২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু হবে

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, তাৎক্ষণিক পেমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায় যোগ হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা চালু হবে। এ ব্যবস্থায় ক্যাশ আউটের প্রয়োজনীয়তা থাকবে না।

সোমবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আন্তঃলেনদেন প্লাটফর্ম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুষ্ঠান থেকে গেটস ফাউন্ডেশনের মোজালুপের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চুক্তি সই হয়। এই চুক্তির আওতায় মোজালুপের এই প্লাটফর্মের নাম হবে ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইএসপি)।

গভর্নর বলেন, লেনদেনে স্বচ্ছতা আনার জন্য ডিজিটাইজেশনের বিকল্প নেই। আর এজন্য আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে এ ব্যবস্থায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। এতে লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে, রাজস্ব আদায় বাড়বে।




বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ফয়েজের লাশ উত্তোলন

‎নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ফয়েজের লাশ আদালতের নির্দেশে উত্তোলন করা হয়েছে।

‎সোমবার দুপুর ১২টায় রায়পুর উপজেলার ১নং উত্তর চর আবাবিল ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের ঝাউডগী গ্রামে নিজ বাড়িতে রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে কবর খুলে লাশ উত্তোলনের করেন।

‎ফয়েজের পিতা আলাউদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা (মামলা নং–১, তারিখ: ১/০৭/২০২৫) দায়ের করলে আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজী আবুল বাসার উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করেন।

‎লাশ উত্তোলনের তদারকি করা রায়পুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিগার সুলতানা বলেন, নারায়ণগঞ্জ কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী লাশ স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

‎লাশ উত্তোলনের সময় পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।‎পরিবারের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাস্তা পারাপারের মুহূর্তে ফয়েজ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আদালত পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

‎‎নিহতের স্বজনরা বলেন,আমরা ফয়েজ হত্যার সঠিক বিচার চাই। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত—তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আল্লাহ ফয়েজকে জান্নাত নসিব করুন।

উল্লেখ্য ,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের  ২১ জুলাই ২০২৪, সন্ধ্যা ০৬ টা, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব গুলিতে নিহত হয়। তার গ্রামের বাড়ি রায়পুর উপজেলার ১নং উওর চর আবাবিল ইউপির ৯নং ওয়ার্ড ঝাউডগী গ্রামে দাফন হয়।

 

 




খুনের মামলায় দুই ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ

যশোরের ঝিকরগাছায় চাচাতো ভাইকে হত্যার দায়ে আপন দু’ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের দু’ভাই ওসমান ও আলী হোসেন। তারা মৃত ছবেদ আলী সরদারের ছেলে।

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ওসমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি আজিজুল ইসলাম।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে কামরুল আমিনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ওসমান ও আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কামরুলের সঙ্গে ওসমান ও আলী হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওসমান ও আলী হোসেন ধারালো দা দিয়ে কামরুল আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে কামরুলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন ও ভাইপো আতাউর রহমানও জখম হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চারজনকেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুল মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত কামরুলের বাবা রুহুল আমিন সরদার থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক বনি ইসরাইল আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) উল্লিখিত দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও দশ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পিপি আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকার পক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষ ন্যায় বিচার পাননি দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।




বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেবে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গণমাধ্যম সংস্কারে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তবে সংস্কার হৃদয়ে ধারণ করতে না পারলে সংস্কার কতটা কাজে আসবে, সন্দেহ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আয়েজিত এক মতবিনিময়ে সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিভক্তির কারণে সাংবাদিকরা নিজেরাই বিভিন্ন রাজনীতিকদের পকেটে ঢুকে যান। এর প্রমাণ, বিগত সময়ে গণমাধ্যমগুলো নিজেরা উদ্যোগী হয়ে ফ্যাসিজমকে রক্ষা করেছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি খুবই পরিষ্কার। আমরা ৩১ দফার মাধ্যমে স্পষ্ট করে বলেছি যে আমরা একটি স্বাধীন গণমাধ্যম দেখতে চাই এবং সেটি গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই আমরা তখনই একটি কমিশন গঠনের অঙ্গীকার করেছিলাম।




পরশুরামে বিজিবির ধাওয়া, খাঁচাবন্দী ৯০টি পাখি ফেলে পালালেন যুবক

‎খাঁচায় বন্দী বন থেকে শিকার করা ৯০ টি শালিক পাখি। বিক্রির উদ্দেশে নিয়ে যাচ্ছিল শিকারী। হঠাৎ বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি খাঁচাগুলো ফেলে পালিয়ে যায় শিকারী।

‎ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ গুথুমা সীমান্তে। সোমবার(২৪ নভেম্বর) ভোরে শিকারী চক্রের হাত থেকে পাখিগুলো উদ্ধার করেন দক্ষিণ গুথুমা বিজিবি ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা।

