সারা দেশে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, তাপমাত্রা কমতে পারে

ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী তিন দিন বজ্রবৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।

আজ বুধবার (০৯ এপ্রিল) আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এটি পরবর্তী ১২ ঘণ্টায় উত্তর দিকে এবং পরে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

এ অবস্থায় আজ বুধবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এ সময় ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, ফেনী ও যশোর জেলাগুলোর ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস:

  • বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
  • শুক্রবার (১১ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।
  • শনিবার (১২ এপ্রিল): রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, অন্যত্র আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে।
  • রোববার (১৩ এপ্রিল): একই ধরনের পূর্বাভাস থাকছে, তবে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, আগামী ৫ দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দরুদ পাঠের বরকতে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা

দরুদ পাঠের বরকত এতই শক্তিশালী যে, তা মানুষের জীবনে বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা ও বিশেষ রহমত নিয়ে আসে। ইসলামের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা পাওয়া যায় যেখানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্মরণ করে পাঠ করা দরুদ মানুষের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে। নিচে এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হলো, যেখানে দরুদ পাঠের বরকতে অসাধারণ ফল পাওয়া গেছে।

১. গায়েবি সাহায্য: হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি মরুভূমিতে চলতে চলতে ডাকাতদের আক্রমণের শিকার হন। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ প্রতি দরুদ পাঠ করতে শুরু করেন। তখনই একদল অশ্বারোহী এসে ডাকাতদের তাড়িয়ে দেয় এবং তাকে উদ্ধার করে। তারা জানায়, “তুমি যখন দরুদ পাঠ করছিলে, আল্লাহ আমাদেরকে তোমার সাহায্যে পাঠিয়েছেন।” (কিতাবুশ-শিফা, ইমাম ক্বাযী আয়াদ)

২. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: হযরত আবদুর রহমান ইবন আওফ (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ একবার জান্নাতের বাগানে বসে ছিলেন এবং বললেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার কবরের আজাব মাফ করে দেবেন এবং তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দেবেন।” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)

৩. অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টি ফিরে আসা: হযরত উসমান ইবন হানিফ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক অন্ধ ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে গিয়ে বললেন, “আমার দৃষ্টি চলে গেছে, আমি কী করতে পারি?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি দু’রাকাত নামাজ পড়ো এবং ‘আল্ল-হুম্মা সল্লি আ’লা মুহা’ম্মাদিন ওয়াশফি’নি’ পাঠ করো।” ওই ব্যক্তি এ আমল করলেন এবং অলৌকিকভাবে তার দৃষ্টি ফিরে পেলেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭৮)

৪. রোগমুক্তি: এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললেন, “আমি কঠিন রোগে আক্রান্ত, কিছুতেই সুস্থ হচ্ছি না।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি বেশি বেশি দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমাকে শিফা দান করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পাঠ করতে শুরু করলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। (আল-কাওকাবুদ দুররী)

৫. ঋণ থেকে মুক্তি: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে এসে বললো, “আমি প্রচণ্ড ঋণের মধ্যে পড়েছি।” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার ঋণ মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।” সে নিয়মিত দরুদ পড়তে লাগলো এবং কিছুদিনের মধ্যেই তার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা হয়ে গেল। (দারেমি, হাদিস: ২৭৫৫)

৬. অভাব দূর হওয়া: ইমাম ইবনে জাওযী (রহ.) তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এক ব্যক্তি এতটাই অভাবে পড়েছিলেন যে খাবার কিনতে টাকা ছিল না। এক আলেম তাকে বললেন, “তুমি প্রতিদিন ১০০০ বার দরুদ শরীফ পড়ো, আল্লাহ তোমার অভাব দূর করবেন।” সে এই আমল শুরু করল এবং কিছুদিনের মধ্যে তার রিজিকের দ্বার খুলে গেল। (কিতাবুল আওরাদ)

