ভুলভাবে সালাম দেওয়া বিপজ্জনক! জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

ইসলামে সালাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে দুঃখজনকভাবে, অনেকেই এই সালামকে ভুল উচ্চারণের মাধ্যমে অর্থ বিকৃত করে ফেলছেন, যা কখনো কখনো শান্তির পরিবর্তে অভিশাপ বা গজবের অর্থ বহন করে।

নিম্নে কিছু সাধারণ ভুল এবং তা থেকে পরিণতি তুলে ধরা হলো:

ভুল সালাম এবং তার অর্থ:

১. স্লামালাইকুম – অর্থ: উটের নাড়িভুঁড়ি আপনার জন্য!
২. আসসালামালাইকুম – অর্থ: আপনার মৃত্যু হোক!
৩. স্লামালিকুম – অর্থ: আপনার উপর গজব বর্ষিত হোক!
৪. সেলামালাইকুম / আসলা মালিকুম – এসবেও ভুল ও বিকৃত অর্থ বহন করে।

এসব ভুল উচ্চারণ কখনোই সালামের প্রকৃত তাৎপর্য বহন করে না। বরং এগুলো শান্তির বদলে গজব, অভিশাপ এবং অশান্তি কামনার ইঙ্গিত দেয় – যা এক মুসলমানের মুখে থাকা উচিত নয়।

ভুল উত্তরও বিপজ্জনক:

বিভিন্ন সময় সালামের জবাব দিতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা অর্থের দিক থেকে ভয়াবহ:

  • অলাইকুম সালাম
  • অলাইকুম আস-সালাম
  • আলিকুম সালাম

এসবও সালামের শুদ্ধ জবাব নয় এবং এর মাধ্যমে নেকি পাওয়ার পরিবর্তে।

মো: তুহিন হোসেন, বরিশাল অফিস।




৭১-এর গণহত্যার জন্য বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে বলল




মির্জাগঞ্জে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

 

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতের শিকার হয়ে হালিম হাওলাদার (৬২) নামের এক কৃষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সময় উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত হালিম হাওলাদার ওই গ্রামের মৃত সাদেম হাওলাদারের ছেলে। প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে হালিম হাওলাদার মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে বের হন। কিছু সময়ের মধ্যেই আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় মাঠে অবস্থানরত অবস্থাতেই বজ্রপাতের প্রবল আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি প্রাণ হারান। চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়নি।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শেষে নিশ্চিত হয় বজ্রপাতেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা জানান, হালিম হাওলাদার একজন শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। নিয়মিত কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় এক ধরনের বিষণ্ণতা বিরাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে প্রাণ হারানো পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসাথে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ভয়াবহতার মাঝে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে কৃষক, গবাদি পশুর রাখাল এবং খোলা মাঠে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য এ ধরনের সচেতনতা জীবন রক্ষা করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাকিবের আওয়ামী লীগে যোগদান শুধু ভুল সিদ্ধান্ত নয়, নৈতিক ব্যর্থতাও বটে: প্রেস সচিব

 ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের রাজনীতিতে যোগদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল পছন্দের সিদ্ধান্ত কেবল ভুল পদক্ষেপ ছিল না, বরং এটি নৈতিক ব্যর্থতাও বটে।বাসস

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ ওই পোস্টে শফিকুল আলম লেখেন, সাকিব আল হাসানের রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল না। একজন নাগরিক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়ার অধিকার তার রয়েছে। সাকিব রাজনীতিতে যোগদান করেছেন, সেটি সমস্যা নয়, বরং বড় প্রশ্ন হলো, রাজনীতিতে যোগ দিতে গিয়ে তিনি কাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।

প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব যখন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত—যেমন গণহত্যা, গুম, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, বিরোধীদের নামে মিথ্যা মামলা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পদ্ধতিগত দুর্নীতি, এমনকি ব্যাংক ডাকাতির মতো অপরাধও অন্তর্ভুক্ত, তখন সেই দলে সাকিবের যোগদানের সিদ্ধান্ত নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।  কেবল এটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ ছিল না, এটি ছিল আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারির মধ্যে থাকা শাসন ব্যবস্থার প্রতি মৌন সমর্থন।

তিনি আরও লেখেন, একদলীয় কমিউনিস্ট রাষ্ট্র ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশের শীর্ষ ক্রীড়াবিদের কথা মনে পড়ে না, যিনি স্বেচ্ছায় এমন একটি সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, সাকিব কেবল দেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে ভুল করেছেন তা নয়—তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা উপেক্ষা করেছেন। এর থেকে দুটি বিষয় বোঝার ইঙ্গিত দেয়, হয় তিনি রাজনৈতিকভাবে ভীষণ অজ্ঞ বা সরল অথবা খারাপ কিছু যা ব্যক্তিগত লাভের জন্য এক ধরনের সুবিধাবাদী পদক্ষেপ।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বড় উদ্বেগের বিষয় সাকিবের কাছ থেকে কার্যকর জনসংযোগ বা কৌশলগত যোগাযোগের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সাকিব চাইলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্পোর্টস ও ইমেজ ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির পরামর্শ নিতে পারতেন, যারা বিশ্ববিখ্যাত সেলিব্রিটিদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে। তারা নিশ্চয়ই তাকে এমন একটি সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখত, যা এখন তার মর্যাদা ও ব্র্যান্ড উভয়কেই কলুষিত করেছে। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সময়ে তিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। তাই প্রফেশনাল পিআর পরামর্শ নেওয়া কখনো তার নাগালের বাইরে ছিল না।

তিনি বলেছেন, তবে যেটি এই সব কিছুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিকটুভাবে চোখে পড়ে, তা হল তার নীরবতা। বিশেষ করে তার সরকার এবং তার নিজের শহর মাগুরায় তার সমর্থকদের দ্বারা সংগঠিত সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে। মাগুরায় বেশ কয়েকজন বিরোধী কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তবুও সাকিব কিছুই বলেননি। কোনও নিন্দা নেই, ন্যায়বিচারের জন্য আহ্বানও অনুপস্থিত। কোনও ক্ষমা প্রার্থনা নেই। তার নীরবতা কেবল হতাশাজনক ছিল না, এটি বধির ছিল।

প্রেস সচিব লেখেন, সাকিব বাংলাদেশের সর্বকালের সবচেয়ে প্রতিভাবান ক্রিকেটার হতে পারেন। কিন্তু প্রতিভা ও জাতীয় দলের হয়ে পারফর্ম করা কিন্তু দায়মুক্তি দেয় না। একটি সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে—যাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে—তিনি দেশের ইতিহাসের কিছু অন্ধকার অধ্যায়কে বৈধতা দিয়েছেন।

শফিকুল আলম লেখেন, এই মুহূর্তে, তার কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে যুক্তিসংগত ব্যাখ্যা হল লোভ। তার রাজনৈতিক পদক্ষেপে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের সাথে তার সম্পর্ক সবকিছু একই দিক নির্দেশ করে। সেটি হলো ব্যক্তিগত লাভ, জনসেবা নয়।

প্রেস সচিব পোস্টের ইতি টানেন এটি লিখে, একদিন সাকিবকে ফিরে আসতে হতে পারে। সম্ভবত তখন তিনি অবশেষে সত্যের মুখোমুখি হবেন আর জানবেন আওয়ামী লীগে তার যোগদানের সিদ্ধান্ত কেবল একটি ভুল পদক্ষেপই ছিল না, বরং একটি বিশ্বাসঘাতকতা ছিল।




পটুয়াখালীতে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, দুর্ভোগে রোগী

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তদন্ত শেষ না হওয়া সত্ত্বেও কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. এ এম এস শামিম আল আজাদকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রতিবাদে কর্মসূচি শুরু করেছে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা বন্ধ ঘোষণা করে কর্মবিরতিতে যান।