‎বিজিবি সূত্র জানায়, গুথুমা সীমান্তে টহল দলকে দেখে একজন ব্যক্তি বাঁশের ঝুড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। খাঁচাগুলোতে আটক ৯০টি বন্য শালিক পাখি তাদের হেফাজতে নেয়। একটি খাঁচায় গাদাগাদি করে রাখায় ক্লান্ত আর নিস্তেজ হয়ে পড়ে পাখিগুলো। ভীত ছোট প্রাণগুলো নিঃশব্দে সাহায্য চাইছিল। টহল দলের সদস্যরা দেরি না করে সাবধানে ঝুড়ি খুলে পাখিগুলোকে বের করে ছেড়ে দেন খোলা আকাশে। মুক্ত হয়ে ৯০ টি শালিক পাখি ফিরে যায় আপন নীড়ে।

‎বিজিবির কাজ শুধু সীমান্ত পাহারা ও নিরাপত্তার গল্প নয়, কখনো সেটা মুক্ত আকাশে ডানা মেলে আপন ঘরে ফিরে যাওয়ার গল্প।

‎বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, এটা কোন অভিযান ছিল না। সীমান্তের কঠোরতার ভেতরও বিজিবি বারবার প্রমাণ করে যে নিরাপত্তার পাশাপাশি মানবিকতাও সহানুভূতি তাদের দায়িত্বের অংশ।




ট্রাম্প দিতে চাইলেও যে কারণে এফ-৩৫ পাবে না সৌদি

মার্কিন আইন অনুসারে সৌদি আরবকে সবচেয়ে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে বাধা দেবে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সৌদি আরব সবচেয়ে উন্নত মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পাবে না।




নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা নেই

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টার ফলে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অবনতির কোনো আশঙ্কা নেই।

আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে, সেই সময়ে বিভিন্ন দলের মিছিল-মিটিংয়ের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তবে এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যেই ছিল। আমাদের গত দেড় বছরের প্রচেষ্টায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।




সুষ্ঠু নির্বাচনে ইসিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে সেনাবাহিনী

সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (২৩ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, সামনে দেশ একটা নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনে আমরা যথাযথভাবে সরকারকে সহযোগিতা করব। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করব, যেন আমরা সুন্দর একটা নির্বাচন পেতে পারি। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী নিয়োজিত আছে।

এ সময় সেনাপ্রধান আরো বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দেখানো পথ অনুযায়ী দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

অনুষ্ঠানে বীরত্বপূর্ণ কাজ ও বাহিনীতে অসামান্য অবদানের জন্য ৬৪ সেনাসদস্যকে পদক এবং ৭৫ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে সম্মাননা প্রদান করেন সেনাপ্রধান। এর মধ্যে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নানা অবদানের জন্য ৯ জনকে সেনাবাহিনী পদক, ১৭ জনকে অসামান্য সেবা পদক এবং ৩৮ সেনা সদস্যকে বিশিষ্ট সেবা পদক প্রদান করা হয়।




বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগ থেকে ফিরে বিএনপির সভাপতি হলেন জাকির

ক্ষমতার আমলে আওয়ামী ভিড়েছিলেন আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লা। এখন বিএনপির সুসময়ে তিনি আওয়ামী লীগ ছেড়ে ফের পুরানো দলে ফিরেছেন। দলে ভিড়েইে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদে পুরস্কৃত হন। এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিযেছে বিএনপির তৃনমুল নেতাকর্মীদের মধ্যে। তারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। ঘটনাটি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, উপজেলার বাইশারী সৈয়দ বজলূল হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জাকির উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৩ ডিসেম্বর বিএনপি তাকে বহিস্কার করে। তখন ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন জেষ্ঠ সহ সভপতি আলমগীর হোসেন। ২০২৪ এর নির্বাচনে জাকির নৌকা প্রতীকের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার ভাই বাদল মোল্লা বিভিন্ন সময় জাতীয় সংসদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে উদয়কাঠি ইউনিয়নের করমজা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

বিএনপির ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের অভিযোগ, গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাকির ফের বিএনপিতে ফিরতে নানা কৌশল করে। গত জুলাইতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে তাকে উপজেলা বিএনপির সদস্য পদ দেয়া হয়। গত ১৯ নভেম্বর পত্রের মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম জাকিরকে সভাপতি করে উপজেলার উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির ১০১ সদস্যের কমিটি দেয়া হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সহ -সভাপতি মঞ্জুর খান ও সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা ওই পত্রে স্বাক্ষর করেন। উদয়কাঠী ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞা উপস্থিত থাকার পরেও অদৃশ্য কারনে তার স্বাক্ষর না নিয়ে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মঞ্জুর খানের স্বাক্ষর নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

উদয়কাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, দলের চরম দুঃসময়ে জাকির আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তাকে ফের দলে এনে পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা হলো। আর আমরা যারা দল আকরে থেকে হামলা-মামলার শিকার হয়েছি তারা হলাম তিরস্কৃত। ঘোষিত কমিটি গঠনতন্ত্র মেনে হয়নি। কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের দাবী জানান আলমগীর। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ মৃধা বলেন, জাকির মোল্লাকে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিলো। মুঠোফোনে সাড়া না দেওয়ায় এ প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ আলম মিঞার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জাকির মোল্লা বলেন. উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক আমার কলেজ গর্ভনিংবডির সভাপতি ছিলেন। কলেজ অধ্যক্ষ ও আামিসহ আরও কয়েকজন শিক্ষককে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে বাধ্য করেছে। অভিযোগ রযেছে নবগঠিত ইউনিয়ন বিএনপির কমিটির পদ পাওয়াদের মধ্যে জামায়াতে যোগদান করা দুজন নেতাও রয়েছেন।

এদিকে পূর্বের ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত না করে এবং কোন কাউন্সিল ছাড়াই গঠিত পকেট কমিটিতে আওয়ামী লীগে যোগদান করে বহিস্কৃত হওয়া নেতাকে পুনরায় শীর্ষ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করা,জামায়াতে যোগদান করাদের অন্তর্ভূক্তি এবং দলের দুঃসময়ের নির্যাতিত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের কমিটিতে অবমূল্যায়ন করায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়ে সাধারণ নেতা-কর্মী সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা ভাবে তারা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আমিনুল ইসলাম জাকির মোল্লার ফুল দেওয়া ও আওয়ামী লীগে যোগদানের ছবি এবং এ সংক্রান্ত নিউজ পোষ্ট করে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।

তারা অগঠনতান্ত্রিকভাবে গঠিত এ কমিটি অনতিবিলম্বে বাতিল করে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী,নির্যাতিত ও পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।




ঐতিহ্য ও জীবিকার মেলবন্ধন দেশের সর্ববৃহৎ নেছারাবাদ ভাসমান কাঠের বাজার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ(স্বরূপকাঠি) উপজেলার কয়েকটি চরে সুন্দরী কাঠ ও গোলপাতার সর্ববৃহৎ ভাসমান বাজার হিসেবে এক সময়ে পরিচিত ছিল। বিক্রির জন্য গোলপাতা ও সুন্দরী কাঠ সন্ধ্যা নদীতীরবর্তী উপকূলে জেগে ওঠা চরে চলতোকিন্তু রমরমা ব্যাবসা। কালের বিবর্তনে সুন্দরী কাঠের দুষ্প্রাপ্যতা এবং গোলপাতা ব্যবহারের স্বল্পতার কারণে থমকে পড়ে বিশাল আকৃতির ভাসমান বাজারের রূপরেখা। শুরু হয় দেশীয় কাঠের ভাসমান বাজার।

ঐতিহ্যবাহী এই ভাসমান কাঠবাজারের ইতিহাস ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের। একসময় এই ব্যাবসা ছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবিকার অন্যতম বড় অবলম্বন। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে কাঠ ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্টরা ভালো নেই। পরিবহন সংকট, রাজনৈতিক প্রভাব ও পাইকারি ক্রেতার অভাবসহ নানা সংকটে আজ হুমকির মুখে দক্ষিণাঞ্চল তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠের বাজার।

নেছারাবাদ থানাসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর শাখা, সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনের খালের চর, ইন্দেরহাট খালের মোহনা, মিয়ারহাট বাজারের খাল ও বয়াসহ নানা স্থানে গড়ে ওঠা ভাসমান বাজারটি এখন নেছারাবাদের সব থেকে বড় কাঠ ব্যাবসাকেন্দ্র। এ ব্যাবসার মাধ্যমে এখানে ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী ও শ্রমিক এই বাজারকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এটি দক্ষিণ অঞ্চলের তথা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাঠের বাজার। সর্ববৃহৎ কাঠের বাজার হওয়া সত্ত্বেও এখানে রয়েছে নানা প্রতিকূলতা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, কাঠের চরের হাটে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যবসায়ীরা সহজ ও স্বল্প লভ্যাংশ ব্যাংকিং সুবিধা না পাওয়া, ব্যবসায়ী নামে দালালচক্রের উৎপাত, নদীপথে জলদস্যুদের আক্রমণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৃক্ষ বিনাশসহ নানা কারণে দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ ব্যাবসা ঐতিহ্য ক্রমে বিলীনের পথে।

