পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান অর্জনের দৌড়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, কৌশল ও সংস্কারকে পুঁজি করে। কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ২০২৫ সালের বাংলাদেশ বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলনে মূল বক্তা হিসেবে এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। তবে একক দেশ হিসেবে এক নম্বরে ওঠার সকল সম্ভাবনা বাংলাদেশের রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন সময়োপযোগী পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ।’
রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘টেক্সটাইল ও পোশাক’ বিষয়ক এক সেশনে কিয়াক সুং “বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা, নীতিগত সহায়তা, এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে হাতে তৈরি সুতা উৎপাদনের সুবিধা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে করে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামালের সহজ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পারবে এবং উৎপাদন ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই গতি আসবে।
কিয়াক সুং আরও বলেন, ‘বন্ডেড গুদামের সংখ্যা বাড়াতে হবে, যাতে আমদানিকৃত কাঁচামাল দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে উৎপাদকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’
বাণিজ্যনীতিতে সাম্প্রতিক কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করে তিনি জানান, ‘ট্রাম্প আমলে আরোপিত শুল্ক নীতির সাময়িক স্থগিতাদেশ বাংলাদেশকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, যার কৃতিত্ব বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে।’
এসময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি মূল্য সংযোজন ও উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সস্তা পোশাক উৎপাদন এখন আর একমাত্র ভরসা হতে পারে না। টিকে থাকতে হলে উচ্চমানের পণ্য এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
এই সেশনে বিজিএমইএ-এর প্রশাসক এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনও বক্তব্য রাখেন। তিনি বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।










