মো. করিম মিঝি। বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ভোলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মার্চ, মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের নুর উদ্দিন মার্কেট এলাকার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে। এখানে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই ২০ মার্চ মনপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন, তবে সম্প্রতি তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত

বরিশালের রূপাতলীতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহত একজনের নাম ব্যবহার করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রমিকদের দিয়ে সেখানে ঘর তৈরি করা হচ্ছে এবং কাজের তত্ত্বাবধান করতে দেখা গেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে।

এ বিষয়ে জানা যায়, বরিশাল শহরের রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এবং বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে সওজের জমি ইজারা নিয়ে ২২টি স্টল নির্মাণ করেছিলেন জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক, বর্তমানে কারান্তরীণ মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান। তাদের পারিবারিক পরিচালিত একটি এতিমখানা মার্কেট নামে স্টলগুলো নির্মিত হয়েছিল। তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ নভেম্বর সওজ ওই স্টলসহ ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

এরপর কয়েক মাস পর ওই স্থানগুলোতে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় বিভিন্ন অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটিতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সংস্থার বরিশাল শাখার অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া, একটি জায়গায় কাঠের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এবং তদারকি করছেন দুজন ছাত্র নেতা।

এ বিষয়ে একটি কাঠমিস্ত্রি জানান, তাদেরকে মজুরিভিত্তিতে কাজ করার জন্য আনা হয়েছে এবং তারা শুনেছেন, এখানে স্টল নির্মাণের জন্য সমন্বয়করা কাজ করছেন। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক শাহেদুল ইসলাম শাহেদ বলেছেন, “আমি যতদূর জানি, আমাদের আহত একজন সেখানে বসে ব্যবসা করবেন। যখন সিটি কর্তৃপক্ষ আসবে, তখন তিনি জায়গাটি ছেড়ে দেবেন।”

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সড়ক ও জনপথের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

এই বিষয়ে সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, “রূপাতলী সমাজসেবা অফিসের সামনে আমাদের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কেউ নতুন করে ইজারা পায়নি এবং যদি কেউ সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে, তবে তা উচ্ছেদ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রখ্যাত সাধক অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর মন্দির এখন লাখো ভক্তের তীর্থস্থান

ভোলা জেলার সম্ভুপুরে জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত সাধক শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী, যিনি ‘অনিল বাবাজী’ নামেও পরিচিত, এখন লাখো ভক্তের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছেন। এই মহান সাধক গত ২৭ বছর আগে ভোলা জেলার আড়ালিয়া, চাঁদপুরে তিরোধান হন। তার মহাপ্রয়াণে লক্ষাধিক ভক্ত ও শিষ্য উপস্থিত ছিলেন, যা প্রমাণ করেছে তিনি কত বড় মাপের একজন সাধক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই, তার স্মৃতি রক্ষায় তৈরি হয়েছে বিশেষ মন্দির এবং আশ্রম, যেখানে প্রতি বছর তার তিরোধান দিবসে বিশাল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী, যিনি জীবদ্দশায় অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন, তার সমাধি মন্দির এবং আশ্রমের প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার দর্শনার্থী এসে উপস্থিত হন। এখানকার দর্শনার্থীরা বাবাজির সমাধির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি পান। তিনি নিজেই বলেছিলেন, যাদের টাকার অভাবে বৃন্দাবন যেতে পারেন না, তাদের জন্য আড়ালিয়া হবে তাদের ‘বৃন্দাবন’। বর্তমানে, এই স্থানে অনেক মানুষ শারীরিক ও মানসিক শান্তি পেতে আসেন।

তার তিরোধান দিবসে ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয় এবং ব্যাপক আকারে নামযজ্ঞ, কীর্তন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তিরোধান উৎসব উপলক্ষে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ, কীর্তন পরিবেশন, এবং বিশেষভাবে নির্মিত বৃন্দাবন দর্শনসহ নানান ধর্মীয় কর্মকাণ্ড আয়োজিত হয়। এতে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, নেপাল এবং ভুটান থেকেও হাজার হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুপন চন্দ্র মজুমদার জানান, এই তিরোধান উৎসব শুধু বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। মন্দিরে আসা ভক্তদের জন্য প্রতি বছর নান্দনিক বৃন্দাবন এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া, মন্দিরের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলে আরও নানান ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

আশ্রমের সাধক রঘুনাথ বাবাজি বলেন, “প্রতিদিন ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয় এবং এলাকার মুসলিম ভাইয়েরাও আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন।”

আজকের দিনে, শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী অনিল বাবাজীর আশ্রম এবং সমাধি মন্দির হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে এবং এখানে বছরের পর বছর লাখো ভক্তের আগমন প্রমাণ করে তার মহান দীক্ষার এবং অলৌকিক ক্ষমতার গুরুত্ব।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামিমের পর এবার মাঠে অসুস্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল

কিছুদিন আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তামিম ইকবালের পর এবার মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়লেন অভিজ্ঞ আম্পায়ার গাজী সোহেল। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংকের মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনের সময় গরমের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

মাথা ঘোরা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে দ্রুত তাকে বিকেএসপির হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ম্যাচ শুরুর আগেই সোহেল দুর্বলতা অনুভব করেন, কারণ আগের রাতেই তার ঘুম হয়নি এবং চৈত্রের প্রচণ্ড গরম তাকে আরও বিপদে ফেলে। এর ফলে, তিনি মাঠে নামার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিকেএসপির জরুরি বিভাগে বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন গাজী সোহেল। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ম্যাচ শুরুর আগে সোহেল তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডিপিএলের সমন্বয়কারী সাব্বির আহমেদ রুবেল জানিয়েছেন, “গাজী সোহেলের প্রেশার হাই হয়ে গিয়েছিল। এখন মোটামুটি ভালো আছেন, তবে পালস একটু বেশি।” এদিকে, রিজার্ভ আম্পায়ার দিয়ে ম্যাচটি চালানো হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পোর্টস রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। (বাসস)

এসময় তারা একটি ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং এক্সেলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা পিটার হাস। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন মেটা, ভিসা, শেভরন, উবার, মেটলাইফ, মাস্টারকার্ড, বোয়িং এবং ইউএস সোয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। এক্সেলারেট এনার্জি ইউ.এস চেম্বার অব কমার্সের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো একটি ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করবে।

পিটার হাস বলেন, ‘মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার রয়েছে-যেটি স্থিতিস্থাপকতা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে।’

প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অবস্থানকে স্বাগত জানায়, যা বাণিজ্য ও অ-শুল্ক বাধা নিরসনে সহায়ক হবে।

নিশা দেশাই বিসওয়াল, যিনি আগে ডিএফসির ডেপুটি সিইও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রস্তাব দেয়, যাতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং আরো মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

চলমান শুল্ক আলোচনা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ যেন এই আলোচনাগুলোতে নিজেকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে’।

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button