জানা যায়, আনুমানিক ১৯১৭ সালের প্রথম দিকে পিরোজপুর এলাকার তৎকালীন বাকেরগঞ্জের আওতাধীন বর্তমান নেছারাবাদ উপজেলায় সুন্দরবনের সুন্দরী গাছকে কেন্দ্র করে কাঠ ব্যাবসার যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৮ সালের শেষদিকে নেছারাবাদের সন্ধ্যা নদীর তীরঘেঁষে একাধিক শাখা খালে গাছ বেচাকেনার জন্য ভাসমান কাঠের হাট গড়ে ওঠে। সুন্দরী কাঠ ব্যবসায় সরকারের বাধা নিষেধের পর থেকেই নেছারাবাদে গড়ে ওঠে মেহগনি, চম্পল ও রেইনট্রিসহ নানা দেশীয় কাঠের বৃহত্তর কাঠ বাজার।

প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা উপজেলার কাঠ মোকামগুলোর কাছ থেকে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার কাঠ কিনেন। আর এসব মালামাল ট্রাক, লঞ্চ ও কার্গোসহ বিভিন্ন পরিবহনে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যান স্ব স্ব ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পরিবহন সংকট ও পাইকারি ক্রেতার অভাবে সরবরাহ করা কাঠ নিয়ে প্রায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন নেছারাবাদের কাঠ ব্যবসায়ীরা। সময়মতো পরিবহন সংকটে গাছ বিক্রি বন্ধ থাকায় ঋণের বোঝা দিন দিন ভারী হয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

নানাবিদ প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশাল, খুলনা, চাঁদপুর, বাগেরহাট, মুলাদী, মুন্সীগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, ফরিদপুর, বাগেরহাট ও হবিগঞ্জসহ দেশের ৬৪টি জেলার প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এখনো স্বরূপকাঠির এই ভাসমান কাঠের হাটে ব্যবসায় জড়িত থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কাঠের মোকাম গড়ে তুলছেন। নদীপথে দূর থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ীরা জলদস্যুদের ভয়ে ২৫-৩০টি নৌকার বহরে একই সঙ্গে স্বরূপকাঠির মোকামে আসে।

কাঠ বেচাকেনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা একই সঙ্গে চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া আবার গল্প-গুজব করেন। যে যার মতো বেচাকেনা শেষে, আবার সারিবদ্ধ নৌকাগুলো নদীপথে চলে যায়। নেছারাবাদের কাঠ ব্যবসায়ী মতিউর রহমান মৃধা বলেন, একটি গাছ চূড়ান্তভাবে ব্যবহারের আগে ৫-৬ বার বেচাকেনা হয়। দাঁড়ানো গাছ কাটা থেকে ব্যবহারের পর্যায় পর্যন্ত ৮ ধরনের শ্রমিক রয়েছে।

কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির কাছে এই কাঠ ব্যাবসার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, দেশের বড় চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যাবসা ছেড়ে জীবিকার অন্বেষণে অন্য কোনো কাজকর্মে চলে যেতে হবে। বর্তমানে কাঠের দাম অনুযায়ী ব্যবসা করা যাচ্ছে না। এদিকে উপজেলার কাঠ ব্যাবসার প্রচার ও প্রসার দেশজুড়ে পরিচিত লাভ করায় এ ব্যবসায় আকৃষ্ট হয়ে কাঠ ব্যবসার সঙ্গে জড়াচ্ছে শিক্ষিত বেকার যুবকরাও।

তারা বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ ব্যবসায় শুরু করে পরিবার নিয়ে অনেকটা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছিল। নানান প্রতিকূলতার কারণে কাঠ বাজারে ক্রেতা না থাকায় মহাশঙ্কায় পড়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন যুবক ব্যবসায়ী জানান, ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করেছি। ঋণের চাপে রাতে বাসায় থাকতে পারছি না।

ক্রমান্বয়ে ভারী হয়ে উঠেছে আমাদের ঋণের বোঝা। সরকার যদি স্বল্প সুদে আমাদের ঋণের ব্যবস্থা করে দিত তাহলে ঋণের বোঝা কাটিয়ে ব্যাবসার পরিধি বাড়াতে পারতাম। দেড়শ বছরের পুরানো পিরোজপুরের নেছারাবাদ কাঠ বাজার। অবকাঠামো কিংবা আসবাবপত্র নির্মাণের জন্য এখানে বিক্রি হয় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কাঠ। নদী পথে ট্রলারে সরবরাহ হয় দূর দূরান্তে।

এই বাজারে কর্মব্যস্ত সময় পার করেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। অন্য দিনের চেয়ে হাটবারে হয় বেশি বেচাকেনা, পরিমাণ কোটি টাকার বেশি। কাঠ বাজারের আড়তদার মো. মাসুদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীরাই কাঠ কিনতে এখানে আসেন। এটি শত বছরের পুরোনো ব্যাবসা। কাঠের সহজলভ্যতাকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছে ক্রিকেট ব্যাট ও ফার্নিচারের জমজমাট ব্যবসা। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান।