বাবর আলী, চট্টগ্রামের একজন সাহসী চিকিৎসক, লেখক, এবং অভিযাত্রী, ৭ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ অন্নপূর্ণা-১ এর শিখরে পা রেখেছেন। তাঁর এই অসাধারণ অর্জন বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
বাবর আলী—পর্বতের মানুষ
চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা শুরু করা বাবর আলী, তবে তার জীবনের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়—পর্বত জয়। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম এভারেস্ট এবং লোৎসে শৃঙ্গে উঠেন, ২০২২ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে আমা দাবলাম পর্বত জয় করেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন এবং কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে পার হয়েছেন।
অন্নপূর্ণার পথে
২০২৪ সালের ২৪ মার্চ বাবর নেপাল যান এবং ২৮ মার্চ পৌঁছান অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে। এরপর শুরু হয় তার ধৈর্য ও সংকল্পের পরীক্ষা। অন্নপূর্ণা শৃঙ্গে উঠার পথে অনেক ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। ৫ এপ্রিল জানা যায়, তিনি সফলভাবে ক্যাম্প-৩ এ পৌঁছেছেন, এবং ৬ এপ্রিল রাত ১২টায় তিনি চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। পরদিন ভোরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়েছিল অন্নপূর্ণা-১ এর শিখরে।
এক অর্জন, অনেক প্রশ্ন
বাবরের এই অর্জন নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক, তবে তার পথ ছিল সহজ নয়। তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আরও তিনটি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয় করা, কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তিনি প্রথম শৃঙ্গেই থেমে গেছেন। তাঁর অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান জানিয়েছেন, “বাবরের কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় এই সাফল্যের ভিত্তি। আমরা আশা করি, তার এই অর্জন পরবর্তীতে পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।” বাবরের লক্ষ্য ছিল ১৪টি আটহাজারী শৃঙ্গে বাংলাদেশি পতাকা উড়ানো।
অন্নপূর্ণা: এক দেবী শিখর
অন্নপূর্ণা শুধুমাত্র একটি পর্বত নয়, এটি হিমালয়ের দেবী, যার শিখরে ওঠার চেষ্টা এতটাই বিপজ্জনক যে মৃত্যুহার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১৪ জন মানুষ সফলভাবে এই শৃঙ্গে পৌঁছাতে পেরেছেন, যার মধ্যে বাবর আলী যুক্ত হয়েছেন।
বর্তমানে বাবর ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করছেন এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে বেসক্যাম্পে ফিরে আসা। তবে, তার এই অর্জন শুধু একটি শিখর জয় নয়, এটি একটি প্রেরণার গল্প। বাবরের মতো মানুষ প্রমাণ করেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব শুধু কূটনীতির মাধ্যমে হয় না, কখনও কখনও তা হয় বরফে ঢাকা একটি নির্জন শিখরে, যেখানে পতাকার নড়াচড়া বলেই দেয়, “বাংলাদেশ এখানে ছিল।”
এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম