নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতার ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন বাদল

নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে বাদল সম্প্রতি একটি ফেসবুক লাইভে এসে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। সাত মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের সেই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “ছোট ছোট ছাত্রলীগ কর্মীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, অথচ বড় বড় আওয়ামী লীগ নেতারা বাড়িতে ঘুমাচ্ছেন।”

লাইভটি গত বুধবার রাতে প্রচার করেন মেহেদী হাসান। এতে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীরাই হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমরা তো কিছুই পাইনি, উল্টো দল করতে গিয়ে নিজেদের খরচ করে ফেলেছি। এখন আমাদের খোঁজও নিচ্ছে না কেউ।”

তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবদুল মান্নান, এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের সমালোচনা করেন। বাদল বলেন, “এরা কেউ ঘরছাড়া না, তাদের বাড়িঘরে কোনো হামলাও হয়নি। কিন্তু আমার বাসায়, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান আরিফের বাসায় একাধিকবার হামলা হয়েছে।”

লাইভে মন্তব্য করতে দেখা গেছে স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা মিঠু হাওলাদারকে, যিনি লিখেছেন, “পৃথিবীটা ছোট্ট, এর হিসাব হবে ইনশা আল্লাহ।” মইনুল ইসলাম নামের একজন মন্তব্য করেন, “এক পয়সাও ইনকাম করি নাই, করার সুযোগ পাইনি, তার পরেও বাড়িছাড়া।”

ঘটনার বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরতে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে।”

এদিকে বাদলের লাইভে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ সাড়া দেননি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পরীক্ষায় নকল সরবরাহ, মাদরাসা শিক্ষককে ৭ দিনের কারাদণ্ড

দাখিল পরীক্ষায় নকল সরবরাহের দায়ে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার লাঙ্গুলী নেছারিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক মো. জামাল উদ্দিনকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) কাউখালী কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রের সচিব মাওলানা হোসাইন আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, আকাঈদ ও ফিকাহ বিষয়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের উত্তর লিখিতভাবে জামাল উদ্দিন তার পকেট থেকে বের করে মাদরাসার অফিস সহকারীর হাতে তুলে দেন। বিষয়টি চোখে পড়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথের। তিনি সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপত্র জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।

পরে অভিযুক্ত শিক্ষক দোষ স্বীকার করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বজল মোল্লা তাকে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

কাউখালী ইউএনও স্বজল মোল্লা বলেন,“পরীক্ষা হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে নকল সরবরাহের দায়ে শিক্ষককে আইন অনুযায়ী সাজা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা সুষ্ঠু রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপ জরুরি।”


মো: তুহিন হোসেন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় অস্ত্র ও জাল নোটসহ দুই ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

 


ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে গোপন অভিযানে অস্ত্র ও জাল নোটসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃতদের মধ্যে দুজন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলেন:

  • আলাউদ্দিন (৪৫), মদনপুর ইউপি’র ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য
  • লোকমান (৪২), একই ইউপি’র ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য
  • জহির উদ্দিন বাবর (৪৮), একই এলাকার বাসিন্দা

তাদের বিরুদ্ধে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযান ও জব্দকৃত আলামত:
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল মদনপুর চরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, চারটি কার্তুজ এবং ৯টি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে আটক তিনজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।


মো: তুহিন হোসেন
“স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




কলাপাড়ায় দা চুরির ঘটনায় তিনজনকে পিটিয়ে জখম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর এলাকায় চুরি যাওয়া একটি দা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়, যেখানে তিনজনকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতরভাবে জখম করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ধানখালী ইউনিয়নের সোমবাড়িয়া বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হালিমা বেগমের স্বামী শাহআলম প্যাদা (৫৫), ছেলে রুবেল প্যাদা (২৮) এবং জামাতা রাজিব মোল্লা (২৮)। বর্তমানে তারা কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার চুরি হয়ে যাওয়া একটি দাকে কেন্দ্র করে হালিমা ও প্রতিবেশী মিতুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এই ঘটনার রেশ ধরে বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে মিতুর স্বজনরা হালিমার পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আক্রান্তরা দাবি করেন, চম্পাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শাকিল মোল্লার নেতৃত্বে শ্রমিকলীগ সভাপতি আলআমিন গাজী, ছাত্রলীগ নেতা ইউসুফ মোল্লা, ইয়াকুব গাজী ও আবুল গাজী লাঠিসোটা নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় এবং প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

আহত শাহআলম বলেন, “আমাদের উপর হামলা চালিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।” অন্যদিকে শাহআলমের ছেলে রুবেল জানান, “তারা আমাদের পিটিয়ে আহত করে এবং পরে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীরা আবারও আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে।”

অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল মোল্লা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমরা ফয়সালার জন্য গিয়েছিলাম। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, “আমরা এখনও লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নৈতিক শিক্ষায় আলোকিত পটুয়াখালী

দিন বদলের বইছে হাওয়া, নৈতিক শিক্ষায় প্রথম চাওয়া’—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা, যেখানে আলোচনায় উঠে এলো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে নৈতিক শিক্ষার অপরিহার্যতা। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ভূমিকা’।

কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক জুয়েল রানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক নিত্য প্রকাশ বিশ্বাস, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারী পরিচালক (বরিশাল) দেবাশীষ রায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাজেদুল ইসলাম সজল, ঢাকা কার্যালয়ের উপপরিচালক কাকলী রানী মজুমদার, উপপরিচালক (মাঠ সেবা) মদন চক্রবর্তী এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বক্তিয়ার রহমান।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে তুলে ধরেন, কিভাবে মন্দির কেন্দ্রিক শিশু শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের নৈতিক ও চারিত্রিক গুণাবলি বিকাশ লাভ করছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শিশুদের মাঝে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সহমর্মিতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে বক্তারা মত দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মনিটরিং প্রতিনিধি অতুল চন্দ্র দাস, সদর উপজেলা প্রতিনিধি উত্তম কুমার দাস, বাউফল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক শিশু রঞ্জন পাল ও শিক্ষক সমীর গাঙ্গুলী প্রমুখ।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে, জেলার ৮টি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ৭৯টি মন্দির ভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকরা অংশ নেন দিনব্যাপী বিভিন্ন দলভিত্তিক কার্যক্রমে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, সমস্যা নিরূপণ এবং সমাধানমুখী আলোচনা হয় যা ভবিষ্যতের পরিকল্পনাকে আরও দৃঢ় ভিত্তি দেয়।

এই কর্মশালা নতুন এক আশাবাদের আলো জ্বেলে দিয়েছে, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধ চর্চা করে শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দশমিনায় এক পরিবারকে অজ্ঞান করে স্বর্ণালংকার লুট

পটুয়াখালীর দশমিনায় গভীর রাতে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে এক পরিবারের তিন সদস্য হারালেন জ্ঞান, আর দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেল নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল। উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরজবেগী গ্রামে গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে সংঘটিত হয় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

জানা গেছে, হাফিজুর রহমান কালন খানের ঘরে রাতের খাবারের সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেন দুর্বৃত্তরা। পরে হাফিজুর রহমান, তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম ও তাদের কন্যা সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে লুটে নেয় নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র।

বৃহস্পতিবার সকাল গড়িয়ে গেলেও পরিবারের সদস্যদের কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ জাগে প্রতিবেশীদের মধ্যে। একপর্যায়ে ঘরের পিছনের দরজার বাইরে সিটকানি লাগানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে তা খুলে ঘরে ঢোকেন তাঁরা। ভেতরে ঢুকেই দেখতে পান সবাই অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে অচেতন তিনজনকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত পুলিশি তদন্ত ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগ্য সভাপতি নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাটুয়া আল-আমিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদে একজন সৎ, যোগ্য ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা ও অব্যবস্থাপনার জন্য পূর্ববর্তী কমিটির অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিরাই দায়ী। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আবারও এমন কাউকে সভাপতি করা হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও অবনতি ঘটবে।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী ওমর তালুকদার বলেন, “বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নাজুক। শ্রেণিকক্ষ সংকট প্রকট। ১১ জন শিক্ষকের স্থলে মাত্র ৬ জন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চলছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা নিজ ইচ্ছামতো কমিটি গঠন করেছেন, যার ফলে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে।”

বিদ্যালয়ের জমিদাতার উত্তরসূরি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা এমন একজন সভাপতি চাই, যিনি শিক্ষানুরাগী ও নৈতিকভাবে যোগ্য। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

অভিভাবক মালেক প্যাদা বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত খারাপ। নিয়মিত ক্লাস হয় না, শিক্ষক নেই। এই অবস্থায় আবার অযোগ্য কাউকে সভাপতি করা হলে শিক্ষার আলো নিভে যাবে।”

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবুল মৃধা বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম নিয়ম মাফিক চলছে।”

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, “কমিটি গঠিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আমার কাছে তথ্য নেই। তবে নিয়ম অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী ও শিক্ষানুরাগী ছাড়া কেউ পরিচালনা পর্ষদে থাকতে পারেন না। বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে সালিশে ডাক না পেয়ে হামলা, অভিযোগ সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কপুরকাঠি গ্রামে সালিশ বৈঠকে আমন্ত্রণ না পেয়ে এক সাবেক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হাওলাদার জমি সংক্রান্ত বিরোধে তার ভাতিজা মাহবুব হাওলাদার ও রিয়াজ হাওলাদারের বিরুদ্ধে বাউফল থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার পরামর্শ দেয়। দুই পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয় মফিজ মাতব্বরকে সালিশদার হিসেবে বেছে নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

বৈঠক শুরু হওয়ার কিছু সময় পরেই কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জসিম পঞ্চায়েত (৪৫) তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে উপস্থিত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সালিশে আমন্ত্রণ না পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে তিনি নিজেই সালিশে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে সালিশদার করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

জসিম বৈঠকে উপস্থিত হয়েই উত্তেজনা সৃষ্টি করেন এবং সালিশ পণ্ড করে দেন। এ সময় তিনি বলেন, “আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিদের দিয়ে সালিশ হতে পারে না, বিএনপি নেতাদের ছাড়া ইউনিয়নে সালিশ চলবে না।” এরপরই তিনি মফিজ মাতব্বরকে গালাগাল করে মারধর করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর মফিজ মাতব্বর (৪৩) বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জসিম পঞ্চায়েত দাবি করেন, “ঘটনার কোনো ভিত্তি নেই, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই একটি কুচক্রী মহল এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোলায় পাওনা টাকার জেরে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ স্লুইজ গেট বাজার এলাকায় পাওনা টাকার জেরে মো. শাজাহান চৌকিদার (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাজাহান চর আনন্দ এলাকার একজন ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী মিলন বেগম জানান, শাজাহানের কাছ থেকে সিরাজ মাঝি নামে এক ব্যক্তি জমি বন্ধক রেখে চার লাখ টাকা নেন। এর মধ্যে এক লাখ টাকা শোধ করা হলেও বাকি তিন লাখ টাকা ঈদের পর পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সিরাজ স্লুইজ গেট বাজারে শাজাহানের দোকানে তালা লাগিয়ে দেন।

এ খবরে শাজাহান দোকানে গেলে সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে শাজাহান গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোকানে তালা লাগানো নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে এই ঘটনা ঘটে। শাজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিরাজ মাঝি পলাতক রয়েছেন।

শাজাহানের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম, এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে নির্মিত শিশু হাসপাতাল চালু হয়নি এক বছরেও

বরিশালের আমানতগঞ্জ এলাকায় নির্মিত ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি এক বছর আগে নির্মাণ শেষ হলেও এখনও চালু হয়নি। জনবল নিয়োগ না হওয়া এবং বিদ্যুতের আলাদা সাব-স্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় হাসপাতালটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে।

হাসপাতালটির ভবন নির্মাণ শেষ হয়েছে গত বছরের মার্চ মাসে। কিন্তু এসব অবকাঠামোগত সমস্যা এবং জনবল সংকটের কারণে এটি এখনও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ব্যবহৃত হচ্ছে না।

হাসপাতালটি চালু হলে এর পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ। বরিশাল মেডিকেলের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি চালাতে কমপক্ষে ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজন, কিন্তু এখন পর্যন্ত একজনেরও নিয়োগ হয়নি।

এদিকে হাসপাতালের আলাদা সাব-স্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সহকারী পরিচালক রেজওয়ানুর আলম জানান, হাসপাতাল চালু না হওয়ায় বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা বুঝে নিচ্ছে না। ফলে অবহেলায় পড়ে থাকা ভবন থেকে বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় এখনো কিছু কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

প্রকল্পটি ২০১৭ সালে শুরু হয়ে ২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এখন হাসপাতালটি চালুর অপেক্ষায় সময় গুণছে বরিশালের মানুষ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম