বরিশাল বিএনপির কোন্দল নিরসনে ঢাকায় সমঝোতা বৈঠক

দীর্ঘদিন ধরে চলা বরিশাল মহানগর বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসনে অবশেষে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সমঝোতা বৈঠক। শুক্রবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মহানগর বিএনপির বিবদমান নেতাদের এক ছাতার নিচে আনতে কাউন্সিলের মাধ্যমে ওয়ার্ড ও মহানগর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হাসান মামুন, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বৈঠক শেষে আকন কুদ্দুসুর রহমান জানান, “বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল, মতপার্থক্য থাকতেই পারে। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ওয়ার্ড পর্যায়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হবে, সবার সম্মতিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হাসান মামুন বলেন, বরিশাল মহানগরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নেতারা অবগত আছেন এবং যথাসময়ে সবার অংশগ্রহণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মহানগর বিএনপির মধ্যে চলমান বিভক্তি আরও প্রকট হয় যখন গত ৬ এপ্রিল আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক ও সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার ৩০টি ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ৮টি টিম গঠনের ঘোষণা দেন। একই দিন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন পাল্টা বিবৃতি দিয়ে এ উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, নেতৃত্ব সংকট, আস্থার অভাব এবং পূর্ববর্তী ভুল সিদ্ধান্তগুলো বরিশাল মহানগর বিএনপির এই সঙ্কটের মূল কারণ। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, কেউ কাউকে মেনে নিতে না চাওয়ায় এবং হেভিওয়েট নেতাদের দাপটে সংগঠনে বিভাজন তৈরি হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর বরিশাল মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মেলন হয়নি। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির দায়িত্ব পান ছাত্রদল নেতা ও কেন্দ্রীয় সদস্য হাসান মামুন, যিনি এখন পর্যন্ত ঐক্য ফিরিয়ে আনতে মাঠে কাজ করছেন।

শুক্রবারের বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কাউন্সিল ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে কঠোর অবস্থানে থাকলেও, grassroots পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে এই উদ্যোগ সফল হবে কি না—তা নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৬ মাসের সাজা থেকে বাঁচতে ১০ বছর পলায়ন, শেষমেশ ধরা!

মাত্র ৬ মাসের কারাদণ্ড! কিন্তু সেটি থেকে রেহাই পেতে দীর্ঘ ১০ বছর আত্মগোপনে ছিলেন সোহেল হাওলাদার (৩৫)। শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে ঠাঁই হলো ঝালকাঠি জেলা কারাগারে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ঝালকাঠির নলছিটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতার হওয়া সোহেল হাওলাদার নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত হারুন হাওলাদারের ছেলে।

নলছিটি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কাওসার আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান, “২০১৪ সালে বরিশাল সদর উপজেলার একটি মাদক মামলায় সোহেল হাওলাদারের ৬ মাসের কারাদণ্ড হয়। সাজা হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।”

উল্লেখ্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সম্প্রতি ঝালকাঠি ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার হচ্ছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইপিএলে অনন্য রেকর্ড গড়লেন নারাইন

আইপিএল ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়ে ক্রিকেটবিশ্বকে আবারো চমকে দিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার সুনীল নারাইন। চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে এক ম্যাচে দুটি বিশেষ রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।

গতকাল চিপক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নারাইন মাত্র ১৫ রানের মধ্যে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আইপিএলে ১৩ বার ১৫ রানের কম খরচায় ৪ ওভার বোলিং করে রেকর্ড গড়েছেন। এতদিন এই রেকর্ডটি ছিল আফগানিস্তানের রশিদ খানের দখলে—যিনি ১২ বার এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন।

শুধু তাই নয়, নারাইন এদিন কোনো বাউন্ডারি হজম না করায় তিনি আরেকটি রেকর্ড নিজের করে নেন। আইপিএলে ১৬ বার ৪ ওভার বোলিং করে বাউন্ডারিশূন্য বোলিং করার রেকর্ড এখন একমাত্র তারই। পূর্বে এই রেকর্ড ছিল ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের, যিনি ১৫ বার এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন।

১৩ বছর ধরে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা এই অভিজ্ঞ স্পিনার এখন টি-টোয়েন্টিতে এক দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডেও কাছাকাছি। বর্তমানে নারাইনের উইকেট সংখ্যা ২০৩, আর শীর্ষে থাকা সামিত প্যাটেলের উইকেট ২০৮ (নটিংহামশায়ার)। চলতি আসরে আর মাত্র ৬টি উইকেট পেলেই নারাইন গড়বেন আরেকটি নতুন ইতিহাস।

সুনীল নারাইনের এমন পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত কেকেআর দল চেন্নাইয়ের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিয়েছে এবং লিগ টেবিলে অবস্থান আরও মজবুত করেছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের

ভোলার সদর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মোস্তফা (৬২) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলা সদরের ইলিশা বাঘার হাওলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোস্তফা রাস্তা পার হচ্ছিলেন, এ সময় ইলিশা ফেরিঘাটগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পথচারীরা দ্রুত তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. মোস্তফা ভোলা জেলার ৬নং বাঘার হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি পূর্ব ইলিশা মৌলভীরহাট এলাকার প্রয়াত মাওলানা আনোয়ার উল্লাহ্ হুজুরের পুত্র।

ভোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসনাইন আহমেদ পারভেজ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নতুন নাম?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলা নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এবারের আয়োজনে ২৮ জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মধ্য শোভাযাত্রাটি ‘সকলের হয়ে উঠবে’ বলে মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবারের শোভাযাত্রা আনন্দময় হবে।




ওবায়দুল কাদের এখন কলকাতায়!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল) কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে দেখতে পান বলে এক বাংলাদেশি দাবি করেছেন।

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম সকাল সন্ধ্যার সম্পাদক গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদের ফেসবুক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। যিনি ওবায়দুল কাদেরকে ওই হাসপাতালে দেখতে পেয়েছেন, তিনি এই সাংবাদিকের বন্ধু।

গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমার এক বন্ধু কলকাতা গেছে ডাক্তার দেখাতে। অ্যাপোলো হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট শ্যামাশীষ ব্যানার্জীর জন্য অপেক্ষা করছিল। আজ বিকেলেই। ডাক্তারের রুম বন্ধ। ডাক্তারের ফোনও বন্ধ। ডাক্তারের সহকারী বলছেন, স্যার লাঞ্চে। ঘন্টার মতো অপেক্ষার পর রুমের কপাট খুলল। আকাশি রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক বের হলেন। লোকটাকে চিনে ফেলে ও যেই না বলছে, ‘ওবায়দুল কাদের না!’ ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক মুখে দিয়ে হন হন করে হেঁটে চলে গেলেন।




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই, তবুও আড়াই কোটি টাকার হোস্টেল

বরিশালের বাবুগঞ্জে নেই কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তারপরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবন দুটি পাঁচ বছরেও উদ্বোধন হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না থাকায় এসব অব্যবহারযোগ্য ভবন পড়ে রয়েছে অযতেœ। একটি আংশিক ব্যবহৃত হলেও অন্যটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুটি হোস্টেল ভবন করান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

২০১৮ সালে ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বাবুগঞ্জ হাই স্কুল (বালক) এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালিকা) এ দুটি হোস্টেল নির্মাণের অনুমোদন দেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার আবাসিক এ দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষে ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে কেবল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী মেনন এ ভবন দুটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, ভবন দুটি কোনো কাজেই আসছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোস্টেল দুটি নির্মাণের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, এগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এলাকায় এমন শিক্ষার্থী না থাকায় কোটি টাকার ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অপ্রয়োজনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, “এই ভবনগুলোর জায়গায় যদি কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি ক্লিনিক হতো, তাহলে এলাকার ছেলেমেয়েদের উপকার হতো। এখানে উন্নয়নের নামে যে কাজ হয়েছে, তা শুধু লোকদেখানো। আমাদের এলাকার মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।”

ভবন দুটি চালুর বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এ হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই। ফলে হোস্টেল দুটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা! পিরোজপুরের নান্না শিকদারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার হাবিবুর রহমান নান্না শিকদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মিরাজ শিকদার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন—নান্না শিকদার একজন স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন রাজাকার। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের প্রত্যয়নপত্রেও নান্নাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • ভুয়া সনদ: মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ০৬০৫০৫০৬৪ ব্যবহার করলেও নান্না কখনো যুদ্ধে যাননি।
  • অভিযোগের ভিত্তি: রাজাকার তালিকায় নাম থাকা, ১৯৭১ সালে ৭ জন হত্যার অভিযোগে মামলা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পত্তি লুটের অভিযোগ।
  • অতিরিক্ত সম্পত্তি: পৈত্রিকভাবে ১৩ কাঠা জমির মালিক হলেও বর্তমানে রয়েছে ৮০০ কাঠা জমি—যার উৎস সন্দেহজনক।
  • প্রশাসনিক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয় ইউএনও সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাচ্চুও জানান, নান্না শিকদারের যুদ্ধ করার কোনও প্রমাণ নেই বরং তার বাবা ছিলেন রাজাকার, যিনি জেলও খেটেছেন।

অভিযুক্ত নান্না শিকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” তবে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।

এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে সত্য উদঘাটনের আশা রয়েছে।




মেঘনা-তেঁতুলিয়ার অভয়াশ্রম এখন জেলেশূন্য, জাটকা সংরক্ষণে চলছে কঠোর অভিযান

ভোলার চরফ্যাশন উপকূলবর্তী মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির অভয়াশ্রম এলাকায় বর্তমানে কোনো জেলের উপস্থিতি নেই। মার্চ-এপ্রিল দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এ চিত্র দেখা যাচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যে পরিচালিত হয়েছে ৫২টি অভিযান ও ১১টি মোবাইল কোর্ট। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮ লাখ মিটার ইলিশ ধরার জাল, ১৭৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১১৭টি অন্যান্য অবৈধ জাল। সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে। মামলার আওতায় আনা হয়েছে ৪৭ জনকে, যার মধ্যে ৬ জনকে জেল ও অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে ধরা পড়া একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রায় ১৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০টি বেহুন্দি জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ২ ও ৩ এপ্রিল জেলেদের হামলার শিকার হতে হয়। এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়তে হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, সীমিত বাজেট, জনবল সংকট ও যানবাহনের অভাবে বিশাল জলায়তন এলাকাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় অর্ধেক জলাশয় এখনো অভয়াশ্রমের আওতার বাইরে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু জেলে শুরুতে অভিযান পর্যবেক্ষণ করে পরে নদীতে নামে। তবে এবার যৌথ টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নদীর অভয়াশ্রম এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা।

মো: তুহিন হোসেন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের 

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।

বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম