পটুয়াখালীতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে ১৫টি তরুণ সংগঠনের শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তরুণদের ১৫টি সামাজিক ও পরিবেশ সচেতন সংগঠন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলা শহরের ঝাউতলা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকালে জেলা শহরের ঝাউতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার সচেতন নাগরিকরাও এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনে এখানকার কৃষি, বাসস্থান এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

পটুয়াখালী ভলান্টিয়ারর্সের প্রতিনিধি রুবাইয়েত হক মেহেদীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ব্রাইটার্স অব বাংলাদেশ-এর খাইরুল ইসলাম মুন্না, এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, গ্রিন পিপল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আরিফুল ইসলাম, তারুণ্যের আউলিয়াপুর-এর মো. সোহাগ, পটুয়াখালী ব্লাড এজেন্সির মো. আসিফ, লাল সবুজ সোসাইটির শাহরিয়ার মাহমুদ, ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালী-এর মো. জাহিদ, ধুমকেতুর মো. কাওসার, তারুণ্যে সংগঠন বাংলাদেশ-এর মো. হাসিবুল ইসলাম, প্রাউড অফ পটুয়াখালীর মো. রায়হান, ইয়ুথ ফর পলিসির আসাদুল ইসলাম, দক্ষিণ বাংলার মো. রাজু এবং বিডি ক্লিন-এর আতিকুর রহমান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে পাঁচ মিনিটের প্রতীকী সড়ক অবরোধের মাধ্যমে ধর্মঘট কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কারা হেফাজতে নিহত ছাত্রদল নেতা মিলনের পরিবারের খোঁজ নিলেন তারেক রহমানের প্রতিনিধি

কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন-এর পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও ‘দেশমাতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সায়েম

আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১১টায় গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার মাজুখান গ্রামে গিয়ে মরহুম মিলনের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন—আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব ও দেশমাতা ফাউন্ডেশন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর নির্বাহী সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ

ব্যারিস্টার আবু সায়েম জানান,তারেক রহমান চাচ্ছেন মিলনের পরিবারের সন্তানদের যেন কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। দেশমাতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শহীদ মিলনের দুই কন্যাকে নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন জাকির হোসেন মিলন। অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগ থানায় আটক অবস্থায় তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং ১২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাটি এখনো ‘কারা হেফাজতে মৃত্যুর’ একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে বারবার বিচার দাবি করা হলেও আজও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবির পর মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ হিসেবে দাবি করায় হাবিবুর রহমান (৩৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে জনতার হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম মাহদী’ পরিচয় দিয়ে জনসমক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গলাচিপা এনজেড দাখিল মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পরে খবর পেয়ে গলাচিপা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

আটক হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পশ্চিম শাহপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকার মো. আমানত উল্লাহর ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার পর মাদ্রাসার সুপার মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আসছিলেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলো ‘মাহদীয়া’ নামে কুরআনের ১১৫তম সূরা হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুন থেকে দুর্ভিক্ষ শুরু হবে, এবং আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাকে এসব তথ্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, এবং তার মা ও চাচি ‘জাহান্নামী’, আর তাকেই জান্নাত দান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব তাওহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এই কথাগুলো পুনরায় বলেন এবং তা জনসম্মুখে প্রচার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধরে ফেলে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে বিএনপির দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১০ জন আহত, বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় এক বিএনপি নেতাসহ দুজনকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের মৈশাদি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদার (৪৫)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছিল। বুধবার একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে হান্নানপন্থী কর্মীরা মফিজকে মারধর করলে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের স্ত্রীর বড় ভাই ও কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের (৬০) নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয় জনতা বিএনপি নেতা জহির উদ্দিন ও তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) কে ধরে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন চালায়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে গুরুতর আহত জহির উদ্দিন, তানভীর ও ফকরুল ইসলামকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়া কবির হোসেন নামের একজনকে ভর্তি করা হয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নামাজরত নারীর গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণ ও টাকা লুট, আতঙ্কে বানারীপাড়া

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাগরিবের নামাজরত এক নারীর গলায় ছুরি ধরে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ তিন লাখ টাকা লুট করেছে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্দার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গৃহকর্তা আ. সত্তার মোল্লা নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে গেলে, তার স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০) ঘরে মাগরিবের নামাজে মগ্ন ছিলেন। সে সময় মুখোশ পরা তিনজন দুর্বৃত্ত টিনশেড ঘরে ঢুকে তাকে জবাই করে হত্যার ভয় দেখিয়ে গলায় ছুরি ধরে, মুখ চেপে ধরে কাঠের বাক্স থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে নেয়।

ঘটনার সময় ঘরের অন্য একটি কক্ষে গৃহিণীর ছয়জন নাতি-নাতনি অবস্থান করলেও তারা কিছু বুঝতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে স্বামী আ. সত্তার মোল্লা তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। জ্ঞান ফিরে এলে তহমিনা বেগম ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। ছুরির চাপে তার গলায় ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান,“ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে শিশুরাও ছিল, অথচ তারা কিছু টের পায়নি। বিষয়টি ঘোলাটে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলে আধিপত্য নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মৈশাদি এলাকায় স্থানীয় দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে জহির মুন্সি (৬০), তার ছেলে মো. তানভীর (২৯) এবং কর্পূরকাঠী গ্রামের মো. ফকরুল ইসলাম (৪৫) কে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আহত কবির হোসেন কিবরিয়াকে (৪৫) চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মৈশাদি এলাকায় বিএনপিকর্মী মো. মফিজ হাওলাদার (৫৫) ও নওমালা ইউনিয়ন ওয়ার্ড শ্রমিকদল সভাপতি মো. হান্নান হাওলাদারের (৪৫) মধ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। বুধবার এক ফুটবল খেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হান্নান হাওলাদারের অনুসারীরা মফিজ হাওলাদারকে মারধর করে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মফিজের আত্মীয়, কালাইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল হান্নান হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।

হঠাৎ এই হামলার ঘটনায় হান্নানের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বেশ কিছুক্ষণ। সংঘর্ষ চলাকালে জহির মুন্সি ও মো. শাহাবুদ্দিনকে ধরে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচি

ঝালকাঠিতে জলবায়ু সুরক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতের দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ফ্রাইডেস ফর ফিউচার-এর তত্ত্বাবধানে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (ইয়াস) এর নেতৃত্বে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেয় সহযোগী সংগঠন ব্রাইটাস, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল, এবং স্থানীয় যুব সংগঠনের সদস্যরা।

কর্মসূচির মূল দাবি:

  • জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ
  • নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারণ
  • টেকসই কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি

বক্তৃতায় অংশ নেন:

  • মাহিদুল ইসলাম রাব্বি (আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, ইয়াস)
  • সত্যবান সেনগুপ্ত (সভাপতি, সনাক)
  • সাজিদ মাহমুদ (জেলা সমন্বয়কারী, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল)
  • স্নিগ্ধা ভৌমিক
  • শাকিল হাওলাদার রনি (সাধারণ সম্পাদক, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট – বরিশাল বিভাগ)
  • সাব্বির হোসেন রানা (সাংগঠনিক সম্পাদক, ইয়াস)

বক্তারা বলেন:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়—এটা বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবতা। উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য সবকিছুই হুমকির মুখে।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ সমাজ একটি বৈশ্বিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—জলবায়ুর প্রশ্নে সময়ক্ষেপণের অবকাশ নেই। এখনই প্রয়োজন টেকসই সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




সহনশীলতার অনন্য নজির: হযরত মু‘য়াবিয়া (রা.) এর উদারতা

ইসলামের ইতিহাসে হযরত মু‘য়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন প্রজ্ঞাবান ও সহিষ্ণু শাসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর উদারতা, দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

একবার মদিনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর একটি ক্ষেতের পাশে ছিল মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর একটি ক্ষেত। হঠাৎ করে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর ক্ষেতের শ্রমিকরা ভুলবশত ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর জমিতে প্রবেশ করে। এতে ইবনু যুবাইর (রাযি.) ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি একটি চিঠি পাঠান মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর কাছে।

চিঠিতে তিনি লিখেন:“আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের পক্ষ থেকে কলিজা-খেকো হিন্দের সন্তান মু‘য়াবিয়ার নামে। পর সমাচার, তোমার শ্রমিকগুলো আমার ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। জলদি তাদের সরাও, নতুবা আল্লাহর কসম! যা হবার তা হবেই।”

চিঠি পড়ার পর তাঁর পুত্র ইয়াযিদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাহিনী পাঠিয়ে তাঁকে দমন করা উচিত।” কিন্তু মু‘য়াবিয়া (রাযি.) শান্ত কণ্ঠে বলেন, “না, বরং এমন কিছু করি যাতে আত্মীয়তাও বজায় থাকে এবং উত্তম পথও অবলম্বন হয়।”

এরপর মু‘য়াবিয়া (রাযি.) ইবনু যুবাইর (রাযি.) কে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লেখেন:“আল্লাহর কসম! যদি আমার ও তোমার মাঝে গোটা দুনিয়াও থাকতো, সেটিও আমি তোমাকে দিয়ে দিতাম। আমার ক্ষেত যদি মদিনা থেকে দেমশক পর্যন্ত হতো, তাও তোমার করে দিতাম। এখনই আমার ক্ষেত তোমার সঙ্গে মিশিয়ে নিও, এমনকি শ্রমিকরাও তোমার হয়ে গেল।”

চিঠিটি পেয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) আবেগে কেঁদে ফেলেন। পরে তিনি দেমশকে গিয়ে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর মাথায় চুমু দিয়ে বলেন:“আপনার এই মহত্ত্ব ও সহিষ্ণুতার কারণে আল্লাহ যেন আপনাকে তাঁর দয়ার দরজা থেকে বঞ্চিত না করেন। এটাই তো আপনার মর্যাদার আসল রহস্য।”

এই ঘটনা ইসলামি ইতিহাসে ক্ষমা, উদারতা ও আত্মমর্যাদাবোধের চমৎকার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডাকাতি: গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮, লুট ৮০ লাখ টাকার মালামাল

বঙ্গোপসাগরের ঢালচর ও হাতিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় বরগুনার চারটি মাছ ধরার ট্রলারে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী জলদস্যুদের হামলায় অন্তত আটজন জেলে আহত হয়েছেন, এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। ডাকাতরা প্রায় ৮০ লাখ টাকার জাল, মাছ, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলোতে একে একে হামলা চালায় প্রায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী জলদস্যু। তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং সবার হাতেই দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

লুটকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মাছ ধরার জাল, ২০-২২ লাখ টাকার মাছ, নগদ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা এবং জেলেদের ব্যবহৃত ৩০টি মোবাইল ফোন।

ডাকাতির সময় বাধা দিলে দস্যুরা সাত জেলেকে মারধর করে এবং একজনকে শটগান দিয়ে গুলি করে। ডাকাতির পর ট্রলারগুলোর ইঞ্জিন বিকল করে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়।

পরে কোস্ট গার্ডের পাথরঘাটা দক্ষিণ জোনের একটি দল চারটি ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুজন—বেল্লাল (৪০) ও মোস্তফা (৬০)—কে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেছি এবং জেলেদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে হামলার এলাকা অন্য থানার আওতায় হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ সরাসরি মামলা নিচ্ছে না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়ায় চাল বিতরণ নিয়ে দ্বন্দ্ব, যুবদল নেতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ বিরোধে যুবদলের এক নেতাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত রাকিব বিশ্বাস (৩০) ধুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। বুধবার রাত ৯টার দিকে বাবলাতলা বাজারসংলগ্ন বালুর মাঠে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

রাকিব বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ৮০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক চাল বিতরণে অনিয়ম করেন এবং প্রতি ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।

এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাকিবসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা সেখানে উপস্থিত হন। এর জেরে চাল বিতরণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আবু বক্করের সঙ্গে রাকিবের কথাকাটাকাটি হয়।

পরে রাতে রাকিবকে কথা বলার কথা বলে বালুর মাঠে ডেকে নেন ধুলাসার ইউনিয়ন যুবদলের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ওসমান গাজী। সেখানে লাঠি, পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে রাকিবের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় অংশ নেন যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী—যাদের মধ্যে রয়েছেন পিন্টু, সিদ্দিক, আল-আমিন, আবু বক্কর, মহিব, জালাল উদ্দিন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ মোল্লা ও ছাত্রদল সদস্য নাঈম ফরাজী। হামলাকারীরা রাকিবকে মারধরের পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তার বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যান।

তবে অভিযুক্ত আবু বক্কর বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো কথাই হয়নি। মারধরের বিষয়েও কিছু জানি না।” যুবদল নেতা পিন্টুও ঘটনার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম