৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঘোষণা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধি

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত সামিটে একে একে ৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। এই তথ্য জানিয়েছেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। রোববার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য প্রকাশ করেন।

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “এখন পর্যন্ত সম্মেলন থেকে ৩ হাজার ১শ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। তবে এই সম্মেলনকে বিনিয়োগের সফলতার পেছনের মূল কারণ হিসেবে দেখানো যাবে না। অনেকটা আগের আলোচনা ও প্রস্তুতির ফলস্বরূপ এই বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, সম্মেলনের খরচ প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও, তার মধ্যে সরকারের খরচ ছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তবে, সম্মেলনের সফলতা শুধু খরচের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না।

এবারের সম্মেলনে ৬টি কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল। ৫০টি দেশ থেকে ৪১৫ জন বিদেশি ডেলিগেট সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে নির্দেশ করে। বিদেশি অংশগ্রহণের হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “এই সামিটের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা। আমাদের দেশের মানুষের সহনশীলতা এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উচ্ছ্বসিত।”

উল্লেখ্য, এই সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাড়ছে অপরাধ, পুলিশের নিরবতায় জনমনে উদ্বেগ

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, অপহরণ ও জমি-সংক্রান্ত সহিংসতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে পুলিশের নিরবতা ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর তৎপরতার অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন নাগরিকরা।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় জেলায় মোট ৪৮০টি অপরাধ সংগঠিত হয়। কিন্তু আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ৮১টি হত্যাকাণ্ড, ১৪৬টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা, ১৪টি অপহরণ, ২৬টি ডাকাতি, ২১টি দস্যুতা এবং ২৯২টি চুরির ঘটনা।

নগরীর কাশীপুর এলাকার ইছাকাঠী থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহের সাতটি অংশ আজও অজ্ঞাত রয়েছে। উজিরপুরে ঘাট ইজারাকে কেন্দ্র করে ভাতিজার হাতে চাচা খুন, ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ী সুদেব হত্যাকাণ্ড, গৌরনদীতে জমি বিরোধে ভাসুর নিহত, হোসনাবাদে শিশুকে খুন এবং স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মতো একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে ধীরগতি ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী দীপু হাফিজুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশে কার্যকর সরকার না থাকায় পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে। সেই সুযোগে বাড়তে থাকে অপরাধ।” তিনি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

টিআইবি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ‘সুজন’-এর বরিশাল জেলা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “খুন, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আন্তরিকতা ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।”

সনাক বরিশালের সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”

অন্যদিকে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম জানান, “৫ আগস্টের পর কিছুটা ধীরতা ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”

জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের আরও সক্রিয় এবং জবাবদিহিমূলক ভূমিকাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে নির্যাতন, হাসপাতালে ভর্তি

পটুয়াখালীর মহিপুরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চার সন্তানের জননী অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে (৩০) নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি একই এলাকার বাসিন্দা সেলিম খাঁ (৩৫)। শুক্রবার দুপুরে বিপিনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারধরের ফলে তার ডান চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে।

ওই নারী জানান, তার স্বামী একটি মামলায় গত দুই মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ সময় চার সন্তানকে নিয়ে তিনি মৎস্য শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। স্বামী জেলে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিবেশী সেলিম খাঁ তাকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে সেলিম খাঁ তার ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে সেলিম ক্ষিপ্ত হয়ে বেধড়ক মারধর করেন। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে সেলিম পালিয়ে যায়। পরে অজ্ঞান অবস্থায় ওই নারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একা ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে উত্যক্ত করে আসছিল সেলিম খাঁ। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ওমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে গঠনমূলক’ আলোচনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওমানে ‘গঠনমূলক’ আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং উভয় পক্ষই পুনরায় বৈঠকে বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কোনো সমঝোতায় না পৌঁছাতে পারলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।বাসস

মাসকাট থেকে এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাসকাটে অনুষ্ঠিত এই উচ্চস্তরের আলোচনায় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং শেষপর্যন্ত দুই পক্ষ কয়েক মিনিটের জন্য সরাসরি কথা বলে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আলোচনার পরিবেশ ছিল ‘গঠনমূলক ও পারস্পরিক সম্মানপূর্ণ’। তবে আলোচনা পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট করে যে, এই দুই দীর্ঘদিনের বৈরী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি নতুন পরমাণু চুক্তি অর্জন কতটা কঠিন কাজ।

২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির অন্যতম রূপকার ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক আব্বাস আরাগচি ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। মার্কিন দলের নেতৃত্বে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্টিভ উইটকফ।

ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় আরাগচি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সমতাভিত্তিক অবস্থান থেকে একটি ন্যায্য ও সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকায়ি জানান, এই আলোচনা ‘শুধুমাত্র একটি সূচনা’। তিনি বলেন, দুই পক্ষই আলাদা কক্ষে ছিলেন এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে নিজেদের মতামত ও অবস্থান আদান-প্রদান করেছেন।

ইসরাইলের মিত্রদের ওপর আক্রমণের কারণে চাপে থাকা ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি চায়। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশল এবং সামরিক হুমকির মধ্যেও ইরান আলোচনায় অংশ নিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের প্রধান শত্রু যুক্তরাষ্ট্র তেহরান যাতে কখনও পরমাণু অস্ত্রের কাছাকাছিও না পৌঁছাতে পারে তা নিশ্চিত করতে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

উইটকফের ‘সমঝোতার’ ইঙ্গিত

মাসকাটের একটি বিলাসবহুল হোটেলে অনুষ্ঠিত এই গোপন বৈঠকের তেমন কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন ছিল না—কোনো পতাকা ছিল না, বাড়তি নিরাপত্তা ছিল না, এমনকি রাস্তাও ছিল শান্ত।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উইটকফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক অবস্থান হলো—ইরানকে তার পুরো পরমাণু কর্মসূচি বাতিল করতে হবে। তবে তিনি যোগ করেন, ‘এর মানে এই নয় যে, সীমান্তবর্তী কিছু জায়গায় আমরা সমঝোতার পথ খুঁজে বের করব না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের রেড লাইন হলো—তোমরা তোমাদের পরমাণু সক্ষমতা অস্ত্রায়নে ব্যবহার করতে পারবে না।’

আলোচনার খবরটি আসে এক চমকপ্রদ ঘোষণা থেকে, যেখানে হোয়াইট হাউজে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই ইরান একটি দারুণ, সুখী দেশ হোক। কিন্তু তারা পরমাণু অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেন, ‘আমরা একটি বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য সমঝোতা চাই।’

দীর্ঘদিন কূটনৈতিক সম্পর্কহীন দুই দেশের এই সংযোগ এমন সময় হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষ থেকে একাধিকবার সামরিক হুমকি এসেছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে—জিজ্ঞাসায় বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘যদি সামরিক পদক্ষেপ লাগে, আমরা সেটাই করব।’

‘শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার প্রশ্ন’

২০১৫ সালের চুক্তি অনুযায়ী ইরানের জন্য পারমাণবিক বোমা তৈরি প্রায় অসম্ভব করে তোলা হয়েছিল, তবে বেসামরিক ক্ষেত্রে পরমাণু কর্মসূচি চালানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরান তাদের কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রায় ২৭৪.৮ কেজি মজুত রেখেছে—যা ৯০ শতাংশ অস্ত্র মানের ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি।

প্যারিসের সায়েন্স পোর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক অধ্যাপক করিম বিতার বলেন, এই চুক্তি শাসকগোষ্ঠীর টিকে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তিনি বলেন, ‘শাসনব্যবস্থার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো—নিজেদের টিকে থাকা এবং সম্ভব হলে নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়ে অর্থনীতি সচল করা, কারণ সরকার এখন ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।’

ওমান নিউজ এজেন্সির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আল-আরাইমি বলেন, ২০১৫ সালের পর এটিই সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং এটি একটি সমাধানে পৌঁছানোর প্রবল ইচ্ছার ইঙ্গিত দেয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না আজকের এই মাসকাট বৈঠকে সব বিষয় সমাধান হবে। এসবের জন্য কারিগরি দল প্রয়োজন।’

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button



ফিলিস্তিন সংকটে সক্রিয় পদক্ষেপ চায় জনগণ: রহমাতুল্লাহ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার নৃশংসতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম বরিশাল শাখা আয়োজিত এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে যে বর্বরোচিত হামলা চলছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপরাধ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ সরকারের কাছ থেকে শুধুমাত্র বিবৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী একটি দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চাই।”

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছে। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী হলেও, এই সংকটে নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখা উচিত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন, জাহিদুর রহমান রিপন, স্বাধীনতা ফোরামের মহানগর শাখার সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব, ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর ইসলাম উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আনোয়ার হোসেন টিটু, তারিক সুলাইমান, এবং ছাত্রদল নেতা আসিফ আল মামুন।

সমাবেশ থেকে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সমাজকে ফিলিস্তিনের পক্ষে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় নির্বাচনের লক্ষে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত করার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার




সাগরে মাছ ধরতে চাঁদার অভিযোগে জেলে নিখিলের নিরাপত্তাহীনতা

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সাগর মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে চাঁদা দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক জেলে। শনিবার সকালে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখিল হাওলাদার নামের ওই জেলে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মুন্সির বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরেই মাছ ধরার নামে চাঁদা আদায় করে আসছেন এবং যারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের ওপর নেমে আসে হুমকি, ভয়ভীতি এমনকি প্রাণনাশের চেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিখিল হাওলাদার জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নজরুল ইসলাম মুন্সি ও তার লোকজন তার কাছ থেকে প্রতি জোবায় ৩০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে প্রথমবার ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। এরপর নজরুল নিজে ১০ হাজার টাকা এবং তার আত্মীয় হাবিব হাওলাদার আরও ১৪ হাজার টাকা নেন। পরে ৪ এপ্রিল মাছ ধরতে গেলে আবারো ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার মাছ ধরার ট্রলারটি জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন তিনি স্থানীয়দের কাছে বিষয়টি জানালে তারা তার বক্তব্য ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম ও তার লোকজন নিখিলের বাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তাকে মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তাকে জোর করে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করে একটি ভিডিও ধারণ করে নেয়া হয়। তিনি বিষয়টি রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান। বর্তমানে প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ফিরতে পারছেন না, তার পরিবারও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাসুদ প্যাদা, ইউপি সদস্য হাজী মো. মিজানুর রহমান গাজী, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোশারেফ হোসেন, দীপরাজ মজুমদারসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতা।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নজরুল ইসলাম মুন্সি। তিনি দাবি করেন, জেলে নিখিল অবৈধভাবে পোনা ধরে খুলনাতে বিক্রি করেন। দাদন দেওয়া মহাজনদের সঙ্গে তার বিরোধ রয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জাক করা ও অবৈধভাবে মাছ ধরতে নিষেধ করায় তাকে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. এমারত হোসেন বলেন, নিখিল হাওলাদার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। দুই পক্ষকেই ডাকা হয়েছিল, তবে নিখিল পরে আর থানায় আসেননি এবং মীমাংসার ইচ্ছার কথাও জানান।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গৌরনদীতে কবি হারিস মিজানকে ঘিরে সাহিত্যিকদের ব্যতিক্রমী মিলনমেলা

বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক হারিস মিজানের সাহিত্যকর্ম নিয়ে এক ব্যতিক্রমী সাহিত্য আড্ডায় মিলিত হয়েছেন বরিশালের কবি, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীরা। জেলার গৌরনদী উপজেলায় চন্দ্রদ্বীপ সাহিত্য সমাজ এবং বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি সমাজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সাহিত্য আড্ডা হয়ে উঠেছিল এক প্রাণবন্ত সাহিত্যিক মিলনমেলায়।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের উপজেলা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ সাহিত্য আয়োজন। সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের প্যানেল আহ্বায়ক ও সিনিয়র সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক ড. তপংকর চক্রবর্তী। প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নেন কবি রত্ন শিকদার রেজাউল করিম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক মহাদেব বসু, ড. বিনয় ভূষণ, ড. চিন্ময় হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা দুলাল সরকার, অধ্যাপক আব্দুল হাকিম, মনতোষ দাস এবং দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখার সভাপতি ডা. মণীষ চন্দ্র বিশ্বাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন প্রভাষক মাসুদ করিম, দীনেশ জয়ধর, মুক্তা মিজানসহ অনেকে।

আলোচনা সভার পর শুরু হয় মূল সাহিত্য আড্ডা। এ পর্বে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি, গল্প পাঠ এবং সাহিত্যের নানা দিক নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন কবি ফাতেমা জান্নাত চাঁদনী, ঝর্ণা দাস লাবনী, চায়না দেবনাথ, শেখ খলিলুর রহমান, আব্দুর রহিম, রুবেল হোসেন, শাহ আলম প্রমুখ।

আয়োজকরা জানান, সাহিত্যিক হারিস মিজানের সৃষ্টিকর্ম আগামী প্রজন্মের জন্য একটি প্রেরণার উৎস। তাঁর সাহিত্যকর্মকে উপজীব্য করে এমন আড্ডা সাহিত্যচর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা আশাবাদী।




গলাচিপায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই ১০টি দোকান, ক্ষতি ২০ লাখ টাকার বেশি

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ শনিবার (১২ এপ্রিল) ভোররাত ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে ছিল ফলের দোকান, মুদি, সেলুন, বাস কাউন্টার, স্টেশনারি, খাবার ও চায়ের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গলাচিপা সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে কলেজ রোডসংলগ্ন দোকানগুলোতে প্রথমে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

গলাচিপা ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার মো. কামাল হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত। প্রায় ৮০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা গেলেও আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসিম রেজা। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করে দ্রুতই সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন।

 




পটুয়াখালীতে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের আউলিয়াপুর গ্রামে একটি তালাবদ্ধ বসত ঘর থেকে মো. আলমগীর তালুকদার (৫০) নামের এক ব্যক্তির পচন ধরা ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আলমগীর তালুকদার ওই গ্রামের মৃত মো. কাসেম সিকদারের মেয়ে জামাই। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে ঢাকায় চাকরির সুবাদে অবস্থান করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিন ধরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

স্থানীয়দের তথ্য মতে, আলমগীর ঠ্যাংগাই কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা হলেও শ্বশুরের দেওয়া জমিতে আউলিয়াপুর গ্রামে একাই বসবাস করতেন। আশেপাশে বাড়িঘর না থাকায় কেউ ঘরে কী ঘটেছে তা টের পাননি।

আলমগীরের ছেলে রিয়াজ তালুকদার জানান, “আমরা সবাই ঢাকায় থাকি। বাবার কোনো শত্রু ছিল না। এক আত্মীয়ের বিয়ের কারণে কিছুদিন আগে আমরা গ্রামে এসেছিলাম। এরপর থেকে বাবার ফোন বন্ধ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।”

পটুয়াখালী সদর থানার এসআই মোবাইদুল ইসলাম জানান, “সকাল ১০টায় স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আমাদের কাছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে।”

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মো: আল-আমিন