পায়রার গ্রাসে দুমকি, ভিটেমাটি হারাচ্ছে শতাধিক পরিবার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নদী তীরবর্তী শতাধিক পরিবার একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুমকির আঙ্গারিয়া, বাহেরচর ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লেবুখালী থেকে আলগী গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এতে শতাধিক ঘরবাড়ি একের পর এক নদীতে চলে গেছে। অনেক পরিবার ঘর হারিয়ে বাধ্য হয়ে সরকারি সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।

ভাঙনকবলিত এলাকার নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙনের শঙ্কায় তারা রাত কাটাচ্ছেন। আলগী গ্রামের ইউপি সদস্য সরোয়ার শিকদার বলেন, এখন মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও নিরাপদ নেই। ভাঙনের কারণে শুধু বসতবাড়ি নয়, জীবন-জীবিকা সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম জানান, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে নদী ভাঙনে গ্রামের শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও বাগান নদীগর্ভে চলে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বা পুনর্বাসনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা এখনো চোখে পড়ছে না। অনেক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা সুলতানা বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব জানান, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পায়রা নদীর ভাঙন আরও বিস্তৃত হবে। এতে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো এলাকার মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইনি লড়াইয়ে জয়, ট্রাক প্রতীকে পিরোজপুর-২ তে ফিরলেন মুন্না

দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ) আসনে গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী মো. আনিছুর রহমান মুন্না তার মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পিরোজপুর জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে তাকে দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মাত্র দুই মিনিট দেরিতে উপস্থিত হওয়ায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু সাঈদ তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। প্রার্থী ও তার সমর্থকদের অভিযোগ ছিল, সময়ের সামান্য ব্যবধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মো. আনিছুর রহমান মুন্না আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ শুনানি ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন এবং পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। আদালতের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আনিছুর রহমান মুন্না বলেন, ন্যায়ের পথে থেকে আইনি লড়াই করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন তিনি জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারবেন। পিরোজপুর-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা, উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান।

প্রতীক বরাদ্দের খবরে কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ এলাকায় তার নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা এটিকে ন্যায়ের বিজয় হিসেবে দেখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের জনসভায় ঝালকাঠি থেকে ২৫ হাজার নেতাকর্মীর ঢল

বরিশালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আসন্ন জনসভাকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই জনসভায় অংশ নিতে ঝালকাঠি জেলা থেকে প্রায় ২৫ হাজার নেতাকর্মী যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঝালকাঠি বিএনপির জেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতি সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সভায় নেতারা বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালে জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এই জনসভাকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠিসহ আশপাশের জেলাগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন। সভা পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন। বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এস এম এজাজ হাসান, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী, নলছিটি পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান, ঝালকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান তাপুসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আগামী ২৬ জানুয়ারি বরিশালে তারেক রহমানের জনসভা হবে বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক। এই সমাবেশ সফল করতে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। জেলা থেকে নদীপথে লঞ্চ এবং সড়কপথে শতাধিক বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে নেতাকর্মীরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে বরিশালে পৌঁছাতে পারেন।

তারা আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বরিশালের জনসভা সেই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

সভা শেষে নেতাকর্মীরা জনসভা সফল করতে মাঠপর্যায়ে কাজ জোরদারের অঙ্গীকার করেন এবং ঝালকাঠি থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গৌরনদীতে প্রচারণায় উত্তেজনা, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার দাবি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার শরিকল বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন শাহ আলম ফকির, আনিস ফকির ও কামাল। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের আগে শরিকল বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ চলাকালে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তার কর্মীদের কাছ থেকে লিফলেট ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার নজরে আনা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির একটি খবর তারা পেয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সচেতন মহল প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুদক অভিযানের পর গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুমে রহস্যজনক আগুন

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর রাতে হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত স্টোররুমে আগুন লাগে। এ ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও স্টোররুমে সংরক্ষিত বেডশিট, কম্বল, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও চিকিৎসা সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট সহায়তায় যোগ দেয়। অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে স্টোররুমে সরাসরি প্রবেশ সম্ভব না হওয়ায় জানালার কাচ ভেঙে পানি ছিটিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পুরোপুরি আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় তিন ঘণ্টা।

অগ্নিকাণ্ডের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে হাসপাতালের ভর্তি রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত পানির কারণে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে পানি জমে যায়। ফলে সকাল থেকে আউটডোর সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়, যা দুপুরের দিকে স্বাভাবিক হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরিয়ে নিতে গলাচিপা পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তা করতে দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোরেই হাসপাতালে ছুটে যান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন। তিনি জানান, স্টোররুমে সংরক্ষিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কাগজপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। এতে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ইউনিট ও দুটি পাম্প নিয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আগুনের উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আলাদা তদন্ত হতে পারে বলেও জানান তিনি।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান, গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত স্টোররুম ও হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন।

সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খালেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, লিনেন সামগ্রীর একটি কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ২৯ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঝটিকা অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযানে হাসপাতালের স্টোর রেজিস্ট্রারে ওষুধ মজুদের তথ্য ও বাস্তব সরবরাহের মধ্যে গরমিল পাওয়া যায়। প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধ মজুদ থাকলেও রোগীদের দেওয়া হচ্ছিল না বলে অভিযোগ উঠে। পাশাপাশি খাবারের মান, কর্মচারীদের হাজিরা এবং সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থায় অনিয়মের নানা প্রমাণ পায় দুদক।

পটুয়াখালী দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল লতিফ হাওলাদারের নেতৃত্বে ওই অভিযানে উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসাইন উপস্থিত ছিলেন। তখন দুদক জানায়, হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

দুদকের সেই অভিযানের মাত্র ২৪ দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট স্টোররুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুছাব্বির হত্যায় আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক ধাপ এগোল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যা মামলার তদন্তে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে আগামী দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিন্নাতকে, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মধ্যে পেশাদার শুটারও ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ প্রশাসন বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্কুলে শিশু নির্যাতনের ঘটনায়‘শারমিন একাডেমি’ ব্যবস্থাপক গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে একটি স্কুলে চার বছরের কম বয়সী  একটি বাচ্চাকে নির্যাতনের করা হচ্ছে । এই ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায়, “শারমিন একাডেমি” নামক একটি প্রতিষ্ঠানে ।

উক্ত ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করলে স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গত ১৮ জানুয়ারি নয়াপল্টনের ‘শারমিন একাডেমি’ নামের ওই স্কুলে প্রি-প্লে শ্রেণির এক শিশুকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শারমিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের স্বামী পবিত্র কুমার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, আজ ভোরে মিরপুর এলাকার একটি বাসা থেকে পল্টন থানার পুলিশ পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়াকে গ্রেফতার করে। এছাড়া পুলিশের আরেকটি দল আরেক আসামি স্কুলের প্রধান শিক্ষক শারমিন জাহানকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে। তাকেও গ্রেফতার করা হবে দ্রুত। পবিত্র কুমার কুমার বড়ুয়া এখন পল্টন থানায় আছেন।




ভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে পটুয়াখালীতে ইমাম সম্মেলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রথম পটুয়াখালীতে জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালী ডিসি স্কয়ার মাঠে আয়োজিত এ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে ধর্মীয় নেতৃত্বের ইতিবাচক ভূমিকা তুলে ধরা। আয়োজকরা জানান, ধর্মীয় নেতারা সমাজে প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের মাধ্যমে ভোটের গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

পটুয়াখালী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আসমা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতারা যদি মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে ভোটার উপস্থিতি বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ। তিনি জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা শান্তি, সহনশীলতা ও আইন মেনে চলার বার্তা জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দেন।

এছাড়াও সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী পৌরসভার স্থানীয় সরকার ও প্রশাসক (উপসচিব) জুয়েল রানা। তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যদি সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে ভোটকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

সম্মেলনে বক্তারা একযোগে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগ করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক দায়িত্ব। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ন্যায়, সত্য ও শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা সাধারণ মানুষকে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নির্বাচন ও গণভোট চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, এই ইমাম সম্মেলনের মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলায় নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে এবং ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আহ্বান এনসিপি নেত্রীর

জামায়াত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম। আমার জীবনের প্রথম ভোট ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লায় হবে। কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আসনে যারা আমাকে ভালোবাসেন ও আমার পাশে থাকতে চেয়েছেন, তাদের কাছে অনুরোধ—আমার ভাই ড. ফয়জুল হকের পাশে থাকুন।”

এরপর একই দিন রাতে তিনি আরেকটি পোস্টে সরাসরি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সমর্থিত জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হককে সঙ্গে নিয়ে ১০ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে রাজাপুরে পরিচিতি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন,
“ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় কাঁঠালিয়ায় থাকব। এখান থেকেই আমাদের ১০ দলীয় জোটের কার্যক্রম শুরু হলো। ঝালকাঠি-১ আসনের মাটিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাই। আর ঢাকা-১১ আসনে শাপলা কলিতে ভোট চাই। পুরো বাংলাদেশে এবার ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।”

এনসিপি নেত্রীর এ ঘোষণার পর ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোহসিন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহসিন বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি বয়া গ্রামের মো. শাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ জানান, সকালে মোহসিন নিজ ওয়ার্ডের একটি লোহার সেতু (লোহারপুল) মেরামতের কাজ পরিদর্শনে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েলডিং মেশিনের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহিন হোসাইন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে মোহসিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ। তিনি বলেন, “মোহসিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল সদস্যকে হারাল।”

একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে কর্মস্থলে প্রাণ হারানোতে এলাকায় ব্যাপক শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