৭. ক্ষমার সুসংবাদ: হযরত উবাই ইবন কাব (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বললেন, “আমি আমার দু’আর মধ্যে আপনার জন্য কতটুকু দরুদ রাখব?” রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তুমি যত বেশি পারো।” তিনি বললেন, “তাহলে আমি আমার দু’আর পুরো সময় আপনাকে দরুদ পড়তে ব্যয় করব।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “তোমার সব চিন্তা ও দুশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

৮. বিপদ থেকে মুক্তি: হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি সাগরপথে সফর করছিলেন। ঝড় শুরু হলো এবং নৌকা ডুবে গেল। তিনি দরুদ পাঠ করতে করতে বেঁচে গেলেন। (শারহু শিফা)

৯. জান্নাতের সুসংবাদ: ইমাম কুরতুবি (রহ.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ শরীফ পড়তেন। এক রাতে তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। তিনি বললেন, “তোমার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ আছে, কারণ তুমি জীবনে নিয়মিত আমার প্রতি দরুদ পাঠ করেছ।” (তাফসির কুরতুবি)

১০. রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে স্বপ্নে দেখা: হযরত আবু ইয়াজিদ (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি নিয়মিত ১০০০ বার দরুদ পাঠ করবে, সে স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখতে পাবে।” তিনি একদিন এ আমল শুরু করলেন এবং স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দেখলেন। (তাফসির কুরতুবি)

১১. মৃত্যু-মূহুর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এ সাক্ষাৎ: হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি মৃত্যুশয্যায় শান্ত ছিলেন এবং বলছিলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ এসেছেন, তিনি আমাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন।” তার পরিবার জানতে পেরে প্রশ্ন করলে, তিনি বললেন, “আমি প্রতিদিন ৫০০ বার দরুদ পাঠ করতাম।” (রুহুল বায়ান)


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার

ভোলার মনপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রদল নেতা মো. রাশেদ হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মামলার প্রধান আসামি গিয়াস উদ্দিন মিঝি, মো. হালিম মিঝি এবং মো. করিম মিঝি। বুধবার (৯ এপ্রিল) সকালে ভোলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মার্চ, মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের নুর উদ্দিন মার্কেট এলাকার নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে। এখানে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ভাই ২০ মার্চ মনপুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে আসামিরা পলাতক ছিলেন, তবে সম্প্রতি তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, ছাত্র নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত

বরিশালের রূপাতলীতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে আহত একজনের নাম ব্যবহার করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমি দখল করা হচ্ছে। সম্প্রতি শ্রমিকদের দিয়ে সেখানে ঘর তৈরি করা হচ্ছে এবং কাজের তত্ত্বাবধান করতে দেখা গেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে।

এ বিষয়ে জানা যায়, বরিশাল শহরের রূপাতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এবং বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাঝখানে সওজের জমি ইজারা নিয়ে ২২টি স্টল নির্মাণ করেছিলেন জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক, বর্তমানে কারান্তরীণ মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান। তাদের পারিবারিক পরিচালিত একটি এতিমখানা মার্কেট নামে স্টলগুলো নির্মিত হয়েছিল। তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ নভেম্বর সওজ ওই স্টলসহ ৫ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে।

এরপর কয়েক মাস পর ওই স্থানগুলোতে নতুন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় বিভিন্ন অস্থায়ী প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। একটিতে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনী কল্যাণ সংস্থার বরিশাল শাখার অস্থায়ী কার্যালয় রয়েছে। এছাড়া, একটি জায়গায় কাঠের স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এবং তদারকি করছেন দুজন ছাত্র নেতা।

এ বিষয়ে একটি কাঠমিস্ত্রি জানান, তাদেরকে মজুরিভিত্তিতে কাজ করার জন্য আনা হয়েছে এবং তারা শুনেছেন, এখানে স্টল নির্মাণের জন্য সমন্বয়করা কাজ করছেন। অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক শাহেদুল ইসলাম শাহেদ বলেছেন, “আমি যতদূর জানি, আমাদের আহত একজন সেখানে বসে ব্যবসা করবেন। যখন সিটি কর্তৃপক্ষ আসবে, তখন তিনি জায়গাটি ছেড়ে দেবেন।”

তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সড়ক ও জনপথের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।

এই বিষয়ে সওজ বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, “রূপাতলী সমাজসেবা অফিসের সামনে আমাদের জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কেউ নতুন করে ইজারা পায়নি এবং যদি কেউ সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করে, তবে তা উচ্ছেদ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রখ্যাত সাধক অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারীর মন্দির এখন লাখো ভক্তের তীর্থস্থান

ভোলা জেলার সম্ভুপুরে জন্মগ্রহণকারী প্রখ্যাত সাধক শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী, যিনি ‘অনিল বাবাজী’ নামেও পরিচিত, এখন লাখো ভক্তের তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছেন। এই মহান সাধক গত ২৭ বছর আগে ভোলা জেলার আড়ালিয়া, চাঁদপুরে তিরোধান হন। তার মহাপ্রয়াণে লক্ষাধিক ভক্ত ও শিষ্য উপস্থিত ছিলেন, যা প্রমাণ করেছে তিনি কত বড় মাপের একজন সাধক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই, তার স্মৃতি রক্ষায় তৈরি হয়েছে বিশেষ মন্দির এবং আশ্রম, যেখানে প্রতি বছর তার তিরোধান দিবসে বিশাল মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী, যিনি জীবদ্দশায় অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন, তার সমাধি মন্দির এবং আশ্রমের প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার দর্শনার্থী এসে উপস্থিত হন। এখানকার দর্শনার্থীরা বাবাজির সমাধির সান্নিধ্যে মানসিক প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি পান। তিনি নিজেই বলেছিলেন, যাদের টাকার অভাবে বৃন্দাবন যেতে পারেন না, তাদের জন্য আড়ালিয়া হবে তাদের ‘বৃন্দাবন’। বর্তমানে, এই স্থানে অনেক মানুষ শারীরিক ও মানসিক শান্তি পেতে আসেন।

তার তিরোধান দিবসে ভোলা জেলার বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয় এবং ব্যাপক আকারে নামযজ্ঞ, কীর্তন এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তিরোধান উৎসব উপলক্ষে ৪০ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ, কীর্তন পরিবেশন, এবং বিশেষভাবে নির্মিত বৃন্দাবন দর্শনসহ নানান ধর্মীয় কর্মকাণ্ড আয়োজিত হয়। এতে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ, নেপাল এবং ভুটান থেকেও হাজার হাজার ভক্ত অংশগ্রহণ করেন।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রুপন চন্দ্র মজুমদার জানান, এই তিরোধান উৎসব শুধু বাংলাদেশের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। মন্দিরে আসা ভক্তদের জন্য প্রতি বছর নান্দনিক বৃন্দাবন এবং ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এছাড়া, মন্দিরের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলে আরও নানান ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

আশ্রমের সাধক রঘুনাথ বাবাজি বলেন, “প্রতিদিন ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয় এবং এলাকার মুসলিম ভাইয়েরাও আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেন।”

আজকের দিনে, শ্রী শ্রী অচ্যুতানন্দ ব্রহ্মচারী অনিল বাবাজীর আশ্রম এবং সমাধি মন্দির হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে এবং এখানে বছরের পর বছর লাখো ভক্তের আগমন প্রমাণ করে তার মহান দীক্ষার এবং অলৌকিক ক্ষমতার গুরুত্ব।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামিমের পর এবার মাঠে অসুস্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল

কিছুদিন আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তামিম ইকবালের পর এবার মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়লেন অভিজ্ঞ আম্পায়ার গাজী সোহেল। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংকের মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনের সময় গরমের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

মাথা ঘোরা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে দ্রুত তাকে বিকেএসপির হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ম্যাচ শুরুর আগেই সোহেল দুর্বলতা অনুভব করেন, কারণ আগের রাতেই তার ঘুম হয়নি এবং চৈত্রের প্রচণ্ড গরম তাকে আরও বিপদে ফেলে। এর ফলে, তিনি মাঠে নামার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিকেএসপির জরুরি বিভাগে বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন গাজী সোহেল। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ম্যাচ শুরুর আগে সোহেল তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডিপিএলের সমন্বয়কারী সাব্বির আহমেদ রুবেল জানিয়েছেন, “গাজী সোহেলের প্রেশার হাই হয়ে গিয়েছিল। এখন মোটামুটি ভালো আছেন, তবে পালস একটু বেশি।” এদিকে, রিজার্ভ আম্পায়ার দিয়ে ম্যাচটি চালানো হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পোর্টস রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠান ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। (বাসস)

এসময় তারা একটি ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং এক্সেলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা পিটার হাস। প্রতিনিধিদলে আরো ছিলেন মেটা, ভিসা, শেভরন, উবার, মেটলাইফ, মাস্টারকার্ড, বোয়িং এবং ইউএস সোয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের প্রতিনিধিরা। এক্সেলারেট এনার্জি ইউ.এস চেম্বার অব কমার্সের ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। মার্কিন কোম্পানিগুলো একটি ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সম্পর্কের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করবে।

পিটার হাস বলেন, ‘মার্কিন কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার রয়েছে-যেটি স্থিতিস্থাপকতা, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে।’

প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অবস্থানকে স্বাগত জানায়, যা বাণিজ্য ও অ-শুল্ক বাধা নিরসনে সহায়ক হবে।

নিশা দেশাই বিসওয়াল, যিনি আগে ডিএফসির ডেপুটি সিইও এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি বাংলাদেশের মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধিদল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রস্তাব দেয়, যাতে করে বাংলাদেশ বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দূর করতে এবং আরো মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

চলমান শুল্ক আলোচনা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমেরিকান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রে রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ যেন এই আলোচনাগুলোতে নিজেকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করতে পারে’।

অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ব্যবসা পরিচালনার সুবিধা সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button



ভোলার মেঘনায় তীব্র ভাঙন: টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি

গ্রীষ্মের শুরুতেই ভোলার মেঘনা নদীর তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে শিবপুর মাছ ঘাটসংলগ্ন ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে, শহর রক্ষা বাঁধটি ৬০ মিটার দূরত্বে রয়েছে এবং যদি ভাঙন আরও বাড়ে, তাহলে জেলা শহরসহ সদর উপজেলার অর্ধেক অংশ জোয়ারে প্লাবিত হতে পারে।

স্থানীয়দের মতে, গত বর্ষায় সদর উপজেলার শিবপুর মাছঘাট এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছিল এবং সেই ভাঙন এবার আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, শিবপুরের ৫০০ মিটার এলাকা বিলীনের পথে রয়েছে এবং ৬০ মিটার ভাঙলেই শহর রক্ষা বাঁধটি বিলীন হয়ে যাবে।

শিবপুরের বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, ভাঙন এলাকা থেকে জেলা শহরের দূরত্ব মাত্র আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জেলা শহরকে হুমকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। ঘাটের আড়ত মালিক আরিফ হোসেন জানান, এখানে শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মুবারক হোসেন, মো. আলম, নীরবসহ অনেকেই এই ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেললে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর তীর সংরক্ষণ ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ব্লক বাঁধসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউদ্দিন আরিফ জানান, বাঁধসংলগ্ন ২০০ মিটার এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং সেখানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার জন্য ৮০ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া, ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মেঘনার তীর সংরক্ষণ এবং ৬ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের জন্য পাউবো ৬২৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গ্রেফতার, বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার প্রধান আসামি

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে তাকে পটুয়াখালী জেলা আদালতে সোপর্দ করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকার নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।
আবুল কালাম আজাদ শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কাসেম মৃধার ছেলে।
দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন জানায়, ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। সেই মামলায় আবুল কালাম আজাদ ১ নম্বর আসামি।
ওসি আরো জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব আবুল কালাম আজাদকে মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। রাতে তাকে দুমকি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে, আজ দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মোঃ আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান তিন দিনের রিমান্ডে