তারা হাসপাতাল গেটের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। তাদের এ আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের ছাত্রছাত্রীরাও।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রোগী স্বজনদের অসন্তোষ, হুমকি-ধমকি এমনকি শারীরিক আক্রমণের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে তারা হাসপাতাল চত্বরে পুলিশ চৌকি স্থাপন কিংবা আনসার মোতায়েনের দাবি জানান।

চিকিৎসকদের অভিযোগ, ১৪ এপ্রিল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকলেও আগেই একজন চিকিৎসককে দোষী করে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে অন্যায়, একপাক্ষিক এবং চিকিৎসা সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করে তারা অবিলম্বে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। সেই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

তবে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আশ্বস্ত করেন, জরুরি বিভাগ ও সকল জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে। তারা বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে সেবা স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

##########
মো: আল-আমিন




পটুয়াখালীতে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের সাহাপাড়া এলাকা থেকে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে সাহাপাড়ার পঙ্কজ সাহার মুদি দোকানের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—লোহালিয়ার কাঁকড়াবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. সাজেদুল করিম ওরফে সাজু (২৬) এবং মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম (২৪)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে নীল রঙের একটি পলিথিন ব্যাগে রাখা ১ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পটুয়াখালী সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুর রহমান সজল জানান, “আটকদের বিরুদ্ধে বুধবার দুপুরে সদর থানায় নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জেলাজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মাদক নির্মূলে প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফ্রিজ একাউন্ট থেকে কো‌টি টাকা উত্তোলন, প্রিমিয়ার ব্যাংককে জরিমানা




পটুয়াখালীতে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তদন্তের আগেই বদলি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শিক্ষার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আশিকের মৃত্যুর ঘটনায় পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশিকের মৃত্যু ঘিরে সৃষ্টি হওয়া আলোচনার মাঝেই বুধবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ওই চিকিৎসককে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এই আদেশে সিদ্ধান্তটি প্রকাশ পায়।

বদলি হওয়া চিকিৎসক হলেন, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (কার্ডিওলজি) ডা. এ এস এম শামীম আল আজাদ। এ আদেশের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, ‘একটি চলমান তদন্তের মাঝপথে এমন সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত। তদন্ত কমিটির প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ও জবাব আমি সরবরাহ করেছি। কমিটি এখনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়নি। তার আগেই এমন পদক্ষেপ সত্যিই হতাশাজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে দেরিতে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগ এসেছে, সেটি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমি নিয়ম মেনে ফোনে পরামর্শ দিয়েছি এবং যথাসম্ভব দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছেছি। বিষয়টি আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করছি।’

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। তদন্ত কমিটি অতিরিক্ত তিন কর্মদিবস সময় চেয়েছে এবং অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পর কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে পবিপ্রবির কৃষি অনুষদের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হোসাইন মোহাম্মদ আশিক বন্ধুদের সঙ্গে গোসলে গিয়ে পানিতে তলিয়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আশিকের মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই রাতেই ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরদিন রংপুর ও কুড়িগ্রামে দ্বিতীয় ও তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে শহিদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার অনুদান দিল জেলা পরিষদ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মত্যাগ স্মরণে তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পটুয়াখালী জেলা পরিষদ। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৫ শহিদ পরিবারকে ২ লাখ টাকা করে মোট ৩০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. কামরুল হাসান সোহেল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা রুবাইয়াৎ জাহান, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, শহিদ পরিবারের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

অনুদান প্রদান শেষে জেলা প্রশাসক বলেন, “শহিদদের আত্মত্যাগ কোনোদিন বৃথা যাবে না। সরকারি খরচে তাঁদের কবর পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং আহত ও শহিদ পরিবারের পাশে সবসময় থাকবে জেলা প্রশাসন।”

এই মহতি উদ্যোগের মাধ্যমে শহিদ পরিবারের প্রতি জেলা পরিষদের দায়বদ্ধতা ও সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আলোচনায় সন্তুষ্ট নয় বিএনপি