অগ্নিকান্ডে বসতঘর ভস্মিভূত, তিনজন আহত

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে গেছে এবং অপর একটি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডে ফায়ারকর্মী মেহেদী হাসানসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে, ততক্ষণে আব্দুল মন্নান মিয়ার বসতঘর পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী রফিকুল ইসলামের দালান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, আগুনের কারণে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফলে তারা সরকার নির্ধারিত বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারার বিধান মতে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জন স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এবং ইউপি সচিব রুহুল আমিন সরকারি বরাদ্দ এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোন ধরণের যোগাযোগ না করে এসব টাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যদের বেতন প্রায় ২৪ লাখ টাকা আটকে রয়েছে এবং চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে অন্যান্য প্রকল্পের টাকা, যেমন টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকার অনেকাংশই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যদের লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন:
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম হাওলাদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহাদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইসমাইল হোসেন হীরা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এফএম বাবুল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন খলিফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. গিয়াস খান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মীর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানা বেগম এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম।

অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এই অভিযোগগুলো মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, অধিকাংশ ইউপি সদস্যরা ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউপি সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়েছে, যার প্রকৃত তদন্তে সত্যতা প্রকাশ পাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা নিহত

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা সুলতান হোসেন খান (৪৫) নিহত হয়েছেন। সুলতান হোসেন খান স্বরূপকাঠি উপজেলার ইন্দেরহাট বন্দর বাজারে কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা জানান, ২১ দিন পর শনিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলতান হোসেন খান মারা যান। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

পূর্বের মামলার এজাহারে জানা যায়, জমির বন্টন নিয়ে ৫ এপ্রিল রাতে সুলতান হোসেন খান ও তার বড় ভাই শাহজাহান খানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে শাহজাহানের ছেলে রুবেল খান চাচা সুলতান হোসেন খানকে শাবল দিয়ে আঘাত করে। আহত সুলতান খান প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল সুলতান হোসেন খানের বোন নাসিমা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শাহজাহান খান, তার ছেলে রুবেল খান, ভাতিজার স্ত্রী লামিয়া আক্তার, বোন নিলুফা বেগম, মারুফা বেগম, বোনজামাতা মোশারফ হোসেন ও শাহ আলমকে আসামি করা হয়। পুলিশ ৬ এপ্রিল অভিযানে শাহজাহান খান, রুবেল খান ও লামিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে শাহজাহান খান ও তার ছেলে রুবেল খান বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাহিলাড়া বাজার নির্বাচনে উৎসবের আমেজ

দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আনন্দে উদ্বেলিত মাহিলাড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে শুরু হওয়া নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার হুমায়ুন কবির বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ পাঁচটি পদের জন্য ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মামলার জট: তিন প্রজন্ম ধরে অপেক্ষা রায়ের

বরিশালে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে মামলা জট। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় ঘুরেও পাচ্ছেন না রায়। জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ওমর ফারুক (৫০) এমনই একজন যিনি ২৫ বছর ধরে জমি-সংক্রান্ত মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। তার দাদা ও বাবা—তিন পুরুষ ধরে একই মামলায় জড়িয়ে এখন নিজেও আদালতে ঘুরছেন।

এমনই আরেক ভুক্তভোগী গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের ইউসুফ আলী জানান, ২০১৪ সাল থেকে এক মামলা নিয়ে ঘুরছেন। বর্তমানে একই ইস্যুতে চলছে চারটি মামলা, কিন্তু কোনো রায়ই মেলেনি।

বরিশালের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে বিচারক ও এজলাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার মামলা জটের মধ্যে রয়েছে।

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “দুইজন বিচারক ও দুটি এজলাসের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে জজ কোর্টেও পাঁচটি এজলাস সংকট রয়েছে।”

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, অবকাঠামো ও বিচারক সংকট ছাড়াও দুর্নীতি বড় একটি বাধা। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, “দুর্নীতি কমাতে অনলাইন কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।” একই দাবির সাথে একমত বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনও।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিগ্রির দাবিতে বরিশালে ডিপ্লোমা নার্সদের বিক্ষোভ

“এইচএসসির পর ডিপ্লোমা নাই, ডিপ্লোমাকে ডিগ্রির সমমান চাই”—এই শ্লোগানে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ডিপ্লোমা নার্সেস ইউনিয়ন। তাদের দাবি, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সগুলোকে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস কোর্সের সমমান দিতে হবে।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ সাদ ইসলাম রিয়ান। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস ইউনিয়ন, বরিশাল শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভে নার্সিং শিক্ষার্থীরা বড় সংখ্যায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, “চার বছর সময় নিয়ে আমাদের ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করতে হয়, কিন্তু এর পরও আমাদের শিক্ষাগত মর্যাদা স্বীকৃতি পায় না। কেন আমরা স্নাতকের সমান সম্মান পাবো না?”

তারা আরও জানান, “এ বৈষম্য শুধু হতাশার নয়, বরং এটি আমাদের পেশাগত ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুবা আগামীতে কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে আমরা বাধ্য হবো।”

নার্সিং শিক্ষার্থীদের মতে, সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এই দাবি শুধু যৌক্তিকই নয়, সময়োপযোগীও।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাঁধঘাট এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মো. সরোয়ার তালুকদার (২৫) নামে এক ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মৃত সরোয়ার তালুকদার, আলতাফ তালুকদারের ছেলে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে সরোয়ারের চাচাতো বোন মাহিনুর বেগম ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় মাহিনুর তার বাবা ইউনুস তালুকদারকে খবর দেন। পরে ইউনুস তালুকদার এসে দরজায় ধাক্কা দিয়ে খুলে সরোয়ারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে অবহিত করা হয়।

জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পটুয়াখালী পুলিশ প্রশাসনকে অবগত করেছেন। সরোয়ারের মৃতদেহের অবস্থা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় অধিবাসী শরীফ মাতব্বর বলেন, সরোয়ারের মরদেহ যেভাবে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল এবং তার পা ভাঁজ হয়ে খাটের সঙ্গে লেগে ছিল, তা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় এলাকাজুড়ে নানা গুঞ্জন চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



যুবসমাজের ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী শহরের মল্লিকা পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রতিনিধি সভা। শনিবার, (২৬ এপ্রিল)  দিন ব্যাপি আয়োজিত এই সভায় সংগঠনের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল রহমান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় উপকমিটির সদস্য সৈয়দ রাসেল মুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহ আলম শিকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান সাদ্দাম মৃর্ধা, যুগ্ম সদস্য সচিব শিল্পিক রানি, যুগ্ম আহ্বায়ক উর্মি ইসলাম এবং পটুয়াখালী পৌর অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কালাম সিকদার।

এছাড়াও জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন, যারা সংগঠনের আগামী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ রাসেল মুন বলেন,
“বাংলাদেশের যুব সমাজ দেশের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ হলো এমন একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যুবকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস সংগ্রাম করা হয়। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও সমতা ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা অপরিহার্য।

আমরা বিশ্বাস করি, যুবসমাজের শক্তি দিয়েই আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো। যুব অধিকার পরিষদের প্রতিটি সদস্যকে আরও নিষ্ঠাবান হয়ে সংগঠনের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে শুধু রাজনৈতিক শক্তি অর্জন নয়, বরং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা। আগামী দিনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

সভায় উপস্থিত নেতারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। তরুণদের নেতৃত্বে সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বাউফলে গরুর লাম্পি স্কিন রোগে বিপর্যস্ত কৃষক-খামারিরা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে গবাদিপশুর জন্য ভয়াবহ ‘লাম্পি স্কিন’ রোগ। গত দুই মাসে প্রায় পাঁচ হাজার গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। তবে বেসরকারিভাবে এ সংখ্যা আরও বেশি বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই বাছুর, যা খামারিদের জন্য আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই রোগে আক্রান্ত গরুদের শরীরে প্রথমে জ্বর হয়, খাবারে অরুচি দেখা দেয়, মুখ ও নাক দিয়ে লালা পড়ে, পা ফুলে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়ার উপর গুটি দেখা দেয়। কিছুক্ষেত্রে ক্ষত স্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়। রোগটি মূলত মশা-মাছি জাতীয় বাহকের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় এবং দ্রুত এক পশু থেকে অন্য পশুতে ছড়িয়ে পড়ে।

বাউফলের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা। আতঙ্কে কৃষক ও খামারিরা ছুটছেন উপজেলা পশু হাসপাতাল কিংবা গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে। কিন্তু অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরকারি চিকিৎসা সুবিধা পর্যাপ্তভাবে মিলছে না।

বড় ডালিমা গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, “চাষাবাদের পাশাপাশি বাড়তি আয়ের আশায় আমি একটি গাভি পালন করছিলাম। কিন্তু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাছুরটি মারা গেছে। পশু হাসপাতাল থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।”

পূর্ব কালাইয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি পশু চিকিৎসকরা কোনো খোঁজ রাখেন না। বাধ্য হয়ে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে যেতে হয়। ভুল চিকিৎসায় আমার বাছুরটি মারা গেছে।”

এছাড়া ধানদী এলাকার খামারি নিজাম উদ্দিন বলেন, “তিন বছর ধরে খামার করছি। কিন্তু কখনো কোনো সরকারি চিকিৎসক আমার খামারের খোঁজ নেয়নি।”

চর কালাইয়া ও বড় ডালিমা এলাকার আরও অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, সরকারি সহায়তা না পেয়ে তারা ফার্মেসি ও হাতুড়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আবু রায়হান বলেন, “আমাদের পশু হাসপাতাল খোলা রয়েছে। সবার জন্য সেবা দেওয়া হচ্ছে। যারা হাসপাতালে না এসে ভুয়া চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন, তারাই প্রতারিত হচ্ছেন। ফোন দিলেই আমরা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ভ্যাকসিন ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। তবে খামারি ও কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আরও সক্রিয় উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারি টাকায় খাল ধ্বংসের অভিযোগ, কলাপাড়ায় জনমনে ক্ষোভ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের পূর্ব প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত বাদুরতলী স্লুইস খালটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি শুধু পৌরসভার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নয়, আশপাশের বাদুরতলী, মধ্যটিয়াখালীসহ অন্তত চারটি গ্রামের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন পথ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ খালটির একাধিক জায়গায় অবৈধ দখল, বাঁধ এবং অপরিকল্পিত নির্মাণকাজের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, খালের মাঝপথে দেওয়া হয়েছে একাধিক বাঁধ, যেগুলো পানির গতি রুদ্ধ করে দুই পাড়ে পলি জমিয়ে খালকে ধীরে ধীরে ভরাট করে ফেলছে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, খাল দখল করে একের পর এক স্থাপনা নির্মাণ করছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী দখলদার। বিগত সরকারের আমলে এই খালটিতে মাত্র ৩০-৩৫ ফুট প্রস্থের একটি কালভার্ট নির্মাণ করে পানি চলাচলের একমাত্র পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে খালটির প্রস্থ ছিল ২০০ ফুট।

কলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বড় সিকদারবাড়ি এলাকার খালপাড়ে নির্মিত কালভার্টের নিচেও মাটি ভরাট করে দিয়েছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। এতে মাছ চলাচল তো দূরের কথা, পানির ন্যূনতম প্রবাহও আর সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনাকে অনেকে বলছেন “সরকারি টাকায় খাল হত্যা”।

শিক্ষক ফোরকানুল ইসলাম সিকদার বলেন, গার্ডার ব্রিজ করলে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকত। কিন্তু কালভার্ট দিয়ে এভাবে খালের মুখ বন্ধ করে পানি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই কথা বলেন পরিবেশ সচেতন স্থানীয়রা। তাদের মতে, যারা খাল রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন, তারাই এখন পরিবেশের ক্ষতি করছেন।

চিঙ্গুরিয়া এলাকায়ও এক তৃতীয়াংশ খাল দখল করে গোরস্থানের দেয়াল নির্মাণ করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এতে জোয়ারের সময় পানির গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং খালটি সেখানে প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে।

এমন চিত্র কুয়াকাটাতেও। কচ্ছপখালী-নবীনপুর খালের পাড় দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভার ভবনের পাশেই। ফলে ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের পথও আজ সংকুচিত।

পরিবেশ কর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, যারা দখল রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারাই পরিবেশ ধ্বংসে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, দখল ও দূষণ রোধে চলমান রয়েছে মোবাইল কোর্ট। ইতোমধ্যে ১২টি খালের অন্তত ৬০টি বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া খালের খনন, পরিষ্কার কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত অভিযান চলছে।

তবে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান ও উচ্ছেদ কার্যক্রম চালালেও যারা খাল দখলের পেছনে রয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনাই হবে টেকসই সমাধান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম