ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের

ভোলার সদর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মোস্তফা (৬২) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলা সদরের ইলিশা বাঘার হাওলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোস্তফা রাস্তা পার হচ্ছিলেন, এ সময় ইলিশা ফেরিঘাটগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পথচারীরা দ্রুত তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. মোস্তফা ভোলা জেলার ৬নং বাঘার হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি পূর্ব ইলিশা মৌলভীরহাট এলাকার প্রয়াত মাওলানা আনোয়ার উল্লাহ্ হুজুরের পুত্র।

ভোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসনাইন আহমেদ পারভেজ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নতুন নাম?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলা নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এবারের আয়োজনে ২৮ জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মধ্য শোভাযাত্রাটি ‘সকলের হয়ে উঠবে’ বলে মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবারের শোভাযাত্রা আনন্দময় হবে।




ওবায়দুল কাদের এখন কলকাতায়!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সড়ক, পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল) কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে দেখতে পান বলে এক বাংলাদেশি দাবি করেছেন।

ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম সকাল সন্ধ্যার সম্পাদক গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদের ফেসবুক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। যিনি ওবায়দুল কাদেরকে ওই হাসপাতালে দেখতে পেয়েছেন, তিনি এই সাংবাদিকের বন্ধু।

গাজী নাসির উদ্দীন আহমেদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, আমার এক বন্ধু কলকাতা গেছে ডাক্তার দেখাতে। অ্যাপোলো হাসপাতালের অ্যান্ডোক্রাইনোলজিস্ট শ্যামাশীষ ব্যানার্জীর জন্য অপেক্ষা করছিল। আজ বিকেলেই। ডাক্তারের রুম বন্ধ। ডাক্তারের ফোনও বন্ধ। ডাক্তারের সহকারী বলছেন, স্যার লাঞ্চে। ঘন্টার মতো অপেক্ষার পর রুমের কপাট খুলল। আকাশি রঙের টি-শার্ট ও প্যান্ট পরা এক ভদ্রলোক বের হলেন। লোকটাকে চিনে ফেলে ও যেই না বলছে, ‘ওবায়দুল কাদের না!’ ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে মাস্ক মুখে দিয়ে হন হন করে হেঁটে চলে গেলেন।




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই, তবুও আড়াই কোটি টাকার হোস্টেল

বরিশালের বাবুগঞ্জে নেই কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তারপরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবন দুটি পাঁচ বছরেও উদ্বোধন হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না থাকায় এসব অব্যবহারযোগ্য ভবন পড়ে রয়েছে অযতেœ। একটি আংশিক ব্যবহৃত হলেও অন্যটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুটি হোস্টেল ভবন করান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

২০১৮ সালে ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বাবুগঞ্জ হাই স্কুল (বালক) এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালিকা) এ দুটি হোস্টেল নির্মাণের অনুমোদন দেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার আবাসিক এ দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষে ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে কেবল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী মেনন এ ভবন দুটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, ভবন দুটি কোনো কাজেই আসছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোস্টেল দুটি নির্মাণের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, এগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এলাকায় এমন শিক্ষার্থী না থাকায় কোটি টাকার ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অপ্রয়োজনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, “এই ভবনগুলোর জায়গায় যদি কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি ক্লিনিক হতো, তাহলে এলাকার ছেলেমেয়েদের উপকার হতো। এখানে উন্নয়নের নামে যে কাজ হয়েছে, তা শুধু লোকদেখানো। আমাদের এলাকার মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।”

ভবন দুটি চালুর বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এ হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই। ফলে হোস্টেল দুটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা! পিরোজপুরের নান্না শিকদারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার হাবিবুর রহমান নান্না শিকদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মিরাজ শিকদার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন—নান্না শিকদার একজন স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন রাজাকার। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের প্রত্যয়নপত্রেও নান্নাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • ভুয়া সনদ: মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ০৬০৫০৫০৬৪ ব্যবহার করলেও নান্না কখনো যুদ্ধে যাননি।
  • অভিযোগের ভিত্তি: রাজাকার তালিকায় নাম থাকা, ১৯৭১ সালে ৭ জন হত্যার অভিযোগে মামলা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পত্তি লুটের অভিযোগ।
  • অতিরিক্ত সম্পত্তি: পৈত্রিকভাবে ১৩ কাঠা জমির মালিক হলেও বর্তমানে রয়েছে ৮০০ কাঠা জমি—যার উৎস সন্দেহজনক।
  • প্রশাসনিক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয় ইউএনও সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাচ্চুও জানান, নান্না শিকদারের যুদ্ধ করার কোনও প্রমাণ নেই বরং তার বাবা ছিলেন রাজাকার, যিনি জেলও খেটেছেন।

অভিযুক্ত নান্না শিকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” তবে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।

এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে সত্য উদঘাটনের আশা রয়েছে।




মেঘনা-তেঁতুলিয়ার অভয়াশ্রম এখন জেলেশূন্য, জাটকা সংরক্ষণে চলছে কঠোর অভিযান

ভোলার চরফ্যাশন উপকূলবর্তী মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির অভয়াশ্রম এলাকায় বর্তমানে কোনো জেলের উপস্থিতি নেই। মার্চ-এপ্রিল দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এ চিত্র দেখা যাচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যে পরিচালিত হয়েছে ৫২টি অভিযান ও ১১টি মোবাইল কোর্ট। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮ লাখ মিটার ইলিশ ধরার জাল, ১৭৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১১৭টি অন্যান্য অবৈধ জাল। সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে। মামলার আওতায় আনা হয়েছে ৪৭ জনকে, যার মধ্যে ৬ জনকে জেল ও অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে ধরা পড়া একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রায় ১৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০টি বেহুন্দি জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ২ ও ৩ এপ্রিল জেলেদের হামলার শিকার হতে হয়। এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়তে হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, সীমিত বাজেট, জনবল সংকট ও যানবাহনের অভাবে বিশাল জলায়তন এলাকাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় অর্ধেক জলাশয় এখনো অভয়াশ্রমের আওতার বাইরে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু জেলে শুরুতে অভিযান পর্যবেক্ষণ করে পরে নদীতে নামে। তবে এবার যৌথ টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নদীর অভয়াশ্রম এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা।

মো: তুহিন হোসেন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের 

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।

বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে ১৫টি তরুণ সংগঠনের শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে তরুণদের ১৫টি সামাজিক ও পরিবেশ সচেতন সংগঠন। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জেলা শহরের ঝাউতলা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সকালে জেলা শহরের ঝাউতলা মোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। পরে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার সচেতন নাগরিকরাও এ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পটুয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় অঞ্চলগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও নদীভাঙনে এখানকার কৃষি, বাসস্থান এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। তাই জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণে দায়ী রাষ্ট্রগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

পটুয়াখালী ভলান্টিয়ারর্সের প্রতিনিধি রুবাইয়েত হক মেহেদীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ব্রাইটার্স অব বাংলাদেশ-এর খাইরুল ইসলাম মুন্না, এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী-এর আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, গ্রিন পিপল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির আরিফুল ইসলাম, তারুণ্যের আউলিয়াপুর-এর মো. সোহাগ, পটুয়াখালী ব্লাড এজেন্সির মো. আসিফ, লাল সবুজ সোসাইটির শাহরিয়ার মাহমুদ, ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালী-এর মো. জাহিদ, ধুমকেতুর মো. কাওসার, তারুণ্যে সংগঠন বাংলাদেশ-এর মো. হাসিবুল ইসলাম, প্রাউড অফ পটুয়াখালীর মো. রায়হান, ইয়ুথ ফর পলিসির আসাদুল ইসলাম, দক্ষিণ বাংলার মো. রাজু এবং বিডি ক্লিন-এর আতিকুর রহমান প্রমুখ।

বক্তব্য শেষে শান্তিপূর্ণভাবে পাঁচ মিনিটের প্রতীকী সড়ক অবরোধের মাধ্যমে ধর্মঘট কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কারা হেফাজতে নিহত ছাত্রদল নেতা মিলনের পরিবারের খোঁজ নিলেন তারেক রহমানের প্রতিনিধি

কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন-এর পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও ‘দেশমাতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সায়েম

আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১১টায় গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার মাজুখান গ্রামে গিয়ে মরহুম মিলনের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন—আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব ও দেশমাতা ফাউন্ডেশন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর নির্বাহী সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ

ব্যারিস্টার আবু সায়েম জানান,তারেক রহমান চাচ্ছেন মিলনের পরিবারের সন্তানদের যেন কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। দেশমাতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শহীদ মিলনের দুই কন্যাকে নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন জাকির হোসেন মিলন। অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগ থানায় আটক অবস্থায় তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং ১২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাটি এখনো ‘কারা হেফাজতে মৃত্যুর’ একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে বারবার বিচার দাবি করা হলেও আজও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবির পর মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ হিসেবে দাবি করায় হাবিবুর রহমান (৩৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে জনতার হাতে আটক হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায়। গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে ‘আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ইমাম মাহদী’ পরিচয় দিয়ে জনসমক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় বক্তব্য দিতে থাকেন তিনি। বক্তব্যের এক পর্যায়ে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গলাচিপা এনজেড দাখিল মাদ্রাসার একটি কক্ষে আটকে রাখে।

পরে খবর পেয়ে গলাচিপা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

আটক হাবিবুর রহমান কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পশ্চিম শাহপুর গ্রামের মুন্সিবাড়ি এলাকার মো. আমানত উল্লাহর ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলার বাহের গজালিয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গণিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার পর মাদ্রাসার সুপার মো. অলিউল্লাহ বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, হাবিবুর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আসছিলেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যেগুলো ‘মাহদীয়া’ নামে কুরআনের ১১৫তম সূরা হবে।

তার দাবি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৩ জুন থেকে দুর্ভিক্ষ শুরু হবে, এবং আল্লাহ ওহির মাধ্যমে তাকে এসব তথ্য দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, আল্লাহ তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, এবং তার মা ও চাচি ‘জাহান্নামী’, আর তাকেই জান্নাত দান করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি গলাচিপা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব তাওহীদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে এই কথাগুলো পুনরায় বলেন এবং তা জনসম্মুখে প্রচার করেন। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ধরে ফেলে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম