কুয়াকাটা সৈকতে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখলেন পর্যটকরা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে বছরের প্রথম দিনেই পর্যটকে মুখরিত হয়ে ওঠে দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি এই সৈকতে একসঙ্গে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ পর্যটকদের কাছে বরাবরের মতোই বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করে।
সোমবার (১ বৈশাখ) সকালে কুয়াকাটার আকাশে ভেসে ওঠা নতুন বছরের প্রথম সূর্য দেখতে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক ভিড় করেন সৈকতে। তারা বছরের প্রথম আলোকে সাক্ষী রেখে এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কারও কারও চোখে ছিল আনন্দের উচ্ছ্বাস, আবার কেউবা নিরবে উপভোগ করেছেন সেই স্নিগ্ধ সকাল।

তবে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম উপস্থিতি থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাংলা ১৪৩১ সালের শেষ সূর্যাস্ত এবং বাংলা ১৪৩২ সালের প্রথম সূর্যোদয় এক নজরে দেখতে অর্ধলক্ষাধিক পর্যটক আসবেন— এমনটাই ছিল তাদের আশা। বাস্তবে সেই সংখ্যা আশানুরূপ না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন অনেকেই।
রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মোঃ মানিক মিয়া বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে বছরের প্রথম সূর্যোদয় দেখতে কুয়াকাটা এসেছি। নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে নতুন বছরের শুরু এ এক অনন্য অনুভূতি। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলাম।”
প্রতিবছরই পহেলা বৈশাখে কুয়াকাটা হয়ে ওঠে ভ্রমণপ্রেমীদের মিলনমেলা। তীব্র গরম, দীর্ঘ যাত্রা কিংবা সময়ের কষ্ট উপেক্ষা করে মানুষ ছুটে আসে এই সমুদ্রসৈকতে। ভোরবেলার শান্ত বাতাস, ঢেউয়ের ছন্দ, আর সূর্যের প্রথম রশ্মি— সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম দিন হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক মুহূর্ত।
স্থানীয় হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও এই দিনে বাড়তি কর্মব্যস্ততায় থাকেন। তবে তারা আশা করছেন, সামনে আরও বড় কোনো উৎসব কিংবা ছুটির দিনে পর্যটকদের আগমন বাড়বে।
নববর্ষের প্রথম দিনে এই সৌন্দর্য উপভোগ করে অনেকেই নতুন উদ্যমে বছরের সূচনা করেছেন। কুয়াকাটার এই দৃশ্য, অনুভূতি আর পরিবেশ সবার মন ছুঁয়ে গেছে— এমনটাই জানিয়েছেন অনেক পর্যটক।









